[0:00]মাতাজিরা এই আশ্রমের এখানকার মাতৃমন্দিরের শ্রী ভবতোষ মিত্রবাবু, শিবেশ্বর মুখার্জীবাবু রথিন মুখার্জীবাবু বর্তমান সভাপতি শ্রী পরিমল ভট্টাচার্য বাবু সাধারণ সম্পাদক শ্রী স্বপন চক্রবর্তী বাবু অন্যান্য সভা সভারারা এবং উপস্থিত সকলে। আজকে আমরা একটা বিশেষ আলোচনা করতে যাব। সেটা হচ্ছে বিবেকানন্দ রবীন্দ্রনাথ মিল অমিল। এরা দুজনেই আমাদের মহামানব এবং অতি বিরল এই জীবন। বিবেকানন্দের মাধ্যমে সমস্ত বিশ্ব তারা ভারত আত্মার সঙ্গে পরিচিত হতে পেরেছিল। আর রবীন্দ্রনাথের মাধ্যমে সমস্ত বিশ্ব বাংলার সুষমার সঙ্গে পরিচিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ কবিদ্যায়, সাহিত্যে, নাটক, উপন্যাসে অদ্বিতীয়। আর বিবেকানন্দ বাক্য যুক্তির বিন্যাসে প্রখর বাগ্মিতায় আত্মপ্রত্যয়ে অধ্যাত্ম উপলব্ধি তে অতুলনীয়। দুজনেই কবি ও সংগীতপ্রেমী। দুজনেই সমাজ সংস্কারক, চিন্তানায়ক, দেশপ্রেমিক, মানব দরদী। রবীন্দ্রনাথকে সম্মান জানাতে তারই শব্দে বলতে হয় ওই মহমানবো আসে দিকে দিকে রোমাঞ্চ লাগে। মর্তধূলির ঘাসে ঘাসে। বিবেকানন্দকে প্রণাম জানাতে মনে পড়ে তারই গুরু ভাইয়ের অনবদ্য রচনা। নমঃ শ্রী যতিরাজায় বিবেকানন্দ সূর্যে সচ্চিৎ সুখস্বরূপায় স্বামিনে তাপহারিণে। একটা খুব অদ্ভুত জিনিস আমরা লক্ষ্য করব। এই রবীন্দ্রনাথ এবং বিবেকানন্দের বংশ তারা প্রায় একই সঙ্গে একই জায়গায় আসছেন। রবীন্দ্রনাথের বংশের সত্যিকারের সূত্রপাত পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান থেকে। আর বিবেকানন্দের বংশের সূত্রপাতও পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান থেকে। যদিও ঠাকুর বংশের পারিবারিক প্রাচীন ইতিহাস থেকে জানা যায় রাজা বল্লাল সেনের রাজত্বের সময় 1060 খ্রিস্টাব্দে কনৌজ থেকে যে পাঁচজন ব্রাহ্মণ বাংলায় গিয়েছিলেন তাদের প্রধান ছিলেন ভট্ট নারায়ণ। ইনি বংশের প্রথম পুরুষ এরই 30তম পুরুষ হলেন প্রিন্স দ্বারকানাথ আর রবীন্দ্রনাথ হলেন 32তম বংশধর। বর্ধমানীর কুশ নামে একটি গ্রামে এদের বাস ছিল বলে এদেরকে কুশারী বলা হতো। এই কুশারীদের আদি যিনি জগন্নাথ কুশারীর দ্বিতীয় পুত্র পুরুষোত্তম থেকেই ঠাকুর এই উপাধি শুরু হয়।
[3:29]এরকম কাহিনী আছে যে ওদের বংশের কেউ একজন মুসলমানদের সাথে খেয়েছিলেন বলে ব্রাহ্মণদের মধ্যে পতিত হন। তাই এদের বলা হতো পীরালী বা পতিত ব্রাহ্মণ।
[4:03]এটাও খুব রেগে গেল এবং কোন একটা সময়ে ও চালাকি করে যখন কুশারীরা সব খেতে বসেছেন তখন কিছু মুসলমানকে নিয়ে এসে ওদের চারপাশে বসিয়ে দিয়ে তাদেরকে হিন্দুদের নিষিদ্ধ খাদ্য ওদেরকে দিয়ে খেতে দেয়। এবং বলে সবাইকে ঘোষণা করে দেয় যে খায়নি বটে কিন্তু ঘ্রাণে নর্দভোজনা সে দিন থেকে ওরা পতিত হয়ে যায়। রবীন্দ্রনাথের পূর্বপুরুষ মহেশ্বর কুশারী ও সুখদেব কুশারী বর্ধমান থেকে কলকাতায় কলিকাতা গ্রামের দক্ষিণে গোবিন্দপুর গ্রামে এসে বসবাস শুরু করেন। বিবেকানন্দের পূর্বপুরুষও মোটামুটি সেই সময় বর্ধমান থেকে এসে ওই গোবিন্দপুর গ্রামে বসবাস শুরু করেন। মোঘল আমলের বর্ধমানের কালনা মহাকুমায় দরিয়াটোন বা দেড়েটোনাতে বিবেকানন্দের পূর্বপুরুষ বাস করতেন। রবীন্দ্রনাথের এক পূর্বপুরুষ পঞ্চানন কুশারী তিনি ইংরেজদের জাহাজে মালপত্র উঠানো নামানো করতেন। এই ব্যবসার যে শ্রমিকেরা যারা তাকে সাহায্য করতো তারা তাকে ঠাকুর মশাই বলে ডাকতো। সাধারণত এই গরীব মানুষেরা কোন শিক্ষিত মানুষকে ঠাকুর মশাই বলে। ওরা ঠাকুর মশাই বলে ডাকতেন। এইটাতেই ধীরে ধীরে যারা সাহেবরা যারা জাহাজের কাজ করতেন তারা একে টেগর বলতে লাগলেন। ঠাকুরকে অপভ্রংশ করে ওদের কাগজেপত্রে T.A.G.O.R.E. কিংবা T.A.G.O.U.R.I. লেখা শুরু হলো। এবং এরাও পরবর্তীকালে আর কুশারী না লিখে ঠাকুর এইটি লিখতে শুরু করলেন। ঠাকুর বংশ বলে পরিচিত হলেন। রবীন্দ্রনাথের এক পূর্বপুরুষ জয়রাম ঠাকুরের দ্বিতীয় পুত্র নীলমণি ঠাকুরের থেকেই জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের সূচনা। কলকাতা কলিকাতা গ্রামের পাশে গোবিন্দপুরের সেনা ছাউনি তৈরি হবে বলে ইংরেজরা সেখান থেকে সবাইকে সরে যেতে বলেন। নীলমণি ঠাকুর জোড়াসাঁকোতে বৈষ্ণব চরণ শেঠের থেকে পাওয়া ব্রহ্মত্ব হিসেবে পাওয়া এক বিঘা জমির ওপর কাঁচা পাকা বাড়ি বানিয়ে 1784 খ্রিস্টাব্দ থেকে বিখ্যাত জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সূচনা করেন। আমি এদের বংশ পরিচয়টা বলছি একটু জানার দরকারও। কেননা খুব অদ্ভুতভাবে এ দুজনেরই কেমন ভাবে যেন একটা পাশাপাশি বয়ে চলেছে। ওই একই কারণে কলিকাতার পাশে গোবিন্দপুর থেকে বিবেকানন্দের পূর্বপুরুষ রামমোহন দত্ত তিনি জোড়াসাঁকোর কাছে শিমলাপল্লীতে চলে আসেন। এরা এলেন জোড়াসাঁকোর পাশেই শিমলাপল্লীতে এসে সে বর্তমানে বিখ্যাত তিন নম্বর গৌরমোহন মুখার্জি স্ট্রিটের বিখ্যাত সেই বিশাল বাড়ি তৈরি করেন। সেখানে বসবাস শুরু করেন। নীলমণি ঠাকুরের পর ওই বংশের অভিভাবক হন রামলোচন ঠাকুর। এর সময়ে ঠাকুর বংশ প্রচুর ধন লাভ করে অত্যন্ত ধনী হন। রামলোচন ঠাকুরের কোন পুত্র ছিল না বলে তিনি তার ভাই রামমণির পুত্র দ্বারকানাথকে দত্তক নেন। দ্বারকানাথ 1798 এর জন্ম এবং 1800 1846এ তার মৃত্যু। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে তিনি বংশের ব্যবসাকে অত্যন্ত বাড়িয়ে ফেলেছিলেন। ইউনিয়ন ব্যাংক তৈরি করেছিলেন। এবং একজন সাহেবের সঙ্গে মিলিত হয়ে কার ঠাকুর কোম্পানি নামে জাহাজের ব্যবসা করেছিলেন। ইংরেজি ও ফার্সি ভাষায় অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। আইনজ্ঞ হয়েছিলেন। এবং সে হিসেবে ধার্মিক না হলেও তখনকার দিনের প্রচুর শিক্ষিত বাঙালিরা হিন্দুরা খ্রিস্টান হয়ে যাচ্ছিল বলে তিনি রাজা রামমোহন রায়ের উদ্যোগকে টাকা পয়সা দিয়ে অর্থ দিয়ে সাহায্য করতেন। কনভার্শন বন্ধ করবার জন্য প্রচন্ড বিলাসী জীবন যাপন করতেন। তাই সাহেবরা তাকে প্রিন্স দ্বারকানাথ বলতেন। শেষ জীবনে তিনি বহু টাকা ধার করতেন। বিবেকানন্দের পূর্বপুরুষরাও ছিলেন মার্জিত, শিক্ষিত, সম্ভ্রান্ত। তার প্রপিতামহ রামমোহন দত্ত সুপ্রিম কোর্টের ফারসি আইনজীবী ছিলেন। তার পিতামহ সন্ন্যাসী হয়ে গৃহত্যাগ করেন। তার পিতা বিশ্বনাথ দত্ত সাতটা ভাষায় দক্ষ ছিলেন। ওকালতিতে অত্যন্ত সফল। মাসিক আয় ছিল প্রচুর। রাজকীয় ভাবে তিনি থাকতে ভালোবাসতেন। রবীন্দ্রনাথের পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর 18 বছর বয়স থেকে 21 বছর বয়স পর্যন্ত বিলাসিতা জীবন যাপন করেন। কিন্তু তার পিতামহী অলোকা দেবীর মৃত্যুর পর তার জীবনে একটা পরিবর্তন আসে। 22 বছর বয়সে তিনি ঠাকুরবাড়িতে তত্ত্ববোধিনী সভা স্থাপন করেন। পরবর্তীকালে এই সভায় 1842 এ ব্রাহ্ম সমাজে ভার গ্রহণ করেন। এবং ইনি ব্রাহ্ম সমাজ নামটি দেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথের মা শারদা দেবী আর বিবেকানন্দের মা ভুবনেশ্বরী দেবী খুব আশ্চর্যের ব্যাপার তখনকার দিনের মহিলা হওয়া সত্ত্বেও দুজনেই খুব শিক্ষিতা ছিলেন। বাড়িতেই পড়াশোনা করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের মা শাকম্বরী দেবী পরে শারদা বলে পরিচিত হন। খুলনা জেলার দক্ষিণ দিকে রায়চৌধুরী রামনারায়ণের মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই বাড়িতে বৈষ্ণবীর কাছে বৈষ্ণবী এই কারণে তখনকার দিনে বৈষ্ণবীরাই বাইরে ঘুরতেন। অনেক জ্ঞান লাভ করতেন পড়াশোনা করতেন। এই বৈষ্ণবীর কাছেই শিশু বোধ, চাণক্য শ্লোক, রামায়ণ মহাভারত ইত্যাদি পড়েছেন। অত্যন্ত ব্যক্তিত্বময়ী বিদুষী মহিলা ছিলেন। একবার তার স্বামী দত্তকন্দ প্রতাপ দেবেন্দ্রনাথ বাড়িতেই বাইজি নাচের ব্যবস্থা করায়। তিনি বাড়ির ভেতর থেকে এসে সবার সামনে দাঁড়িয়ে ধমকে এসব বন্ধ করেন। বাড়িতে এটি চলবে না। দেবেন্দ্রনাথ ব্রাহ্ম হওয়া সত্ত্বেও সারাজীবন উনি পূজো করতেন কৃষ্ণপূজো করতেন এবং মানেননি। আর অদ্ভুতভাবে লক্ষ্য করা যায় তার এত ছেলেমেয়ে সবাই সফল। কিন্তু কেউ একজনও দেবেন্দ্রনাথ নন এবং এরা কেউই তার মায়ের নামে কোন কিছু উৎসর্গ করেনি। একটি কবিতাও না। কোন কারণে কিন্তু তার মা পড়াশোনা খুব ভালোবাসতেন। তিনি এত বই পড়তে ভালোবাসতেন কোন বই না পেলে ডিকশনারি খুলে পড়তেন। কিন্তু রোজ অন্তত দু তিন ঘন্টা পড়তেন। ঠিক সেম আমরা দেখছি বিবেকানন্দের মা ভুবনেশ্বরী দেবী। বিবেকানন্দ বিবেকানন্দের মায়ের মা ছিলেন রঘুমণি দেবী। এবং এই রঘুমণি দেবী অসাধারণ সুন্দরী ছিলেন। বিবেকানন্দের মা ভুবনেশ্বরী দেবী অসাধারণ রূপসী ছিলেন। সেই যুগে শিশুকাল এ বাড়িতে ইংরেজি শিখেছিলেন। সুগায়িকা ছিলেন আর শ্রুতিধর ছিলেন। যেন যেকোনো কবিতা একবার শুনলেই তিনি পুরোটা মুখস্থ রাখতে পারতেন বলতে পারতেন। তিনি কবিতা লিখতেনও। বিবেকানন্দের ইংরেজি ভাষার হাতেখড়ি তার মার কাছেই হয়েছিল। স্বামীজির ছোট বোন যোগিন্দ্র বালা কে ইংরেজি শেখাতেন বেথুন কলেজের প্রিন্সিপাল মিস কামিনীশীল। এতে বোঝা যায় তা বাড়িটা কত এডভান্স ছিল। আমরা রবীন্দ্র পরিবার সম্পর্কে জানি যে তারা বাড়ির মেয়েদের শিক্ষিত করবার প্রচেষ্টা করেছিলেন। এবং যারা ব্রাহ্ম বংশের মেয়ে তারা শিক্ষিত হবার চেষ্টা করতেন। কিন্তু পাশাপাশি এটা আমরা জানি না যে দত্ত পরিবারের মেয়েরাও খুব শিক্ষিতা হতেন। এই বাড়িতে এরা ইংরেজি এবং যখন নিবেদিতা এসেছিলেন তখন ভুবনেশ্বরী দেবী তার সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলতেন। প্রতিদিন এবং একই ভাবে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত রোজ চার ঘন্টা করে বই পড়তেন। যেকোনো বই হাতের কাছে পেতেন উনি ওটা পড়ে ফেলতেন।
[13:44]আমাদের গীতাতে বলছে যে যারা খুব শুদ্ধ হয় তারা সূচি নাম শ্রীমতাম গেহে যোগভ্রষ্ট অভিজায়তে। এই যে দুটো পরিবারকে দেখলাম সূচি এবং শ্রীমতাম এই দুটো বাড়িতে দুজন মহাপুরুষের জন্ম হলো। প্রায় কাছাকাছি সময়। 1861 খ্রিস্টাব্দের 7ই মে 12 1268 বঙ্গাব্দের 25শে বৈশাখে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম হলো। আর ঠিক 1863 খ্রিস্টাব্দের 12ই জানুয়ারি 1269 বঙ্গাব্দের 19শে পৌষ সংক্রাত দিনে যুগনায়ক বিবেকানন্দের আবির্ভাব হলো। এখন আমরা এই দুই মহাপুরুষের 150 তম জন্মজয়ন্তী পালন করছি। এদের সম্পর্কে নানান রকম আলোচনা হচ্ছে। লেখা বেরোচ্ছে, চর্চা হচ্ছে। প্রায় সর্বত্র রবীন্দ্রনাথ বিবেকানন্দ নিয়ে এই চলছে। এবং ভারত সরকারও এটা খুব সুখবর আনন্দের যে তারা এই দুই মহাপুরুষকে জন্যে সরকারি তরফ থেকে নানান রকমের ব্যবস্থা করেছেন। আমাদের পশ্চিমবঙ্গ গভমেন্ট খুব এগিয়ে এসেছেন। খুব সাহায্য করছেন। দেখলে খুব ভালো লাগে রাস্তার কোনায় কোনায় বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে রবীন্দ্র সংগীত বাজছে আর বিবেকানন্দের প্লেক লাগানো রয়েছে। এখন এই যে 150 তম এইটাতে আমরা দেখতে গিয়ে বিভিন্ন ভাবে এটা কিন্তু খুবই জরুরী। কেন জরুরী? এই কারণে যে এই মহাপুরুষদের জীবন থেকেই কিন্তু আমরা শিখি। আমাদের কিছু লোক আছেন তারা সবসময় চেষ্টা করেন ঝগড়া গুলোকে হাইলাইট করবার। তখন কি হয় লোকেরা খুব পড়তে ভালোবাসে। সবকিছু ভালো চলছে এ খুব ভালো কাজ করেছে। এটা কোন খবর আমরা মনে করি না। আনন্দবাজারের ভাষায় লোকেরা খায় না। কিন্তু এ ওকে ধরে মেরেছে। এ ওকে করেছে ও চিটপার্টি ওইগুলো মানুষ খুব পড়তে ভালোবাসে। এবং একদম প্রথম থেকে শেষ রবীন্দ্রনাথ চাইলেও বিবেকানন্দ মেশেননি বলে অনেকদিন আগে একটা দীর্ঘ লেখা বেরিয়েছিল। এবং সেখানে তারা বলবার চেষ্টা করছিল যে রবীন্দ্রনাথ কি কি করেছিলেন বিবেকানন্দ কিন্তু জিনিসগুলো ঠিক সেরকম না। ব্যাপারটা হচ্ছে দুটো ব্যক্তিত্ব দুরকম। এবং এই ব্যক্তিত্বটা এই এরকম হয় যে দুটো সিংহ একসঙ্গে থাকেনা আলাদা থাকে। যত শ্রীগাল তারা একসঙ্গে থাকে। কেননা নিজের শক্তির ওপর বিশ্বাস করে না। সেজন্য জোটবদ্ধ শ্রীগাল তারা একসঙ্গে থাকে। সিংহরা আলাদা থাকে ওটাই তাদের বৈশিষ্ট্য। এখানে আমরা দেখলাম এই মহাপুরুষদের জীবনের মধ্যে দুজনেই বিশ্ব রহস্যের দ্রষ্টা। এই জগৎ কা সৃষ্টি কে ঈশ্বর কেমন করে সৃষ্টি করেছেন সবাই দুজনেই নিজের নিজের ভাবে তারা চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শিশুকাল থেকে এদের আলাদা ভাবে গড়ে উঠেছিলেন বলে দেখা এবং ব্যক্ত করার ভাবটা আলাদা। রবীন্দ্রনাথ ভর্তি হয়েছিলেন ওরিয়েন্টাল সেমিনারিতে পরে নরমাল স্কুলে কিন্তু স্কুলের রবীন্দ্রনাথের ভাষায় তার জীবন স্মৃতিতে তিনি লিখছেন স্কুলের ঘরগুলো ছিল নির্মম। দেওয়াল গুলো পাহারাওয়ালাদের মতো। তাই স্কুলের সঙ্গে পলাইবার সম্পর্ক আর ঘুচিলো না। তিনি কোনদিন স্কুলে যেতে ভালোবাসতেন না। গেলেও পালিয়ে বেড়াতেন। কেন? ওই কবি মন। দেওয়াল গুলো তখন ভালো করে রং নেই ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু বিবেকানন্দ মেট্রোপলিটন স্কুলে ভর্তি হন। তারপরে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়বার সময় দীর্ঘদিন তার বাবার সঙ্গে মধ্যপ্রদেশের রায়পুরে বেড়াতে গিয়ে তার বাবার কাছেই বেশিরভাগ পড়াশোনা করেন। পরে ফিরে গিয়ে তিনি আবার ভর্তি হন। একটু সমস্যা হয়েছিল ভর্তি হতে। বিবেকানন্দেরও গৃহশিক্ষক ছিলেন। কিন্তু তিনি তবুও অন্য ছেলেদের সঙ্গে স্কুল কলেজে পড়ে খেলাধুলো করে মেলামেশা করে বড় হয়েছেন। রবীন্দ্রনাথের পড়া, ড্রইং, জিম্ন্যাস্টিক তিনি লিখছেন তার জীবন স্মৃতিতে সবকিছু করেছেন। কিন্তু বাড়ির মধ্যে একা একা। অন্য সমবয়স্কদের সঙ্গে মেলামেশা করে গড়ে ওঠেননি। তার মনের গঠন তাই নির্জন, একলা, শান্ত ভাবের। আমি একটু কথা বলতে ভালোবাসি। আর আমারও কয়েকটি বন্ধু ছিল আমরাও খুব গল্প করতে ভালোবাসতাম। আমরা যখন বেলুড় মঠে ব্রহ্মচারীর ট্রেনিং সেন্টার হয় সারাদিন ঐ পড়াশোনা চলে। নানান রকম সমস্ত তারপরে রাত্তিরে খাবার পর একটু টাইম আমরা ফ্রি পাই। আমরা এসে তিন চারজন বন্ধু আমরা গল্প করতাম আর গল্পের শেষ হতো না। নানান গল্প হচ্ছেই হচ্ছে। এরপরে যখন ঘন্টা পড়ে যেত আমরা একটা টাইমে তারপরের ছুটিয়ে ছুটিয়ে ঘরে যেতাম। আমাদের যিনি আচার্য ছিলেন তিনি খুব আমাদের সন্ন্যাসীদের মধ্যে খুব বিখ্যাত। এখন মায়ের বাড়ি বাগবাজারের তিনি অধ্যক্ষ। তো উনি খুব অবাক হয়ে রোজই আমাকে ডাকতেন। কেননা আমি অদ্বৈতাশ্রমে ছিলাম। উনিও অদ্বৈতাশ্রমে ছিলেন। ফলে আমাকে ডেকে বলতেন আজকে কি টপিক আলোচনা করলে? আমি খুব অবাক হতাম টপিক এতো গল্প হলো। নানা গল্প কিন্তু একটা টপিক তো। আমি বললাম পরে না পেরে বললাম মহারাজ ছোটবেলা আপনার বন্ধু ছিল উনি বললেন না। আমি ঘরের মধ্যে পড়াশোনা করতাম। এই বন্ধুদের সঙ্গে মিশিনি। আমি বললাম তাহলে জিজ্ঞেস করবেন না আপনি আড্ডা কাকে বলে ওটা বুঝতে পারবেন না। এখন কেন ওই মহারাজকে আমি বলেছিলাম যে এটা একটা আড্ডা এমন একটা জিনিস। কোন বিষয় নেই কিন্তু চর্চা শেষই হচ্ছে না। কখনো খেলা এসে গেল তো কখনো রাজনীতি, কখনো সমাজনীতি, কখনো ধর্ম, কখনো গান এসব চলছে। মাঝে মাঝে আপনিও আসেন। আপনার ব্যাপারেও চর্চা হয়। তখন উনি বললেন আচ্ছা বেশ কিন্তু ঘন্টা পড়ার পর আর করো না। আমি বললাম না আচ্ছা ঠিক আছে। এখন এই যে অদ্ভুত আমাদের আলোচনাগুলো চলে। এটা বিবেকানন্দ ভীষন ভালোবাসতেন। এত সুন্দরভাবে সবকিছু বলতে পারতেন। আর সবাই মুগ্ধ হয়ে শুনতেন। রবীন্দ্রনাথের কিন্তু প্রকাশ ছিল কাগজে। উনার সবকিছু যা মনের মধ্যে যা কিছু সব ঐ কাগ সেইজন্য অসংখ্য কবিতার অসংখ্য গান। এমন কোন বিষয় নেই যে বিষয়ে উনি লেখেননি। যেই মেঘ উঠলো উনি রবীন্দ্রনাথের গান গাওয়া যায়। আবার যেই প্রচন্ড রদ্দুর উনি রবীন্দ্রনাথের গান আছে। বৃষ্টিতে রবীন্দ্রনাথের গান সবকিছুতেই এমন কোন বিষয় নেই যে রবীন্দ্রনাথের বিষয়টা নেই। ভীষন সেনসেটিভ ছিলেন কবি হিসেবে। একবার একদম শেষ বয়সের দিকে তার পুত্র রথীন্দ্রনাথ তিনি বাবাকে দেখাশোনা করতেন। কোথাও এদিক ওদিক যেতে দিতেন না। তো উনি একটা ওই বারান্দাতে বসে পড়াশোনা করছেন। রথীন্দ্রনাথ দেখলেন যে বাবা বসে আছেন ঠিক আছে। আবার চলে গেলেন ভেতরে। একটু পরে এসে দেখছেন বাবা নেই। খুব অবাক হয়ে কোথায় গেলেন খোঁজাখুঁজি করছেন। তো উনি দেখলেন একটা হলদে চাদর গায়ে দিয়ে বাবা এসে বসছেন। তো বলছেন কি ব্যাপার তুমি কোথায় গেছিলে? তখন খুব লজ্জা লজ্জা করে বলছেন যে দক্ষিণা বাতাসটা যখন গায়ে এলো তখন আমার মনে হলো যে ওকে তো আমি ছাড়া আর কেউ স্বাগত করবে না। তাই এই হলদে চাদরটা গায়ে দিয়ে বসলাম। এখন এই হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ এত সেনসেটিভ বিবেকানন্দ একেবারে অন্যরকম। এ দুজনে বিচার করলে হবে। বিবেকানন্দ অল্প বয়সে কুস্তি, বক্সিং, লাঠি খেলা, ব্যায়াম এসব করে বেড়াতেন। তর্ক হাসি মজার মধ্যে দিয়ে গড়ে ওঠা পুরুষালী তাকে ঠাকুর বলছেন আমার বীর। আর ওর নরেন হচ্ছে পুরুষের ভাব। বিবেকানন্দের একজন বন্ধু তিনি কলেজে পরীক্ষার ফি টা দিতে পারছেন না খুব গরীব বলে। তো বিবেকানন্দ গেলেন। যথারীতি গিয়ে অন্যেরা তো ঐসব নিয়ে মাথা ঘামাতো না। কিন্তু আমার বন্ধু গরীব ও দিতে পারবে না। আপনি তো অনেককেই ছেড়ে দেন। কেন দেবেন না বলে সেই কলেজের যিনি তাকে বলছেন। উনি কিছুতেই দেবেন না। আর এই বন্ধুটির পরীক্ষা দেওয়া হবে না। বিবেকানন্দ বললেন দাঁড়া তো একটু দেখি ব্যাপারটা ভালো করে। একেবারে লক্ষ্য করতে লাগলেন লোকটিকে। দেখলেন এই ভদ্রলোক যেই রাত্তির হয়ে যায় অন্ধকার হয়। তখন চুপিচুপি একটা গলিতে যান। যেখানে গিয়ে সবাই নেশা করতো। গুলি খেতো। উনি গিয়ে বন্ধুদের নিয়ে ওখানে দাঁড়িয়ে থাকলেন। ভদ্রলোক এই নেশা করে গুলি টুলি খেয়ে যেই বেরিয়েছেন বলে আগে তাহলে আপনার এখানে আসা যাওয়া আছে ব্যাপারটা আমরা সবাইকে বলি। উনি বললেন না ভাই নরেন কখনো এটা করো না। বলে যদি বন্ধ রাখতে হয় ওই বন্ধুটিকেও পরীক্ষায় বসতে দিতে হবে। এখন একে আপনি কি বলবেন? এই যে একটা পুরুষালী ভাব। এ সব সময় একদম অল্প বয়সে একটা জাহাজ দেখতে গেছেন আপনারা এই জীবনের পরিচয় সব জানেন। ছোট বাচ্চা কিন্তু যখন ঐ দারোয়ান ঢুকতে দিচ্ছে না। ও দেখলো যে সব লোকেরা দোতলায় যাচ্ছে। গিয়ে একটা চিঠি কার কাছ থেকে চিরকুট সই করিয়ে নিয়ে এলে তারা জাহাজে জুড়তে পারছে। ও বুঝলো উপরে কেউ আছে। দারোয়ানটা দরকার নেই। অমনি লুকিয়ে পিছন দিক দিয়ে কোনোভাবে উপরে গিয়ে পারমিশন নিয়ে দারোয়ানটা সামনে দিয়ে দিয়ে যাচ্ছে। এখন এই যে বয়স্নেস এই যে একটা ভাব পুরুষালী ভাব এটা বিবেকানন্দের বরাবর ছিল। আপনারা অনেকে হয়তো পড়েছেন। আর খুব মজার আমাদের মেরিলুই বার্ক পরবর্তীকালে তার নাম হয়েছিল গার্গী। তিনি একটা রিসার্চ করে বই লিখেছেন অত্যন্ত সুন্দর। তো সেইখানে একটা ঘটনা বলছেন একবার একটা জাহাজে করে স্বামীজিরা সব যাচ্ছেন আমেরিকা। তো জাহাজের উপরে স্টিমারের মতো বড় বড় করে লেখা রয়েছে নো স্মোকিং। স্মোকিং প্রহিবিটেড। যেই ওটা পড়লেন এতক্ষণ ঠিকই ছিলেন। যেই পড়লেন অমনি মনে হলো না একটু এরকম মজা করতে হবে। উনি ওই লেখাটা ঠিক তলাতে একটা বেঞ্চে বসে একটা চুরুট ধরিয়ে টানছেন। যারা সঙ্গে ছিলেন খুব ভয় পেয়ে গেলেন। স্বামীজি এটা ভয়ঙ্কর পানিশমেন্ট হবে। এটা করবে এটা দেখতে খারাপ। উনি কিছু শুনছেন না। ইচ্ছা করে টানছে না জোরে জোরে ধোঁয়া বের করছেন। যে ওখানে গার্ড দিচ্ছিল সে দেখতে পেয়ে দৌড়ে দৌড়ে আসছে। কিন্তু আসতে একটু সময় লাগে। কারণ জাহাজের মধ্যে আসা যাওয়া। যেই কাছাকাছি এসেছে অমনি চুরুটটা জলে ফেলে দিয়ে বললেন নো প্রুফ। তুমি আমাকে ধরতে পারবে না। আমার তো প্রুফ নেই। আর লোক কি ও তখন হাসছে। এই যে ছেলে মানুষি এই যে একটা ভাব এটা বিবেকানন্দের মধ্যে বড় ছিল। আরেকটা এইবারে অন্য একটা জিনিস আমরা আলোচনা করতে যাব। সেটি হচ্ছে একটা মানুষ যখন গড়ে ওঠে সে গড়ে ওঠা তার পেছনে অনেকগুলো প্রভাব থাকে। প্রথম হচ্ছে বাবা, মা, পরিবার পরিজন, স্কুল আত্মীয়স্বজন এগুলো তো থাকেই থাকে। কিন্তু বড় একটা প্রভাব হচ্ছে তার ধর্ম তার দর্শন। এইখানে আমরা দেখছি রবীন্দ্রনাথের বাড়ির প্রভাব ছিল ব্রাহ্ম ধর্মের। রবীন্দ্রনাথের ঈশ্বর ছিলেন নিরাকার। এখানে আমরা দেখব রবীন্দ্রনাথ বলছেন। আমি আরেকটা বক্তৃতা করেছিলাম একটা জায়গায় রবীন্দ্রনাথের ঈশ্বর ভাবনা। সেজন্য আর না খেতে ওগুলোই নিয়ে এসেছে। ওখান থেকেই পড়ছি। রবীন্দ্রনাথের ঈশ্বর ছিলেন নিরাকার কিন্তু সগুণ। তিনি এক এবং অদ্বিতীয়। তিনি রবীন্দ্রনাথ লিখছেন প্রাচিন ভারতের এক ধর্মতে তিনি একটাকে পছন্দ করছেন। প্রথম দিকে একদম দেখতে পাচ্ছি এই জগৎ যাহা বিচিত্র যাহা অগণ্য যাহার প্রত্যেক কণা কণিকাটিও কম্পিত ঘূর্ণিত তাহা কি ভয়ঙ্কর। হিন্দু ধর্মের যে বিভিন্ন রূপ হিন্দু ধর্মের যে অনেক দেব দেবী ওটা রবীন্দ্রনাথের পছন্দ হচ্ছে না। তো সেটাকেই তিনি এই ভাষাতে ব্যক্ত করে বলছেন এটা এই যে এত রূপ এটা কত ভয়ঙ্কর। বৈচিত্র যদি এক বিরোহিত হয় তবে তাহা কি করাও কি অনির্বচনীয় বিভীষিকা। এবারে তিনি বলছেন খন্ডতার মধ্যে কদর্যতা সৌন্দর্য একের মধ্যে। রবীন্দ্রনাথের মানসিকতাটা লক্ষ্য করুন। আমাদের হিন্দু ধর্মের যে বিভিন্ন দেবদেবী সেটা পছন্দ না হয়ে তিনি বলছেন খন্ডতার মধ্যে কদর্যতা সৌন্দর্য একের মধ্যে। খন্ডতার মধ্যে প্রয়াস শান্তি একের মধ্যে। বললেন ঐ যাদের বাড়িতে পূজো করি না, মহারাজ ওরা খুব অল্প অল্প সব দেয়। একটু চাল একটা এমন আর এমন ছিদ্রে সব এসব দেয় পূজোতে একটা বাড়িতে পোষায় না। আর দ্বিতীয় যে কাপড় হিসেবে একটুকরো গামছা দেয়। সেইজন্যে আমি কি করি আপনাকে বলছি কাউকে বলবেন না। আমি প্রাণপ্রতিষ্ঠা ই করি না। করে আমি এমনি পূজো করি। মা কালীর তো আর প্রাণই নেই। উনি আমাকে মারবেন কি করে? তো যাই হোক। তো আমরা প্রাণপ্রতিষ্ঠা করি রবীন্দ্রনাথ খুব রেগে গিয়ে বলছেন। নিজ মন্ত্র স্বরে তোমারেই প্রাণ দিতে যারা স্পর্ধা করে কি তাদের দিবে প্রাণ? তোমাকেও যারা ভাগ করে কে তাদের দিবে ঐক্য ধারা? রবীন্দ্রনাথের মনে হয়েছিল বিভিন্ন মূর্তিতে ঈশ্বরের পূজা ভারতবর্ষকে খন্ড খন্ড করে ভেঙে দেবে। তার ভয় প্রকাশ পায় তার আর একটা কবিতায়। তব আদর্শ মহান আপনার পরিমাণে করি খান খান রেখেছে ধুলিতে। যে এক তরণী লক্ষ লোকের নির্ভর খন্ড খন্ড করি তারে তরিবে সাগর। রবীন্দ্রনাথ বলছেন পরবর্তীকালে আমরা দেখব এই রবীন্দ্রনাথের পরিবর্তন গুলো। আমরা এখন দেখছি যে বিবেকানন্দ তিনিও কিন্তু তখনকার দিনের সমস্ত শিক্ষিত মানুষের মতো ব্রাহ্ম ধর্মে আকৃষ্ট হয়েছিলেন। কেশবচন্দ্রের শ্রেণীর বক্তৃতা এত দুর্দান্ত বক্তৃতা দিতেন তখন বলা হতো, হোয়েন কেশব স্পিকস দা ওয়ার্ল্ড লিসন। পরবর্তীকালে যখন শ্রীরামকৃষ্ণের কাছে কেশব এলেন তখন বলা হতে লাগলো, হোয়েন শ্রীরামকৃষ্ণ স্পিকস কেশব লিসেনস। এখন এই যে পরিবর্তনটা হলো কি করে? বিবেকানন্দ আকৃষ্ট হয়ে তিনি কিন্তু শ্রীরামকৃষ্ণের সংস্পর্শে আসার পর পরিবর্তিত হতে লাগলেন। তিনি কিছুতেই মা কালীকে মানতেন না। ঠাকুরের আরেকজন শিষ্য ভেতরে ভেতরে ভক্তি ভাব আছে। সে লুকিয়ে লুকিয়ে গিয়ে প্রণাম করছিলেন রাজা মহারাজ। খুব ওর বন্ধু খুব বকুনী দিতে লাগলেন। ঠাকুর বলছেন আরে বকছিস কেন ওর একটা ভাব আছে। এইরকম যে আমরা দেখছি পরবর্তীকালে এই Sorry. পরবর্তীকালে এই বিবেকানন্দকে এমন একটা পাখি চক্রে ফেললেন শ্রীরামকৃষ্ণ। তখনকার দিনের গ্রাজুয়েট চাকরি পাচ্ছেন না। একটা কাহিনী আছে সত্যিক নয় এগুলো সব কাহিনী। এমনি গল্প। যে একটি ছেলে সে খুব লেখাপড়া শিখে এসেছে ইংরেজিতে কিন্তু চাকরি পাচ্ছে না। তখন ওর বাবা বললেন তুই তো অনেক চেষ্টা করলি চল আমার সাহেবের কাছে চল। তো সাহেবের কাছে নিয়ে গিয়ে বলছে স্যার মাই সান সার্ভিস। না স্যার আই সান সার্ভিস। আই সানস ছেলেটা খুব লজ্জা হলো। বারবার আই সান আই সান করছেন। তখন ওর সাহেব বললেন আচ্ছা কালকে থেকে জয়েন করো। তো বেরিয়ে এসে ওই ছেলেটা বলছে বাবাকে আই সান আই সান বলছিল কেন এটা মাই সান। বলে মাই সান মাই সান করে তো তুই চাকরি পেলি না আই সান তো হয়ে গেল। এখন চাকরিটা হওয়া নিয়ে কথা। এখন এই যে আমরা দেখছি সেই যুগে যে যুগে আই সান বললেও চাকরি হতো সেখানে বিবেকানন্দ চাকরি পাচ্ছেন না গ্রাজুয়েট। তখন এই যে ভাবটা আমরা দেখছি শ্রীরামকৃষ্ণ ওকে নিয়ে এসেছেন একটা কায়দা করে তার কাছে আসতে বাধ্য হয়েছেন নরেন্দ্রনাথ। ভীষন একেবারে তার ঐ ভাবটা যখন ঠাকুর বলতেন অন্যদের ওকে একটা চাকরি দাও না উনি রেগে যেতেন। মশাই আমার কেন আপনি এরকম লোকের কাছে বলবেন। ঠাকুরের কাছে এসে লাস্টে না পেরে বলছেন আপনার কথা তো আপনার মা শোনে। একটু আপনার আপনার মাকে বলে দিন না। মা কালী টালী বলছেন না। ঠাকুরও ছাড়বেন না। ঠাকুর বলছেন তুই মাকে মানিস না বলেই তো তোর কষ্ট। তুই গিয়ে মাকে বল। তারপরে সেই অনবদ্য কাহিনী আপনারা জানেন। একবার না তিন তিন বার গেলেন। এই গিয়ে তার বিশ্বাস হচ্ছে মা কালীকে মানছেন। যখন ঠাকুর বলছেন আমি দেখলাম এই কোশাকুশি এই চৌকাঠ এই বেড়ালটা এই রথীর মা সমস্ত কিছু চৈতন্যের জড়িয়ে রয়েছে। নরেন্দ্রনাথ আর থাকতে পারছেন না। তার ফেরেনডো ঠাকুরের ঘরের বাইরে বসে থাকতেন। ঠাকুরের এই দুঃসম্পর্কের ভাই। তার কাছে এসে বসে হাসাহাসি করছেন আর তামাক খাচ্ছেন। বলছেন ঘটিটা বাটিটা ও নাকি ভগবান ঈশ্বর। ঠাকুর এসে ছুঁয়ে দিলেন তিন দিন তিন রাত ধরে ওই চৈতন্য হলো। তার বিশ্বাস হলো। এই সমস্ত পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে শ্রীরামকৃষ্ণের সংস্পর্শে এসে অনুভূতির মাধ্যমে জ্ঞানের মাধ্যমে তিনি পরিবর্তিত হচ্ছেন।
[33:20]এই বিবেকানন্দ রবীন্দ্রনাথের জীবন দশ পাল্টে যাচ্ছে। তা কারণ শ্রীরামকৃষ্ণ। রূপ অরুপ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ শ্রীরামকৃষ্ণকে কটাক্ষ করেছিলেন। এবারে যখন 1893 তে বিশ্ববিখ্যাত হলেন বিবেকানন্দ তার বাণী যখন ভারত আত্মাকে জাগ্রত করলো যখন তিনি বললেন যে আগামী 50 বছর ঠিক 1897 এ বলেছিলেন। যে আগামী 50 বছর পর ভারতবর্ষ স্বাধীন হবে। ঠিক 50 বছর পরে দেশ স্বাধীন হলো। আমাদের একটা অদ্ভুত জিনিস আমার মনে হয়েছে পরবর্তীকালে দেখলাম একটা বইতে স্বামী রঙ্গনাথানন্দজিও এটা সাপোর্ট করেছেন। তিনি বলছেন ফিলোসফি অফ সার্ভিস বইতে তিনি বলছেন যে আমরা বছরের পর বছর ধরে সহস্র সহস্র বছর ধরে প্রজা ছিলাম সাবজেক্ট। আমরা নাগরিক ছিলাম না। আমরা সিটিজেন ছিলাম না। সেই কোন একজন মুনি বিশ্বামিত্র বোধ হয়। তিনি যজ্ঞ করবেন। এবং সেখানে কয়েকজন লোক এসে বারবার তার যজ্ঞের আগুনটা নিভিয়ে দিচ্ছে। তিনি গিয়ে রামচন্দ্রের বাবাকে বলছেন তোমার ছেলে দুটোকে দাও না। একটা 14-15 বছর আর একটা তার থেকে ছোট রামলক্ষণ তীর ধনুক নিয়ে চললো তারা ঐ তারা মুনিকে সাহায্য করবেন। কেন? কেন আমরা মুনিরা নিজেরাও মিলে সেই লোকগুলোর সঙ্গে লড়াই করলেন না? পারতেন ওরা যথেষ্ট। কিন্তু রাজা করে দেবে। এই যে প্রজা সবসময় রাজনির্ভর। একেবারে শেষ দিকে দেখুন 1700 যখন ব্রিটিশরা যাচ্ছে আমাদের সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে লড়াই করতে কলকাতা থেকে 300 কিলোমিটার পথ পেরিয়ে তারা যখন মুর্শিদাবাদে যাচ্ছেন। কত লোক ছিলেন রাস্তার দুপাশে। একজন একটা ইট ছুঁড়েও কিন্তু প্রতিবাদ করছেন না। কেন? এইতো কি হয়েছে? রাজায় রাজায় যুদ্ধ আমি কি করব? এই প্রজা মানসিকতা। যখন সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা সিজ করলেন ঘিরে ফেললেন। তখন লর্ড ক্লাইভকে একটা গুঁড়ে জারের মধ্যে রেখে রক্ষা করেছিলেন একজন। তিনি পরে বড় জমিদার হলেন। লর্ড ক্লাইভ তাকে জমিদারী দিলেন। এখন শুনে মনে হয় দেশদ্রোহী কিন্তু না উনি ধর্ম পালন করেছিলেন। একজন আতো সে প্রাণ বাঁচাতে আসছে তাকে রক্ষা করা তো ধর্ম। আমাদের দেশাত্ব বোধ ছিল না। দেশ ভুলি ছিল না। বিবেকানন্দ যখন ডাক দিলেন। যে 50 বছর পর ভারত স্বাধীন হবে। এখন সমস্ত দেবদেবী ঘুমাইতেছে। তোমরা মনে রেখো সকলের দেশের জন্য বলি প্রদত্ত। ঢাকাতে গেলেন। ঢাকার ইউনিভার্সিটির ছেলেরা এসে বলছে আপনি ধর্মগুরু আমাদের সঙ্গে একটু ধর্ম সম্পর্কে বলুন। ধমক দিয়ে বলছেন পরাধীন নাগরিকের ধর্ম একটাই। দেশটা স্বাধীন করা। আর কোন ধর্ম নেই। ভেবে দেখুন কিরকম সন্ন্যাসী। তিনি ধর্ম করতে বারণ করছেন। দেশ স্বাধীন করো দেশ স্বাধীন করো। ভারতবর্ষের মধ্যে একটা ইলেকট্রিফিকেশন হলো। কোটি কোটি মানুষ সাধারণ মানুষ মাথাগুলো ঝুকে থাকা মানুষ যারা একটা লাল পাগড়ি দেখলে পালাতো গ্রাম ছেড়ে সেই মানুষগুলো ইতিহাসের বিখ্যাত বীরদের ইতিহাসে নিজেদের নাম লিখে নিল। কবিরা লিখতে লাগলেন। কার আগে প্রাণ কে করিবে দান তারই লাগে কাড়াকাড়ি। বিশান একটা ওয়েভ উঠলো। এত বড় ঢেউ উঠলো যে আগে কখনো হয়নি। ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাই, তাঁতিয়া টোপি তারা লড়াই করেছিলেন নিজেদের জন্য। ভারতবর্ষের জন্য না। আমরা যে যখন বলি যে প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম সিপাহী মিউটনি কিন্তু তারা নিজেদের জন্য করেছিল। পুরো ভারতবর্ষের জন্য না। ভারতবর্ষ সম্পর্কে ওই ধরনের আমাদের ধারণাই ছিল না। একা বিবেকানন্দ করলেন। রবীন্দ্রনাথ পাল্টে গেলেন। তার মনের মধ্যে অদ্ভুত অদ্ভুত পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি। আগে যার কাছে ধর্ম ছিল নীল আকাশের বৃষ্টি আর মাটির ঝর্নার মেশামেশি এই রবীন্দ্রনাথ লিখছেন ওরে তোরা উঠ আজি আগুন লেগেছে কোথাও কার শঙ্খ উঠিয়াছে বাজি জাগাতে জগৎ জনে। বিবেকানন্দের নাম নিলেন না। যেকোনো কারণেই হোক। কিন্তু একেবারে স্পষ্ট। ভেঙেছ দুয়ার এসেছ জ্যোতির্ময় তোমারই হোক জয়। পরবর্তীকালে আর থাকতে পারছেন না। তখন যে রবীন্দ্রনাথ 1926 এ সিটি কলেজের রামমোহন হোস্টেলে সরস্বতী পূজো করার জন্য আক্রমণাত্মক প্রবন্ধ লিখেছিলেন। তিনি আবার সোনার তরীতে লিখলেন সরস্বতী বন্দনা। তিনি লিখলেন তুমি মানবের মাঝখানে আসি দাঁড়াও মধুর মুরতি বিকাশী কুন্দ বরণ সুন্দর হাসি বিনা হাতে বিনা পানি। দেখুন পরিবর্তন রবীন্দ্রনাথের। এবং পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথও বলছেন, লিখেছেন স্পষ্ট তার জীবন স্মৃতিতে আমাদের পরিবারের যে ধর্ম সাধনা ছিল আমার সঙ্গে তার কোনো সংস্রব ছিল না। আমি তাহাকে গ্রহণ করি না। ব্রাহ্ম ধর্ম সম্পর্কে ঠিকভাবে তিনি পরিপূর্ণ গ্রহণ করতে পারছেন না। বিবেকানন্দের জীবনে ধর্ম ছিল একটা অন্বেষণ। একটা জিজ্ঞাসা, একটা প্রশ্ন যা শ্রীরামকৃষ্ণের চরণে এসে সমস্ত উত্তর পেয়ে গেলেন। জীবনে ধর্ম আর অপূর্ণ থাকলো না। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের মধ্যে এটা আমরা দেখতে পাচ্ছি। যে যে রবীন্দ্রনাথ শ্রীরামকৃষ্ণকে কটাক্ষ করেছিলেন। পরবর্তীকালে ঐ রবীন্দ্রনাথ দেখছি তার নাটকে উপন্যাসে মালঞ্চ বলে যে নাটকে সেখানে তার নায়িকা নিরাজা শ্রীরামকৃষ্ণের ভক্ত। পরিষ্কার তিনি লিখছেন। এবং শুধু তা না যখন নাটক হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ নিজে সাজিয়েছেন সেই নাটকের যে সিনটা হয় নীরজার ঘরে শ্রীরামকৃষ্ণের ছবি। পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথও লিখছেন শ্রীরামকৃষ্ণ সম্পর্কে বহু সাধকের বহু সাধনার দ্বারা ধ্যানে তোমার মিলিত হয়েছে তারা তোমার জীবনে অসীমের লীলাপথে নতুন তীর্থ রূপ নিল জগতে। দেশ বিদেশের প্রণাম আনিল টানি সেথায় আমার প্রণতি দিলাম আমি। এটা অসাধারণ একটি প্রণাম করছেন তিনি। আমরা বিবেকানন্দকে দেখছি বলতে গিয়ে বলছেন শ্রীরামকৃষ্ণ সম্পর্কে যে ভারতবর্ষের সহস্র সহস্র বছর ধরে যে আধ্যাত্মিকতা তার মূর্তি হচ্ছেন শ্রীরামকৃষ্ণ।
[40:45]সমস্ত রূপ ধারণ করেছেন সব ধর্মের। আর এখানে রবীন্দ্রনাথও বলছেন বহু সাধকের বহু সাধনার দ্বারা ধ্যানে তোমার মিলিত হয়েছে তারা। যখন আমরা বিবেকানন্দ রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে আলোচনা করছি তখন একটা জিনিস মনে রাখতে হবে। বিবেকানন্দ ছিলেন বেদান্তবাদী সন্ন্যাসী। আর রবীন্দ্রনাথ ছিলেন প্রেমিক কবি স্নেহশীল সংসারী। তাদের জীবনের চলার পথ আলাদা। মনের ভাব ব্যক্ত করা ভাষা আলাদা। তবুও তাদের কর্ম তাদের লক্ষ্য কি অপূর্ব মিল ছিল এটি বলেই আমি শেষ করব। সন্ন্যাসী বিবেকানন্দ বলতে দ্বিধা করছেন না। একটু আগে যেটি বললেন, অন্য সব দেবদেবী ঘুমাইতেছেন। একমাত্র জাগ্রতা দেবী তোমাদের দেশমাতৃকা। তখন এই যে রবীন্দ্রনাথ তিনি কিরকম দেশপ্রেমিক দেশবাসীর উপর অত্যাচার দেখে নির্দ্বিধায় নাইট উপাধি ফিরিয়ে দিচ্ছেন। সবাইকে বিশেষ করে যুবকদের উৎসাহিত করতে গিয়ে বলছেন বিবেকানন্দ কয়েকটি কথা বলেছেন। আমি এক্সাক্ট কোটেশনটা আনতে পারিনি। বিবেকানন্দ কয়েকটি কথা বলেছেন। এরে কই বাণী বিবেকানন্দের কথাতে বলছেন। তিনি মানুষের হৃদয়ের আত্মাকে আহ্বান করেছেন। স্বামী বিবেকানন্দ দীর্ঘদিন পরাধীন ভারতের উন্নতির জন্য একটা ঔষধের কথা বললেন। এডুকেশন এডুকেশন এডুকেশন। শিক্ষা শিক্ষা শিক্ষা ইস দা প্যানাকিয়া অফ অল ইভিলস। এটাই হচ্ছে মহৌষধ। আর কবি রবীন্দ্রনাথ তিনি প্রাচীন ভারতের মূল্যবোধের সঙ্গে আধুনিক ভারতের জ্ঞানকে সমন্বয় করে অপূর্ব একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললেন শান্তিনিকেতন। সন্ন্যাসী বিবেকানন্দ বললেন ইভ ইউ লাইক টু মেক মি হ্যাপি লাভ ইন্ডিয়া। একজন আমেরিকান ডিভোটি স্বামীজিকে কোন গিফট দিতে চেয়েছিলেন। আর তখন স্বামীজি বলেছিলেন যে স্বামীজি আপনি কি পেলে খুশি হবেন। তখন স্বামীজি বলেছিলেন ইভ ইউ লাইক টু মেক মি হ্যাপি লাভ ইন্ডিয়া। আর কবি রবীন্দ্রনাথ লিখলেন ইভ ইউ লাইক টু নো ইন্ডিয়া রিড বিবেকানন্দ। সন্ন্যাসী বিবেকানন্দ বললেন জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিচে ঈশ্বর। আর কবি রবীন্দ্রনাথ গাইলেন আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার চরণ ধুলার তলে। সকল অহংকারে আমার ডুবাও চোখের জলে আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার চরণ ধুলার তলে। ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণ আমি শব্দটা বলতে পারতেন না। বলতেন এটা। আর আমরা সব সময় আমি আমি করে কি কষ্ট যে পাই কিন্তু আমি বলতে এত ভালোবাসি ওটা ছাড়তে চাই না।
[44:23]এটা শেখাচ্ছেন যখন আমি তোমাকে ছেড়ে দূরে চলে যাই তখন দুঃখ কষ্ট মৃত্যু। আর তা না হলে কোন কিছু নেই। হে পূর্ণ তব চরণের কাছে যাহা কিছু সব আছে আছে আছে নাই নাই ভয় সে শুধু আমারই। নিশিদিন কাঁদে তাই। অন্তর গ্লানি সংসার ভার পলক ফেলিতে কোথায় একা আর জীবনেরও মাঝে স্বরূপ তোমার রাখিবারে যদি পায়।
[45:40]তোমার মাঝে এমনি করে নবীন করি লও যে মোরে এই জনমে ঘটালেন মোর জন্ম জন্মান্তর। সুন্দর হে সুন্দর পূর্ণ হলো অঙ্গ মম। ধন্য হলো অন্তর সুন্দর হে সুন্দর। যখন ভগবান তিনি হচ্ছেন সুন্দর। তিনি যখন আসেন তখন শরীর মন পবিত্র হয়ে যায়। আলোকে মোর চক্ষু দুটি মুগ্ধ হয়ে উঠলো ফুটি বিদ গগনে পবন হলো সৌরভতে মন্থর। সুন্দর হে সুন্দর। এই তোমারি পরশ লাগে চিত্ত হলো রঞ্জিত।
[49:09]এই তোমারি মিলন সুধা রইল প্রাণে সঞ্চিত। তোমার মাঝে এমনি করে নবীন করি লও যে মোরে। এই জনমে ঘটালো মোর জন্ম জন্মান্তর।
[49:54]সুন্দর হে সুন্দর। যখন ভগবান লাভ হয় তখন কি হয়? তা সম্পর্কে বলতে গিয়ে শাস্ত্র বলছেন মনের মধ্যে আনন্দের সদাও বইতে থাকে। আর আনন্দ ছাড়া আর কিছু থাকে না। রবীন্দ্রনাথও বলছেন সেইটি এই লোভী ন সঙ্গত। এই লোভী ন সঙ্গত।
[50:56]সুন্দর হে সুন্দর পূর্ণ হলো অঙ্গ মম ধন্য হলো অন্তর। সুন্দর হে সুন্দর। যখন ভগবান তিনি হচ্ছেন সুন্দর।



