[0:01]শিল্প সাহিত্যে সমৃদ্ধ আর ঐতিহ্যের এক সুবিশাল ভান্ডার নিয়ে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস। প্যারিসের বুকে থাকা আইফেল টাওয়ারও যেন দুনিয়াকে তাই জানান দেয়। চোখ ধাঁধানো আর হাজার বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য মন্ডিত এই শহর যেন অর্ধেক বাস্তব আর অর্ধেক কল্পনামিশ্রিত। ইতিহাস চেতনা, সৌন্দর্যবোধ, শিল্প সাহিত্য আর জীবন দর্শন যেন প্যারিসের গলি ঘুপচিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আর তাই ইউরোপের কথা মনে আসলেই প্যারিস শহরের কথাও মনে আসবে। আর তাই হয়তো মানুষ বলে, স্বপ্নের এক শহরের নাম প্যারিস। আর তাই আজ আমরা আপনাদের জানাবো প্যারিস নগরীর বৃত্তান্ত।
[0:47]প্যারিস ফ্রান্সের সবচেয়ে বৃহত্তম ও রাজধানী শহর। উত্তর ফ্রান্সের ইল দা ফ্রস অঞ্চলের প্রাণকেন্দ্রে সেন নদীর তীরে অবস্থিত। এই ইল দা ফ্রস বা প্যারিস বেসিন আসলে চারদিক থেকে ঘেরা সমৃদ্ধ এক কৃষি অঞ্চল। এখন অব্দি ফ্রান্সের বাণিজ্য এবং সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্যারিস প্রতিষ্ঠিত। এছাড়াও ইউরোপের অন্যতম সেরা বাণিজ্যিক নগরী হিসেবেও খ্যাত প্যারিস। দেশের সকল বড় বড় প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বিশ্বের অনেক বড় সংস্থা এবং প্রতিষ্ঠান সদর দপ্তর এই প্যারিসেই অবস্থিত। ১০৫ বর্গ কিলোমিটার শহরে অঞ্চল এবং ২৩০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে রাজধানী সংক্রান্ত অঞ্চল দিয়ে প্যারিসের অবস্থান। ঐতিহাসিক এই শহরে প্রায় ২২ লাখ ফরাসি এবং প্রবাসীদের সম্মিলিত ঘনবসতি রয়েছে। প্যারিস আসলো কোথা থেকে? সেই শুরু থেকেই কি প্যারিস ছিল? ইতিহাস বলে প্রায় ২ হাজার বছরেরও বেশি প্রাচীন এই নগরী। শতাব্দীর পর শতাব্দী এই এলাকা জনবসতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিল। ইতিহাসের অনেক বীরযোদ্ধা রাজা মহারাজা সহ অনেক মহীরতীদের আদিভূমি ছিল এই প্যারিস। প্যারিস শহরের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিয়ে আজকের আয়োজন। বর্তমানে প্যারিস শহরের সর্বপ্রথম ঘনবসতির প্রমাণ পাওয়া যায় ৭৬০০ খ্রিস্টপূর্বে। তবে খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীর শেষের দিকে ল এল দে লা সিটা এবং সেন নদীর উর্বর তীরভূমির আশেপাশের অঞ্চল জুড়ে ঘনবসতি গড়ে উঠেছিল বলে জানা যায়। কেল্টিকদের মতান্তরে গ্যালিকদের একটা ছোট উপজাতি এখানে এসে নিজেদের আবাসস্থল বানিয়ে নিয়েছিল। পেশায় তারা ছিল মৎসজীবী। গোত্র অনুসারে তাদের নাম ছিল পার্সিয়া। পার্সিয়ারা আবার বেলজিক উপজাতিদের অন্তর্ভুক্ত, যারা আবার জার্মান গোত্রের বংশোদ্ভূত। এই পার্সিয়াদের উপনিবেশকে লুটেসিয়া নামেও অভিহিত করা হয়। রোমানরা যখন এই অঞ্চলে পা রেখেছিল ততদিনে পার্সিয়ারা অনেক সংগঠিত আর ধনী জাতিতে পরিণত হয়েছিল। এমনকি তাদের তৈরি নিজস্ব স্বর্ণমুদ্রাও ছিল। জুলিয়াস সিজার তার গ্রন্থ কমেন্টারিতে এই পার্সিয়াদের সম্পর্কে লিখেছিলেন, এই পার্সিয়াদের আত্মসম্মান বোধ এতটাই ছিল যে তারা রোমানদের কাছে পরাজয় স্বীকার করার চাইতে নিজেদের বাড়িঘর আর দুর্গগুলোকে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়াটাকেই সমীচিন বলে মনে করেছিল। খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দী থেকে লুটেসিয়া রোমান শহর হিসেবে বেড়ে ওঠে এবং সেন নদীর বাম তীরে জনবসতি বিস্তার করতে শুরু করে। এজন্য এই অঞ্চলের বেশিরভাগ স্থাপত্য শীলতেই রোমানদের ছাঁচ বেশ ভালোভাবে প্রত্যক্ষ করা যায়। খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীর শুরু থেকেই বারবার বিভিন্ন জাতির আক্রমণের শিকার হয় লুটেসিয়ারা। এরই সুবাদে নদীর বাম দিকের শহরটি ধ্বংস হয়ে যায় খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়েই। সেখানকার বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে দ্বীপে আশ্রয় নিতে আর সেখানেই তারা জনবসতি গড়তে শুরু করে। সেই দ্বীপের চারপাশে তারা সুরক্ষার জন্য একটা ঘন প্রাচীর গড়ে তোলে। পরবর্তীতে জুলিয়াস সিজারের অধীনে চতুর্থ শতাব্দীর দিকে লুটেসিয়া পার্সিয়া জাতির নামানুসারে পার্সি নামকরণ পায় যা কালের বিবর্তনে প্যারিস রূপ লাভ করে। মূলত খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দী থেকে এই জায়গার নাম প্যারিস হয়েছে বলে ইতিহাস সাক্ষী দেয়। তখন প্যারিস জুড়ে খ্রিস্টান ধর্ম প্রসিদ্ধি লাভ করে এবং গির্জা নির্মাণ শুরু হয়। এই সময়কালে আটিলা দা হান এবং তার সেনাবাহিনী কর্তৃক বেশ কয়েকবার হুমকি পায় এই শহর। জনশ্রুতি আছে যে, সেইন্ট জেনিফের দূরদর্শিতা সম্পন্ন হস্তক্ষেপের কারণে উক্ত আক্রমণগুলো প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছিল। পঞ্চম শতাব্দীর শেষ দিকে সালিয়ান ফ্রান্সের প্রথম রাজা কলোভিস গোলদের কাছ থেকে প্যারিস ছিনিয়ে নেয় এবং তাদের সাম্রাজ্যের রাজধানী নির্বাচিত করে প্যারিসকে। ৫৮৪ সাল অব্দি চিলপেরিকের রাজত্বের শেষকাল অব্দি প্যারিস রাজধানীর সম্মান পেলেও পরবর্তীতে মেরোভিন জিয়ানসার রাজধানীর মুকুট অন্যত্ব সরিয়ে নেয়। তবে ৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে হিউ ক্যাপিটের সিংহাসন নির্বাচিত হওয়ার পরে ক্যাপিটের রাজধানী হিসেবে প্যারিস আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে। ফিলিপ দ্বিতীয় রাজত্বকালে ১২০০ খ্রিস্টাব্দে প্যারিসের ব্যাপক উন্নতি হয়। রাস্তাগুলোকে প্রশস্ত করা হয়, শহরের প্রাচীর বর্ধিত করা হয় এবং প্যারিসের সার্বিক উন্নতি সাধন করা হয়। ১৪ শতকের শুরুটা ব্ল্যাক ডেথ মানে প্লেগের মহামারী দিয়ে শুরু হলেও পরপর তিনটা বিদ্রোহের সূচনা হয়। প্রথমটা ১৩৫৮ সালে বণিকদের, ১৩৮২ সালে কডের জন্য মাইলোট বিদ্রোহ এবং ১৪১৩ সালে কাবুচিয়ান বিদ্রোহ। এ বিদ্রোহগুলো শতবর্ষী যুদ্ধের অংশ বলেও গণ্য করা হয়। শতবর্ষী যুদ্ধে প্যারিসদের অনেক ক্ষতি হয় এবং জোয়ান অব আর্ক ইংরেজদের হাত থেকে প্যারিসকে মুক্ত করতে ব্যর্থ হয়। রাজা ফ্রান্সিসের সময়কালে ব্রিটিশদের থেকে মুক্ত হয়ে প্যারিসের আরো উন্নয়ন হয়। পশ্চিম ইউরোপের সবচেয়ে বৃহত্তর শহরে পরিণত হয় প্যারিস। ১৫ শতক থেকে ফ্রান্সের রেনেসার ছোঁয়া লাগে। নগর আবারো নতুন রূপে সাজতে থাকে আর নতুন চিন্তাধারায় গড়তে থাকে দেশ। এই ধারাবাহিকতায় ফরাসি বিপ্লবের সূত্রপাত ঘটে। পরবর্তীতে নেপোলিয়ন মেনোপোর্ট ফ্রান্সের অধিনায়ক হিসেবে ক্ষমতায় এসে প্যারিসের চাকচিক্য আরো বাড়িয়ে তোলে। নেপোলিয়ন যাওয়ার পরও প্যারিসে বেশ ক বছর দারুণ অরাজকতা বিরাজমান ছিল। ১৮ শতকের শেষের দিকে ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ারের কাজ শুরু হলে বিশ্বের বুকে ফ্রান্স তথা প্যারিস শহরের একটা প্রতীক স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা পায়। প্রথম আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্যারিসে তেমন একটা ক্ষতি হয়নি। যদিও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্যারিস জার্মানদের অধীনে ছিল যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে। বিংশ শতাব্দীতে এসে বিশ্ব যত আধুনিকতার ছোঁয়ায় পূর্ণ হতে থাকলো প্যারিসও যেন ততটাই সমৃদ্ধ হতে থাকলো। শিল্প সাহিত্য থেকে শুরু করে জ্ঞান আর ঔষের্য পরিপূর্ণতা লাভ করলো প্যারিস। আর ধীরে ধীরে ইউরোপের অন্যতম সেরা শহরেই নয় বরং বিশ্বের এক গুরুত্বপূর্ণ শহরের তালিকায় প্যারিসের নাম উঠে এলো। ফরাসি ভাষাকে বলা হয় ভালোবাসার ভাষা আর প্যারিসকে বলা হয় ভালোবাসার শহর। সেই নদী প্যারিসকে ভালোবেসে যেমন আষ্টে পৃষ্ঠে করে পুরো শহর জুড়ে ছড়িয়ে আছে। একইভাবে শৈল্পিক সব স্থাপত্যশৈলী এই নদীর উপরেই প্রায় ৩৭ টি ব্রিজ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই ব্রিজগুলোর উপর দিয়ে হাঁটতে গেলেই যে কেউ টের পাবে ব্রিজের রেলিংগুলোতে এক ধরনের বিশেষ তালা ঝুলে আছে। এগুলোকে লাভ প্যাডলক বলে অভিহিত করা হয়। প্রেমিক কিংবা প্রেমিকা যেকোনো একজন অন্যজনের নামের অদক্ষর দেয়া একটি তালা ব্রিজের রেলিংয়ে বেঁধে রাখেন এবং চাবিটি ফেলে দেন সেন নদীতে। চাবি হারিয়ে যাওয়ার ফলে তালা কখনো খুলে যায় না। ঠিক তেমনি প্রেমিক প্রেমিকার বন্ধনও যেন জনম জনম বন্ধনেই বাঁধা থাকে। এমনটাই প্রত্যাশা করে বাঁধা হয় এই তালাগুলো। প্রেমিক প্রেমিকার ভালোবাসার এমন নিদর্শনের কারণেই প্যারিস ভালোবাসার শহর হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে। ইংরেজিতে প্যারিস নামে পরিচিত এই শহরটি ইউরোপ জুড়ে বাড়ি নামে পরিচিত। এই বাড়িকে সিটি অফ লাইটস বা আলোকিত শহর বলেও অভিহিত করা হয়। কাগজে কলমেও প্যারিসের নাম লা ভিল্লা লুমিয়ের নামে খ্যাত। ইউরোপের প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় প্যারিস ইউনিভার্সিটি লা সোর বর্ণে এর জন্য ইউরোপের অন্যতম জ্ঞান বিজ্ঞানের তীর্থভূমি ছিল এই প্যারিস। আর জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়েই ইউরোপের প্রথম শহর হিসেবে প্যারিসের রাস্তায় রাস্তায় প্রথম গ্যাস চালিত ল্যাম্পপোস্ট স্থাপিত হয়। সন্ধ্যার গাড়ো অন্ধকারে যখন পুরো ইউরোপ তলিয়ে যেত তখন প্যারিস সমহিমায় আলো ঝলমলে এক রূপ নিয়ে সবাইকে চমকে দিত। আর তাই তো সিটি অফ লাইটস বা আলোকিত শহর নামে এখনো পরিচিত এই প্যারিস। শান্তির শহর প্যারিস। হ্যাঁ, প্যারিসকে আপাদমস্তক শান্তির শহর বলেই মনে করে ইউরোপবাসীরা। কেননা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল এই প্যারিসেই। যেটিকে প্যারিস পিস কনফারেন্স বলা হয়ে থাকে এবং এই সম্মেলনেই স্বাক্ষরিত হয়েছিল ঐতিহাসিক এবং গুরুত্বপূর্ণ ভার্সাই চুক্তি। আরো জানার বিষয় হচ্ছে এই সম্মেলন থেকেই লীগ অফ নেশনস এর ধারণাও প্রবর্তিত হয়েছিল। মূলত এই কারণেই শান্তির শহর বলা হয়ে থাকে প্যারিসকে। এছাড়াও প্যারিসের এই সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে বদ্ধপরিকর ফরাসি পুলিশ। অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে পুলিশ, প্যারিসের নাগরিক এবং পর্যটকদের জন্য। ফ্যাশন, স্টাইল আর আভিজাত্যের শহর প্যারিস। আধুনিক ফ্যাশনের রাজধানীও বলা হয় প্যারিসকে। ১৮ শতকের শুরু থেকেই সৌন্দর্য আর ফ্যাশন সচেতনতার মিলনমেলা হিসেবে খ্যাত প্যারিস। প্যারিস ফ্যাশন উইকের নাম কে না শুনেছে? পৃথিবীর বিখ্যাত সব ফ্যাশন ডিজাইনার এবং ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর ঘাটি এই শহরেই। এছাড়াও পুরো বিশ্বজুড়ে ফ্রান্সের পারফিউমের কদর আছে। আর বিশ্বখ্যাত সব নামিদামি পারফিউমের আস্তানা এই প্যারিসেই। ১৮৮৯ সালে গুস্তাভ আইফেল বিশ্বমেলার প্রবেশদার হিসেবে নির্মাণ করেন এই টাওয়ার। তখনকার সময়ে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়েছিল টাওয়ারটি। এমনকি এটি সরিয়ে ফেলতে প্যারিসের রাস্তায়ও নেমেছিল একদল। কিন্তু ১৯ শতক থেকেই প্যারিস তথা ফ্রান্সের প্রতীকে পরিণত হয় এই আইফেল টাওয়ার। ফ্রান্সে ঘুরতে গিয়ে আইফেল টাওয়ার না দেখে ফ্রান্সে না যাওয়ার সমতুল্য বলে মনে করেন অনেকে। প্রতি বছর গড়পরতা প্রায় ৭০ লাখ মানে ৭ মিলিয়ন পর্যটক কেবল প্যারিসের এই দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যই দেখতে আসেন। ১৮ হাজার ৩৮ টি লোহার টুকরার সমন্বয় তৈরি এই স্থাপত্য শৈলী বর্তমানে প্যারিস তথা ফ্রান্সের প্রতীক বলে বিশ্বব্যাপী মর্যাদা পেয়েছে। পুরো প্যারিস জুড়ে মোট ১৭৩ টি মিউজিয়াম রয়েছে। আর তাই মিউজিয়ামের শহর নামেও বিশেষ খ্যাতি রয়েছে প্যারিসের। বিশ্বখ্যাত লুভার মিউজিয়ামের কথা কে না শুনেছে? লিওনার্দো দা ভিন্চি এর অমর কীর্তি মোনালিসা সংরক্ষিত আছে এই মিউজিয়ামে। ৩ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি দর্শনীয় বস্তু আছে এই লুভার মিউজিয়ামে। ১৫ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই জাদুঘরটি যদি আপনি ৫ সেকেন্ড করে সময় নেন প্রতিটা দর্শনীয় বস্তু দেখতে তাহলে আপনার ১০০ দিন লেগে যাবে পুরো জাদুঘর এক নজর ঘুরে দেখতে। প্যারিসের প্রতীক আইফেল টাওয়ার, রূপকথার মোনালিসা খ্যাত লুভার মিউজিয়াম। ফরাসি স্থাপত্য শৈলীর অনন্য নিদর্শন নটরডেম ক্যাথেড্রাল। নেপোলিয়নের বিজয় উল্লাস তরুণ আর্কডে ট্রাম্পেট। ফরাসি নিদর্শন পর্যটকদের এতটাই আকৃষ্ট করেছে ফ্রান্স পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পর্যটক পরিদর্শনকারী দেশ এবং শহর হিসেবে প্যারিসকে পরিগণিত করা হয়। ইউনেস্কোর জরিপে ফ্রান্সের লুভার মিউজিয়াম পৃথিবীর সবচাইতে জনপ্রিয় জাদুঘরগুলোর মধ্যে একটি। ফরাসি খাবারের খ্যাতি আছে জগতজুড়ে। বিখ্যাত পানীয় শ্যাম্পেনও তৈরি হয় এই ফ্রান্সেই। ক্যাফে আর রেস্তোরা নগর যে প্যারিস তা কয়েক কদম হাঁটলেই টের পাওয়া যায়। সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে বড় এবং সম্মানিত উৎসব কান ফেস্টিভলেও হয়ে থাকে এই ফ্রান্সেই। তাহলে ফ্রান্সের এবং ইউরোপের সেরা শহর হিসেবে কেন প্যারিসের নাম চলে আসে তা আশা করি আর ফলাও করে বলতে হবে না। এবার তাহলে এটা পরিষ্কার যে কেন লোকেরা বলে প্যারিস এক স্বপ্নের শহরের নাম।


![Thumbnail for 개 산책까지 로봇이?…청년층 일할 곳이 없다 [경제콘서트] / KBS 2026.04.20. by KBS News](/_next/image?url=https%3A%2F%2Fimg.youtube.com%2Fvi%2F3IzbGS-dNs4%2Fhqdefault.jpg&w=3840&q=75)
