[0:04]ইতিহাসে মুসলিম শাসকদের মধ্যে যারা সবচেয়ে বেশি ক্ষমতা অর্জন করেছিলেন তাদের মধ্যে সর্বপ্রথম চলে আসে অটোম্যানদের নাম। হিজরি সপ্তম শতাব্দী।
[0:14]মোঙ্গোলীয়দের আক্রমণে লণ্ডভণ্ড আব্বাসীয় খেলাফত। ইসলামী ইতিহাসের এক চরম দুর্যোগপূর্ণ সময়। ঠিক সেই সময় কালু মেঘের আড়াল থেকে উঁকি দেয় নবারুন সূর্য। যার নাম উসমানী সালতানাত। ইসলামী ইতিহাসের এক সোনালী অধ্যায়জুড়ে যে সালতানাতের ব্যপ্তি। 1299 থেকে 1924 সাল পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে শাসন করে গেছেন মুসলিম বিশ্ব। একের পর এক বিজয়ের মধ্য দিয়ে ইসলামকে করেছেন সমুন্নত ও সম্প্রসারিত। জানাবো কিভাবে উত্থান হলো সেই শক্তিশালী সালতানাতের। কি করে উসমানীয় সাম্রাজ্য খেলাফতে পরিণত হলো? কিভাবে পতন ঘটলো মহাশক্তিশালী এই সাম্রাজ্যের? কি করেই বা ধ্বংস হলো শত শত বছরের খেলাফত ব্যবস্থা? প্রায় 1000 বছর আগে বর্তমান তুরস্ক আনাতুলিয়া নামে পরিচিত ছিল। যা ছিল ইস্টার্ন রোমান বা বাইজেন্টাইন এম্পায়ারের অন্তর্ভুক্ত। পূর্ব ইউরোপ ও আনাতুলিয়ার বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ছিল বাইজেন্টাইন এম্পায়ার। যার রাজধানী ছিল কনস্টান্টিনোপল। যেটি বর্তমানে ইস্তাম্বুল নামে পরিচিত। 13 শতকের শেষ ভাগে তুর্কি নেতা উসমান গাজীর হাত ধরে আনাতলিয়ার উত্তর-পশ্চিমাংশে যাত্রা শুরু করে উসমানীয় সাম্রাজ্য। এই সাম্রাজ্যের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন উসমানীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা উসমান গাজীর পিতা আর্তুগরুল গাজী। 1453 সালে সুলতান দ্বিতীয় মোহাম্মদের কনস্টান্টিনোপল জয়ের মধ্য দিয়ে উসমানীয়রা বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য উচ্ছেদ করে। 1526 সালে হাঙ্গেরি জয়ের পর বিশাল রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে ইউরোপের বলকান অঞ্চলগুলো নিয়ে। উসমানীয় সাম্রাজ্য তার ক্ষমতার স্বর্ণযুগ পার করে 16 ও 17 শতাব্দীতে। এ সময় ক্ষমতায় ছিলেন সুলতান প্রথম সুলাইমান। তার শাসন আমলে উসমানীয় সাম্রাজ্য দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপ, উত্তরের রাশিয়া, কৃষ্ণসাগর, পশ্চিম এশিয়া, ককেসাস, মধ্যপ্রাচ্য ও আরব অঞ্চলসহ উত্তর আফ্রিকা ও হর্ন অফ আফ্রিকা জুড়ে বিস্তৃত একটি বহুজাতিক ও বহুভাষিক সাম্রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। 18 শতকের মাঝামাঝি সময় সে দৃশ্যপট পাল্টে যেতে থাকে। ইউরোপীয় প্রতিপক্ষ রাশিয়ান সাম্রাজ্য ও অস্ট্রিয়া কেন্দ্রিক হাবসববার্গ সাম্রাজ্য ফরাসি ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের তুলনায় তাদের সামরিক শক্তি কমতে শুরু করেছিল। ততদিনে সাড়ে 400 বছরের উসমানীয় সাম্রাজ্যটি যেন বয়সের ভারে নূজ হয়ে পড়েছিল। ফলে 18 শতকের শেষ ও 19 শতকের শুরুর দিকে বেশ কয়েকটি যুদ্ধে পরাজিত হয় তারা। পরবর্তীতে নিজেদের হারানো গৌরব ফিরে পাবার আশায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির সাথে হাত মেলায়।
[2:58]প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয় উসমানীয় সাম্রাজ্যের সূর্য অস্তমিত হবার পথে চূড়ান্ত ভূমিকা রাখে। হাতছাড়া হতে থাকে তাদের অধীনে থাকা বিভিন্ন অঞ্চল। প্রায় 620 বছর বয়সের বৃদ্ধ অটোমান সাম্রাজ্যের জন্য কবর খুড়েছিল তুর্কিদের স্বাধীনতা যুদ্ধ। এই যুদ্ধে তুর্কিদের নেতৃত্বে ছিলেন পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক। যে যুদ্ধে তুর্কিদের বিজয়ই বিশ্বে উসমানীয় সুলতানি শাসন ব্যবস্থার বিলুপ্তি ঘটায়। পতন ঘটায় ইসলামিক খেলাফতের। সেই সাথে উসমানীয় রাজ পরিবারের প্রায় 120 জন সদস্যের সবাইকে তুরস্ক থেকে বহিষ্কার করা হয়।
[3:39]ইতিহাস বিখ্যাত উসমানীয় সাম্রাজ্য পৃথিবীর বুকে টিকে ছিল প্রায় ছয় শতাব্দী। এ দীর্ঘ সময়ে 36 জন সুলতান ক্ষমতায় এসেছেন। অবশেষে 1923 খ্রিস্টাব্দে মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক পাশার নেতৃত্বে আধুনিক প্রজাতান্ত্রিক তুরস্ক প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে শেষ হয় 625 বছরের উসমানীয় সাম্রাজ্যের শাসনামল। 52 লাখ বর্গ কিলোমিটারের সাবেক উসমানীয় সাম্রাজ্যের অঞ্চলগুলো বর্তমানে 49টি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।



