[0:08]গুরু প্রণাম। আমি শ্রী গৌতম আমার সৎসঙ্গ চ্যানেলে আপনাদের সকলকে স্বাগতম। প্রিয় পরম এর কাছে আপনাদের সকলের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করে আজকের আলোচনা পর্ব আরম্ভ করছি। প্রিয় পরম শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের একটি অপরূপ লীলার কথা তার দয়ার কথা তার করুণার কথা। কি করে ভক্ত সাধারণকে তিনি রক্ষা করেন আগলে রাখেন তারই একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। ব্যান্ডেলে থাকা এক সৎসঙ্গী পরিবার তার মামাতো ভাই বাংলাদেশ থেকে বেড়াতে এসেছেন সস্ত্রিক সঙ্গে তার দুই ছেলে মেয়ে। কিছুদিন থাকার পর তাদের ফিরে যাওয়ার সময় হয়ে আসে বিষাদ দিন শেষ হয়ে আসে তাই তাদেরকে ফিরতে হবে। কিন্তু তার ছেলেটি সে ফিরতে চায় না। সে আরো কিছুদিন এখানে থাকতে চাই। তাই অবশেষে বাধ্য হয়েই সেই সাত বছরের ছেলেকে রেখে তারা তার মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যায়। এবং বলে যাই 15 দিন পরে উত্তরপ্রদেশ থেকে তার ভাগ্নে ভৈরব আসবে। সেও বাংলাদেশে ফিরবে। তার সঙ্গেই তার ছেলেকে পাঠিয়ে দিলে ঠিক হবে। এভাবেই তারা ফিরে যাওয়ার পর 15 দিন অতিবাহিত হয়ে গেলে উত্তরপ্রদেশ থেকে তার ভাগ্নে ভৈরব এসে উপস্থিত হয় বাংলাদেশে ফেরার জন্যে। তাই তার সঙ্গেই তার ভাইপো আদিত্যকেও পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। আদিত্যকে নিয়ে ভৈরব নৈহাটি স্টেশনে এসে পৌঁছায়। প্ল্যাটফর্মে একটি বেঞ্চে আদিত্যকে বসিয়ে রেখে ভৈরব পান খাওয়ার জন্য একটা পানের দোকানে গিয়ে সেখানে পান বিড়ি খাওয়ার পর কিছুটা সময় অতিবাহিত করে। তারপরে সে আবার ফিরে আসে। ফিরে এসে দেখলেন যে বেঞ্চিতে তার আদিত্যকে বসিয়ে রেখে গেছিল সেখানে আদিত্য নেই। তারপরে ভাবলেন হয়তো এদিক ওদিকে কোথাও ঘুরতে গেছে ছোট ছোট মানুষ তো। হয়তো কোথাও কিছু দেখছে। এই ভেবেই সে এদিক ওদিকে খুঁজতে থাকে। আদিত্যর নাম ধরে ডাকতে থাকে কিন্তু কোথাও তাকে খুঁজে পায় না। তারপরও ঘটনার গভীরতা সে বুঝতে পারে তার ভয়াবহতা সে অনুমান করতে পারে। তখন সে এদিক ওদিকে ছোটাছুটি করতে থাকে। নিকটে থাকা প্রত্যেকটি মানুষকে সে ডেকে ডেকে জিজ্ঞাসা করে। কিন্তু কেউ তার খবর দিতে পারে না তার কথা কেউ বলতে পারে না। সেই স্টেশন চত্বর সম্পূর্ণ তন্ন তন্ন করে খুঁজে ফেলে। কিন্তু কোনো লাভ হয় না। আদিত্যকে খুঁজে পাওয়া যায় না। তখন সে বাধ্য হয়েই ব্যান্ডেলে তার সেই মামার কাছে ফোন করে। আদিত্যকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমি তাকে একটা বেঞ্চে বসিয়ে রেখে আমি পান খেতে গেছিলাম পানের দোকানে। সেখান থেকে পান খেয়ে ফিরে আসার পরে দেখি আদিত্য সেখানে নেই। আমি স্টেশন চত্বর তন্ন তন্ন করে খুঁজে ফেলেছি কোথাও তাকে পাওয়া গেল না। এ কথা শুনেই তার মামা হন্তদন্ত হয়ে নৈহাটির উদ্দেশ্যে ট্রেন ধরে। কেননা সেদিন তে তিনি অফিসে যাননি বাড়িতেই ছিলেন। এই ঘটনা শোনার পর সঙ্গে সঙ্গে তিনি বেরিয়ে পড়লেন। নৈহাটি পৌঁছিয়ে তিনি সঙ্গে সঙ্গে সেখানে নিকটস্থ পোস্ট অফিসের কাছে গিয়ে ঠাকুরের উদ্দেশ্যে তিনি এক প্রণামী প্রেরণ করেন দেওঘর আশ্রমে। তারপর সেখানে তার ভাগ্নে ভৈরবকে সঙ্গে নিয়ে নৈহাটি স্টেশন গঙ্গার ঘাট পর্যন্ত তন্ন তন্ন করে খোঁজাখুঁজি করলেন। অবশেষে মাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। মাইকিং করলেন সম্পূর্ণ শহর জুড়ে। কিন্তু কোথাও খুঁজে পাওয়া গেল না। কিন্তু ভৈরবের ফেরার ছিল তাকে ফিরতে হবে তাই সে বসিরহাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। আর সারাদিন খোঁজার পর ক্লান্ত হয়ে রাতের বেলা শূন্য হাতে ব্যান্ডেলে ফিরে আসে সেই সৎসঙ্গী দাদা। বাড়িতে সকলেই মর্মাহত। সকলেই অশ্রু সজল নয়নে। অনাহারে তারা ঘুমিয়ে পড়ে রাতে প্রবাসে। তার পরদিন সকাল হতে না হতেই সে সৎসঙ্গী দাদা অফিস থেকে ছুটি নিয়ে সোজা ছুটলেন দেওঘরের উদ্দেশ্যে। দেওঘরে গিয়ে ঠাকুরকে বড়মাকে প্রণাম জানিয়ে আচার্য পদে তখন অধিষ্ঠিত শ্রীশ্রী বড়দা। তার কাছে গিয়ে নিবেদন করলেন সব কথা বিস্তারিতভাবে তাকে জানালেন। তিনি সব কথা শোনার পর বললেন চিন্তা করিস না নিশ্চয়ই খুঁজে পাওয়া যাবে। তুই দক্ষিণ দিকে একটু বেশি করে খোঁজাখুঁজি করবি। তুই কিছু পোস্টার ছাপিয়ে চারিদিকে সে গুলো লাগিয়ে দে এবং আকাশবাণীতে খবরের কাগজেও বিজ্ঞাপন দে। আচার্যদেবের কাছে এই পরামর্শ শুনে সেই সৎসঙ্গী দাদা ফিরে এলেন। এবং তার কৃতকর্মের প্রায়শ্চিত্ত করার জন্যে পাপের প্রায়শ্চিত্ত করার জন্যে তিনি উঠে পড়ে লাগলেন। পোস্টার ছাপিয়ে শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে তিনি তাকে লাগাতে লাগলেন এবং আচার্যদেব বিশেষভাবে যে দক্ষিণ দিকের কথা বলেছিলেন সেদিকেও তিনি প্রচুর পরিমাণে পোস্টার লাগালেন। আকাশবাণীতে বিজ্ঞাপন পর্যন্ত দিলেন খবরের কাগজেও বিজ্ঞাপন দিলেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না। এভাবেই দু তিন মাস অতিবাহিত হয়ে যাই। তাও তার খবর পাওয়া যায় না। আদিত্য ফিরে আসে না। আবার ছুটলেন দেওঘরে। আবার মনের দুঃখের কথা সেখানে জানিয়ে মন হালকা করে আবার বাড়িতে ফিরে আসেন। এমন ভাবে কয়েক মাস অন্তর অন্তর বারবার দেওঘর যাই। এভাবে দু বছর অতিবাহিত হয়ে যাই। সকলেই এক রকম ভেবেই নেয় হয়তো তারা আর আদিত্যকে কোনোদিন খুঁজে পাবে না কোনোদিন তার মুখ তারা দেখতে পাবে না। তাদের জীবন থেকে সে হয়তো চিরতরে হারিয়ে গেছে। ঠাকুরের কাছে তারা প্রার্থনা করতে থাকে। আকুল ভাবে তারা অশ্রু সিক্ত নয়নে প্রার্থনা করতে থাকে। অবশেষে দু বছর অতিবাহিত হওয়ার পর একবার শেষ চেষ্টা করার জন্যে সে সৎসঙ্গী দাদা আবার ছুটলেন দেওঘরে। দেওঘরে ঠাকুর বড়মাকে প্রণাম জানিয়ে আচার্যদেবের কাছে উপস্থিত হয়ে সব কথা জানালেন এবং কান্নায় ভেঙে পড়লেন। হাউ হাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বললেন দাদা তাহলে কি আমি আর আদিত্যকে কোনোদিন খুঁজে পাবো না। আমার ভাইপোর মুখ কি আর আমি আর কোনোদিন দেখতে পাবো না। তার বাবা-মার কাছে চিরকাল কি আমি অপরাধী হয়ে থেকে যাব। এই কলঙ্কিত জীবন নিয়ে কি আমাকে এভাবেই বাঁচতে হবে। এ কথা শোনার পর আচার্যদেব মুখ তুলে চাইলেন। তাকে পরম ভরসার বাণী দিয়ে বললেন ভয় ভেঙে পড়িস না। তোর ভাইপো নিশ্চয়ই ফিরে আসবে তাকে খুঁজে পাবি। তুই বাড়ি ফিরে যা। সে ফিরে আসবে। আচার্যদেব বড়দার কাছে এমন ভরসার বাণী শুনে সে দাদা আবার বাড়ি ফিরে এলেন। তার পরদিন অফিসে গেলেন। অফিস থেকে প্রায় রাত আটটার দিকে বাড়ি ফিরে এসে একটু চা জল খাওয়ার নিয়ে বসেছেন। এমন সময় বাইরে হই হট্টগোল চাচামেচি শুরু হয়ে যায়। তার প্রতিবেশী নূর মোহাম্মদ সে চিৎকার করে কাঁদতে থাকে। দাদা বাবু গো বাইরে বেরিয়ে এসো দেখো কি ঘটনা ঘটে গেছে। তার হড়ো করে সেই সঙ্গে দাদা বাইরে বেরিয়ে আসে। দেখে নূর মোহাম্মদ তার বুকে জাপটে ধরে তার ভাইপোকে আদিত্যকে নিয়ে এসেছে। আর নূর মোহাম্মদ এমন ভাবে কান কাঁদে যেন মনে হচ্ছে তার নিজের ছেলেকে আজকে দু বছর পরে খুঁজে পেল। দাদা গো দেখো আদিত্য ফিরে এসেছে তোমার ভাইপো ফিরে এসেছে দু বছর পর অক্ষত অবস্থায় তার কিচ্ছুটি হয়নি সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় নিজে পায়ে হেঁটে ফিরে এসেছে গো। এতো সবই তার দয়া তার লীলা না হলে তো এমন এমন কখনো হয় না। হারিয়ে যাওয়া ছেলে কি আর এভাবে ফিরে আসতে পারে। নূর মোহাম্মদের এমন চিৎকার চেঁচামেচি কান্নার শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা সকলেই ছুটে আসে। তারা এসে দেখলেন আদিত্য ফিরে এসেছে দু বছর পর। তারা নিজেই নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারে না নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারে না। এও কি সম্ভব এতো অসম্ভব। তখন সে সৎসঙ্গী দাদা আদিত্যকে বুকে জড়িয়ে ধরে তার কাছে সব জিজ্ঞাসা করলেন বাবা তুই কোথায় গেছিলি? কোথায় ছিলি কিভাবে বা ফিরে এলি? আদিত্য তখন বলে জেঠু আমাকে আমাকে ওই স্টেশন থেকে একজন বৃদ্ধ মানুষ ভুলিয়ে ভালিয়ে নিয়ে গেছিল। তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আমাকে ভয় দেখিয়ে সব কাজ করাতো। তারপর আমি যখন সব কাজ করতে পারতাম না। তখন সে আমাকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আবার নৈহাটিতে ছেড়ে দেওয়ার জন্য আনছিল টেনে করে। টেনে তার এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়ে যায়। সে আমাকে তার সঙ্গে নিয়ে চলে যায় তার বাড়িতে পলতাতে। সেখানে আমাকে দিয়ে সব কাজ করাতো। আমি দুবার পালিয়ে আসার জন্য চেষ্টা করেছি। কিন্তু ধরা পড়ে যায়। আমাকে খুব মারে জানো। আমার পরে খুব অত্যাচার করেছে। তারপর একদিন সুযোগ সময় বুঝে আমি পালিয়ে আসতে সফল হয়েছি। আমি নৈহাটিতে এসে বসেছিলাম সেই বেঞ্চের উপরে যেখান থেকে আমাকে নিয়ে গেছিল। তারপর সেখানে যখন সন্ধে হয়ে আসে এক বৃদ্ধ আমার কাছে এলো। এসে বলে বাবা তুমি কোথায় যাবে একা বসে কেন?

নিখোঁজ | শ্রী শ্রী ঠাকুরের অপার দয়ার কথা | শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র | MOTIVATIONAL VIDEO
Shree Goutam Satsang Channel
11m 16s1,178 words~6 min read
YouTube auto captions
Transcript source
YouTube auto captions
This transcript was extracted from YouTube's auto-generated caption track. The transcript below is server-rendered so it can be read, searched, cited, and shared without opening the original YouTube player.
Use this transcript
Related transcript hubs
Watch on YouTube
Share
MORE TRANSCRIPTS


