[0:00]এবং আসলে সেই কাঙ্ক্ষিত কদরের রাত্র যদি আজকের রাতেই হয়ে থাকে, তাহলে খাইরুম মিন আলফি শাহার। হাজার মাস
[0:07]এক হাজার মাস যদি আমরা এবাদত করি, তাহলে যে পরিমাণ সওয়াব পাবো, তার সমপরিমাণ সওয়াব আল্লাহতালা আমাদেরকে দিবেন আল্লাহ এটা বলছেন না। আল্লাহ বলছেন, খাইরুম মিন আলফি শাহার। তার চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এ সওয়াবের পরিমাণটা হবে তার চেয়েও বেশি বা তার চেয়েও শ্রেষ্ঠ। বুদ্ধিমান মুমিনের কাজ হচ্ছে 21, 23, 25, 27, 29। এই পাঁচটি রাতে সমান তালা এবাদত করা। আই রিপিট, আমি আবারও বলছি, এই পাঁচটি রাতে যেন আমরা সমান তালে এবাদত করি, যাতে করে যে রাতেই কদরকে আল্লাহ তা’আলা ফিক্স করুক না কেন, সে কদরের রহমত, বরকত এবং খাইরুম মিন আলফি শাহার, হাজার মাসের চেয়েও যে এই মাসের সেরা, এই মাসের কোন ব্লেসিং যেন আমরা মিস না করি।
[1:06]আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। নাহমাদুহু ও নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম আম্মাবাদ। আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। ইন্না আনজালনাহু ফি লাইলাতিল কদর। ওয়ামা আদরাকামা লাইলাতুল কদর। লাইলাতুল কদরি খাইরুম মিন আলফি শাহার। তানাজ্জালুল মালাইকাতু ওয়াররুহু ফিহা বিইজনি রাব্বিহিম মিন কুল্লি আমর। সালামুন হিয়া হাত্তা মাতলাইল ফজর। সাদাক্বাল্লাহুল আজীম। আজকে বাংলাদেশ থেকে কিংবা বাংলাদেশের বাইরে থেকে যে যেখান থেকে আমাদের এই ভার্চুয়াল তাফসির সেশনটিতে যুক্ত হয়েছেন, সবাইকে আন্তরিক মোবারকবাদ এবং অভিনন্দন আহলান ও সাহলান ও মারহাবান বিকুম ফি হাজাল লিকওয়াত তাইয়িব আল মোবারক। শুরুতেই আমরা আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত ওয়াল জালালের দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। আমরা পড়ে নিচ্ছি কালিমাতুশ শুকুর আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন। আপনারা যারাই যুক্ত হয়েছেন আশা করছি আপনারা সবাই ভালো আছেন, সুস্থ আছেন, নিরাপদে আছেন। এবং সবসময় দোয়া করছি আল্লাহতালা আপনাদের সবাইকে ভালো রাখুন, সুস্থ রাখুন এবং নিরাপদে রাখুন। আমি শুরুতেই রিকোয়েস্ট করব আজকের এই ভার্চুয়াল তাফসিরের লাইভ সেশনটি আপনারা আপনাদের ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করবেন, যাতে করে অন্যান্যরা যারা এখন অনলাইনে আছে তারাও আমাদের এই লাইভ সেশন থেকে উপকৃত হতে পারে। সম্মানিত সুধী, এর আগে আমরা সূরাতুজ জিলজাল থেকে তাফসির শুনেছিলাম। আজকে যেহেতু বাংলাদেশে কদরের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাত, আমরা জানি পাঁচটি কদরের রাত রয়েছে 21-এর রাত, 23-এর রাত, 25-এর রাত এবং 27-এর রাত এবং 29-এর রাত। তো তন্মধ্য থেকে আজকের 27-এর রাত খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কদরের রাত। সেই হিসেবে আমরা চিন্তা করেছি যে আমরা সূরাতুল কদরের সংক্ষিপ্ত তাফসির এজ এ রিমাইন্ডার। সম্মানিত সুধী, আমরা অনেকেই সূরাতুল কদর এটা মুখস্থ করেছি ছোট একটি সূরা। এবং এই সূরার ভেতরে আল্লাহ তা'আলা কদরের রাতের যে মাহাত্ম্য, কদরের রাতের যে সিগনিফিকেন্স, এটার যে গ্লোরি, এটার যে স্ট্যাটাস, এটা নিয়ে বেসিক্যালি আল্লাহতালা আলোচনা করেছেন। সো যেহেতু আমরা কদরের রাতের লাইলাতুল কদরের এবাদত করব, সালাত পড়বো, দোয়া করব। সো সে হিসেবে আমরা ভেবেছি সূরাতুল কদর নিয়ে যদি আমরা সংক্ষিপ্ত কিছু কথা এখানে শেয়ার করি, সেটা হয়তো আপনাদেরকে আরও বেশি ইনস্পায়ার করবে ইনশাআল্লাহ। তাহলে আমরা আর কাল বিলম্ব না করে সরাসরি সূরাতুল কদরের সংক্ষিপ্ত তাফসিরের দিকে চলে যাচ্ছি। সূরাতুল কদর এটি কালামুল্লাহ মাজিদের 97 নাম্বার সূরা আমরা জানি। সূরার যে ধারাবাহিকতা, ধারাক্রম, সেই হিসেবে যদি আমরা কাউন্ট করি তাহলে এটার নাম্বারিং হচ্ছে 97। এবং এই সূরাতে পাঁচটি মাত্র আয়াত রয়েছে মানে ছোট্ট সূরা। এবং আশা করছি যে আমাদের অনেকেরই এই সূরাটি মুখস্থ আছে আলহামদুলিল্লাহ। এটি কোরআনের 30 তম পারায় অবস্থিত একটি সূরা। সূরাটি মাক্কী সূরা। যদিও এই সূরাটি কোথায় নাযিল হয়েছে, এ নিয়ে মুফাসসিরিনে কেরামদের মধ্যে কিছু ডিসপিউটস আছে, মতবিরোধ আছে। তবে বেশিরভাগ মুফাসসিরিনে কেরামদের মতে এই সূরাটি মাক্কায় নাযিল হয়েছে। এই সূরাটির সেন্ট্রাল থিম বা কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয় হচ্ছে লাইলাতুল কদরের মাহাত্ম্য, এটার সিগনিফিকেন্স, এটার গুরুত্ব, এটার স্ট্যাটাস এটা নিয়ে আলোচনা করা। এই পাঁচটি আয়াতের মধ্যে দিয়ে আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে লাইলাতুল কদর কি সেটা জানিয়েছেন। এর রাতের গুরুত্ব কতটুকু এ ব্যাপারে তিনি আমাদেরকে ইনফর্ম করেছেন। তাহলে সংক্ষেপে আমরা এটাই বলতে পারি এই সূরার আলোচ্য বিষয় হচ্ছে কদরের রাত। কদরের রাতের গুরুত্ব এবং তাৎপর্য হচ্ছে সূরাতুল কদরের সেন্ট্রাল থিম বা কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয়। এ পর্যায়ে আমরা এই সূরাটির শানে নুযুলের ব্যাপারে জানবার চেষ্টা করব। আমরা জানি প্রতিটি সূরা নাযিলের একটা প্রেক্ষাপট আছে। এ সূরা নাযিলের প্রেক্ষাপট কি? এ সূরা নাযিলের প্রেক্ষাপটের ব্যাপারে আসবাবুন নুযুল অর্থাৎ যে সমস্ত কিতাবের মধ্যে কোরআনের সূরা নাযিলের সাবাব বা শানে নুযুলগুলো বর্ণিত হয় এগুলোকে আসবাবুন নুযুলের কিতাব বলে। ইমাম আল ওয়াহিদীর আসবাবুন নুযুলের ভেতরে তিনি এই সূরার প্রসঙ্গে একটি জইফ হাদিস উল্লেখ করেছেন। হাদিসটি মুরসাল। সেখানে তিনি এনেছেন যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি সাহাবাদের কাছে একবার বনি ইসরাইলের একজন বড় মুজাহিদের গল্প করছিলেন। যে সে 1000 বছর মানে 1000 মাস, 1000 মাস সে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করেছে। মুসলিমরা পেরেশান হয়ে গেল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বনী ইসরাইলের সেই মুজাহিদের গল্প শুনে সাহাবারা অবাক হয়ে গেল যে 1000 মাস আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করেছে তাহলে তো সে বিশাল সওয়াবের অধিকারী হয়েছে। কিন্তু ইয়া রাসূলাল্লাহ আমরা তো অল্প হায়াতের অধিকারী, আমাদের আয়ুষ্কাল তো একেবারে কম। আমরা অল্প বয়স পেয়ে থাকি তো আমরা কি এই সওয়াব পাবো না? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেরেশান হয়ে গেলেন তাইতো আমার উম্মতের কি হবে? বনী ইসরাইলের কেউ হায়াত পেয়েছে 1000 বছর, 1500 বছর, 2000 বছর। ফলে তারা এবাদতের সুযোগও পেয়েছে বেশি। আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করার সুযোগ পেয়েছে বেশি। আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার একটা লং পিরিয়ড অফ টাইম তারা পেয়েছে। কিন্তু আমার উম্মতের কি হবে? উম্মতের জন্য পেরেশান নবী, তিনি যখন পেরেশান হয়ে উঠলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই পেরেশানিকে দূর করবার জন্য বেসিক্যালি আল্লাহ তা’আলা সূরাতুল কদর নাযিল করেছেন। আল্লাহ নাযিল করলেন, আমরা কোরআনকে কদরের রাতে নাযিল করেছি। আপনি কি জানেন কদরের রাত কি? কদরের রাত হচ্ছে হাজার মাসের চেয়ে সেরা। মানে হে নবী, তাদেরকে আমি লম্বা হায়াত দিয়েছি কিন্তু তাদেরকে আমি কদরের রাত দেইনি। আপনার উম্মতের জন্য একটা স্পেশাল অফার এই কদরের রাতকে আমি দিয়েছি যে রাত হচ্ছে 1000 হাজার মাসের চেয়ে সেরা। তাই সম্মানিত দ্বীনি ভাই এবং বোনেরা বাংলাদেশে যারা অবস্থান করছেন, আপনাদের জন্য আজকের রাতটা একটা অড নাইট। এবং পাঁচটা যে কদরের রাত আছে তার মধ্য থেকে সবচাইতে সিগনিফিকেন্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ রাত হচ্ছে আজকের রাত। আজকে বাংলাদেশে 26 রোজা শেষ হয়েছে ফলে 26 তারিখ দিবাগত যে রাত এটা 27-এর রাত। আরবিতে রাত আগে আসে, দিন পরে আসে। তো আগামীকাল হচ্ছে 27 রোজা, আজকে হচ্ছে তার রাত। সো আজকের রাত কদর হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি। আসুন আমরা হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ যে রাত সে রাতের সর্বোচ্চ মাহাত্ম্য, রহমত এবং বরকত হাসিল করার জন্য আমরা আমাদের সর্বচ্ছ টুকু দিয়ে যেন আমরা এবাদত করে আল্লাহ তাআলার কাছে সন্তুষ্ট অর্জন করতে পারি এবং তার প্রিয় ভাজন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত যেন আমরা হতে পারি এই চেষ্টাটুকু যেন আমরা করি। সম্মানিত সুধী, তাহলে আমরা সূরার ব্যাপারে একটা জেনারেল ওভারভিউ পেয়ে গেলাম। সূরাতুল কদরের সেন্ট্রাল থিমও আমরা জানলাম। এরপর শানে নুযুলও জানলাম। এ পর্যায়ে আমরা সরাসরি সূরাতুল কদরের সংক্ষিপ্ত তাফসিরের দিকে চলে যাচ্ছি। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করছেন, ইন্না আনসালনাহু ফি লাইলাতিল কদর। নিশ্চয়ই আমি এই কোরআনকে কদরের রাতে নাযিল করেছি। এই আয়াতের মধ্যে যে হু শব্দটা এটাকে প্রোনাউন বলে। সর্বনাম, আরবিতে বলে দমির। এই দমির দিয়ে আল্লাহ তাআলা কোরআনকে বুঝিয়েছেন। আল্লাহ বললেন, যে নিশ্চয়ই আমি কোরআনকে কদরের রাতে নাযিল করেছি। লাইলাতুল কদর মানে কদরের রাত। কদর কদরের রাতের লাইলাতুল কদরের সুন্দর বাংলা হতে পারে যে এটা হচ্ছে ভাগ্যরজনী অথবা মহিমান্বিত রজনী দুটোই হতে পারে। আল কদর শব্দের অর্থ ভাগ্যও হয়। আমরা বিশ্বাস করি, আল কদর খাইরিহি ওয়াশার রিহী মিনাল্লাহি তা’আলা। ভাগ্যের ভালো মন্দ সবটাই হয় আল্লাহর পক্ষ থেকে। এই যে আমরা আল কদর বলি তকদীর বা কদর সেখান থেকেই লাইলাতুল কদর। মানে এই রাতটা হচ্ছে ভাগ্যরজনী ভাগ্য নির্ধারণ হয়। আগামী এক বছর আমাদের ভাগ্যে কি ঘটবে? এটা বাৎসরিক বাজেটের রাত বলা যায়। আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে আজকে বাজেট ঘোষণা করা হবে। তো সেই হিসেবে লাইলাতুল কদরের মানে এর বাংলা সুন্দর অর্থ হচ্ছে ভাগ্যরজনী। কিংবা বলা যেতে পারে লাইলাতুল কদরের অর্থ হচ্ছে মহিমান্বিত রজনী। কেননা কদর শব্দের আরেকটা অর্থ হচ্ছে যেটা খুবই, যেটার স্ট্যাটাস, যেটার সিগনিফিকেন্স খুব হাই। যেটা খুবই মর্যাদা সম্পন্ন সেটাকেও কিন্তু আরবিতে কদর বা তকদীর বলা হয়। তাহলে আল্লাহ বললেন, যে আমি ভাগ্যরজনীতে কিংবা মহিমান্বিত রজনীতে এই কোরআনকে নাযিল করেছি। এই সূরাতে এই রাতটাকে বলা হয়েছে ভাগ্যরজনী বা মহিমান্বিত রজনী। কিন্তু সূরা দুখানে আবার এই রাতটাকে বরকতময় রাত্রি বলে আল্লাহতালা এনাউন্স করেছেন বা ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলছেন, আমরা কোরআনকে এক বরকতময় রাতে নাযিল করেছি। এই সূরায়ে বললেন নিশ্চয়ই আমি কোরআনকে কদরের রাতে অর্থাৎ ভাগ্যরজনীতে কিংবা মহিমান্বিত রাতে নাযিল করেছি। সূরা দুখানে আল্লাহ তা’আলা বললেন নিশ্চয়ই আমি কোরআনকে বরকতময় রাতে নাযিল করেছি। আর আমি সব সময় মানুষকে সতর্ক করে আসছি, এই বরকতময় রাতটা এত চমৎকার রাত, এত গুরুত্বপূর্ণ এবং অর্থবহ রাত, ফিহা ইউফরাকু কুল্লু আমরিন হাকিম। এই রাতে প্রত্যেকটি কাজের বিজ্ঞচিত ফায়সালা দেওয়া হয়। আগামী এক বছর আমাদের কার ভাগ্যে কি ঘটবে, আমরা কি পেতে যাচ্ছি, কি হারাতে যাচ্ছি, কি ঘটতে যাচ্ছে আমাদের আপকামিং এই টাইমে, আল্লাহ তা’আলা সবকিছুর ফায়সালা কিন্তু এই বরকতময় রাতে এই কদরের রাতে তিনি করে থাকেন।
[12:20]তাহলে কদরের রাতে লাইলাতুল কদরের কোরআন নাযিল হওয়ার যে সংক্ষিপ্ত তাফসির সেটা আমরা বুঝতে পারলাম। এরপরে এই রাতের গুরুত্বকে আরও বেশি বুস্ট আপ করার জন্য আল্লাহ তা’আলা বললেন, ওয়ামা আদরাকামা লাইলাতুল কদর। হে নবী, আপনি কি জানেন কদরের রাত কি? এটা হচ্ছে কোরানিক একটা স্টাইল। বর্ণনার একটা স্টাইল। আল ক্বারিয়াতু মাল ক্বারিয়া, ওয়ামা আদরাকা মাল ক্বারিয়া। একবার বললেন, আল ক্বারিয়া। এরপর বললেন, মাল ক্বারিয়া। এরপর আবার বললেন, ওয়ামা আদরাকা মাল ক্বারিয়া। নবী আপনাকে কে জানাবে ক্বারিয়া কি? অর্থাৎ আপনি কি জানেন আল ক্বারিয়া কি? সেম গোস টু হেয়ার। ঠিক একইভাবে সূরা কদরের ক্ষেত্রেও আল্লাহ প্রথমে যখন বললেন কদরের রাতে আমি কোরআন নাযিল করেছি। এরপর আল্লাহ বললেন, ওয়ামা আদরাকা মাল লাইলাতুল কদর। নবী হে কদরের রাত কি আপনি কি জানেন? হে নবী আপনি কি জানেন কদরের রাত কি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যে আরও আগ্রহ তৈরি করছেন। বা আমরা যারা শ্রোতা তখন মক্কার আশেপাশে যারা ছিল সাহাবারা কাফের মুশরিকরা তাদের কাছে একটা আকর্ষণের জায়গা কেন্দ্রবিন্দু তৈরি করা হচ্ছে কদরের রাতটাকে। জিজ্ঞেস করা হচ্ছে আপনারা কি জানেন কদরের রাত কি? এরপর আল্লাহতালা নিজেই কদরের রাতের তাৎপর্যের ব্যাপারে বলছেন তৃতীয় আয়াতে। আল্লাহ তা’আলা বলছেন, লাইলাতুল কদরি খাইরুম মিন আলফি শাহার। কদরের রাত হচ্ছে এমন রাত যেটা হাজার মাসের চেয়ে সেরা। খাইরুন শব্দটা আরবিতে অধিক শ্রেষ্ঠ সুপারাটিভ ডিগ্রি হিসেবে আসে। অর্থাৎ কদরের রাত 1000 মাস ব্যাপারটা এমন না। বরং একটা কদরের রাত 1000 মাসের চেয়েও অনেক বেশি মর্যাদা এবং গুরুত্বপূর্ণ। 1000 মাস বা 1000 মাসে আমরা যদি হিসেব করি তাহলে আসে প্রায় 83 বছর চার মাস। 83 বছর চার মাস কেউ যদি লাগাতার এবাদত করে, লাগাতার আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে, আল্লাহর কাছে দোয়া করে, সেজদায় পড়ে থাকে। এগুলো যদি আল্লাহর কাছে কবুল হয় এতে যে সওয়াব হবে আল্লাহ ঠিক ততটুকু দিবেন ইট ডাজেন্ট মিন দ্যাট, ব্যাপারটা এমন না। আল্লাহ বলছেন, খাইরুম মিন আলফি শাহার। এর চেয়েও অনেক শ্রেষ্ঠ, এর চেয়েও অনেক বেশি সওয়াব রিওয়ার্ড আমি আল্লাহ তাআলা এই কদরের রাতের মধ্যে রেখে দিয়েছি সম্মানিত ভাই এবং বোনেরা। তাহলে এই আয়াত থেকে আমরা বুঝতে পারি যে কদরের রাত এটা কত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ সারা বছরের চান্দ্র মাসের হিসেবে 354 রাতে একটি বছর এই 354 রাতের মধ্যে কদরের রাতের চাইতে শ্রেষ্ঠ কোন রাত আর হতে পারে না। যে রাতটি আজকে আমরা বাংলাদেশে কাটাচ্ছি। সো আজকের রাত রাতের গুরুত্ব এবং তাৎপর্য সম্পর্কে আপনারা সহজেই বুঝতে পারছেন যেটা কত গুরুত্বপূর্ণ রাত। যদি হয়ে যায় আজকেই সেই মহিমান্বিত সে কাঙ্ক্ষিত কদরের রাত তাহলে আমরা কতই না ভাগ্যবান যে এই রাতে যদি আমরা এবাদত করে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ যে রিওয়ার্ড বা সুযোগের কথা আল্লাহ বলেছেন সেটা যদি আমরা হাসিল করতে পারি। কোন কোন মুফাসসিরিনে কেরাম বলেন এখানে একেবারে লিটারেলি 1000 মাসের যে হিসাব কষা 83 বছর চার মাস ব্যাপারটা এমন নয়। কারণ আল্লাহর কাছে সওয়াবের প্রতিদানের আল্লাহর খাজারার তার ভান্ডারের কোন কমতি নেই। এটা দিয়ে আল্লাহ অসংখ্য, অঢেল, বিশাল নেয়ামত এবং বারাকা, মার্সি এন্ড ব্লেসিংসের কথা আল্লাহ বুঝিয়েছেন। মানে এটার, এই রাতের মাহাত্ম্য, সওয়াবের পরিমাণ যে কত বেশি এটা যে কত হাই সেটা কল্পনাও করা যাবে না। সেটা হিসাব কষে বের করা যাবে না। কিন্তু আল্লাহ রূপকভাবে হাজার মাসের কথা তিনি এখানে বলেছেন। বেসিক্যালি আমাদের আয়ুষ্কাল যে কম আমরা অল্প সময়ে বেঁচে থাকবো উম্মতে মোহাম্মদী। আমাদের প্রতি আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে অল্প আয়ুষ্কালে আমরা যেন অধিক পরিমাণে সওয়াব অর্জন করতে পারি এটার জন্য একটা সহজ পন্থা আমাদেরকে আল্লাহ তা’আলা বাতলু দিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ ও শুকরুন লিল্লাহ। সম্মানিত সুধী তাহলে আমরা বুঝলাম যে কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।
[17:35]এ পর্যায়ে আমরা জানবো যে এই কদরের রাতটি আসলে কোনটি। যেহেতু এই রাত এত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মনে স্বভাবত প্রশ্ন আসতে পারে যে কোন রাত্রি আসলে কদরের রাত। এ ব্যাপারে স্কলারদের মধ্যে অনেক মতভেদ রয়েছে যেহেতু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারটি ফিক্স করে যাননি। তবে খুব সিম্পলি সহজভাবে যদি আমাকে বলতে হয় তাহলে এভাবে বলবো যে রমজানের শেষ দশকের যে অড নাইটগুলো আছে বেজোর রাত্রিগুলো এই বেজোর রাত্রিগুলোর যেকোনো একটি রাত্রি কদর হয়ে যেতে পারে। যেটা আমরা আমাদের আলোচনার শুরুতে বলেছি যে 21-এর রাত, 23-এর রাত, 25-এর রাত, 27-এর রাত আর 29-এর রাত। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বেজোর রাতগুলোতে কদর তালাশ করতে বলেছেন। সো এই পাঁচটি রাতের যেকোনো একটি রাতেই কিন্তু কদর হয়ে যেতে পারে। এবার আমরা কদরের রাত কোন রাতটি আসলে কদরের রাত এ ব্যাপারে কিছু আমরা হাদিস থেকে দিক নির্দেশনা আপনার সাথে শেয়ার করব। সহীহ বুখারীতে একটি হাদিসে এসছে যে আসলে কদরের রাত এটি কোন রাত, কোন রাত্রি কদরের রাত হিসেবে চিহ্নিত এটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানানো হয়েছিল। তো তিনি এই রাত্রি জেনে খুব আনন্দিত হয়ে সাহাবাদের কাছে জানানোর জন্য আসছিলেন। তে তিনি যখন বের হলেন তখন দেখলেন দুজন মুসলিম ঝগড়া করছিল। ঝগড়ার দিকে যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মনোযোগ দিলেন তখন আল্লাহ তা'আলা তাঁর হৃদয় থেকে সে রাত উঠিয়ে নিলেন। সুতরাং, সাহাবীদের ঝগড়ার কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হৃদয় থেকে কদরের রাত উঠিয়ে নেওয়া হল। হাদিসে এসেছে যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষ দশকে প্রতি বছর এতেকাফ করতেন। যেই বছর তিনি ইন্তেকাল করবেন, ঐ বছর তিনি 20 দিন এতেকাফ করেছিলেন। সুতরাং, এই এতেকাফ থেকে আমরা বুঝতে পারি যে যারা এতেকাফ করে তাদের কদরের রাত ছুটে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। কারণ 10 দিনের জন্য তিনি পরিবার ছেড়ে, চাকরি বাকরি ব্যস্ততা সবকিছুকে ছুটি দিয়ে তিনি মসজিদের আল্লাহর এবাদতের জন্য এসেছেন।
[20:21]যাই হোক, এই কদরের রাতটি কবে, আমরা জানলাম যে রমজানের শেষ দশকের 5টি বেজোর রাতে যেকোনো রাতে কদর হতে পারে। এ পর্যায়ে আমরা একটু জানার চেষ্টা করব অলরেডি আমরা পাঁচটি আয়াতের তিনটি আয়াতের তাফসীর শুনে ফেলেছি। আমরা শেষের যে দুটি আয়াত আমরা কিছুক্ষণ পরে সেখানে ইন করব। তার মাঝখানে আমরা এতটুকু বলে রাখি যে কদরের রাত কোন রাতগুলো কদরের রাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয় সেটা আমরা জানলাম। এবার আমরা জানার চেষ্টা করব যে কদরের রাতগুলোতে আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কি আমল করতেন? কিভাবে তিনি কদরের রাতে এবাদত করতেন?
[21:19]আমরা হাদিসের আলোকে জানতে পারি প্রথম যে কাজটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করতেন তিনি সারারাত জেগে এবাদত করতেন। পরিবারের লোকদেরকে এবাদতের জন্য তাগিদ দিতেন। রমজানের শেষ দশকের কদরের রাত ছাড়া শেষ দশকের এই লাস্ট 10 ডেজ অফ রমাদান ছাড়া আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বছরে সারারাত জেগে এবাদত করেছেন এরকম কোন নজির পাওয়া যায় না। তিনি প্রতিদিন তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করতেন। কিন্তু এশার সালাতের পরে তিনি ঘুমিয়ে যেতেন। ঘুম থেকে মাঝরাতে উঠে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করতেন। ফজরের আগে আবার সামান্য একটু পাওয়ার নিয়ে নিতেন। এরপর আবার ফজরের সালাতের জন্য উঠতেন। এটা ছিল আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সারা বছরের রুটিন। কিন্তু এর এক্সেপশন ছিল ব্যতিক্রম ছিল শুধু রমজানের শেষ 10 দিন। এই শেষ 10 দিন আসলে তিনি আর কাউকে চিনতেন না। তিনি পাগল পাড়া হয়ে যেতেন এবাদত করার জন্য। হাদিসে এসেছে, যখন শেষ দশক আসতো তিনি সারারাত জেগে এবাদত করতেন, পরিবারকে জাগিয়ে দিতেন, খুবই চেষ্টা করতেন ও কোমর বেঁধে নেমে পড়তেন। রমজানের শেষ দশক যখন আসতো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারারাত জেগে এবাদত করতেন। ঘুমাতেন না শেষ, শেষ 10 দিনে বা 10 রাতের তিনি ঘুমাতেন না। এবং তিনি ফ্যামিলি মেম্বারদেরকে ডেকে তুলতেন। স্ত্রীদেরকে জাগাতেন, যে ওঠো এবাদত করো। এবং তিনি খুবই কোষেশ করতেন এবং কোমর বেঁধে নামতেন। এটা একটা মেটাফোরিক ইউজ। আমরা যখন খুব শক্ত ভারী কোন কাজ করতে যাই তখন দেখবেন যে কোমরে কিছু একটা পাগড়ি পেঁচিয়ে নিলে, গামছা পেঁচিয়ে নিলে আমরা জোর পাই। হাতে খুব বল পাই। তো এটা উপমা হিসেবে রূপক অর্থে এখানে বলা হয়েছে যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতটাই এবাদতে মনোনিবেশ করতেন। কেমন যেন তিনি কোমরে গামছা বেঁধে এবাদতে লেগে পড়েছেন।
[23:40]এবং আমরাও আরব বিশ্বে যখন ছিলাম আমরা দেখেছি যে শেষ 10 দিন মানুষ এমনভাবে এবাদত করে এমনভাবে মসজিদমুখী এতেকাফ সালাত ইত্যাদি ইত্যাদি করে। যেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই 10 দিনের এবাদতের জন্য নমুনা। তিনি সারারাত জেগে থাকতেন, ফ্যামিলি মেম্বারদেরকে এবাদতের জন্য তাগিদ করতেন। এবং তিনি কোমরে গামছা বেঁধে এবাদতে নামতেন।
[24:16]তাহলে কদরের রাতে তিনি কি করতেন? প্রথম আমরা জানতে পারলাম তিনি সারারাত জেগে এবাদত করতেন। দুই নাম্বার হচ্ছে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করতেন। প্রতিবছর তিনি রমজানের শেষের 10টি দিন এতেকাফ করতেন। কিন্তু যেই বছর তিনি ইন্তেকাল করবেন ওই দিন তিনি 20 দিন এতেকাফ করেছিলেন। এটা এক্সেপশন। তার মানে তিনি যতদিন বেঁচে ছিলেন রমজানের শেষ 10 দিন এতেকাফ করতেন। যেই বছর তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় নিবেন ঐ বছর তিনি 10 দিনের জায়গায় ডাবল 20 দিন এতেকাফ করেছিলেন। তাহলে এই এতেকাফ থেকে আমরা বুঝতে পারি যে এই শেষের 10 দিনের এই পিরিয়ড অফ টাইমটা এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশেষ করে এর মধ্যে যে কদরের রাত আছে সেটা। এতেকাফের সিগনিফিকেন্স হচ্ছে যে যারা এতেকাফ করে তাদের কদরের রাত ছুটে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। কারণ 10 দিনের জন্য তিনি পরিবার ছেড়ে চাকরি-বাকরি ব্যস্ততা সবকিছুকে ছুটি দিয়ে তিনি মসজিদে আল্লাহর এবাদতের জন্য এসেছেন। সো তিনি প্রতিদিনই রাত জাগছেন, প্রতিদিনই এবাদত করছেন, প্রতিরাতেই তিনি এবাদত করার সুযোগ পাচ্ছেন, মিসিং হচ্ছে না কিছু। ফলে এতেকাফ যারা করবে তারা কদরের বরকত পাবেই পাবে ইনশাল্লাহ। সো আমাদের যদি কারো সুযোগ থাকে আমরা যেন এতেকাফে অভ্যস্ত হই। আমাদের বাংলাদেশে বয়স্ক লোকজনদেরকে অনেক সময় খুঁজে পাওয়া যায় না তো টাকা দিয়ে মহল্লাতে এতেকাফে বসানো হয়। এটা ব্যাপারটা খুবই দুঃখজনক। এতেকাফ মুরুব্বিদের ইভেন্ট না এটা হচ্ছে ইয়ংদের ইভেন্ট আমি প্রায়ই বলি। আমরা মালয়েশিয়াতে দেখেছি মানে ছোট বড় নির্বিশেষে সবাই এতেকাফে চলে আসে। পুরো ফ্যামিলি এতেকাফে চলে আসে। ছোট ছোট বাচ্চারাও চলে আসে। ইয়ংরা এতেকাফ করে। সারারাত মসজিদে চমৎকার এবাদতের পরিবেশ। এখন হয়তো কোভিড সিচুয়েশনের কারণে এটার সুযোগ হচ্ছে না। সো যদি মসজিদে এতেকাফের সুযোগ হয় আমরা যেন সেটা করি। আর পারা না গেলে ঘরের ভেতরেও আধুনিক স্কলাররা বলেছেন যে ঘরের ভেতরেও একটা নির্দিষ্ট জায়গাকে এবাদতের জন্য নির্ধারিত করে 10 দিন কেউ যদি এবাদতে নিমগ্ন থাকে এটাকে আল্লাহ তাআলা এতেকাফের সওয়াব দিবেন বলে আমরা আশা করতে পারি। এবং কোরআনের বিভিন্ন জায়গায় ওয়ানতুম আকেফুন ফিল মাসাজিদ ওয়াল আকিফিন এভাবে এতেকাফের ব্যাপারে কিন্তু কালামুল্লাহ মাজিদও উল্লেখ করা হয়েছে। তাহলে প্রথমে জানলাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লাস্ট টেন ডেজে ঘুমাতেন না, কদরের রাতগুলো জেগে থাকতেন। দুই নাম্বারে জানলাম তিনি এতেকাফ করতেন।
[27:37]তিন নাম্বার হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাঈদেনা জিব্রাইল আলাইহিস সাল্লাম এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুইজন যৌথভাবে কোরআন রিভিশন করতেন। এটা শুধু কদরের রাতে না পুরো রমজানব্যাপী। রমজানের প্রতি রাতে এসে সাঈদেনা জিব্রাইল আলাইহিস সাল্লাম পুরো কোরআনটাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পেশ করতেন, রাসূল আবার উনার কাছে পেশ করতেন। মানে যৌথ রিভিশন চলতো। সারাবছর কি নাযিল হয়েছে বিগত বছরগুলোতে যা নাযিল হয়েছে সবটা সাইয়েদেনা জিবরাইল আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তেলাওয়াত করে শোনাতেন। আবার আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাইয়েদেনা জিবরাইল আলাইহিস সাল্লামকে দুইবার শুনিয়েছেন এইভাবে কোরআনের রিভিশন চলতো।
[28:29]তাই আমরা বুঝতে পারি যে আমরা এই কদরের রাতগুলোকে কোরআন রিভাইসের রাত বানাতে পারি। আমাদের যে সূরাগুলো মুখস্থ আছে আমরা যেন রিভাইস দিয়ে এগুলোকে ঝালাই করে নেই। যেগুলো মুখস্থ নাই এগুলো যেন বেশি বেশি করে রিভাইস দেই। যেহেতু শাহরু রমাজানাল্লাজি উনযিলা ফিহিল কোরআন, রমজান হচ্ছে এমন মাস যে মাসে কোরআন নাযিল হয়েছে। সো আমরা কোরআনকে যেন বেশি বেশি তেলাওয়াত করি, বেশি বেশি রিভাইস করি।



