[0:03]রাশিয়ার সাইবেরিয়ার দক্ষিণ ভাগে অবস্থিত একটি সুপেয় পানির হ্রদ বৈকাল। পৃথিবীর অপার সৌন্দর্য মন্ডিত এই হ্রদটি কোন মানুষ নয়। প্রকৃতি একে তৈরি করেছে নিজের খেয়ালে। জানেন নিশ্চয়ই, বৈকাল বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাধু বা সুপেয় পানির হ্রদ। শুধু তাই না, বিশ্বের গভীরতম হ্রদও এটি। এছাড়াও বিশ্বের সবচেয়ে স্বচ্ছ বা সবচেয়ে প্রাচীন হ্রদের খেতাবটিও রয়েছে এই হ্রদের ঝুলিতে। এমনই নানা কারণেই বৈকাল হ্রদ বিশ্বখ্যাত। বিষয়করের অদ্যোপান্ত জানাতেই তৈরি করা হয়েছে এই ভিডিওটি। তাই চলুন আর দেরি না করে আদ্যোপান্ত এই পর্বে জেনে আসি বৈকাল রদ সম্পর্কে। শুরুতেই চলুন জেনে নেই বৈকাল রদের বিশালত সম্পর্কে। রদটির আয়তন 31,722 বর্গ কিলোমিটার। এর দৈর্ঘ্য 636 কিলোমিটার বা 395 মাইল এবং প্রস্থ সর্বোচ্চ 79 কিলোমিটার বা 49 মাইল। বিজ্ঞানীদের মতে 25 থেকে 30 মিলিয়ন বছর আগে বৈকাল ফাটল এলাকার ভূগর্ভে তীব্র আলোড়নের ফলে বৈকাল রিফ্ট উপত্যকার সৃষ্টি হয়। আর সেখান থেকেই জন্ম নেয় বিশাল এই জলাশয়। বিশ্বের গভীরতম এ রদের সর্বাধিক গভীরতা 1642 মিটার বা 5387 ফুট। রদটির তলদেশ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 1186 মিটার বা 3893 ফুট নিচে। তবে তলদেশটির নিচেও রয়েছে প্রায় 7 কিলোমিটার পলি মাটির স্তর। যার ফলে রিফ্ট বা ফাটলটির তলদেশ সমুদ্রপৃষ্ঠের 8 থেকে 11 কিলোমিটার নিচে অবস্থিত। এতে করে এ রিফ্টটি বিশ্বের গভীরতম কন্টিনেন্টাল রিফ্ট হিসেবেও বিবেচিত হয়। গবেষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রিফ্টটি এখনো জীবন্ত। কেননা প্রতিবছর এটি 2 সেন্টিমিটার করে বিস্তারিত হচ্ছে। এর ফল্ট জোনও ভূমিকম্প প্রবণ। প্রায়ই এখানে হট স্প্রিংস বা উষ্ণ প্রস্রবন তৈরি হয় এবং কয়েক বছর পর পর-ই এখানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকম্পন অনুভূত হয়। রদটি উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ এই তিন অববাহিকায় বিভক্ত। এদের গড় গভীরতা যথাক্রমে 900, 1600 ও 1400 মিটার। বৈকালের 300 মিটার গভীরে অবস্থিত একাডেমিসিয়ান রিজ বা শৈলশিরা উত্তর এবং মধ্য অববাহিকাকে আলাদা করেছে। আর মধ্য এবং দক্ষিণ অববাহিকাকে পৃথক করেছে সেলেঙ্গা ডেল্টা এবং বাগুল চাইকা স্যাডেল। অনেক উঁচুতে অবস্থিত বিশালাকৃতির রদদের মধ্যে বৈকাল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 90 এর দশকে রাশিয়া, আমেরিকা ও জাপানের বিজ্ঞানীরা রদটির পলিমাটির স্তরে ড্রিল করে গবেষণা চালায়। যা থেকে উঠে এসেছে 6.5 মিলিয়নেরও বেশি সময় ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের নানা তথ্য। বৈকালই একমাত্র সুপেয় পানির হ্রদ যার পানিতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে গ্যাস হাইড্রেটের উপস্থিতি রয়েছে। উত্তর-পশ্চিমের ইরকুস্ট ও ব্লাস্ট এবং দক্ষিণ-পূর্বে বুরিয়াত প্রজাতন্ত্রের মাঝে অবস্থিত বৈকাল রদের চারপাশ পাহাড় পর্বত দিয়ে ঘেরা। হ্রদের উত্তর দিকে রয়েছে বৈকাল পর্বতমালা এবং উত্তর-পূর্ব দিকে আছে বারগুজিন রেঞ্জ। এই হ্রদে রয়েছে ছোট-বড় মিলিয়ে 27টি দ্বীপ। এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় দ্বীপটির নাম ওলখন, যা লম্বায় 72 কিলোমিটার আর চওড়ায় 14 কিলোমিটার। এটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম রদ বেষ্টিত দ্বীপ। সব মিলিয়ে 330টি নদীর পানি এসে পড়েছে এই হ্রদে। এগুলোর মধ্যে সেলেঙ্গা, বারগুজিন, তারকা এবং উচ্চ আঙ্গারো নদী বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তবে কেবলমাত্র নিম্ন আঙ্গারো নদীর মাধ্যমে হ্রদের পানি বাইরে বের হওয়ার সুযোগ পায়। বৈকাল রদে পানির মজুদ রয়েছে 23,615 কিউবিক কিলোমিটারের বেশি। যা বিশ্বের যত সুপেয় পানির মজুদ আছে তার 22 থেকে 23 শতাংশ। এর পরিমাণ উত্তর আমেরিকার গ্রেট লেকস এর সবকটি হ্রদের সঞ্চিত সাধু পানির চেয়েও বেশি। পৃথিবীর সবচেয়ে স্বচ্ছ পানির রদ হিসেবেও বিবেচিত হয় বৈকাল রদ। শীতকালে হ্রদের 30 থেকে 40 মিটার পর্যন্ত গভীরতায় খালি চোখেই দেখা সম্ভব হয়। তবে গ্রীষ্মকালে তা কমে দাঁড়ায় 5 থেকে 8 মিটারে। রদটি প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন সমৃদ্ধ যার উপস্থিতি এর গভীর পর্যন্ত পাওয়া যায়। এ কারণেই এটি ট্যাঙ্গানাইকা রদ ও কৃষ্ণ সাগর থেকে একেবারে আলাদা। হ্রদের পানির তাপমাত্রা নির্ভর করে এর অবস্থান, গভীরতা আর ঋতুর উপর। শীত আর বসন্ত এই দুই ঋতুতে 4 থেকে 5 মাস পর্যন্ত রদের উপরিভাগের পানি জমে বরফে পরিণত হয়। জানুয়ারির শুরু থেকে মে-জুনের গোড়া পর্যন্ত পুরোটা সময় রদ ঢাকা থাকে পুরো বরফের স্তরে। যার পুরুত্ব দাঁড়ায় 0.5 থেকে 1.4 মিটার। আর কিছু কিছু জায়গায় বরফের পুরুত্ব 2 মিটার পর্যন্ত হয়। মে-জুনের মাঝামাঝি থেকে রদের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে। আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় 16 ডিগ্রি সেলসিয়াস এ। তবে হ্রদের 300 মিটার গভীরতা থেকে শুরু করে আরো গভীরে পানির তাপমাত্রা মোটামুটি 3.1 থেকে 3.4 ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। অবশ্য গত 50 বছরে এ হ্রদের তাপমাত্রা 1.5 ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে রদটির বরফে ঢেকে থাকার সময়কাল আগের তুলনায় কিছুটা কমে গেছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। বৈকাল হ্রদ জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ ভান্ডার। যতটুকু জানা গেছে তাতে এখানে 1000 এরও বেশি প্রজাতির উদ্ভিদ এবং 2500 প্রজাতির প্রাণীকুল রয়েছে। তবে বিজ্ঞানীদের ধারণা সঠিক সংখ্যা এর থেকে অনেক বেশি হবে।
[5:48]হ্রদে অসংখ্য প্রজাতির ফুল জাতীয় উদ্ভিদের সন্ধান পাওয়া যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মার্স থিসল প্রজাতির ফুল। শুধুমাত্র রদটির পূর্ব প্রান্তেই দেখা যায় এ সব উদ্ভিদ। রদের পাড় জুড়ে কিছু অগভীর পানিতে ডুবে থাকা ম্যাক্রোফাইটিক উদ্ভিদের দেখা পাওয়া যায়। 85টিরও বেশি এই প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে এখানে। তবে রদটিতে সবুজ শ্যাওলা জাতীয় জলজ উদ্ভিদের প্রাধান্যই বেশি। এমনকি রদটির 30 মিটার বা 100 ফুট গভীরে দেখা যায় এ সব উদ্ভিদ। এসব উদ্ভিদের অর্ধেকই স্থানীয় প্রজাতির। অর্থাৎ বাইরে এর কোনো চিহ্ন পর্যন্ত নেই। এই হ্রদে দেখা মিলবে বৈকাল সিল বা নার্পার। এটির বিচরণ পুরো রদ জুড়ে। বিশ্বে যে তিন প্রজাতির মিঠা পানির সিল রয়েছে তার মধ্যে বৈকাল সিল একটি। এছাড়াও হ্রদের আশপাশে বাস রয়েছে ইউরেশিয়ান বাদামী ভাল্লুক, ইউরেশিয়ান নেকড়ে, লাল শিয়াল, এলক, সাইবেরিয়ান লাল হরিণ, রেইন ডিয়ার, কস্তুরী হরিণ, বন্য শুয়োর, লাল কাঠবিড়ালী এবং লেমিং এর মতো অসংখ্য প্রাণী। এছাড়াও হ্রদের তীরজুড়ে বাস রয়েছে 236 প্রজাতির পাখির যার 29টি আবার জলজ পাখি। মিঠা পানি হওয়ায় এই হ্রদে রয়েছে প্রচুর মাছ। রদ অববাহিকায় 65টির মতো প্রজাতির মাছ রয়েছে। অবশ্য যার অর্ধেকই এখানকার স্থানীয়। ওমুল মাছ এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাছ। সাদা রঙের এই মাছটি এখানকার স্থানীয় প্রজাতির। এটি ধরার পর তা ধোয়াই শুকিয়ে বাজারে বিক্রি হয়। এছাড়াও বৈকাল ব্ল্যাক গ্রেইলিং, হোয়াইট গ্রেইলিং এবং বৈকাল স্টারজান এই তিন প্রজাতির স্থানীয় মাছের নামও উল্লেখযোগ্য। তাছাড়া রদে প্রচুর অমেরুদন্ডী প্রাণীরও বাস রয়েছে। এদের মধ্যে অ্যাম্ফিপড আর অস্ট্রাকন, সাধু পানির শামুক বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রচুর অক্সিজেন সমৃদ্ধ এই রদের 5000 ফুট গভীর পর্যন্ত জলজ প্রাণীকুলের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। ইতিহাসবিদদের মতে একসময় বৈকালিয়া নামে পরিচিত বৈকাল অঞ্চলটিতে বহুদিন ধরেই মানুষের বসবাস রয়েছে। তবে সবচেয়ে পুরনো মানব বসতি হিসেবে কুরি কানস নামে একদল উপজাতির আবাস ছিল এখানে। সাইবেরিয়ার এই উপজাতি গোষ্ঠী ষষ্ঠ শতকের দিকে এখানে বসতি স্থাপন করে। কিন্তু এর আগেও খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকের দিকে এই অঞ্চলটি ছিল জিয়াঙ্গু সম্প্রদায়ের উত্তরের ভূখণ্ড। হ্রদের তীরে হান সাম্রাজ্য এবং জিয়াঙ্গুদের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দী থেকে প্রথম শতাব্দী পর্যন্ত হান সেনাবাহিনী জিয়াঙ্গু বাহিনীর পশ্চাধাবন করে এবং এক পর্যায়ে তাদের পরাজিতও করে। তাদের দেওয়া তথ্য মতে এই রদটিকে বিশাল একটি সাগর হিসেবেই বিবেচনা করা হতো। এমনকি চীনা পুরানে এটি উত্তর সাগর নামে বর্ণিত আছে। ষষ্ঠ শতাব্দীতে এই অঞ্চলে বাস শুরু করা কুরি কানসরা এই রদের নামকরণ করে অনেক পানি নামে। পরে বুড়িয়াত্রা একে প্রাকৃতিক লেক আর ইরকুতরা সমৃদ্ধ লেক নামে ভিন্ন দুটি নামকরণ করে। 1700 শতকের আগে রাশিয়া এই অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল না। যে কারণে ইউরোপীয়দের কাছে অজানা-ই ছিল হ্রদটি। 1643 সালে রাশিয়া এই অঞ্চলে তাদের রাজ্য বাড়ানোর পর কুরবাতিভানভ নামে এক রুশ অভিযাত্রী সর্বপ্রথম এই রদে এসে উপস্থিত হন। আবিষ্কার হওয়ার পর থেকে বৈকাল রদের উপর গবেষণা চালিয়ে আসছে সরকারি বেসরকারি বহু সংস্থা। এদের মধ্যে স্বাধীন গবেষণা সংস্থা বৈকালিয়ান রিসার্চ সেন্টার রদ ও রদের পরিবেশ নিয়ে কাজ করছে। 1993 সালে রদের 1.1 কিলোমিটার গভীরে একটি নিউট্রিনো টেলিস্কোপ স্থাপন করা হয়। যা থেকে জানা গেছে রদের বিভিন্ন তথ্য। এছাড়াও হ্রদের ভূতাত্ত্বিক এবং জীবতাত্ত্বিক পরীক্ষার জন্য 2008 সালের জুলাই মাসে দুটি ছোট সাবমার্সিবল পাঠায় রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা। তবে সাবমার্সিবল দুটি রদের 5180 ফুটের বেশি গভীরে পৌঁছাতে পারেনি। সাইবেরিয়ার মুক্তা নামে খ্যাত এই রদ দিন দিন পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। যা এখানকার অর্থনীতিকেও চাঙ্গা করে তুলেছে। 2007 সালে রুশ সরকার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে বৈকাল রদকে। এরপর 2009 সালে এখানে জার্মান বেসরকারি সংস্থা ও রুশ সরকারের যৌথ ব্যবস্থায় গড়ে ওঠেছে বহুতল হোটেল। ধীরে ধীরে পৃথিবী বাসীর কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে বৈকাল রদ। এছাড়াও রদটির নানা বৈশিষ্ট্যের কারণে 1996 সালে বৈকাল রদকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান দেয় ইউনেস্কো। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু পর্যটকের আগমন ঘটে এখানে। রদের পাশে থাকার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থানগুলোর মধ্যে লিস্টভিয়েন্কা গ্রাম, ওলখন দ্বীপ, রিসোর্ট খাকুসি ও তুরকা গ্রাম উল্লেখযোগ্য। তবে বৈকাল রদে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি এখানকার অবকাঠামো। ওলখন দ্বীপে যাতায়াতের জন্য রয়েছে একটি মাত্র বরফের তৈরি রাস্তা। যা পর্যটকদের জন্য প্রতিবছর বিশেষভাবে তৈরি করা হয়। বছরের মাত্র দুটি মৌসুমেই পর্যটকরা আসতে পারেন এখানে। একটি হলো মধ্য জানুয়ারি থেকে মধ্য এপ্রিল যা আইস সিজন নামে অভিহিত। এ সময় পুরো রদ ঢাকা থাকে বরফে। এই বরফের উপর দিয়ে তখন অনায়াসে হালকা ও মাঝারি যান চালানো যায়। বেড়াতে আসা পর্যটকরা হাইকিং, আইস ওয়াকিং, স্কেটিং বা সাইক্লিং সহ নানা ধরনের বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ পান। অনেকে আবার আইস ফিশিং বা মাছও শিকার করেন। বরফের মধ্যে মাছ শিকারের অভিজ্ঞতাই অন্যরকম। মধ্য এপ্রিল থেকে এখানকার তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করায় গলতে শুরু করে বরফের আস্তর। অনেক সময় বরফের পুরুত্ব বুঝতে না পারায় ঘটে প্রাণহানি সহ বড় ধরনের দুর্ঘটনাও। পর্যটনের দ্বিতীয় মৌসুম শুরু হয় গ্রীষ্মকালে। সে সময় বৈকাল তার রূপ বদলায়। গ্রীষ্মের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকরা ছোট ছোট গাড়িতে করে ঘুরে ঘুরে পাখি দেখেন, দেখেন স্থানীয় প্রাণীকুল। অনেকে আবার মাছও শিকার করেন। এছাড়াও বৈকালের পানিতে ডাইভিংও বেশ জনপ্রিয়। তবে হ্রদের বেশিরভাগ স্থানের পানি অত্যন্ত শীতল থাকায় ডাইভারদের বেশ সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। 1966 সালে বৈকালীর তীর ঘেঁষে স্থাপন করা হয় কাগজের মন্ড ও কাগজ তৈরির কারখানা। আর তাতেই দেখা দেয় বিপত্তি। কারখানা থেকে দূষিত বায়ু ও বর্জ্য বৈকালের বাধা ও পানি দূষিত করতে থাকে। এর বিরুদ্ধে সোভিয়েত বিজ্ঞানী এবং স্থানীয়দের প্রতিবাদ চলে কয়েক দশক। লাভজনক না হওয়ায় 2008 সালে কারখাতি বন্ধ হলেও 2010 সালে ফের চালু হয় সেটি। অবশ্য কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে যাওয়ায় 2013 সালে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় কারখানাটি। এতে স্থানীয়রা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও পর্যটন কেন্দ্রগুলো থেকে ফেলা বর্জ্য এবং স্থানীয় নৌকা ও জাহাজ থেকে ফেলা হাজার হাজার টন তরল বর্জ্য রদের পানিকে দূষিত করে তুলেছে প্রতিনিয়ত। যা বৈকালের জীববৈচিত্র্য এবং প্রাণীকুলের জন্য হুমকি হিসেবে মনে করেন বিজ্ঞানীরা।



