[0:00]কখনো কি ভেবে দেখেছেন একটা ছোট কাজ করতে আপনার কেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় চলে যায়? আবার সেই কাজটাই যখন ডেডলাইনে রেখে করা হয়, তখন কিভাবে সব কাজ তাড়াতাড়ি হয়ে যায়? এটাই হলো পার্কিনসন্স ল, যেটা বলে, কোন কাজের জন্য যত সময় দাও, কাজটা ঠিক তত সময়ই নিয়ে নেয়। অর্থাৎ সময় যত বেশি দাও তত বেশি দেরি করো।
[0:29]একবারের কথা। শহর থেকে দূরের এক গ্রামে সবুজ নামে এক ছেলে থাকতো। বাবা-মা, ছোট এক ভাই আর দাদুকে নিয়েই তাদের পরিবার। তার দাদু খুবই বিজ্ঞ। গ্রামের অনেক লোক তার কাছে আসতো। কিন্তু তার নাতি সবুজের একটা বড় সমস্যা ছিল। সে ছিল ভীষণ অলস। আজকের কাজ সে কাল করতো, আর কালকের কাজ পরশুতে ফেলে রাখতো। এভাবে দিনের পর দিন তার সব কাজই আটকে থাকতো, আর পরে গিয়ে সে আফসোস করত। পড়া শোনাতেও তার সেই একই অবস্থা। তার বন্ধুরা অনেক এগিয়ে গেলেও সে পিছিয়ে থাকতো। বাবার কড়া কথায় তার কোন পরিবর্তন হতো না, তাই না পেরে তিনি সবুজের দাদুকে কিছু করতে বললেন। দাদু তখন চিন্তায় পড়ে গেলেন, কিভাবে ছেলেটাকে এই অভ্যাস থেকে বের করা যায়? একদিন জ্ঞানী দাদু একটা বুদ্ধি বের করলেন। তিনি সবুজকে ডাকলেন এবং তার হাতে একটা কালো পাথর দিয়ে বললেন, সবুজ এই পাথরটা রাখো। এটা সাধারণ কোন পাথর না, এটা হল এক বিশেষ পাথর। এর বিশেষত্ব হলো, যদি তুমি এটা দিয়ে কোন লোহার সঙ্গে ঘষো, তাহলে সেই লোহা সোনায় পরিণত হবে। এই পাথরটা আমি তোমাকে দিচ্ছি, তুমি চাইলে যত খুশি লোহা সোনায় রূপান্তর করে ধনী হতে পারো। আমি একদিনের জন্য বাইরে যাচ্ছি। কাল সন্ধ্যায় ফিরে আসবো, তখন এই পাথরটা আমি ফেরত নিয়ে নেবো। এই কথা বলে দাদু চলে যাওয়ার আগে বললেন, মনে রেখো, তোমার হাতে সময় আছে শুধুই আগামীকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত। সবুজ তো আনন্দে নাচতে লাগলো। সে ভাবলো, ওয়াও আমার কাছে এখন সোনার পাথর। আমি তো এখন অনেক সোনা বানাতে পারবো, হাতে সময়ও আছে ধনী হয়ে যাবো। তারপর সে ভাবলো এত লোহা পাবো কোথায়? সে ভাবল কাল সকালে বাজারে গিয়ে ভাঙ্গারি লোহা কিনে আনবো, তারপর সোনা বানাবো। এ সময় সন্ধ্যা হয়ে এসেছিল। সবুজ ভাবল চলো এখন খেয়ে ঘুমাই, কাল সব শুরু করবো। সে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। স্বপ্নে নিজেকে ধনী মানুষ হিসেবে দেখতে লাগলো। পরদিন সকালে উঠে সে ভাবল, সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় তো আছে। আগে নাস্তা করি তারপর বাজারে যাবো। নাস্তা শেষ করে সে কিছুটা ঘুম ঘুম ভাব পেলো। ভাবল আরও একটু বিশ্রাম নিই তারপর বের হবো। এই ভেবে সে শুয়ে পড়ল। বিশ্রামের মাঝে আবার ঘুমিয়ে গেল। যখন তার ঘুম ভাঙলো তখন সূর্য প্রায় ডুবে যাচ্ছে। সবুজ তাড়াতাড়ি উঠে বাজারে যাওয়ার জন্য বের হলো। কিন্তু দরজায় এসে দেখে তার দাদু ফিরে এসেছেন। দাদু তার কাছ থেকে সেই কালো পাথরটা নিয়ে বললেন, তোমার সময় শেষ হয়ে গেছে। সবুজ কাঁদতে কাঁদতে অনুরোধ করতে লাগল, দাদু একটু সময় দাও আমি একটুখানি সোনা বানাতে চাই। কিন্তু দাদু মাথা নাড়িয়ে বললেন, অলস মানুষের পক্ষে জীবনে কিছু করা সম্ভব না। তোমার হাতে ছিল ২৪ ঘণ্টা। চাইলে তুমি ইচ্ছে মতো সোনা বানাতে পারতে। কিন্তু তুমি শুধু সময় নষ্ট করলে, অলসতা করলে। এখন আমি তোমাকে আর এক মুহূর্তের জন্য পাথরটা দিতে পারি না। এটাই তোমার শাস্তি। যে মানুষ সময়ের মূল্য দেয় না তার জীবনেও কিছুই হয় না। সবুজ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিল। সে বুঝতে পারছিল এক সোনালী সুযোগ সে হারিয়েছে শুধু তার অলসতার কারণে। তবে সে এখন শিক্ষা পেয়েছে। সে দাদুর সামনে প্রতিজ্ঞা করল, আর কখনো অলস হবো না সময়ের সঠিক ব্যবহার করব। গল্পে সবুজের কাছে বাজারে যাওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ছিল। তাই ৩০ মিনিটের কাজটা ২৪ ঘন্টাতেও শেষ হয়নি। আর পরে করবো করবো করে তার সময় শেষ হয়ে যায়। আমাদের জীবনের কথাও তো এমনই। আমরা মাঝে মাঝে কাজ ফেলে রাখি। আগে একটু ঘুমাই কাল করব, কিন্তু সেই কাল তো কখনো আসে না। তাই যদি কিছু করতে চাও তাহলে এখনি করো। সময় কারোর জন্য অপেক্ষা করে না। যদি তুমি সময়কে মূল্য না দাও তাহলে সময়ও তোমার কোন মূল্য দেবে না। তাই সব কাজকে একটা ডেডলাইনে ফালাও। দেখবে কাজটা জলদি শেষ হবে। অথবা নিজেকে বলতে পারো আমি এই কাজটা শুধু ২ মিনিটের জন্য করবো। দেখবে এই শুরুটাই তোমার কাজটা আগিয়ে নিয়ে যাবে।



