[0:07]পাকিস্তান আর আফগানিস্তানের বৈরিতার ইতিহাস বহু বছরের পুরনো। দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্বের শুরুটা হয় ৪৭-এর দেশভাগের সময় থেকেই। সে সময় আফগানিস্তান ছিল একমাত্র দেশ, যারা পাকিস্তানকে জাতিসংঘ সদস্যপদ দেয়ার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিল। মূলত যে বিষয়কে কেন্দ্র করে আফগানিস্তান সে সময় পাকিস্তানের বিরোধিতা করে, সেটি ছিল আফগানিস্তানের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে পাকিস্তানের সাথে সীমান্ত নিয়ে বিরোধ।
[0:38]ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসন চলাকালীন ১৮৯৩ সালে প্রথমবার ওই সীমানা নির্ধারণ করা হয় এক চুক্তির মাধ্যমে। ডুরান্ড লাইন হিসেবে পরিচিত ওই সীমারেখা ১৯৪৭-এর দেশভাগের পর পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। আফগানিস্তান সে সময় ওই সীমারেখার বিরোধিতা করে। সীমানা নিয়ে সেই বিরোধের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল খাইবার পাক্তুনখাওয়া আর বালুচিস্থান অঞ্চলে পশতুন জাতিগোষ্ঠীর সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যক্রম। পাকিস্তান আর আফগানিস্তান দুই দেশের সীমান্ত জুড়ে পাহাড়ি এলাকাতে বসবাস করা পশতুনরা ১৯৪৭-এর দেশভাগের আগে থেকেই স্বাধীন পশতুনিস্থানের দাবি করে আসছিল। ৪৭-এর দেশভাগের পরও তাদের সশস্ত্র কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। পাকিস্তান সে সময় অভিযোগ তোলে যে, আফগানিস্তানের সরকার সীমান্তের কাছে অবস্থান করা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহায়তা করছে এবং পাকিস্তানের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলছে। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৪৯ সালে আফগানিস্তানে প্রথমবার বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। তারা দাবি করে যে, আফগানিস্তান সমর্থিত সশস্ত্র জঙ্গি ক্যাম্প লক্ষ্য করে তারা বিমান হামলা চালিয়েছে।
[1:42]এর পরের বছর পাকিস্তানের বালুচিস্থান অঞ্চলে আফগানিস্তান থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা ঢুকে পড়ে। সে সময় পাকিস্তানের সেনাদের সাথে ছয় দিনের যুদ্ধ চলে তাদের। পাকিস্তান দাবি করে আফগানিস্তান সরকার এর সাথে জড়িত ছিল, যে দাবি আফগানিস্তানের কর্তৃপক্ষ প্রত্যাখ্যান করে। সেই ঘটনার পাঁচ বছর পরে এক দ্বন্দ্বের জের ধরে এক দেশ আরেক দেশ থেকে রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের প্রত্যাহার করে নেয়। কাবুল, কান্দাহার, জালালাবাদের পাকিস্তানী কন্সোলেটে হামলার মত ঘটনাও ঘটে।
[2:15]ষাটের দশকে দুই দেশের সীমান্ত অঞ্চলে নিয়মিত বিরতিতে সংঘাত হতে থাকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে। ১৯৬১ সালে আফগানিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। এরপর ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তান দখল করার পর কয়েক বছরের মধ্যে ২৫ লাখের বেশি আফগান শরণার্থী পাকিস্তানে প্রবেশ করে।
[2:42]সোভিয়েত বাহিনী আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পরের এক দশকের বেশি সময় আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপের উত্থান হয়।
[2:53]আফগানিস্তান সরকার একাধিকবার অভিযোগ তোলে যে, পাকিস্তানের মদদে এসব বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ পরিচালিত হচ্ছে এবং পাকিস্তান আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের উপরে আঘাত করছে। ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিকভাবে এ নিয়ে অভিযোগ তোলে আফগানিস্তান।
[3:10]এরপর ১৯৯২ থেকে ২০০১ পর্যন্ত তালেবান ক্ষমতায় থাকার সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান আর আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘাত না হলেও সীমান্ত অঞ্চলে বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সশস্ত্র সংঘাত চলতেই থাকে।
[3:26]এরপর ২০০১ থেকে ২০২১ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী আফগানিস্তানে থাকাকালীন সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় বহুবার সংঘাতে জড়ায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সেনারা। এই সময়ের মধ্যে এক দেশ আরেক দেশে একাধিকবার বোমা ও বিমান হামলা চালায়। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি সংঘাতের ঘটনায় সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর সম্পৃক্ততাও ছিল।
[3:51]২০২১-এর পর থেকে আফগান তালেবান প্রশাসনের অধীনে দুই দেশের সীমান্ত জুড়ে সশস্ত্র সংঘাত অব্যাহত থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তান আফগানিস্তানের সীমান্তের ভেতরে হামলা চালায়, যার জবাবে শনিবার আফগান বাহিনীর চালানো হামলায় পাকিস্তানের অন্তত ৩৮ জন সেনা মারা যায় বলে দাবি করে তারা।



