[0:02]তাকে বলা হয় সংগ্রামী। নির্বাসন থেকে ফিরে আসা এক নায়ক। তবে গোয়েন্দা জগতের অন্ধকার করিডরে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ সালাউদ্দিন আহমেদের জন্য ব্যবহৃত হয় ভিন্ন এক নাম। বছরের পর বছর এদেশের সাধারণ মানুষকে শোনানো হয়েছে এক করুন গল্প। সালাউদ্দিন আহমেদ নিখোঁজ হয়েছিলেন। পরে ভারতে পাগলের মত ঘুরে বেড়ানো অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। এরপর দেশে ফিরতে আইনি জটিলতা মিলিয়ে দীর্ঘ লড়াই করেছেন বিএনপির এই নেতা। আমাদেরকে বলা হয়েছিল এভাবেই। তাইতো কয়েক বছর সহানুভূতি নিয়ে এদেশের মানুষ অপেক্ষা করেছে সালাউদ্দিনের ফিরে আসার।
[0:57]কিন্তু আমাদের হাতে আসা প্রমাণ ইঙ্গিত দিচ্ছে, আমরা কোন দেশপ্রেমিক, সংগ্রামী কিংবা ভূক্তভোগীর জন্য অপেক্ষা করছিলাম না। আমরা অপেক্ষা করছিলাম একজন এসিরের জন্য। দেশে এখন আর বিদেশী মাল নাই। গুপ্তচর দুনিয়ায় একজন এজেন্টকে লুকিয়ে রাখার সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা বাংকার নয়, বরং একটি আদালত। ভারতে বছরের পর বছর ধরে চলা আইনি অনিশ্চয়তা সালাউদ্দিন আহমেদের জন্য কোন শাস্তি ছিল না। সেটি ছিল এক ধরনের নিশ্চিত বসবাস। গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মতে ভারতের পাহাড়ি শহর শিলং এ সালাউদ্দিনের দীর্ঘ অবস্থান ছিল একটি পরিকল্পিত বিরতিকাল। কারণ লক্ষ্য করার মত বিষয় ভারতে আটক থাকা অবস্থাতেই বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে তিনি জায়গা পান। এরপরই জনমনে প্রশ্ন ওঠে সালাউদ্দিনের এই পথ কি দলের প্রতি আনুগত্যের পুরস্কার নাকি কোন বিদেশী শক্তির প্রতি সহযোগিতার প্রতিদান? প্রশ্ন উঠতে পারে শিলং এ আপ্পায়ন করার জন্য কেন সালাউদ্দিনকেই বেছে নেওয়া হলো? কারণ জিপ স্টেট সবসময় দুর্বলতা খোঁজে আর সালাউদ্দিন আহমেদের অতীত সেই সুযোগটি করে দেয়। 2008 সালে এক কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতির মামলায় সাত বছরের সাজা হয় বিএনপির এই নেতার। সালাউদ্দিনের আর্থিক দুর্বলতাকেই টার্গেট করে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা।
[2:28]সালাউদ্দিন ভারতে থাকা অবস্থায় বিএনপি দাবি করে হাসপাতালে অসুস্থ হয়ে ভর্তি ছিলেন এই নেতা। অথচ ওই সময় সালাউদ্দিনকে নিয়মিতভাবে শিলং এর সরকারি রাজভবনের কাছে একটি সেফ হাউজে নেওয়া হতো। যেখানে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ উইং এর সাথে দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ব্রিফিং চলতো নিয়মিতই। আমার কথাবার্তা শুনে হয়তো তাদেরকে তাদের কাছে আমাকে পাগল মনে হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ভারতে আটক থাকার ফলে বিএনপির সাবেক এই যুগ্ম মহাসচিব মূলত আরো নিরাপদ ছিলেন। কারণ সালাউদ্দিন ভারতের যেখানে ছিলেন সেখানে এমন সব বার্তা আদান-প্রদান করা যেত, যা এনস্ক্রিপ্টেড যোগাযোগেও পাঠানো নিরাপদ ছিল না। আসলে তিনি কোন বন্দি ছিলেন না, তিনি ছিলেন শুধু একটি বার্তা বহনের মাধ্যম। আরেকটি বিষয় লক্ষণীয় সালাউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশে ফিরেছেন আদালতের মুক্তির দিনে নয়। তিনি ফিরেছেন তখনই যখন তার আশ্রয়দাতারা মনে করেছেন এটা উপযুক্ত সময়। কিন্তু কেন তখন? কারণ দেশের পরিবর্তিত সময়ে স্বাভাবিকভাবেই সামনে ছিল জাতীয় নির্বাচন। বিভিন্ন সূত্রের দাবি বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে তার ভূমিকা এখন আর শুধুই নীতি নির্ধারণে থেমে নেই। মূলত দলে কে জায়গা পাবে আর কে পাবে না তার পুরোটাই ঠিক করেন সালাউদ্দিন। এমনকি সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব পালন করেন ভারত থেকে ট্রেনিংয়ে আনা এই নেতা। সেই সুযোগে এবারের নির্বাচনে বিএনপির মধ্যে ভারতীয় আধিপত্য বিরোধীদের নীরবে মনোনয়ন বঞ্চিত করেছে সালাউদ্দিন। প্রাধান্য দিয়েছেন ভারতপ্রেমীদের। ওনারা তো দোয়া চাই, ওনারা কোন দোয়া করছিল না তো লাইফ বাঁচিয়েছি আল্লাহ বাঁচাই রাখে। আমাদের হাতে আসা নথি থেকে জানা যায় সালাউদ্দিনের কাছে একটি যৌথ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের খসড়া প্রস্তাব রয়েছে। এই প্রস্তাব সন্ত্রাস দমনের অজুহাতে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অনেক ভেতরে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে কার্যত ক্ষমতা দেয়ার বিশেষ সুযোগ তৈরি করবে। আসলে শিলং এ যেই সালাউদ্দিন গিয়েছিলেন ফিরে আসা মানুষের সাথে তার অনেক তফাত। আজকের সালাউদ্দিন যেভাবে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের মত বক্তব্য রাখেন তার চিত্রনাট্য লেখা হয়েছে সীমান্তের ওপারে। তিনি বাংলাদেশের তৃণমূল মানুষের কথা বলছেন না। প্রকৃতপক্ষে বাস্তবায়ন করছেন তথাকথিত শিলং প্রোটোকল। র সালাউদ্দিন আহমেদের প্রভাবে থাকা কোন দলকে ভোট দেয়া মানে শুধু নতুন সরকার বেছে নেয়া নয়। একটি শিয়ালকে মুরগির খাঁচায় ঢোকার অনুমতি দিয়ে দরজা খুলে চাবিটাও তার হাতেই তুলে দেয়ার মত অবস্থা। খুদা হাফেজ।



