Thumbnail for রমজানে বিশ্বজুড়ে ইফতার! কোন দেশে কী দিয়ে ভাঙে রোজা? by Story Unfold

রমজানে বিশ্বজুড়ে ইফতার! কোন দেশে কী দিয়ে ভাঙে রোজা?

Story Unfold

10m 48s1,248 words~7 min read
YouTube auto captions
Transcript source

YouTube auto captions

This transcript was extracted from YouTube's auto-generated caption track. The transcript below is server-rendered so it can be read, searched, cited, and shared without opening the original YouTube player.

Use this transcript
Related transcript hubs

[0:00]রমজান।

[0:05]একটা মাস যেখানে সময়টা একটু অন্যরকম ভাবে চলে। দিনের আলো লম্বা লাগে, সূর্যটা ডোবার আগের মিনিটগুলো যেন থেমে থাকে। পেটের ভেতর ক্ষুধা থাকে কিন্তু তার চেয়েও বেশি থাকে অপেক্ষা। আর ঠিক তখনই, আযানের একটা শব্দ। এক মুহূর্তে সারাদিনের ক্লান্তি ভেঙে যায়। পানি আর খেজুরের প্রথম চুমুক শরীর নয় মনকেও শান্ত করে। কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যায়। এই পৃথিবীর আলাদা আলাদা দেশে, ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতিতে মানুষ কী দিয়ে ভাঙে তাদের রোজা? খাবার কি আলাদা? স্বাদ কি আলাদা? নাকি অনুভূতিটাই এক? আজকের এই ভিডিওতে আমরা ঘুরে দেখব বিশ্বজুড়ে রমজানের ইফতার টেবিল। মধ্যপ্রাচ্য। রমজান বলতেই প্রথমেই চোখে ভাসে মধ্যপ্রাচ্য। এখানে প্রায় সব দেশেই ইফতার শুরু হয় একই ভাবে, এক বা তিনটি খেজুর আর এক গ্লাস পানি। খেজুর এখানে শুধু খাবার না, এটা ঐতিহ্য, এটা ইতিহাস, এটা সুন্নাহ। এরপর আসে গরম গরম স্যুপ। ডাল স্যুপ, লেন্টিল স্যুপ আর বিখ্যাত হারিরা। ইফতার টেবিলে থাকে সামোসা, ফালাফেল, হামুস আর নানা ধরনের কাবাব। অনেক দেশে মসজিদের সামনে লম্বা লাইন, রাস্তার পাশে সারি সারি টেবিল। ধনী গরিব, স্থানীয় প্রবাসী সবাই একসাথে বসে ইফতার করে। এখানে ইফতার মানে শুধু পেট ভরা না, এটা একসাথে থাকার আনন্দ, এটা ভাগাভাগি, এটা উম্মাহ। তুরস্ক। তুরস্কে রমজান মানেই একটা বিশেষ রুটি পিদে। এই নরম গোলাকার রুটি রমজান মাস ছাড়া প্রায় দেখা যায় না। ইফতারের সময় তুর্কিরা খায় পিদে রুটি, লেন্টিল স্যুপ, অলিভ, চিজ আর দই। খাবার কম মনে হলেও সবকিছু খুব ব্যালেন্সড, না অতিরিক্ত ঝাল, না অতিরিক্ত তেল। আর মিষ্টি? বাকলাভা অথবা গুল্লাচ। দুধ আর পাতলা পেস্ট্রির তৈরি হালকা ঠান্ডা ডেজার্ট। তুরস্কের ইফতার শান্ত, পরিমিত আর মার্জিত। ইরান। ইরানের মানুষদের ইফতার সাধারণত খুব ভারী নয় কিন্তু পুষ্টিকর ও ঐতিহ্যবাহী। সারাদিন রোজার পর তারা এমন খাবার বেছে নেয় যা শরীরকে ধীরে ধীরে এনার্জি দেয়। ইফতারের শুরুতে বেশিরভাগ পরিবারই খেজুর আর পানি বা হালকা শরবত দিয়ে রোজা ভাঙে যা তাদের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এরপর ইরানের সবচেয়ে জনপ্রিয় ইফতার খাবারগুলোর একটি হলো আশেরেস্তে। এটি ডাল, শাকসবজি আর নুডলস দিয়ে তৈরি একটি ঘন স্যুপ যা হজমে সহায়ক এবং রোজার পরে শরীরকে আরাম দেয়। অনেক ঘরে আবার হালিম খাওয়া হয়। গম আর মাংস দিয়ে ধীরে ধীরে রান্না করা এই খাবারটি আমাদের উপমহাদেশের হালিমের সঙ্গে অনেকটাই মিল রাখে। ইফতারে ইরানি রুটি বা নান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নান-এ বারবারি বা নান-এ তাফতুনের মতো বিভিন্ন ধরনের রুটি স্যুপ বা হালকা খাবারের সঙ্গে খাওয়া হয়। মিষ্টি হিসেবে রমজানে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো জুলবিয়া ও বামিয়ে যা চিনির সিরাপে ভেজানো ভাজা মিষ্টান্ন। ইফতারের টেবিলে এগুলো প্রায় থাকেই। পানীয় হিসেবে ইরানীরা চা খুব পছন্দ করে। ইফতারের পর গরম চা তাদের খাবারের স্বাদকে সম্পূর্ণ করে। এছাড়াও দই, পানি আর পুদিনা দিয়ে বানানো দুগ নামের ঠান্ডা পানীয়ও অনেক জায়গায় খাওয়া হয়। ভারী খাবার যেমন কাবাব বা ভাত সাধারণত ইফতারের পর রাতে খাওয়া হয় ইফতারে নয়। এইভাবেই ইরানের ইফতার সংস্কৃতি হালকা খাবার, ঐতিহ্য আর পুষ্টির সুন্দর মিশেল যা তাদের শতাব্দী প্রাচীন জীবনধারার প্রতিফলন। বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মানুষের ইফতার মানেই ঐতিহ্য, স্বাদ আর আবেগের এক অপূর্ব মিল। রমজান মাস এলেই বিকেলের পর থেকে বাসাবাড়ি ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে ইফতারের আয়োজন শুরু হয়ে যায়। পরিবার পরিজন একসাথে বসে ইফতার করার এই সংস্কৃতি বাংলাদেশের সমাজজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইফতার শুরু হয় সাধারণত খেজুর দিয়ে যা সুন্নাত ও ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। খেজুরের সঙ্গে থাকে লেবু, বেল বা তোকমা দিয়ে তৈরি শরবত যা সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে শরীরের দ্রুত শক্তি যোগায়। এই পানীয়গুলো ইফতারের অপরিহার্য অংশ। এরপর আসে ইফতারের মূল আকর্ষণ ভাজাপোড়া। বেগুনী, পেঁয়াজু, আলুর চপ, ডালপুরি ও বিভিন্ন ধরনের পাকোড়া প্রায় প্রতিটি ঘরেই দেখা যায়। এসব খাবার স্বাদে অতুলনীয় এবং বাংলাদেশের ইফতার টেবিলের সবচেয়ে পরিচিত চিত্র। ভাজাপোড়ার পাশাপাশি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার হিসেবেও ছোলা অত্যন্ত জনপ্রিয়। অনেক ঘরে এর সঙ্গে ডিমের চপ, মুরগির চপ, চিকেন রোল বা শিক কাবাব যোগ করা হয় বিশেষ করে শহরাঞ্চলে। রমজান এলেই হালিম হয়ে ওঠে ইফতারের আরেকটি প্রধান আকর্ষণ যা মানুষ আগ্রহ নিয়ে কিনে খায়। সবশেষে ইফতার টেবিলে থাকে জিলাপি, ফলমূল কিংবা পায়েস বা ফিরনির মতো মিষ্টি জাতীয় খাবার। তরমুজ, কলা বা পেঁপের মতো ফল ইফতারে হালকা ও স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের মানুষের ইফতার শুধু খাবার নয় এটি পারিবারিক বন্ধন, ধর্মীয় অনুভূতি ও সংস্কৃতির এক সুন্দর প্রতিফলন। পাকিস্তান ও ভারত। পাকিস্তান ও ভারতের ইফতারেও রয়েছে নিজস্ব ঐতিহ্য, স্বাদ ও সংস্কৃতির ছোঁয়া। দেশভেদে কিছু পার্থক্য থাকলেও ইফতার মানেই সেখানে ভরপুর ও রাজকীয় খাবারের আয়োজন। পাকিস্তানে ইফতার সাধারণত শুরু হয় খেজুর ও ফল দিয়ে। এরপর পরিবেশন করা হয় ছোলা চাট, ফল চাট এবং বিভিন্ন ধরনের পাকোড়া বিশেষ করে আলু পাকোড়া, পেঁয়াজু ও মিক্সড ভেজিটেবল পাকোড়া। পাকিস্তানি ইফতারের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো সামোসা যা প্রায় প্রতিটি ঘরেই থাকে। পানীয় হিসেবে রুহ আফজা শরবত খুবই জনপ্রিয়। পাশাপাশি লেবুর শরবতও খাওয়া হয়। অনেক জায়গায় শিক কাবাব, চিকেন রোল, দই বড়া ইফতারের টেবিলে দেখা যায়। ভারতে ইফতার খাবার অঞ্চলভেদে ভিন্ন হলেও কিছু খাবার সর্বত্র জনপ্রিয়। খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করার পর থাকে ফল, শরবত ও রুহ আফজা। ভাজাপোড়ার মধ্যে সামোসা, পাকোড়া ও কচুরি খুবই পরিচিত। ভারতের মুসলিম সমাজে ইফতারের বড় আকর্ষণ হলো হালিম বিশেষ করে হায়দ্রাবাদ ও লখনৌ অঞ্চলে। এছাড়াও দই বড়া, ছোলা চাট, কাবাব, শামী, গালাউটি ও বিভিন্ন ধরনের রোলও ইফতারে খাওয়া হয়। সব মিলিয়ে বলা যায় পাকিস্তান ও ভারতের ইফতারে প্রধান ভিত্তি হলো খেজুর, ফল ও শরবত যার সঙ্গে থাকে সামোসা, পাকোড়া, ছোলা চাট এবং বিশেষ খাবার হিসেবে কাবাব ও হালিম।

[7:02]প্রতিটি দেশের ইফতার টেবিলে তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য ও স্বাদের ছাপ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। আফ্রিকা। আফ্রিকার দেশগুলোতে ইফতার খাবার অঞ্চলভেদে ভিন্ন হলেও সেখানে ইফতার মূলত সহজ, পুষ্টিকর ও ঐতিহ্যবাহী খাবারকে ঘিরেই হয়। উত্তর আফ্রিকা ও পূর্ব আফ্রিকায় ইফতারের সংস্কৃতি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। উত্তর আফ্রিকায় যেমন মিশর, মরক্কো, টিউনিসিয়া ও আলজেরিয়া ইফতার সাধারণত খেজুর ও দুধ দিয়ে শুরু হয়। এরপর পরিবেশন করা হয় বিভিন্ন ধরনের স্যুপ বিশেষ করে হারিরা, মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী স্যুপ ও ডাল ভিত্তিক স্যুপ। ভাজাপোড়ার মধ্যে ব্রিক, সামোসা এবং বিভিন্ন ধরনের পেস্ট্রি জনপ্রিয়। সঙ্গোঙ্গে থাকে রুটি, খবর বা ফ্ল্যাট ব্রেড। পূর্ব আফ্রিকায় যেমন সোমালিয়া, কেনিয়া, তানজানিয়া ইফতারে খেজুরের পাশাপাশি ফল, চা ও শরবত থাকে। আফ্রিকান সামোসা, ভাত, মাংস বা মুরগির স্টু এবং চাপাটি খুব জনপ্রিয়। অনেক পরিবার ইফতারে হালকা ভাত বা কারি দিয়ে রোজা ভাঙে। পশ্চিম আফ্রিকায় যেমন নাইজেরিয়া, সেনেগাল ও গাম্বিয়া ইফতারে খেজুর, পানি ও ফলের পর খাওয়া হয় ভাত ভিত্তিক খাবার। জোলফ রাইস, খিয়েবুদিয়েন, মাছ ও ভাত এবং বিভিন্ন ধরনের স্যুপ বা স্টু ইফতারের প্রধান অংশ। এখানে ইফতারে ঝাল ও মসলাদার স্বাদ বেশি দেখা যায়। সব মিলিয়ে আফ্রিকার মানুষের ইফতারের মূল খাবারগুলো হলো খেজুর ও দুধ, স্যুপ, সাম্বুসা, রুটি বা ভাত এবং মাংস বা মাছের স্টু। আফ্রিকার ইফতার টেবিল স্থানীয় সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসের সুন্দর প্রতিচ্ছবি। ইউরোপ ও আমেরিকা। ইউরোপ ও আমেরিকায় ইফতার মূলত সেখানে বসবাসকারী মুসলিমদের সংস্কৃতি অনুযায়ী হয়। তাই ইফতারে দেখা যায় মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও স্থানীয় খাবারের মিশ্রণ। একটা গ্লোবাল ফিউশন বলা যায়। ইউরোপে ইফতার সাধারণত খেজুর ও পানি বা শরবত দিয়ে শুরু হয়। এরপর পরিবেশন করা হয় স্যুপ যেমন লেন্টিল স্যুপ বা ভেজিটেবল স্যুপ। তুরস্ক ও আরব প্রভাবের কারণে পিদে রুটি, হুমুস, ফালাফেল, শম্বুসা ও কাবাব খুব জনপ্রিয়। অনেক পরিবার ইফতারে পাস্তা, ওভেনে বেক করা চিকেন বা গ্রিল্ড সবজি রাখে। ফল ও দই ভিত্তিক ডেজার্টও ইউরোপীয় ইফতারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমেরিকায় ইফতার আরো বৈচিত্রময়। খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙ্গার পর থাকে ফল, স্মুদি বা লেমোনেড। ইফতারে প্রায়ই দেখা যায় গ্রিল্ড চিকেন, স্টেক, রাইস বা পাস্তা। পাশাপাশি আরব ও দক্ষিণ এশীয় খাবার যেমন হালিম, বিরিয়ানি, সামোসা, পাকোড়া। অনেক মুসলিম পরিবার স্বাস্থ্যকর খাবারে জোর দেয়। তাই সালাদ, স্যুপ ও হোল গ্রেইন খাবার ইফতারে বেশি খাওয়া হয়। সংক্ষেপে বলা যায় ইউরোপ ও আমেরিকার ইফতারের প্রধান খাবার হলো খেজুর ও পানীয়, স্যুপ, কাবাব বা গ্রিল্ড মিট, রুটি, ভাত, পাস্তা, সামোসা বা ফালাফেল এবং ফল। এসব ইফতার টেবিলে ঐতিহ্য আর আধুনিক জীবনধারার সুন্দর মেলবন্ধন দেখা যায়। বিশ্বের দেশে দেশে ইফতার আলাদা হতে পারে। কেউ ভাঙে রোজা খেজুর দিয়ে, কেউ বেগুনী দিয়ে, কেউ স্যুপ দিয়ে। কিন্তু রমজান আমাদের একটাই কথা শেখায় খাবারের পরিমাণ নয় কৃতজ্ঞতাই আসল। ভিডিওটা ভালো লাগলে লাইক দিন, চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন। আর কমেন্টে লিখুন আপনার দেশের ইফতারে সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার কোনটি। সবাইকে রমজান মোবারক।

Need another transcript?

Paste any YouTube URL to get a clean transcript in seconds.

Get a Transcript