[0:00]আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, বিশ্ব বাণিজ্য অল্প কিছু সরু সমুদ্রপথের উপর নির্ভরশীল, যেগুলোকে সামুদ্রিক বটলনেক্স বা চলাচলের সরু পথ বলা হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরুপথগুলোর মধ্যে একটি যে হরমূজ প্রণালী তা আপনারা সবাই এতক্ষণে জেনে গেছেন। তবে এমন আরো কিছু সরুপথ আছে। যেমন, সুয়েজ খাল। বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের ১০ শতাংশই এই জনপথ দিয়ে হয়। এটি এশিয়া এবং ইউরোপের ভ্রমণের সময় অন্তত ১০ দিন কমিয়ে দিয়েছে, কারণ লোহিত সাগরকে এটি ভূমধ্যসাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে। এই সুয়েজ খাল মিশরের নিয়ন্ত্রণে এবং সরাসরি কোনো হুমকিতে নেই এই বাণিজ্য পথটি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, এটি একেবারেই বিপদমুক্ত। গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরাইলের যুদ্ধের প্রতিবাদে ২০২৩ এবং ২৫ সালের মধ্যে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী হুথিরা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে হামলা চালিয়েছিল। তার ফলে অনেক জাহাজ পথ পরিবর্তন করে আফ্রিকা দিয়ে ঘুরে যেতে বাধ্য হয়েছিল। এই কারণেই সুয়েজ খালে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা যেখানে ২০২৩ সালে ২৫ হাজারের বেশি ছিল, পরের বছর তা কমে প্রায় অর্ধেকের নেমে আসে। এরপর রয়েছে পানামা খাল, যেটি প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মোট কন্টেইনার পরিবহনের প্রায় ৪০ শতাংশ এই খাল দিয়েই হয়, যার বার্ষিক মূল্য ২৫০ থেকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার। এই খালের প্রধান দুর্বলতা জলবায়ু নির্ভরতা। ২০২৩ ও ২৪ সালে তীব্র খরার কারণে খালের জলাধারগুলোতে পানির স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ফলে কর্তৃপক্ষকে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা এবং জাহাজের আকার দুটোই সীমিত করতে হয়। এরপর রয়েছে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সমুদ্রপথ মালাক্কা প্রণালী। বিশ্বের সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ২৮ শতাংশ এই পথ দিয়ে হয়। সিঙ্গাপুরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত এই প্রণালী চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার জ্বালানির একটি গুরুত্বপূর্ণ গেটওয়ে। চীনের তেল আমদানির প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই এই পথ দিয়ে আসে। এই নির্ভরশীলতা মালাক্কা ডিলেমা নামে পরিচিত। যদিও এই প্রণালীতে জলদস্যুতার বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে সাম্প্রতিককালে। কিন্তু এখন সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা। এই অঞ্চলে চীন, যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এছাড়া এই অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ হওয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও আছে। কৃষ্ণসাগর এবং মারমারা সাগরের মধ্যে একমাত্র সমুদ্রপথ হলো বসফরাস প্রণালী। এটি এশিয়া ও ইউরোপ মহাদেশকে বিভক্ত করেছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের খুব সামান্য অংশ এই পথে হলেও এর কৌশলগত গুরুত্ব কিন্তু অনেক বেশি। এই পথ দিয়েই ইউক্রেন, রাশিয়া ও রোমানিয়া থেকে বিশ্বের গম রপ্তানির একটি বড় অংশ পরিবহন করা হয়। এই প্রণালীর সবচেয়ে সরু অংশ প্রায় ৭০০ মিটার এবং এটি ইস্তাম্বুল শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তাই এখানে জাহাজ চলাচলটা জটিল এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি। তুরস্ক এই প্রণালীতে সামরিক প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করে এবং ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর যুদ্ধজাহাজ চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। যদিও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত আছে। অন্যদিকে হরমূজ প্রণালী পারস্য উপসাগরকে ওমান সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে এবং এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। বিশ্বের মোট তেল এবং তরলীকৃত গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই কারণে এই পথে দীর্ঘমেয়াদী কোনো বিঘ্ন ঘটলে তা শুধু জ্বালানি নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং খাদ্য উৎপাদনের ব্যয়ও একটা প্রভাব ফেলতে পারে।

হরমুজ প্রণালিসহ যে পাঁচ সরু সমুদ্রপথের উপর নির্ভরশীল বিশ্ব বাণিজ্য | BBC Bangla
BBC News বাংলা
3m 0s455 words~3 min read
Auto-Generated
Watch on YouTube
Share
MORE TRANSCRIPTS


