[0:07]আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি সুপ্রিয় আলোর পথের দর্শক মন্ডলী আশা করি মহান রব্বুল আলামীনের অশেষ মেহেরবানী ও দয়ায় আপনারা সবাই ভালো আছেন। সম্মানিত দর্শক আজকে আলোচনা করব একটি দোয়া সম্পর্কে যা আপনি সেজদারত অবস্থায় 10 বার পাঠ করলে আল্লাহ মহান আপনার সকল মনের আশা পূরণ করে দিবেন। এমনকি আপনি যা চাইবেন আল্লাহ পাক আপনাকে তাই দান করবেন। পুরো আমলটি করার নিয়ম জানতে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত না টেনে দেখুন। আমাদের এই সমাজে কে না চায় আমার চাওয়া পাওয়া গুলো পূরণ না হোক সবাই চায় আমি আল্লাহ তাআলার কাছে যা চাইবো তিনি যেন তাই পূরণ করে দেন। সবাই চায় আল্লাহ তাআলার প্রিয় বান্দা বান্দি হতে এজন্য সমাজে সকল মাখলুকাতের আশা আকাঙ্ক্ষাগুলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা পূরণ করে থাকেন। আপনি যদি এই দোয়াটি সেজদার মধ্যে 10 বার পাঠ করতে পারেন তাহলে আল্লাহ তাআলা আপনার মনের সকল চাওয়াগুলো পূরণ করে দিবেন। আমরা এতদিন মোনাজাতে দোয়া করা শিখেছি অথচ সেজদার মধ্যেও কিন্তু দোয়া করা সম্ভব সেজদার মধ্যে রব্বুল আলামীনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ হয়ে যায় বান্দা। হাদিস শরীফে আছে যে বান্দা কখন আল্লাহ রব্বুল আলামীনের সবচেয়ে কাছাকাছি চলে যায় এর একমাত্র উত্তর হাদিস শরীফে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে বান্দা সবচেয়ে নিকটবর্তী হয় যখন সে সেজদায় যায় তখন বান্দা এবং রব্বুল আলামীনের মধ্যে কোন গ্যাপ থাকে না সুবহানাল্লাহ। আপনি যা চাইবেন আল্লাহ তায়ালা তখন তাই কবুল করবেন সম্মানিত দর্শক এর জন্য আপনার মনের মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণ একিন ও এখলাস থাকতে হবে। আমি সবসময় এই কথাটি বলে আসছি দোয়া বা আমল রব্বুল আলামীনের দরবারে কবুলিয়াতের জন্য আপনার দিলের মধ্যে পরিপূর্ণ আস্থা রাখতে হবে 100 ভাগ রাখতে হবে। এবং নিয়ম জেনে এবং তা মেনে আমলটি করতে হবে ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তাআলার রহমতে আপনি সফলতা পাবেন। আমলটি করার নিয়ম হলো এ আমলটি করতে হবে আপনাকে তাহাজ্জুদের নামাজের সময় মনে রাখবেন এ আমলটি আপনি ফরজ নামাজের সেজদায় করতে পারবেন না। এটি করতে হবে নফল নামাজ তথা সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সময় হচ্ছে তাহাজ্জুদের নামাজের সময়। কেননা তাহাজ্জুদের নামাজ পড়া হয় শেষ রাতে আর হাদিস শরীফে আছে শেষ রাতের একটি বিশেষ সময় আল্লাহ রব্বুল আলামীন নিচের আসমানে নেমে এসে বান্দাদের উদ্দেশ্যে বলেন কার কি প্রয়োজন আমার কাছে চাও আমি তা পূরণ করে দিব। কে অভাবগ্রস্ত আমার কাছে চাও আমি অভাব মিটিয়ে দিব কে ঋণগ্রস্ত আমার কাছে চাও আমি ঋণ পরিশোধ করার তৌফিক দান করব। আল্লাহু আকবার আপনি তখন যদি তাহাজ্জুদের বিছানায় নামাজের দাঁড়িয়ে সেজদারত হয়ে রব্বুল আলামীনের দরবারে এই দোয়াটি 10 বার পাঠ করেন আল্লাহ তাআলা আপনার মনের সকল ইচ্ছাগুলো পূরণ করে দিবেন ইনশাআল্লাহ। দোয়াটি হচ্ছে কোরআন শরীফের এই আয়াত আমরা সবসময় মোনাজাতে পড়ে থাকি রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানা হে রব আপনি আমার দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন। ওয়াফিল আখিরাতি হাসানা ইয়া আল্লাহ আপনি আখেরাতেও আমাকে কল্যাণ দান করুন ওয়াকিনা আজাবান্নার হে প্রভু আপনি আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচান সূরাতুল বাকারা 201 নম্বর আয়াত। আপনি তাহাজ্জুদের নামাজের ভিতরে সেজদারত অবস্থায় প্রথম সেজদা হোক দ্বিতীয় সেজদা হোক প্রতি রাকাতই হোক সেজদার তাসবিহ পাঠ করে সেজদারত অবস্থায় এই দোয়াটি দিল থেকে খালাস নিয়তে চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে 10 বার পাঠ করবেন।
[3:31]10 বার পাঠ করে আপনি নামাজ শেষ করে কয়েকবার আস্তাগফিরুল্লাহ কয়েকবার দুরুদ শরীফ পড়ে তারপর আল্লাহর কাছে হাত তুলুন দোয়া করবেন ইনশাআল্লাহ ইনশাআল্লাহ আপনি যা চাইবেন আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন আপনাকে তাই দান করবেন। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত এই দোয়াকে সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া বলা হয় হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দোয়াটি সবচেয়ে বেশি করতেন সুপ্রিয় দর্শক দুনিয়াতে আল্লাহ তাআলার যত অলি গাউস কুতুব রয়েছেন এবং আল্লাহ তাআলার নিকটতম বান্দা রয়েছেন একমাত্র তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়ের ফলে অতি তাড়াতাড়ি আল্লাহ তাআলার নিকটবর্তী পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। এই জন্য বেশি বেশি তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন এবং নামাজের সেজদায়ের মধ্যে এই কোরআনের আয়াতটি 10 বার পাঠ করার চেষ্টা করবেন ইনশাআল্লাহ। আর আপনি যদি তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতে না পারেন তাহলে যে কোন সময় দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করবেন ও সেজদারত অবস্থায় এই দোয়াটি পাঠ করতে পারেন ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আপনার দোয়া কবুল করে নিবেন এবং আপনার সকল চাওয়া সকল অপূর্ণতা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা পূরণ করে দিবেন। এই আমলটি আপনি কতদিন করবেন আপনি আল্লাহর কাছে যেই আশা আকাঙ্ক্ষার কথা বলছেন যে দোয়াগুলো করছেন যতদিন পর্যন্ত না আপনার আশাগুলো পূরণ হয় ততদিন আপনি আমলটি করতে থাকবেন। তাহাজ্জুদ পড়তে না পারলে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে হলেও আমলটি করতে থাকবেন যখন দেখবেন আপনার আশা পূরণ হয়েছে আপনি যা চেয়েছেন তা পেয়েছেন তখন সাথে সাথে আমলটি বন্ধ না করে আপনি বেশি বেশি শুকরিয়া আদায় করবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ কৃতজ্ঞ ব্যক্তিদের অনেক ভালোবাসেন পছন্দ করেন এবং একাধিক দোয়ার জন্য এই আমল কি চালিয়ে যেতে পারেন ইনশাআল্লাহ রব্বুল আলামীনের খাজানা তথা তার ভান্ডারে অভাব বলতে কোন কথা নেই। তিনি চাইলে খুশি হন বান্দার কাছে চাইলে বান্দা নারাজ হয়।



