[0:02]রাজনীতির কোলাহলপূর্ণ জগতে সবচেয়ে বিপদজনক মানুষেরা অনেক সময় সবথেকে বেশি নীরব থাকেন। নরসিংদীর মনোহর্তী ও বেলাবোর রাস্তায় যখন কর্মীরা দলের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছে, তখন এক নেতাকে ঘিরে অস্বস্তিকর নীরবতা বিরাজ করছে। নরসিংদী চার আসনের তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিএনপির পরিচিত মুখ সরদার শাখাওয়াত হোসেন বকুলকে প্রকাশ্যে একজন নিবেদিত সংগঠক হিসেবেই সবাই চেনেন। কিন্তু গোপন তথ্যে উঠে এসেছে তার অন্ধকার জগত। সেই জীবনে রাজনীতির চেয়ে গোয়েন্দা কাহিনী জড়িয়ে আছে ব্যাপকভাবে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি অনুযায়ী ডিপ স্টেটের অন্যতম দাবার ঘুটিও শাখাওয়াত হোসেন। আমরা প্রত্যেকটা মহিলার জন্য ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করবো। মূলত কাগজ কলমে সরদার শাখাওয়াত একজন জনমানুষের নেতা। কিন্তু বাস্তবে তার ভ্রমণ রেকর্ড বলছে ভিন্ন গল্প। গত পাঁচ বছরে তার চলাচল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে নানা অসংগতি। শাখাওয়াত বিভিন্ন সময়ে দাবি করেন তিনি ভারতের কলকাতায় যান চিকিৎসার জন্য কিংবা দূর সম্পর্কের আত্মীয়দের সাথে দেখা করতে। কিন্তু তার ওপর নজরদারি তথ্য বলছে বেশিরভাগ সময় তিনি কলকাতার সল্ট লেক এলাকার একটি কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত গেস্ট হাউসে যান। যে জায়গাটি ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ এন্ড এনালাইসিস উইং বা র এর ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। গোপন সূত্র অনুযায়ী 2023 সালের পর বিএনপি নেতা শাখাওয়াত অন্তত 11 বার সীমান্ত পাড়ি দিয়েছেন। এসব সফরে তিনি কোন চিকিৎসা সেবা নেননি। ওই সময়ে রয়ের বাংলাদেশ ডেস্কের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সাথে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন শাখাওয়াত। প্রশ্ন উঠছে এসব বৈঠকে কেন নরসিংদীর একজন নেতাকে বেছে নেয়া হলো? এই প্রশ্নের জবাব লুকিয়ে আছে শাখাওয়াতের পেশাগত অভিজ্ঞতায়। কারণ সাবেক ব্যাংকার হিসেবে অর্থ ও সম্পদের প্রবাহ নিয়ে ভালো ধারণা রয়েছে তার। অন্যদিকে নরসিংদী ও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল ও পরিবহন কেন্দ্র যা রাজধানী ঢাকার প্রবেশদ্বার হিসেবেও পরিচিত। এসব কারণেই মূলত ডিপ স্টেটের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন এই বিএনপি নেতা। এর আগে বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রাখতে দেখা গেছে শাখাওয়াত হোসেনকে। যেসকল আন্দোলনে সড়ক অবরোধের কৌশল নেয়ার কারণে প্রশংসিত হয়েছেন এই নেতা। মূলত আন্দোলনের সময় রাজধানীর সরবরাহ ব্যবস্থা অচল করার পরিকল্পনা ছিল সেসব কৌশলে। তবে অভিযোগ রয়েছে, এসব পরিকল্পনা দলের স্বার্থে নয়, বরং এমন বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্য যাতে বিদেশী হস্তক্ষেপের পথ তৈরি হয়। এরই মধ্যে স্পষ্ট হচ্ছে তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জন্য এক ধরনের ফিল্টার হিসেবে কাজ করেন। তৃণমূল পর্যায়ের কর্মসূচি ও পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ঢাকায় দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছানোর আগেই দিল্লিতে পৌঁছে যায় তার মাধ্যমে। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো তথাকথিত সেফটি নেট প্রোটোকল। তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সাবেক সহযোগীর দাবি 2013 সালে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বাসা থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর সরদার শাখাওয়াত দল ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে র এর থেকে নানা সুযোগ-সুবিধা নেন। বিনিময়ে দলের ভেতরের ভারত বিরোধী বা সম্প্রসারণ বিরোধী অংশের গোপন তথ্য ফাঁস করে দেন তিনি। তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ নিজ এলাকা নরসিংদীর সাহসী ও দেশপ্রেমিক ছাত্রনেতাদের পরিকল্পিতভাবে কোণঠাসা করে রাখেন তিনি। বিপরীতে এমন নেতাকর্মীদের শাখাওয়াত দলের জায়গা দিয়েছেন যারা কখনোই ভারতীয় আগ্রাসন নিয়ে প্রশ্ন তুলবে না। নিজেকে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিলেও শাখাওয়াতের বিরুদ্ধে এখন দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ জোরালো হয়েছে। তার নির্বাচনী এলাকার মানুষ তাকে একজন দেশপ্রেমিক নেতা হিসেবে জানলেও বাস্তবতা বলছে শাখাওয়াত বাংলাদেশের জন্য বড় ঝুঁকি। আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে তাই প্রশ্ন উঠছে বিএনপির কৌশল নির্ধারণী বৈঠকে বসে সরদার শাখাওয়াত আসলে কার প্রতিনিধিত্ব করছেন? তিনি আসলেই বিএনপির বিজয়ের পরিকল্পনা করছেন নাকি কোন বিদেশী শক্তির স্বার্থে দলের নিয়ন্ত্রিত পতনের নকশা আঁকছেন? রাষ্ট্রের দাবা খেলায় শাখাওয়াত আর খেলোয়াড় নন। তিনি এমন এক ঘুটি যে নিজেকে রাজা মনে করেন। আল্লাহ হাফেজ।

চিকিৎসার নাম করে ভারতে যেতেন গোপন বৈঠক করতে || Feb 2, 2026 #elias_hossain_15_minutes
Elias Hossain
4m 59s519 words~3 min read
YouTube auto captions
Transcript source
YouTube auto captions
This transcript was extracted from YouTube's auto-generated caption track. The transcript below is server-rendered so it can be read, searched, cited, and shared without opening the original YouTube player.
Pull quotes
Use this transcript
Related transcript hubs
Watch on YouTube
Share
MORE TRANSCRIPTS


