Thumbnail for এমেরিকা যেভাবে ডলার দিয়ে পুরো পৃথিবীর ইকোনমি দখল করলো | What You Didn't Know About 1971 by Khalid Farhan

এমেরিকা যেভাবে ডলার দিয়ে পুরো পৃথিবীর ইকোনমি দখল করলো | What You Didn't Know About 1971

Khalid Farhan

11m 31s2,358 words~12 min read
Auto-Generated

[0:00]মনে করেন আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করলাম আপনি কত লম্বা। আপনি আমাকে উত্তর দিলেন যে আমি ছয় ফিট লম্বা। এই উত্তর থেকে আমি কিন্তু বুঝলাম যে আপনি কতটুকু লম্বা। এখন প্রশ্ন হলো আমি এটা কিভাবে বুঝলাম? আমি এটা বুঝলাম তার কারণ আমার স্কুল সিস্টেমে আমার সোসাইটিতে বা আমার ছোটবেলা থেকে বড় হয়ে ওঠার কোনো একটা পর্যায়ে আমাকে শেখানো হইসে এক ফুট মানে মোটামুটি কতটুক এবং আমাকে অঙ্কও শেখানো হইসে। যে কারণে এক ফুট মানে মোটামুটি কতটুক এটা যেহেতু আমি বুঝছি এবং ওইটাকে আমি ছয় দিয়ে গুণ দিতে পারছি এই কারণে ছয় ফুট মানে মোটামুটি কিরকম একটা সাইজ এই বিষয়ে আমার একটা ধারণা আছে। এবং আমার যে এই বিষয়ে একটা ধারণা আছে এই ৬ ফিটের স্কেলটার ব্যাপারে এটাও আপনি জানেন এই কারণেই আপনি খুব কনফিডেন্টলি আমাকে বলছেন যে ভাই আমি ৬ ফুট লম্বা কারণ আপনি ধরে নিসেন যে আমি জানি যে ১ ফুট মানে কতটুক। আমি কিংবা আপনি দুজনের কেউই কিন্তু একটা স্কেল ছাড়া একদম কনফিডেন্টলি বলতে পারব না যে ৬ ফুট মানে এক্সাক্ট কতটুক বাট আমরা দুজনেই মোটামুটি একটা আন্দাজ করতে পারি। এখন একটা অদ্ভুত ব্যাপার চিন্তা করেন আপনি আমার সাথে। আগামীকাল থেকে যদি সব দেশের সব সরকার একসাথে ঠিক করে যে ১ ফুট মানে আসলে এতটুক তাহলে ৬ ফুট মানে কতটুক হবে? এতটুক। এবং ৬ ফুট মানে যদি এতটুক হয় তাহলে এক বা দুই বছর পর আমার এবং আপনার দুজনেরই স্বীকার করতে হবে যে আপনার হাইট এখন আর ৬ ফুট নাই। আপনার হাইট এখন হয়ে গেছে ৪০ ফুট কারণ এখন ১ ফুট মানে এতটুক। তখন যদি আপনাকে আমি আবার জিজ্ঞেস করি যে ভাই আপনার হাইট কত তখন আপনি এইটাও বলতে পারেন যে নতুন স্কেলের হিসেবে আমার হাইট ৪০ ফুট কিন্তু পুরান স্কেলের হিসেবে আমার হাইট ছিল ৬ ফুট। এই যে ব্যাপারটা যে একটা জিনিসের মান বদলায় দেওয়ার কারণে ওটার টোটাল ভ্যালু বদলায় যাওয়া এই জিনিসটা ১৯৭১ সালে একবার হয় এবং এই জিনিসটা করে আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিক্সন। নিক্সনের কাছে আমরা ফেরত আসব বাট তার আগে আমাদের টাকার ব্যাপারে একটু জানতে হবে। অনেক আগের কথা মানুষ তখন আস্তে আস্তে কলোনি বানানোর দিকে যাচ্ছে হান্টার গ্যাদারার থেকে বের হয়ে এসে। আপনি জানেন যে সিভিলাইজেশনের শুরুর দিকে মনুষ্যজাতির শুরুর দিকে চাকরি বলে কিছু ছিল না সবাই নিজের উপার্জন নিজে করত যে খেত খামার করে সে খেত খামার করত যে পশুপালন করে সে পশুপালন করত। চাকরি ব্যাপারটা কিন্তু সিভিলাইজেশনের শুরুতে আসে নাই। এরপরে আস্তে আস্তে যখন কলোনি শুরু হয় আস্তে আস্তে ছোট ছোট গ্রাম শুরু হয় তখন একটা সমস্যা দেখা দেয়। সমস্যাটা কী? কেউ চাষ করতে পারে ভালো, কেউ আবার শিকার করতে পারে ভালো। এখন ১ কেজি চালের ইকুইভ্যালেন্ট কয় কেজি মাংস হবে বা ভাইস ভার্সা এটার তো কোনো ইউনিভার্সাল রুল নাই। যে শিকার ভালো করতে পারে সে বলে যে শিকার করা খুবই কঠিন একটা কাজ শিকার করায় মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। আমার মনে হয় আমি যদি আপনাকে ১ কেজি মাংস দেই শিকারের আপনার আমাকে ২০ কেজি চাল দেওয়া উচিত। আবার যে চাল ফলায় গম ফলায় শস্য ফলায় সে বলে যে আমার পুরা ৬ মাস ৭ মাস লাগে শস্য ফলাইতে পানি দিতে হয় রেগুলার টেক কেয়ার করতে হয়। আমার মতে ১ কেজি শস্যের জন্য আমার ৫ কেজি মাংস পাওয়া উচিত। এই প্রবলেমগুলো আস্তে আস্তে সলভ করার জন্যই ইউনিভার্সাল কারেন্সি ব্যাপারটা আসে যেখানে একটা জিনিসকে নির্দিষ্ট একটা মান দেওয়া হয় এবং বলা হয় এই জিনিসটার নাম এখন কারেন্সি বা টাকা। এবং এখন থেকে এইটাই বিনিময় হবে আমি আপনাকে ৫ কেজি মাংস দিব তার বদলে আপনি আমাকে ১০ কেজি শস্য দিবেন এরকম আর হবে না আমি আপনাকে এই জিনিসটা দিব ১০টা তার বদলে আপনি আমাকে আপনার যে জিনিসটা আছে মাংস বা শস্য সেই জিনিসটা আমাকে দিবেন। শুরুর দিকে মুদ্রার অনেক ভার্সন ছিল। একদম পাথর থেকে শুরু করে কষ্টিপাথর থেকে শুরু করে এমন এমন অদ্ভুত জিনিসপত্র মুদ্রা হিসেবে ট্রিট করেছে প্রাচীন আমলের মানুষ যেটা যদি লিস্ট করি আপনি অবাক হয়ে যাবেন। কিন্তু যাই মুদ্রা হিসেবে ইউজ করা হয়েছে বিভিন্ন সময় সবকিছু একটা প্রবলেম ছিল সেটা হলো ইউনিভার্সাল একসেপটেন্স। সবাই ওই জিনিসকে সমান ভ্যালুয়েবল মনে করে নাই এবং এই কারণেই মুদ্রা কোনো একটা স্ট্যাব্লিশড মুদ্রা একই সাথে পুরা দুনিয়ার মুদ্রা হইতে পারে নাই কোনো সময় টিল গোল্ড এরাইভড। গোল্ড যখন প্রথম পৃথিবীতে আবিষ্কার হয় তখন আস্তে আস্তে পুরা দুনিয়া একসাথে একমত হয় যে গোল্ড এমন একটা জিনিস যেটাকে আমরা বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারি। এবং আমাকে যদি গোল্ড দেওয়া হয় আমি গোল্ড ইজিলি এক্সেপ্ট করব এবং আমি যদি কাউকে গোল্ড দিয়ে তার কাছে কোনো কিছু চাই সে ওই গোল্ডটা এক্সেপ্ট করবে কারণ সে জানে বাকি পুরা দুনিয়াও গোল্ড এক্সেপ্ট করে। শুরু হয় একটা কারেন্সির যুগ যেই কারেন্সিকে বলা হয় গোল্ড কারেন্সি। আপনারা অনেকে স্বর্ণযুগ কথাটার সাথে পরিচিত তাই না আমরা যখন কোনো একটা যুগ খুব ভালো যায় আমরা বলি এটা একটা স্বর্ণযুগ ছিল। স্বর্ণযুগ এই কথাটা এসেছে তার কারণ একটা যুগকে সেই যুগটা কত ভালো এটাকে গোল্ড স্ট্যান্ডার্ডে যখন আমরা মাপি তখন স্বর্ণ এবং যুগ এই দুইটা মিলায়া ওই যুগটাকে বলা হয় স্বর্ণযুগ। গোল্ড যেহেতু অনেক দামী জিনিস সো স্বর্ণযুগ মানে হল অনেক ভালো বা অনেক দামী একটা যুগ। আচ্ছা গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড সেট হয়ে গেল পুরা দুনিয়া গোল্ড একসেপ্ট করা শুরু করল। ১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যখন শেষ হচ্ছে আপনারা জানেন যে ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫ পর্যন্ত সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার হয়েছে। ১৯৪৪ এ যখন প্রায় শেষের দিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তখন আমেরিকার ব্রেটন উড বলে একটা জায়গা আছে ওখানে ৪৪টা দেশের প্রেসিডেন্টরা একটা মিটিং এ বসে। মিটিং এ বসার কারণ কী? দুনিয়া এখন অনেক গ্লোবালাইজড। ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড ওয়ার যখন হইসে তখন কিন্তু ট্রেঞ্চ ওয়ার হইসে এত আধুনিক প্লেন ছিল না দেশ আর দেশের মধ্যে বাণিজ্য ছিল না কোনো ব্যাপার স্যাপার ছিল না। বাট ১৯৪৪ সালে এসে এক দেশ আরেক দেশের সাথে বাণিজ্য করতেছে এক দেশ আরেক দেশে নিয়মিত যাচ্ছে এক দেশের থেকে মানুষ আরেক দেশে ইজিলি ট্রাভেল করতেছে সো গ্লোবালাইজেশন ব্যাপারটা শুরু হয়ে গেছে। এখন গ্লোবালাইজেশন যখন শুরু হইসে তখন ওই চাল এবং ওই মাংসের সমস্যাটা আবার ফেরত আসছে। সমস্যাটা কী? প্রত্যেকটা দেশেরই এখন নিজেদের কারেন্সি আছে। ব্রিটেনের আছে পাউন্ড আমেরিকার আছে ডলার তমুক দেশের আছে তমুক জিনিস প্রত্যেকটা দেশই মনে করে আমার কারেন্সি সেরা আমার কারেন্সি অনেক পাওয়ারফুল। ঠিক যেরকম যে শিকার করত সে মনে করত মাংসের দাম বেশি ভার্সেস যে শস্য ফলাইত সে মনে করত গমের দাম বেশি একইভাবে ব্রিটেন মনে করতেছে পাউন্ড অনেক দামী জিনিস আমেরিকা মনে করতেছে ডলার অনেক দামী জিনিস। সব দেশ মনে করতেছে তার কারেন্সি অনেক দামী জিনিস সো এই সেইম প্রবলেম সলভ করতেই আসলে প্রেসিডেন্টরা বসে। যে আমাদের একটা ইউনিভার্সাল কারেন্সি দরকার যেটার এগেইনস্টে আমরা আমাদের নিজেদের কারেন্সিগুলোকে পরিমাপ করতে পারব। এখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যখন শেষ হচ্ছে ১৯৪৪-৪৫ এরকম টাইমে এরকম সময় আমেরিকার কাছে পৃথিবীর গোল্ডের ৫০% এরও বেশি মজুদ ছিল। আমেরিকার কাছে যেহেতু সবচেয়ে বেশি গোল্ড সে সময় এবং সবাই মোটামুটি একমত ছিল যে গোল্ড সবচেয়ে পাওয়ারফুল একটা জিনিস এবং গোল্ড সবচেয়ে গ্লোবালি একসেপ্টেড একটা কারেন্সি। সো এই জিনিসটা সিদ্ধান্তে আসে ওই ৪৪টা দেশের প্রেসিডেন্ট যে এখন থেকে আমরা এক দেশের সাথে আরেক দেশের যখন বাণিজ্য করব তখন আমরা আমেরিকান ডলার ব্যবহার করব। নিজের দেশের ভিতরে আমরা নিজেদের কারেন্সি ব্যবহার করব বাট এক দেশ যখন আরেক দেশ থেকে কোনো একটা কিছু কিনবে সেটা যাই হোক আমরা ওই জিনিস ডলার দিয়ে কিনব। এবং আমেরিকা বলে যে তোমরা ডলার দিয়ে কিনো কোনো সমস্যা নাই তোমার এটা বলতেও হবে না যে আমেরিকান ডলার খুব পাওয়ারফুল একটা জিনিস কারণ প্রত্যেক আমেরিকান ডলার ২৮ গ্রাম সোনার সমান। সো আপনি চিন্তা করেন মনে করেন আপনি ব্রিটেন আপনি ঠিক করলেন যে আপনার দুধ কিনতে হবে সুইজারল্যান্ডের কাছ থেকে। আপনি সুইজারল্যান্ডকে ডলারের টাকা দিবেন সুইজারল্যান্ড আপনাকে দুধ দিবে এবং এই ডলার আপনি চাইলে নিজের কাছে রাখতে পারেন জানি পরে আবার এই ডলার দিয়ে অন্য কারো কাছ থেকে অন্য কিছু কেনা যায় অথবা আপনি এই ডলার আমেরিকাকে ফেরত দিলে আমেরিকা প্রত্যেক ডলারের জন্য ২৮ গ্রাম গোল্ড আপনাকে ফেরত দিয়ে দেবে। সো গোল্ড স্ট্যান্ডার্ডেই আমরা থাকলাম বাট কারেন্সিটা হয়ে গেল ডলার যেটা দিয়ে বিনিময় হবে। এই জিনিসটা যেহেতু ব্রেটন উড নামে জায়গাটা হয় এই কারণে এই পুরা ব্যাপারটাকে বলা হয় ব্রেটন উডস এগ্রিমেন্ট। তো এর পরের ২০ বছর মোটামুটি ঠিকভাবেই চলতেছিল। সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার শেষ হয় আমেরিকার ডমিনেন্স আরও বাড়ে এবং সব দেশ মোটামুটিভাবে ডলারের কেনাবেচা করে হ্যাপি কারো কোনো বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে না। কেউ একচুয়ালি ডলার দিয়ে আবার গোল্ড ফেরতও নিচ্ছে না কারণ সবাই একসেপ্ট করে নিসে যে আমেরিকা যেহেতু পাওয়ারফুল একটা দেশ ডলারের দামের কোনো সমস্যা হচ্ছে না সো আমেরিকার কাছে তো গোল্ড আছে আমি জানি আমার কাছে ডলারই থাকে আমি আর আবার ডলার ভাঙায়া গোল্ড করব আবার তারপর কোনো কিছু কিনতে হলে গোল্ড ভাঙায়া ডলার করতে হবে এই ঝামেলার মধ্যে আমি কেন যাব আমি ডলারই রেখে দেই আমার কাছে। কিন্তু এরপরে আস্তে আস্তে আমেরিকার একটু ডাউনফল শুরু হয় ভিয়েতনাম ওয়ার টাইপ যুদ্ধ দিয়ে। যখন আমেরিকা আস্তে আস্তে বিভিন্ন যুদ্ধ টুদ্ধতে জড়ায় পরে এবং আমেরিকার ডমিনেন্স প্রমিনেন্ট হয় সব দেশ আস্তে আস্তে আমেরিকাকে একটু একটু খারাপ ভাবা শুরু করে তখন সব দেশের মাথায় প্রথমে যেই ব্যাপারটা আসে সেটা হল আমেরিকান ডলার তো আমি আর ইউজ করব না। আমেরিকা ভিয়েতনামে যুদ্ধ করতেছে আমেরিকার জাপানের সাথে সমস্যা আমেরিকার তাইওয়ানের সাথে সমস্যা চায়নার সাথে সমস্যা এই সমস্যা ওই সমস্যা আমি আমেরিকাকে আর সাপোর্ট করতে চাই না আমি আমেরিকান ডলার ইউজ করব না। জার্মানি প্রথম তখন কিন্তু জার্মানি ভাগ হয় নাই তার আগের কথা বলতেছি জার্মানি প্রথম তাদের সব ডলার ফেরত দিয়ে গোল্ডে কনভার্ট করে ফেলে সবকিছু। তখন বাকি দেশগুলো একটু অবাক হয় যে আচ্ছা আমরা যদি ডলার রাখি বাকি কেউ যদি ডলার না রাখে তাহলে তো আমাদের শুধু এই ডলার রেখে কোনো লাভ নাই তাই না কারণ আমরা যখন কাউকে ডলার দিতে যাব তার দুধ কেনার বদলে সে ওই ডলার একসেপ্ট করবে না। কারণ বাকি সবাই ডলার থেকে বের হয়ে যাচ্ছে সো আমরা কী করব? সেকেন্ড দেশ হয় সুইজারল্যান্ড সুইজারল্যান্ড প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলারকে গোল্ডে কনভার্ট করে ৫০ মিলিয়ন ডলার ফেরত দিয়ে দেয় আমেরিকাকে এবং বলে আমাদের গোল্ড ফেরত দিয়ে দাও। আমেরিকা বুঝতে পারে যে সবাইকে যদি গোল্ড ফেরত দিয়ে দেই আমরা তাহলে একটা বড় সমস্যা হবে সেটা হল আমেরিকার গ্লোবাল ডমিনেন্স শেষ হয়ে যাবে কারণ কেউ আর ডলার ব্যবহার করবে না। এই সমস্যাটার থেকে বের হইতে কী করা যায়? ১৯৭১ সালে অনেক অনেক গোপন ডিসকাশনের পর প্রেসিডেন্ট নিক্সন একটা ঘোষণা দেয় উনি বলে এখন থেকে আমেরিকার ডলার গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। এখন থেকে আমেরিকার ডলারের সাথে গোল্ডের কোনো সম্পর্ক থাকবে না এই ব্যাপারটাকে বলা হয় নিক্সন শক। আপনি একটু চিন্তা করেন ব্যাপারটা কি হইলো নিক্সন শকের আগ পর্যন্ত আপনার কাছে ১ ডলার ছিল মানে হলো আপনার কাছে ৮০০ মিলিগ্রাম গোল্ড ছিল। হ্যাঁ আপনার কাছে গোল্ডটা ফিজিক্যালি ছিল না বাট আপনি জানতেন যে এই ১ ডলার ৮০০ মিলিগ্রাম গোল্ড রিপ্রেজেন্ট করে যেই গোল্ডটা আমেরিকান সরকারের কাছে রাখা আছে আমি চাইলেই আমেরিকান সরকারকে আমার এই ডলারটা ফেরত দিতে পারি এবং তার বদলে সে আমাকে আমার গোল্ড দিয়ে দেবে। কিন্তু ৭১ এর এই ঘোষণার পরে যে ব্যাপারটা হলো সেটা হলো এখন থেকে গোল্ড এবং আমেরিকান ডলারের কোনো সম্পর্ক নাই। ইকোনোমিকসের ভাষায় এই ব্যাপারটাকে বলা হয় গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড থেকে আমেরিকান ডলার বের হয়ে গেল। তাহলে নেক্সট অ্ভিয়াস প্রশ্ন যেটা আসবে সেটা হলো গোল্ড এবং ডলারের যেহেতু এখন আর কোনো সম্পর্ক নাই তাইলে ১ ডলারে কতটুকু গোল্ড পাওয়া যাবে? বা আমি যদি ১ গ্রাম গোল্ড কিনতে চাই আমার কতটুকু ডলার দিতে হবে এটা কে ঠিক করবে? এটার উত্তর হলো গোল্ডও এখন থেকে ১৯৭১ সালের ওই সময়টার থেকে নরমাল সাপ্লাই অ্যান্ড ডিমান্ড মার্কেটে প্রবেশ করল। তার মানে হলো মুরগির ডিমের দাম যেভাবে ঠিক হয় মুরগির ডিমের সাপ্লাই কতটুক আছে মুরগির ডিম মার্কেটে এভেইলেবল কতটুক ওটার উপর ঠিক করে যেহেতু দাম বাড়ে কমে আপনারা জানেন যে বাংলাদেশে মুরগির ডিমের দাম কে ঠিক করে? কেউ ঠিক করে না মুরগির ডিমের সাপ্লাইয়ের উপর ভিত্তি করে অটোমেটিক্যালি ক্যাপিটালিস্টিক মার্কেটে দাম ঠিক হয়ে যায় গোল্ডও ১৯৭১ সালের পর থেকে ঠিক এই একই ব্যবস্থার মধ্যে প্রবেশ করে। এই ডিসিশনটা ওই সময় যেহেতু এক রাতের মধ্যে নেওয়া হইসে নিক্সন কিন্তু তার খুব কাছের কয়েকজন মানুষ ছাড়া খুব বেশি মানুষকে বলে নাই এই ব্যাপারটা বিশাল একটা কেওস সৃষ্টি হয় আমেরিকান মার্কেটে। সবকিছুর দাম ভয়ংকরভাবে বাড়া শুরু হয় এবং আমেরিকায় বিশাল বড় ধরনের একটা ইনফ্লেশন সৃষ্টি হয় তার কারণ ডলারের উপরে মানুষের বিশ্বাস একদমই কমে যায় ওই সময়। ক্রুড অয়েলের দাম ৮% বেড়ে যায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম বাড়তে থাকে এবং নিক্সনের পদত্যাগ চেয়ে মানুষজন আন্দোলন করা শুরু করে। এবং অবস্থা এত বাজে হয় যে আমেরিকান সরকার একটা এক্সিকিউটিভ অর্ডার পাবলিশ করে যেই এক্সিকিউটিভ অর্ডারে বলা হয় যে আগামী ৯০ দিন কোনো ব্যবসায়ী কোনো কিছুর দাম বাড়াইতে পারবে না এবং আগামী ৯০ দিন কারো বেতনও বাড়ানো যাবে না। শুধু যে এই জিনিসটা করা হয় তা না প্রোডাক্ট ইম্পোর্টের ক্ষেত্রেও অনেক ধরনের এক্সট্রা ট্যাক্স বসানো হয় যেন আমেরিকান প্রোডাক্ট মানুষ আরও বেশি কিনে। ফরচুনেটলি এই দুইটা ব্যাপার কাজ করে। মানুষ আস্তে আস্তে আবার ডলার ব্যবহার বাড়ানো শুরু করে এবং বিভিন্ন দেশ যাদের কাছে ডলার ছিল তারা যেটা এক্সপেক্ট করছিল অনেকে যে সবাই ডলার ফেরত দিয়ে যার যার গোল্ড নিয়ে বিদায় হয়ে যাবে ডলার আর গ্লোবাল কারেন্সি থাকবে না ও ব্যাপারটা হয় না। সব দেশ মোটামুটি বলে যে না ঠিক আছে এখন আর ডলারের সাথে গোল্ডের কোনো সম্পর্ক নাই বাট আমরা ডলারকে তাও বিশ্বাস করি এবং আমরা আমেরিকার যে সুপার পাওয়ার এই সুপার পাওয়ারে এখনও বিশ্বাস রাখি এবং আমরা এখনও ডলার দিয়েই ট্রেড করব। আমেরিকান সরকার যখন এই ব্যাপারটা দেখে যে আচ্ছা আমার ডলারের সাথে এখন গোল্ডের কোনো সম্পর্ক নাই তারপরও পুরা দুনিয়া ডলারকে গ্লোবাল কারেন্সি মানতেছে তখন আমেরিকান সরকার একটা খুব বড় পাওয়ার পায়। পাওয়ারটা কী? আগে আমি ইচ্ছামতো ডলার ছাপাইতে পারতাম না কারণ প্রত্যেক ডলার ছাপানোর জন্য আমার ৮০০ মিলিগ্রাম গোল্ড আমার ভল্টে থাকতে হইতো। এখন যেহেতু ডলার এবং গোল্ড আলাদা হয়ে গেছে গোল্ড স্ট্যান্ডার্ডের উপর ভিত্তি করে এখন যেহেতু আর ডলারের কোনো ব্যাপার স্যাপার নাই আমার ইচ্ছা হইলেই আমি এখন ডলার ছাপাইতে পারি। এই ইচ্ছামতো ডলার ছাপানোর দায়িত্বটা দেওয়া হয় ফেডারেল রিজার্ভকে যেটা আমেরিকার একটা প্রাইভেট ব্যাংক এবং অদ্ভুত ব্যাপার আমেরিকাই একমাত্র দেশ পৃথিবীতে যেখানে ডলার ছাপানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় একটা প্রাইভেট কোম্পানিকে। এই সব ব্যাপারগুলো ঘটে ১৯৭১ সালে এবং এই কারণেই ইকোনোমিকসের দুনিয়ায় ১৯৭১ সালকে সবচেয়ে সিগনিফিক্যান্ট বছর ধরা হয়। ১৯৭১ এর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশ এককভাবে এবং জয়েন্টলি ডলারের ডমিনেন্স কমানোর চেষ্টা করেছে এবং এর মধ্যে রিসেন্ট সময়ে যখন রাশিয়া ইউক্রেন ওয়ার শুরু হইলো এবং আমেরিকা যখন ইউক্রেনকে সাপোর্ট দেওয়া শুরু করল তখন রাশিয়া চায়না ইন্ডিয়া মিলেও নিজেদের গ্লোবাল কারেন্সির ইকুইভ্যালেন্ট একটা অল্টারনেটিভ অপশন বানানোর চেষ্টা করেছে।

[11:09]এবং অনেকাংশে সফল হয়েছে অনেকগুলো ট্রেড হয়েছে বাট গ্লোবালি এখনও ডলারের ডমিনেন্স কমে নাই এবং মনে হচ্ছে না খুব সম্ভবত খুব তাড়াতাড়ি সময়ে আমরা ডলারের ডমিনেন্স কমতে দেখতে পারব। এবং এত ভয়ংকর একটা ব্যাপার এত ইন্টারেস্টিং একটা ব্যাপার হয়েছিল ১৯৭১ সালে এটা আমার ধারণা আপনারা অনেকেই জানতেন না এই কারণে আমি ভাবলাম আপনাদের সাথে এই গল্পটা শেয়ার করি। ভালো থাকবেন সবাই সবার সাথে আমার কথা হবে পরের কোনো একটা ভিডিওতে টাটা।

Need another transcript?

Paste any YouTube URL to get a clean transcript in seconds.

Get a Transcript