Thumbnail for রাতে ঘুম না এলে শুনুন ভগবত গীতা | এই বাণী যা আগে কখনও শোনেন নি | Bhagwat Geeta sar in Bengali”| by ভক্তির বাণী

রাতে ঘুম না এলে শুনুন ভগবত গীতা | এই বাণী যা আগে কখনও শোনেন নি | Bhagwat Geeta sar in Bengali”|

ভক্তির বাণী

17m 47s2,203 words~12 min read
Auto-Generated

[0:01]আজ রাতেও কি ঘুম আসছে না? চোখ বন্ধ করলেই কি মনে হচ্ছে হাজারো চিন্তা একসাথে আপনাকে ঘিরে ধরছে? আপনি কি ক্লান্ত, কিন্তু ঘুমাতে পারছেন না? তাহলে থামুন। আজকের এই কয়েকটি বাণী আপনার জীবন বদলে দিতে পারে। স্বাগতম ভক্তির বাণী চ্যানেলে। আজ আপনি শুনতে চলেছেন ভগবত গীতার এমন কিছু গভীর সত্য যা শুধু আপনার ঘুমই আনবে না, আপনার মনের ভেতরের অশান্তিকেও চিরদিনের জন্য শান্ত করে দিতে পারে। রাতের এই নিস্তব্ধতায় যখন পুরো পৃথিবী ঘুমিয়ে পড়েছে, তখনই আমাদের মন সবচেয়ে বেশি জেগে ওঠে। দিনের বেলায় যেসব চিন্তাকে আমরা এড়িয়ে যাই, সেগুলোই রাতের অন্ধকারে আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মনে হয় যেন আমরা একা, আমাদের সমস্যাগুলোই সবচেয়ে বড় আর এই কষ্ট থেকে বের হওয়ার কোনো পথ নেই। কিন্তু সত্যটা ঠিক তার উল্টো। আপনি একা নন। আপনার এই অস্থিরতা, এই দুশ্চিন্তা, সবকিছুর উত্তর হাজার বছর আগেই বলা হয়েছে ভগবত গীতায়। আমরা প্রায়ই ভাবি আমাদের কষ্টের কারণ বাইরের পৃথিবী, মানুষ, পরিস্থিতি, ব্যর্থতা। কিন্তু গীতা আমাদের শেখায় আসল যুদ্ধটা বাইরে নয়, ভেতরে। আমাদের নিজের মনই আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে ওঠে যখন আমরা তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। ভাবুন তো, যদি আপনার মনটাই আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে কি কোনো দুশ্চিন্তা আপনাকে কষ্ট দিতে পারবে? যদি আপনি শিখে যান কীভাবে চিন্তাকে থামাতে হয়, তাহলে কি রাত জেগে কাটাতে হবে? ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছিলেন, যে নিজের মনকে জয় করতে পারে সেই প্রকৃত বিজয়ী। আর যে নিজের মনকে হারিয়ে ফেলে তার জন্য এই পৃথিবীর সবকিছুই কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আজকের এই বাণীগুলো আপনার সেই হারিয়ে যাওয়া নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দিতে পারে। আপনি যত বেশি ভাববেন আমার এটা দরকার, ওটা দরকার, এটা না হলে আমি সুখী হতে পারব না, ততই আপনার মন অস্থির হয়ে উঠবে। কিন্তু যখন আপনি বুঝতে শুরু করবেন যে সবকিছু আপনার ইচ্ছেমতো না হলেও জীবন থেমে যায় না, তখনই আপনি মুক্তি অনুভব করবেন। রাতে ঘুম না আসার আসল কারণ হলো অতিরিক্ত চিন্তা। আর এই চিন্তার মূল কারণ হলো আসক্তি। আমরা আমাদের প্রত্যাশা, আমাদের সম্পর্ক, আমাদের স্বপ্ন সবকিছুর সাথে এতটাই জড়িয়ে পড়ি যে সামান্য পরিবর্তনও আমাদের ভেঙে দেয়। কিন্তু গীতা বলে যা কিছু এই পৃথিবীতে আছে সবই পরিবর্তনশীল। কিছুই চিরস্থায়ী নয়। তাহলে আপনি কেন এমন কিছুর জন্য কষ্ট পাচ্ছেন যা একদিন না একদিন বদলে যাবেই? এই প্রশ্নটাই আপনার জীবন বদলে দিতে পারে। আজ থেকে যদি আপনি এই একটি সত্য মেনে নিতে পারেন যে আমি আমার কাজ করব কিন্তু ফলের উপর আমার কোনো অধিকার নেই তাহলে দেখবেন আপনার দুশ্চিন্তা অর্ধেক কমে গেছে। কারণ আমরা কাজের জন্য কষ্ট পাই না, আমরা কষ্ট পাই ফলের জন্য। আমরা ভয় পাই যদি ব্যর্থ হই, আমরা চিন্তা করি যদি সবকিছু ঠিক না হয়। কিন্তু যদি আপনি ফলের চিন্তাই ছেড়ে দেন তাহলে ভয়টা কোথায় থাকবে? এভাবেই ধীরে ধীরে আপনার মন হালকা হতে শুরু করবে। আপনি অনুভব করবেন আপনার ভেতরের সেই চাপটা কমে যাচ্ছে। রাতের এই নীরব সময়টা আপনার জন্য একটা আশীর্বাদ হতে পারে যদি আপনি এটাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেন। এই সময়ে আপনি নিজের সাথে সবচেয়ে বেশি সংযোগ করতে পারেন, নিজের ভেতরের কণ্ঠস্বরকে শুনতে পারেন। চোখ বন্ধ করুন, ধীরে ধীরে শ্বাস নিন, ছাড়ুন। মনে মনে বলুন আমি শান্ত, আমি স্থির, আমি ভয় পাই না। দেখবেন এই ছোট ছোট শব্দগুলোই আপনার মনের ভেতরে এক গভীর প্রভাব ফেলছে। আপনার চিন্তাগুলো ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে, আপনার হৃদয় হালকা হয়ে উঠছে। ভগবত গীতা আমাদের শেখায় শান্তি বাইরে কোথাও নেই, শান্তি আমাদের ভেতরেই আছে। শুধু আমরা সেটা খুঁজে পাই না কারণ আমরা সবসময় বাইরে দৌড়াতে ব্যস্ত থাকি। আজ সেই দৌড় থামান। আজ নিজের ভেতরে ফিরে যান। আপনি যতই কষ্টের মধ্যে থাকুন না কেন, মনে রাখবেন এই সময়টাও কেটে যাবে। আপনার জীবনে আবার আলো আসবে আর সেই আলো আপনার ভেতর থেকেই শুরু হবে। আপনি এখন ধীরে ধীরে অনুভব করছেন আপনার শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়ে আসছে। মনটা আগের মতো অস্থির নেই কিন্তু এই শান্তিটা যেন স্থায়ী হয় সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মন খুব চঞ্চল, এক মুহূর্তে শান্ত আরেক মুহূর্তেই আবার অস্থির হয়ে উঠতে পারে। ভগবত গীতা আমাদের এই মন নিয়েই সবচেয়ে বেশি শিক্ষা দেয়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, মনকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়। নিয়মিত অভ্যাস আর বৈরাগ্যের মাধ্যমে মনকে স্থির করা যায়। এই দুটি শব্দ, অভ্যাস এবং বৈরাগ্য আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে। অভ্যাস মানে প্রতিদিন একটু একটু করে নিজের মনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া। যেমন আপনি প্রতিদিন শরীরকে শক্ত করার জন্য ব্যায়াম করেন তেমনি প্রতিদিন আপনার মনকেও শান্ত করার জন্য কিছু সময় দিতে হবে। আর বৈরাগ্য মানে সবকিছু ছেড়ে দেওয়া নয়, বরং ভেতরে ভেতরে আসক্তি কমিয়ে আনা। আপনি আপনার কাজ করবেন, সম্পর্ক রাখবেন, স্বপ্ন দেখবেন কিন্তু এগুলোর সাথে এমনভাবে জড়িয়ে পড়বেন না যাতে এগুলো আপনার শান্তি কেড়ে নিতে পারে। এই কথাটা যদি আপনি গভীরভাবে বুঝতে পারেন তাহলে জীবনের অনেক সমস্যাই সহজ হয়ে যাবে। আমরা প্রায়ই ভাবি যদি এটা পেতাম তাহলে আমি খুশি হতাম। কিন্তু সত্যি হলো আপনি সেটা পেলেও আপনার মন কিছুদিন পর আবার নতুন কিছু চাইবে। এই চাওয়ার কোনো শেষ নেই। আর যতক্ষণ এই চাওয়া চলতে থাকবে ততক্ষণ আপনার মনের অস্থিরতাও চলতেই থাকবে। তাই গীতা বলে সন্তুষ্টি শিখুন, যা আছে সেটার মধ্যেই আনন্দ খুঁজে নিতে শিখুন। রাতে যখন আপনি একা থাকেন তখনই প্রশ্নটা নিজেকে করুন, আমি কি সত্যিই এত কিছুর প্রয়োজন বোধ করি? নাকি আমার মনই আমাকে ভুল বোঝাচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর আপনার ভেতরেই আছে। ধীরে ধীরে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার অনেক দুশ্চিন্তাই অপ্রয়োজনীয়। আপনি যেসব বিষয় নিয়ে এত ভাবছেন সেগুলোর বেশিরভাগই আপনার জীবনে ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয় যতটা আপনি ভাবছেন। এই উপলব্ধিটাই আপনার মনকে হালকা করে দেবে। ভগবত গীতা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয় বর্তমানে বাঁচা। আমরা প্রায়ই অতীত নিয়ে আফসোস করি নয়তো ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করি কিন্তু বর্তমানকে আমরা ভুলে যাই। অথচ বাস্তবতা হলো বর্তমান মুহূর্তটাই আমাদের হাতে আছে। অতীত চলে গেছে, ভবিষ্যৎ এখনো আসেনি। তাহলে আপনি কেন এমন কিছু নিয়ে কষ্ট পাচ্ছেন যা আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই? আজ রাতে এই মুহূর্তে আপনি শুধু আপনার শ্বাসের দিকে মন দিন। আপনি বেঁচে আছেন, এই মুহূর্তটা অনুভব করুন। এই অনুভূতিটাই আপনাকে ধীরে ধীরে এক গভীর শান্তির দিকে নিয়ে যাবে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছিলেন, যে ব্যক্তি সুখে-দুঃখে, লাভে-ক্ষতিতে জয়-পরাজয়ে সমান থাকে সেই প্রকৃত যোগী। ভাবুন তো যদি আপনি এমন হতে পারেন তাহলে কি কোনো পরিস্থিতি আপনাকে ভেঙে দিতে পারবে? না কারণ তখন আপনি আর বাইরের জিনিসের উপর নির্ভরশীল থাকবেন না। আপনার শান্তি আপনার নিজের ভেতরে থাকবে। এই অবস্থায় পৌঁছাতে সময় লাগে কিন্তু অসম্ভব নয়। আজ আপনি শুধু প্রথম পদক্ষেপ নিন। নিজেকে বলুন আমি চেষ্টা করব কিন্তু ফল নিয়ে চিন্তা করব না। আমি ভালোবাসব কিন্তু প্রত্যাশা কম রাখব। আমি কাজ করব কিন্তু নিজের শান্তিকে আগে রাখব। এই কয়েকটি বাক্যই আপনার জীবনে এক বিশাল পরিবর্তন আনতে পারে। রাতে যখন আপনার মনে হাজারো চিন্তা আসে তখন তাদের সাথে লড়াই করার চেষ্টা করবেন না। বরং তাদের আসতে দিন, যেতে দিন। ভাবুন আপনার চিন্তাগুলো যেন আকাশে ভাসমান মেঘ। আপনি শুধু দেখছেন কিন্তু তাদের সাথে জড়িয়ে পড়ছেন না। এই কৌশলটি আপনার মনকে অনেক শান্ত করে দেবে। ধীরে ধীরে আপনি বুঝতে পারবেন আপনি আপনার চিন্তা নন। আপনি সেই ব্যক্তি যিনি চিন্তাগুলোকে দেখছেন। এই উপলব্ধিটাই আপনার ভেতরের শক্তিকে জাগিয়ে তুলবে। আপনার ভেতরে এক অসীম শক্তি আছে যা আপনি এখনো পুরোপুরি ব্যবহার করেননি। ভগবত গীতা সেই শক্তিকে জাগিয়ে তোলার পথ দেখায়। যখন আপনি নিজের উপর বিশ্বাস করতে শুরু করবেন তখন আপনার জীবনের প্রতিটি সমস্যাই ছোট মনে হবে। ভয় তখন আর আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। রাতে ঘুম না এলে এই কথাগুলো মনে করুন, আমি একা নই, ঈশ্বর আমার সাথে আছেন। এই বিশ্বাসটাই আপনার হৃদয়ে সাহস এনে দেবে। আপনি যত বেশি এই বিশ্বাসকে শক্ত করবেন ততই আপনার ভেতরের অস্থিরতা কমে যাবে। জীবনে অনেক সময় এমন পরিস্থিতি আসে যখন আমরা সবকিছু হারিয়ে ফেলেছি বলে মনে হয়। কিন্তু গীতা বলে কিছুই চিরতরে হারিয়ে যায় না। যা চলে যায় তা অন্য কোনো রূপে ফিরে আসে। তাই হারানোর ভয়টা ছেড়ে দিন। আপনি যা পেয়েছেন তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকুন আর যা পাননি তার জন্য দুঃখ না করে এগিয়ে চলুন। এই দৃষ্টিভঙ্গিটাই আপনার জীবনকে সহজ করে দেবে। রাতে যখন আপনি এইভাবে চিন্তা করতে শুরু করবেন তখন আপনার মন ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসবে। আপনি অনুভব করবেন আপনার ভেতরের সেই চাপ, সেই ভার সবকিছু কমে যাচ্ছে। আপনার শরীরও তখন আরাম পাবে, আপনার চোখ ভারী হয়ে আসবে। আর আপনি ধীরে ধীরে এক গভীর প্রশান্ত ঘুমের দিকে এগিয়ে যাবেন। এখন আপনি লক্ষ্য করছেন আপনার শরীর ধীরে ধীরে ঢিলে হয়ে আসছে। মাথার ভেতরের সেই শব্দগুলো আর আগের মতো জোরে বাজছে না। কিন্তু এখনো মাঝে মাঝে কিছু চিন্তা এসে আপনাকে টেনে নিয়ে যেতে চাইছে। এটাই স্বাভাবিক। কারণ মন বহু বছরের অভ্যাসে অভ্যস্ত, চিন্তা করা, দুশ্চিন্তা করা, অযথা ভয় পাওয়া। এটাকে একদিনে থামানো যায় না। কিন্তু আজ আপনি যা করছেন সেটাই সেই পরিবর্তনের শুরু। ভগবত গীতা আমাদের শেখায় ধৈর্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। যে ব্যক্তি ধৈর্য ধরে নিজের মনকে বোঝে সে একদিন অবশ্যই তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। আপনি কখনো খেয়াল করেছেন আপনার বেশিরভাগ ভয় আসলে বাস্তব নয়? এগুলো কল্পনা। ভবিষ্যতের একটা গল্প যা এখনো ঘটেনি। আপনি ভাবছেন যদি খারাপ কিছু হয়। কিন্তু গীতা বলে যা হবে তা হবেই আর আপনি সেটাকে সামলানোর শক্তি নিয়েই জন্মেছেন। এই একটি চিন্তা আপনার ভেতরের অর্ধেক ভয় দূর করে দিতে পারে। কারণ আপনি তখন বুঝতে পারবেন আপনি অসহায় নন, আপনি দুর্বল নন। আপনার ভেতরে সেই শক্তি আছে যা যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারে। আজ রাতে নিজেকে নতুন করে চিনুন। নিজেকে জিজ্ঞেস করুন আমি আসলে কে? আপনি কি শুধু আপনার সমস্যাগুলো? আপনি কি শুধু আপনার দুশ্চিন্তা? না আপনি তার থেকেও অনেক বেশি। আপনি এক অসীম শক্তির অংশ। আপনার ভেতরে এমন এক শান্তি আছে যা কোনো বাইরের জিনিস দিয়ে নষ্ট করা যায় না যদি আপনি সেটাকে জাগিয়ে তুলতে পারেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছিলেন আত্মা কখনো জন্মায় না, কখনো মরে না। এটা চিরন্তন, অবিনাশী। যখন আপনি এই সত্যটা উপলব্ধি করবেন তখন আপনার জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাবে। তখন আপনি বুঝতে পারবেন আপনার এই দুঃখ, এই কষ্ট সবই সাময়িক। এগুলো আসবে আবার চলে যাবে। ঠিক যেমন রাত আসে আবার সকাল হয়। তাহলে আপনি কেন এই সাময়িক কষ্টকে এত গুরুত্ব দিচ্ছেন? এই প্রশ্নটাই আপনাকে মুক্তির দিকে নিয়ে যাবে। আমরা প্রায়ই নিজেদের ভুলের জন্য নিজেদের দোষ দিই। অতীতের কিছু সিদ্ধান্ত, কিছু ঘটনা যেগুলো বদলানো সম্ভব নয় সেগুলো নিয়েই আমরা বারবার ভাবি। কিন্তু গীতা বলে অতীতকে নিয়ে অনুতাপ করে কোনো লাভ নেই। আপনি শুধু বর্তমানকে বদলাতে পারেন। তাই আজ রাতে নিজেকে ক্ষমা করুন। যা হয়েছে তা হয়ে গেছে। আপনি তখন যেটা ঠিক মনে করেছেন সেটাই করেছেন। এখন আপনি আরো সচেতন। এখন আপনি আরো শক্তিশালী। তাহলে কেন নিজের উপর এত কঠোর হচ্ছেন? নিজেকে বলুন আমি নিজেকে ক্ষমা করি, আমি নিজেকে ভালোবাসি। এই কথাগুলো আপনার মনের গভীরে এক আশ্চর্য পরিবর্তন আনবে। আপনার ভেতরের সেই ভার, সেই অপরাধ বোধ ধীরে ধীরে হালকা হয়ে যাবে। ভগবত গীতা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেখায় নিজের কর্তব্য পালন করা। আপনি আপনার জীবনে যা কিছু করছেন সেটাই আপনার পথ। অন্যের পথের সাথে নিজের পথ তুলনা করে কোনো লাভ নেই। আপনার যাত্রা আলাদা, আপনার অভিজ্ঞতা আলাদা। তাই অন্যের মতো হওয়ার চেষ্টা না করে নিজের সেরা সংস্করণ হওয়ার চেষ্টা করুন। এই ভাবনাটাই আপনাকে মুক্তি দেবে। রাতে যখন আপনি একা থাকেন তখন এই সত্যগুলো আরো পরিষ্কার হয়ে ওঠে। আপনি বুঝতে পারেন আপনি এতদিন যা নিয়ে দুশ্চিন্তা করেছেন তার অনেকটাই অপ্রয়োজনীয় ছিল। এই উপলব্ধিটা একটু একটু করে আপনার মনকে শান্ত করে। আপনি অনুভব করছেন আপনার বুকের ভেতরের চাপটা কমে যাচ্ছে। আপনার শ্বাস আরো ধীর হয়ে আসছে। এটাই সেই মুহূর্ত যেখানে আপনি নিজের সাথে সত্যিকারের সংযোগ স্থাপন করছেন। চোখ বন্ধ রাখুন আর অনুভব করুন আপনি নিরাপদ। যা কিছুই হোক না কেন আপনি ঠিক আছেন। এই মুহূর্তে কোনো বিপদ নেই। আপনার শরীর বিশ্রাম নিচ্ছে। আপনার মন ধীরে ধীরে থেমে যাচ্ছে। ভগবত গীতা বলে যে ব্যক্তি নিজের ইন্দ্রিয়গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে সেই সত্যিকারের সুখ পায়। আমরা প্রায়ই বাইরের জিনিসের উপর নির্ভর করি, ফোন, সোশ্যাল মিডিয়া, অন্যের মনোযোগ। এসব আমাদের মনকে ব্যস্ত রাখে। কিন্তু যখন আমরা একা হই তখন সেই ব্যস্তটা থেমে যায় আর আমাদের আসল অনুভূতিগুলো সামনে চলে আসে। এই সময়টা এড়িয়ে যাওয়ার নয়। এই সময়টাই সবচেয়ে মূল্যবান। কারণ এই সময়ে আপনি নিজের ভেতরের সত্যটা জানতে পারেন। আজ আপনি সেই কাজটাই করছেন। আপনি নিজের ভেতরে তাকাচ্ছেন, নিজের মনকে বুঝতে চেষ্টা করছেন। এটাই আত্মজ্ঞানের শুরু। ধীরে ধীরে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার সুখ বাইরের কোনো জিনিসে নয়। আপনার সুখ আপনার নিজের ভেতরে। এই উপলব্ধিটাই আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ হয়ে উঠবে। এখন আপনার শরীর আরো ভারী লাগছে। আপনার চোখ আরো বন্ধ হয়ে আসছে। আপনার চিন্তাগুলো যেন দূরে চলে যাচ্ছে। একটা গভীর নীরবতা আপনাকে ঘিরে ধরছে। এই নীরবতাকে গ্রহণ করুন। এটাই আপনার আসল শান্তি। এখন আপনি এক গভীর নীরবতার মধ্যে রয়েছেন। এই নীরবতা কোনো শূন্যতা নয়। এটা পূর্ণতা। এখানে কোনো দুশ্চিন্তা নেই, কোনো ভয় নেই। শুধু আছে এক অদ্ভুত শান্তি যা ধীরে ধীরে আপনার পুরো অস্তিত্বকে ভরিয়ে দিচ্ছে। আপনি এখন বুঝতে পারছেন এতদিন আপনি যেটাকে খুঁজছিলেন সেটি কখনো বাইরের পৃথিবীতে ছিল না। সেটি সবসময় আপনার ভেতরেই ছিল। ভগবত গীতা আমাদের এই একটি গভীর সত্য শেখায়। মানুষ যত বাইরে দৌড়ায় ততই সে নিজের ভেতরের শান্তি থেকে দূরে সরে যায়। আর যতই সে নিজের ভেতরে ফিরে আসে ততই সে সত্যিকারের সুখের কাছে পৌঁছে যায়। আজ আপনি সেই পথেই এক ধাপ এগিয়েছেন। হয়তো আপনার জীবনে এখনো সমস্যা আছে। হয়তো কিছু দুঃখ, কিছু কষ্ট এখনো রয়ে গেছে। কিন্তু পার্থক্যটা এখন একটাই আপনি আর সেই কষ্টের দাস নন। আপনি এখন জানেন আপনি আপনার চিন্তা নন, আপনি আপনার সমস্যাও নন। আপনি সেই শক্তি যিনি সবকিছুকে দেখছেন যিনি সবকিছুর মধ্যেও স্থির থাকতে পারেন। এই উপলব্ধিটাই আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। আগে যেখানে ছোট ছোট বিষয় আপনাকে ভেঙে দিত এখন সেগুলো আপনাকে আর তেমনভাবে প্রভাবিত করতে পারবে না। কারণ আপনি এখন জানেন সবকিছুই সাময়িক। এই রাতও কেটে যাবে। এই অন্ধকারও শেষ হবে আর নতুন একটা সকাল আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। জীবন কখনোই একরকম থাকে না। সুখ-দুঃখ, লাভ-ক্ষতি সবই একে অপরের অংশ। ভগবত গীতা আমাদের শেখায় এই পরিবর্তনকে গ্রহণ করতে শিখুন। যখন আপনি জীবনের এই ওঠানামাকে মেনে নেবেন তখন আর কোনো কিছুই আপনাকে ভয় দেখাতে পারবে না। আজ আপনি নিজেকে একটি প্রতিশ্রুতি দিন। আপনি আর অযথা চিন্তায় নিজেকে কষ্ট দেবেন না। আপনি নিজের শান্তিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবেন। আপনি কাজ করবেন, চেষ্টা করবেন কিন্তু ফলের উপর আপনার মনকে আটকে রাখবেন না। এই একটি অভ্যাসই আপনার জীবনকে বদলে দিতে পারে।

Need another transcript?

Paste any YouTube URL to get a clean transcript in seconds.

Get a Transcript