[0:00]আজ বিশ্বের প্রায় প্রত্যেকটা দেশে জ্বালানি তেলের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। প্রত্যেকটা অয়েল পাম্পে গাড়ির লাইন, ইভেন এই তেলের জন্যই প্রতিটা জিনিসের দাম বাড়ছে।
[0:10]কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন মাটির নিচ থেকে পাওয়া কালো থকথকে ঘন পদার্থ থেকে কিভাবে পেট্রোল, ডিজেল, গ্যাস আবার কখনো আলকাতরা বা প্লাস্টিক তৈরি হয়।
[0:22]কিভাবে সমুদ্রের নিচ থেকে এই খনিজ তেল উত্তোলন করা হয়। আজকের দিনে ইরান যুদ্ধ সারা বিশ্বের অর্থনীতিকে ঝুঁকির সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
[0:32]কারণ যে অঞ্চলে যুদ্ধ হচ্ছে অর্থাৎ মিডিল ইস্ট এখানেই বিশ্বের সবথেকে বেশি খনিজ তেল এবং গ্যাস পাওয়া যায়।
[0:39]প্রশ্ন হলো কেন? মিডিল ইস্টে এত বিপুল পরিমাণে খনিজ তেলের ভান্ডার এলো কোথা থেকে?
[0:45]আগুন আবিষ্কারের মাধ্যমে পৃথিবীতে বিজ্ঞানের সূচনা হয়েছিল। সেই বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়েই আজকের দিনে আমরা মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা কয়েক লক্ষ কোটি বছরের সম্পদকে তুলে এনে আমাদের সভ্যতার চাকাকে ঘোরাচ্ছি।
[1:00]আধুনিক যুগে এই ক্রুড অয়েলের মূল্য সোনার সমান। আমি রয়েছি মিঠুন আপনাদের সাথে আর আপনি দেখছেন রোমাঞ্চপিডিয়া।
[1:07]আজ কথা হবে ঠিক কিভাবে সমুদ্রের তলদেশ থেকে খনিজ তেল উত্তোলন করার পর তাকে শোধন করা হয়।
[1:14]আর কেনই বা মিডিল ইস্টে বিশ্বের সবথেকে বড় তেলের ভান্ডার রয়েছে।
[1:19]ভিডিওটা ভীষণই ইন্টারেস্টিং হতে চলেছে। আপনি বহু অজানা তথ্য জানতে চলেছেন। তাই অবশ্যই শেষ পর্যন্ত দেখুন।
[1:26]আর আপনাদেরকে রিকোয়েস্ট করবো অবশ্যই ভিডিওটা একটা করে লাইক করে দিন। এটা আমাদেরকে ইন্সপায়ার করে। এই ধরনের ভিডিও আরো বানাতে।
[1:39]প্রথমে যে প্রশ্নটা ওঠে সেটা হচ্ছে পৃথিবীর নিচে এই যে তেলের বিশাল ভান্ডার এটা কি প্রথম থেকেই ছিল? উত্তর হলো না।
[1:46]জানলে অবাক হবেন এই তেলের গল্প শুরু হয়েছিল মানব প্রজাতির সৃষ্টির বহু আগে থেকে। এমনকি ডাইনোসরেরও আগে।
[1:54]30 বা 40 কোটি বছর আগে পৃথিবী আজকের মতো ছিল না। তখন এই আজকের মতো আলাদা আলাদা মহাদেশও ছিল না।
[2:01]বরং সম্পূর্ণ স্থলভাগ জুড়ে একটা বিশাল বড় ল্যান্ড মাস তৈরি করেছিল। পৃথিবীর বড় অংশ জুড়ে ছিল অগভীর সমুদ্র আর সেই সমুদ্রের জলে ভেসে বেড়াতো অসংখ্য মাইক্রোস্কোপিক জীব যেমন প্ল্যাঙ্কটন, অ্যালগাই আরো ছোট ছোট মেরিন অর্গানিজম।
[2:17]এরা আকারে এতটাই ছোট যে খালি চোখে দেখা যেত না। কিন্তু এদের সংখ্যা ছিল প্রচুর।
[2:23]এই জীবগুলো সূর্যের আলো ব্যবহার করে সালকসংশ্লেষ করতো, বংশ বিস্তার করতো আর তারপর একদিন মারা যেত।
[2:30]এই জীবগুলো যখন মারা যেত তাদের মৃতদেহ সমুদ্রের তলদেশে জমা হতো।
[2:36]সাধারণ অবস্থায় মৃতদেহ খোলা বাতাসে থাকলে পচে যায়। কিন্তু সমুদ্রের একদম গভীরে অক্সিজেন কম থাকায় এই মৃতদেহগুলো পুরোপুরিভাবে ডিকম্পোজ হতে পারেনি।
[2:47]ধীরে ধীরে এই মৃতদেহের উপর চাপা পড়ে কাদা, বালি এবং পলির আস্তরণ। এরকমই বিভিন্ন স্তরে এগুলো চাপা পড়তে থাকে।
[2:58]এরপর শুরু হয় প্রকৃতির আরো একটা ইম্পর্টেন্ট পার্ট প্লেট টেকটোনিক থিওরি।
[3:04]যারা জানেন না তাদেরকে বলে দেই আমাদের পৃথিবীর যে উপরিভাগ আপনারা দেখতে পান এটা আসলে অনেকগুলো বিশাল বিশাল পাত দিয়ে ভাগ করা রয়েছে।
[3:13]যেগুলো সবসময় খুব ধীরে ধীরে নড়াচড়া করে। বছরে কয়েক সেন্টিমিটার।
[3:18]কিন্তু কয়েক কোটি বছর ধরে এই ছোট ছোট মুভমেন্টগুলোই বিশাল পরিবর্তন ঘটায়।
[3:24]দুটো প্লেট যখন একে অপরের দিকে এগোয় তখন একটা প্লেট আরেকটার নিচে ঢুকে যায়।
[3:31]এর ফলে সমুদ্রের তলদেশে জমা হতে থাকে অর্গানিক লেয়ার। এর আগে যে মৃতদেহগুলো পলির নিচে চাপা পড়েছিল সেগুলো এই টেকটোনিক প্লেটের মুভমেন্টের কারণে আরো নিচে চাপা পড়তে থাকে।
[3:43]লেয়ারের পর লেয়ার জমে নিচের এই জৈব পদার্থের উপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি হয়। সাথে বৃদ্ধি পায় তাপমাত্রা।
[3:51]প্রায় 2 থেকে 4 কিলোমিটার গভীরে তাপমাত্রা 60 থেকে 120 ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
[3:59]আর এই বিশেষ জোনটাকেই বলা হয় অয়েল উইন্ডো। এই পরিবেশেই অর্গানিক ম্যাটারগুলো পরিবর্তিত হয়ে হাইড্রোকার্বনে পরিণত হয়।
[4:07]প্রথমে তৈরি হয় কেরোজিন নামের একটি মোমের মতো পদার্থ। আর এটাই আজকের দিনের অয়েলের প্রাথমিক রূপ।
[4:16]এরপর কয়েক লক্ষ বছর ধরে হিট এবং প্রেসারে এই কেরোজিনকে ভেঙে তৈরি হয় ক্রুড অয়েল এবং ন্যাচারাল গ্যাস।
[4:26]মানে সহজ ভাষায় বলতে গেলে আপনি আপনার বাইকে বা গাড়িতে যে তেল ব্যবহার করছেন সেটা তৈরি হওয়ার প্রসেসটা শুরু হয়েছিল আজ থেকে কয়েক লক্ষ বছর আগে।
[4:36]কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এই তেল বা গ্যাস এক জায়গায় স্থির থাকে না। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে মাটির নিচে বিশাল বিশাল তেলের খনি বা গ্যাসের খনি কিভাবে সৃষ্টি হয়?
[4:49]অয়েল এবং গ্যাস জলের তুলনায় হালকা হওয়ায় তারা পাথরের বা মাটির ফাঁক দিয়ে ধীরে ধীরে উপরের দিকে উঠতে থাকে।
[4:58]এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় মাইগ্রেশন। মাটির নিচে যদি কোনো বাঁধা না থাকতো তাহলে কিন্তু এই তেল খুব সহজেই মাটির উপরে চলে আসতো এবং সেগুলো নষ্ট হয়ে যেত।
[5:10]কিন্তু আমাদের প্রকৃতি এখানেও একটা আশ্চর্য ন্যাচারাল ট্র্যাপ তৈরি করেছে।
[5:14]মাটির নিচে এমন কিছু রক লেয়ার থাকে যেগুলো ভীষণই শক্ত। যেমন শেল বা স্লেট রক।
[5:22]এগুলো ঢাকনার মতো কাজ করে। এগুলো তেল বা গ্যাসকে উপরের দিকে উঠতে দেয় না। ফলে নিচে পোরাস রকের মধ্যেই তেল জমে তেলের কুও তৈরি হয়ে যায়।
[5:32]বেসিক্যালি একটা অয়েল ফিল্ড তৈরি হতে তিনটা জিনিসের দরকার হয়। প্রথমত হলো সোর্স রক যেখানে তেল তৈরি হয়েছে।
[5:41]দ্বিতীয়ত রিজার্ভার রক যেখানে তেল জমা আছে আর তৃতীয়ত ক্যাপ রক যেটা তেলকে আটকে রাখে।
[5:48]এই তিনটের পারফেক্ট কম্বিনেশন না হলে আজকের দিনে কিন্তু পৃথিবীতে তেলের খনি সৃষ্টিই হতো না।
[5:56]কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে পৃথিবীতে তো আগে প্রায় সব জায়গাতেই অগভীর সমুদ্র ছিল। তাহলে কেন শুধুমাত্র মিডিল ইস্টে এত পরিমাণে তেল পাওয়া যায়?
[6:06]দেখুন আজকের দিনে যেখানে মিডিল ইস্টান কান্ট্রিগুলো রয়েছে সেখানে আজ থেকে কয়েক কোটি বছর আগে ছিল বিশাল একটা সমুদ্র টেথিস সাগর।
[6:15]প্রকৃতির আপন নিয়মেই এই টেথিস সাগরের নিচে ধীরে ধীরে জমা হচ্ছিল বিভিন্ন প্রাণীদের মৃতদেহ এবং শুরু হয়েছিল খনিজ তেল তৈরির প্রক্রিয়া।
[6:26]কিন্তু আপনাদেরকে আগেই বললাম এই যে মাটির নিচে টেকটোনিক প্লেটগুলো থাকে এগুলো প্রতিবছর অল্প অল্প করে নড়াচড়া করে।
[6:34]তেমনি এই অঞ্চলে থাকা ইন্ডিয়ান প্লেটো ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিল এশিয়ান প্লেটের দিকে। ঠিক সেই সময় সমুদ্রের নিচের অংশ ভাঁজ খেয়ে উপরে উঠে আসে। তৈরি হয় এক নতুন ভূখণ্ড।
[6:49]যাকে আমরা মিডিল ইস্ট নামে জানি। ভূখণ্ডের সাথে সাথে এই ভূখণ্ডের নিচে জমা হওয়া খনিজ তেলের ভান্ডারও সমুদ্র থেকে সরে যায়।
[6:58]এই কারণেই আপনারা দেখবেন বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোতে যেখানে তেলের কুয়োর বেশিরভাগ সমুদ্র থাকে সেখানে আরবীয় দেশগুলোতে তেলের কুয়োর পরিমাণ স্থলভাগে বেশি।
[7:08]আমি বিষয়টাকে খুবই সহজভাবে এক্সপ্লেইন করার চেষ্টা করছি। কিন্তু তারপরেও আপনি যদি কোথাও বুঝতে না পারেন কমেন্ট করবেন। আমি চেষ্টা করব সেটাকে এক্সপ্লেইন করে দেওয়ার।
[7:18]তো ফিরে আসি টপিকে। স্থলভাগের ক্ষেত্রে এই তেল তোলার প্রসেসটা অনেকটা ইজি।
[7:22]সরাসরি মাটি কেটে পাইপ বসিয়ে তারপর তেল তোলা হয়। কিন্তু সমুদ্রে এই প্রসেসে তেল তোলা সম্ভব নয়।
[7:30]তো চলুন এবার জেনে নেই যে সমুদ্র থেকে ঠিক কোন প্রসেসে তেল খোঁজা হয় এবং সেগুলোকে তোলা হয়।
[7:36]আর সবশেষে কিভাবে সেই তেল শোধন করা হয়।
[7:43]সমুদ্রের নিচ থেকে তেল তোলার কাজটা করা হয় এক বিশাল ভাসমান কারখানার মাধ্যমে। যাকে বলা হয় অফশোর অয়েল ড্রিক।
[7:52]প্রথমে সমুদ্রের নিচে কোথায় তেল রয়েছে সেটা খোঁজার জন্য বিজ্ঞানীরা বিশেষ সারভে শিপ থেকে সমুদ্রের জলে পাওয়ারফুল সাউন্ড ওয়েভ পাঠায়।
[8:00]এই তরঙ্গ সমুদ্রতলে গিয়ে ফিরে আসে আর সেই ডাটা অ্যানালাইজ করে বিজ্ঞানীরা মাটির নিচের থ্রিডি ম্যাপ তৈরি করেন এবং কোথায় কোথায় তেলের সম্ভাবনা আছে সেটা বোঝার চেষ্টা করেন।
[8:14]একবার অয়েল রিজার্ভ খুঁজে পাওয়ার পরেই শুরু হয় আসল কাজ। প্রথমে সমুদ্রের মাঝখানে একটা বিশাল বড় স্টিলের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়। অনেক সময় এগুলো স্থিরভাবে সমুদ্রতলে বসানো হয়।
[8:26]আবার গভীর সমুদ্রে ফ্লোটিং রিগ ব্যবহার করা হয়।
[8:30]এই রিগগুলো যাতে সমুদ্রের স্রোতে ভেসে না যায় তাই ব্যবহার করা হয় বিশাল বিশাল চেইন।
[8:35]যেগুলো দিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় এই রিগগুলোকে আটকে রাখা হয়।
[8:39]দূর থেকে আপনি যদি এই ফ্লোটিং স্টেশনগুলোকে দেখেন তাহলে মনে হবে একটা ছোটখাটো শহর সমুদ্রের উপর ভেসে রয়েছে।
[8:47]একবার এই রিগ তৈরি হয়ে গেলে শুরু হয় ড্রিলিং প্রসেস। রিগ থেকে প্রায় 9 ফুট লম্বা স্টিল পাইপ একটার সাথে আরেকটা জুড়ে সমুদ্রের জলের নিচে নামিয়ে দেওয়া হয়।
[8:59]এই পাইপ কয়েক কিলোমিটার নিচে সমুদ্রতলদেশ ভেদ করে পাথরের স্তরের মধ্যে ঢুকে যায়।
[9:06]পাইপগুলোর মাথায় থাকে শক্ত ড্রিল বিট। এগুলো ঘুরতে ঘুরতে পাথর কেটে আরো গভীরে যেতে থাকে।
[9:15]যখন ড্রিল তেলের রিজার্ভ পর্যন্ত পৌঁছে যায় তখন এই কুপের চারিপাশে স্টিল কেসিং বসিয়ে সিমেন্ট দিয়ে শক্ত করে সিল করে দেওয়া হয়।
[9:25]যাতে ভেতরে ধস না নামে। এরপর বসানো হয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা যন্ত্র যাকে বলা হয় বিওপি অর্থাৎ ব্লোআউট প্রিভেন্টার।
[9:34]এটা এক ধরনের সেফটি ভালভ হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে এই বিওপি সঙ্গে সঙ্গে তেলের কুপটা বন্ধ করে দিতে পারে।
[9:42]যাতে বিস্ফোরণ হয়ে সমুদ্রের তেল ছড়িয়ে দেওয়ার মতো দুর্ঘটনা ঘটতে না পারে।
[9:48]এরপর শুরু হয় আসল এক্সট্রাকশন। প্রথমের দিকে মাটির নিচে যে ন্যাচারাল প্রেসার থাকে তার কারণেই তেল অটোমেটিক্যালি উপরের দিকে উঠতে থাকে।
[9:59]কিন্তু কিছুদিন পর চাপ কমে গেলে ইলেকট্রিক পাম্প বা গ্যাস ইনজেকশন ব্যবহার করে তেল বা গ্যাস উপরে তোলা হয়।
[10:07]সমুদ্র কিংবা স্থলভাগ থেকে এই তেল উত্তোলন করার পরে কিন্তু কাজ শেষ হয়ে যায় না।
[10:12]কারণ মাটির নিচ থেকে যে ক্রুড অয়েল উঠে আসে সেটা সরাসরি কোন গাড়িতেই ব্যবহার করা যায় না।
[10:17]এটা আসলে একটা ঘন কালো আঠালো এক ধরনের মিক্সচার যার মধ্যে একসাথে কয়েকশো ধরনের হাইড্রোকার্বন মলিকিউল থাকে।
[10:26]এছাড়াও গ্যাস, সালফার, লবণ, বালি, কাদা এই সমস্ত কিছু মিশে থাকে।
[10:31]এই অপরিশোধিত তেলকে ব্যবহারযোগ্য জ্বালানিতে পরিণত করার জন্য এগুলোকে পাঠানো হয় রিফাইনারি বা তৈল শোধনাগারে।
[10:41]এই রিফাইনারির ভেতরেই ক্রুড অয়েলকে বিভিন্ন রূপ দেওয়া হয়। আর এই প্রসেসটা কিন্তু ভীষণই ইন্টারেস্টিং।
[10:50]রিফাইনারিতে ঢোকার পরেই ক্রুড অয়েলকে একটা বিশাল ফার্নেসের মাধ্যমে প্রচন্ড তাপে গরম করা হয়। এখানে তাপমাত্রা 350 থেকে 400 ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়।
[11:00]এত বেশি তাপে তেল ধীরে ধীরে বাষ্পে পরিণত হতে শুরু করে।
[11:06]এরপর এই গরম ভেপর পাঠানো হয় একটা বিশাল টাওয়ারের মধ্যে। যাকে বলা হয় ফ্র্যাকশনাল ডিস্টিলেশন কলাম।
[11:13]কয়েক তলা উঁচু বিল্ডিং এর সমান এই টাওয়ারটাই পুরো রিফাইনিং প্রসেসের প্রাণকেন্দ্র।
[11:18]এই টাওয়ারের ভেতরেই আলাদা আলাদা উচ্চতায় বিভিন্ন টেম্পারেচার জোন তৈরি করা থাকে। নিচের অংশ সবচেয়ে গরম আর উপরের দিকে উঠলে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমতে থাকে।
[11:30]আর এখানে সবথেকে ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হচ্ছে ক্রুড অয়েলের বিভিন্ন অংশের বয়লিং পয়েন্ট আলাদা আলাদা হয়।
[11:36]ফলে ভেপর উপরের দিকে উঠতে উঠতেই ধীরে ধীরে আলাদা হয়ে যায়। সবচেয়ে ভারী অংশগুলো যেগুলোর বয়লিং পয়েন্ট সবথেকে বেশি সেগুলো নিচের দিকেই থেকে যায়।
[11:47]যেমন ধরুন বিটুমিন বা আলকাতরা এবং লুব্রিকেটিং অয়েল যেগুলো রাস্তা বানানোর কাজে বা হেভি মেশিনারিটে ব্যবহার করা হয়।
[11:54]এর একটু উপরে উঠলেই স্টোর হয় ডিজেল ফুয়েল তার উপরে কেরোসিন বা এভিয়েশন ফুয়েল যেটা মেইনলি বিমান চালাতে ব্যবহৃত হয়।
[12:04]এরপর টাওয়ারের মাঝামাঝি অংশে কনডেন্সড হয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ পেট্রোল বা গ্যাসোলিন।
[12:10]আর একদম উপরের দিকে উঠে যায় সবচেয়ে হালকা গ্যাসগুলো যেমন মিথেন, প্রোপেন, বিউটেন যেগুলো পরবর্তীতে এলপিজি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
[12:21]তবে এখানে কিন্তু রিফাইনিং প্রসেস শেষ হয় না। ডিস্টিলেশন টাওয়ার থেকে যে পেট্রোল পাওয়া যায় সেটা কিন্তু তখনও সরাসরি গাড়িতে ব্যবহারের উপযোগী হয়ে ওঠেনি।
[12:31]তাই এরপর শুরু হয় আরো বিশেষ কেমিক্যাল প্রসেস। প্রথমে করা হয় ক্যাটালিটিক ক্র্যাকিং। সহজ ভাষায় বললে ক্রুড অয়েলের মধ্যে অনেকগুলো বড় বড় হাইড্রোকার্বন মলিকিউল থাকে।
[12:43]যেগুলো ভারী এবং কম ব্যবহৃত হয়। এই প্রসেসে সেই বড় মলিকিউলগুলোকে ভেঙে ছোট ছোট মলিকিউল বানানো হয়।
[12:50]ফলে পেট্রোলের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব হয়। এরপর আসে রিফর্মিং প্রসেস। এখানে মলিকিউলগুলোকে ভাঙা হয় না বরং এদের গঠনে একটু পরিবর্তন করা হয়।
[13:00]এতে জ্বালানি তেলের কোয়ালিটি বেড়ে যায় এবং পেট্রোল ইঞ্জিনের ভেতরে এগুলো আরো স্মুথলি চলে।
[13:06]এর ফলে গাড়ির পারফরমেন্স ভালো হয়, নকিং বা ঝাঁকুনি হয় না। সবশেষে পেট্রোলের সাথে কিছু অ্যাডিটিভ মেশানো হয়। এই অ্যাডিটিভ ফুয়েলকে আরো এফিশিয়েন্টলি বার্ন হতে হেল্প করে।
[13:17]যাতে এটা ইঞ্জিনকে আরো সুরক্ষিত রাখতে পারে এবং পরিবেশের দূষণের মাত্রা কমতে পারে।
[13:22]মানে সহজ ভাষায় বলতে গেলে রিফাইনারি শুধুমাত্র তেলকে আলাদা করে না বরং সেটাকে ধাপে ধাপে উন্নত করে এবং আধুনিক ইঞ্জিনের জন্য সেটাকে পারফেক্ট করে তোলে।
[13:33]এইসব প্রসেস শেষ হয়ে যাওয়ার পর এই জ্বালানি বিশাল স্টোরেজ ট্যাংকে জমা রাখা হয়।
[13:39]তারপর পাইপলাইন, রেল ট্যাঙ্কার, অয়েল ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে এই ফুয়েল পৌঁছে যায় বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে।
[13:46]অর্থাৎ পৃথিবীর গভীরে কোটি কোটি বছর ধরে তৈরি হওয়া সেই থকথকে কালো পদার্থ অসংখ্য ইঞ্জিনিয়ারিং প্রসেসের পর আপনার গাড়ির ফুয়েল ট্যাংক পর্যন্ত পৌঁছায়।
[13:58]তবে ক্রুড অয়েল কিন্তু শুধুমাত্র এই তেল এবং গ্যাস ছাড়াও আরো বহু জিনিসের জন্ম দেয়।
[14:02]রিফাইনারিতে ক্রুড অয়েল পরিশোধনের সময় ন্যাফথা নামে একটি পদার্থ তেল থেকে আলাদা হয়ে যায়।
[14:10]এরপর এই ন্যাপথকে পাঠানো হয় পেট্রোকেমিক্যাল প্লান্টে। এখানেই শুরু হয় আরো একটা ইম্পর্টেন্ট প্রসেস প্লাস্টিক প্রোডাকশন।
[14:21]হাই টেম্পারেচার এবং কেমিক্যাল রিয়াকশনের মাধ্যমে ন্যাফথা ভেঙে ইথিলিন, প্রপিলিনের মতো ছোট ছোট মলিকিউল তৈরি করে।
[14:30]এরপর পলিমারাইজেশন নামে একটি প্রক্রিয়ায় এই ছোট ছোট মলিকিউলগুলো একই অপরের সাথে যুক্ত হয়ে প্লাস্টিক পলিমার তৈরি করে।
[14:39]এই পলিমার থেকেই তৈরি হয় পলিইথিলিন, পলিপ্রোপিলিন, পিভিসি এবং আরো অসংখ্য ধরনের প্লাস্টিক।
[14:47]আপনার হাতে থাকা মোবাইল ফোন, ঘরে থাকা জলের বোতল, কম্পিউটারের পার্টস, গাড়ির পার্টস, মেডিকেল ইকুইপমেন্ট, কাপড়ের সিন্থেটিক ফাইবার এই সবকিছুর পেছনেই রয়েছে ক্রুড অয়েল।
[15:00]আশা করি এতেই আপনারা বুঝতে পারবেন আজকের দিনে এই যে ইরান যুদ্ধে মিডিল ইস্ট থেকে ক্রুড অয়েল আমাদের দেশে আসতে পারছে না। এই কারণে প্রত্যেকটা জিনিসের দাম কেন বাড়তে চলেছে?
[15:10]কারণ আমরা শুধুমাত্র তেল ব্যবহার করি না। বলতে পারেন আমরা তেলের তৈরি একটা পৃথিবীতে বসবাস করছি।
[15:16]রাস্তার আধুনিক গাড়ি থেকে শুরু করে প্লেনের জ্বালানি, সার উৎপাদন, কসমেটিক ইন্ডাস্ট্রি, পেইন্ট, মেডিসিন, প্যাকেজিং, আধুনিক জীবনের প্রতিটা স্তরেই কোনো না কোনোভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই পেট্রোলিয়াম ইন্ডাস্ট্রি।
[15:30]আর এই কারণেই তেলকে বলা হয় আধুনিক সভ্যতার লাইফলাইন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যেখানে আমাদের পৃথিবীতে প্রতিদিন প্রায় 10 কোটি ব্যারেল ক্রুড অয়েলের প্রয়োজন হয়।
[15:40]যে সম্পদ তৈরি হতে কয়েক কোটি বছর সময় লাগে তা যদি হঠাৎ করে শেষ হয়ে যায় তাহলে কি হবে?
[15:47]বা ইরানের মতো এরকম ধরনের যুদ্ধ যদি আরো ভবিষ্যতে হতে থাকে তাহলে কি আমাদের এই সভ্যতার চাকা থমকে যাবে? কমেন্ট সেকশনে আপনার মতামত অবশ্যই জানান।
[15:58]চেঙ্গিস খান যে দেশে রাজত্ব করতেন মঙ্গোলিয়া সেই দেশের 99% এরিয়া আজও খালি পড়ে রয়েছে।
[16:07]এই বিষয়ে ডিটেইলসে জানার জন্য এই ভিডিওটা দেখুন। কেমন লাগলো আজকের টপিক কমেন্ট সেকশনে অবশ্যই জানান।
[16:12]ভিডিওটা ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক করে দিন। বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করে দিন। দেখা হবে পরের ভিডিওতে ততদিন ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আর আমি ছিলাম মিঠুন আপনার সাথে।



