Thumbnail for প্রবন্ধ: ‘যৌবনে দাও রাজটিকা’ – প্রমথ চৌধুরী | মূল বক্তব্য ও বিশ্লেষণ by  Social Education TV

প্রবন্ধ: ‘যৌবনে দাও রাজটিকা’ – প্রমথ চৌধুরী | মূল বক্তব্য ও বিশ্লেষণ

Social Education TV

9m 59s976 words~5 min read
Auto-Generated

[0:00]আসসালামু আলাইকুম আশা করি আপনারা সকলেই ভালো আছেন। ইসলামী আরবি ইউনিভার্সিটির অধীনে বি এ ডিগ্রি 2024 ফাজিল প্রথম বর্ষের সকল শিক্ষার্থী এবং দর্শকবৃন্দকে আজকের বাংলা আবশ্যিক ক্লাসে স্বাগতম। উপস্থাপনায় আপনাদের সঙ্গে আছি আমি ফরহাদ শিক্ষার্থী ইসলামী আরবি ইউনিভার্সিটি। সুপ্রিয় দর্শকবৃন্দ আজ আমরা আলোচনা করব বাংলা সাহিত্যের এক অনবদ্য প্রবন্ধ প্রমথ চৌধুরী রচিত যৌবনে দাও রাজটীকা। এই প্রবন্ধে লেখক মুক্ত হৃদয় বন্ধনা করেছেন যৌবনের। তার মতে যৌবনী জীবনের রাজমুকুট আর সেই মুকুট পড়ার যোগ্যতা তৈরি হয় কর্মে ও সাহস আর সৃষ্টিতে। প্রমথ চৌধুরী বলেন দেহের যৌবন ক্ষণস্থায়ী কিন্তু মনের যৌবন কখনো ক্ষণস্থায়ী না সেটি দীর্ঘস্থায়ী। অমর থাকে যে মানুষ বয়স বেড়াজালে আটকে পড়ে না যে নতুন চিন্তা নতুন কাজে নতুন সৃষ্টিতে জেগে থাকে সে মানুষ চিরতরুণ হয়ে থাকে। যৌবন কেবল ভোগের উপকরণ নয় এটি জীবনের অমিত শক্তির উৎস এই শক্তি দিয়ে মানুষ গড়ে তোলে সমাজ সভ্যতা ইতিহাস কিন্তু যারা এই যৌবনকে অপচয় করে অলসতা ও ভোগী তারা জীবনের ভাটার স্রোতে হারিয়ে যায়। তাহলে চলুন আর দেরি না করে সরাসরি আমরা মূল আলোচনায় প্রবেশ করি প্রথমে আমরা জেনে নেব বাংলা সাহিত্যের এই দিকপাল লেখকের জীবন ও সাহিত্য কর্ম সম্পর্কে। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম প্রমথ চৌধুরী তিনি শুধু একজন লেখক নন তিনি ছিলেন এক ভাষার বিপ্লবী যিনি বাংলা গদ্যে এনেছিলেন নতুন প্রাণ। 1868 সালে 7ই আগস্ট যশোর জেলার মাগুরা মহাকুমার মাধবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী ও চিন্তাশীল প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বিএ পাস করে তিনি পাড়ি জমান ইংল্যান্ডে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনশাস্ত্রের ডিগ্রি অর্জন করেন।

[2:09]দেশে ফিরে তিনি আইন পেশায় যুক্ত হলেও তার হৃদয় ছিল সাহিত্যভূগিতে তিনি বুঝেছিলেন বাংলা ভাষা তখনও বন্ধন মুক্ত হয়নি সেই শিকল ভাঙতে তিনি লিখতে শুরু করলেন চলিত ভাষায় যা ছিল এক দুঃসাহসী পদক্ষেপ তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় সবুজপত্র পত্রিকাটি বাংলা সাহিত্যে এক নতুন যুগের সূচনা করে এই পত্রিকার মাধ্যমে বাংলা গদ্যে প্রবেশ করে আধুনিকতা সহজতা আর প্রাণের উচ্ছ্বাস তিনি বীরবল ছদ্দ নামে প্রবন্ধ লিখতেন যেখানে মিশে থাকত তীক্ন ব্যঙ্গ রসিকতা আর সমাজচেতনা তার লেখাগুলো আজও পাঠকের মুখে হাসি এনে দেয় ভাবায় আর অনুপ্রেরণা জোগায়। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে অন্যতম চরিত্রচক্র বীরবলের হালখাতা সোনার চাবি এবং আত্মপরিচয়। বাংলা গদ্যকে যিনি বইয়ের পৃষ্ঠা থেকে মানুষের মুখে পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি ছিলেন প্রমথ চৌধুরী তিনি দেখিয়েছেন সাহিত্য মানে শুধু লিখিত শব্দ নয় এটি জীবনের স্পন্দন। 1846 সালে 2 ডিসেম্বর তিনি পরপারে পাড়ি জমান অর্থাৎ মৃত্যুবরণ করেন কিন্তু তার সৃষ্টি ভাবনা আজও বেঁচে আছে বাংলা সাহিত্যের প্রতিটি পৃষ্ঠায়। এমন মানুষরা একবার জন্ম আর তাদের অবদান চিরকাল অমর হয়ে থাকে এই ছিলেন আধুনিক বাংলা গদ্যের প্রতিকৃত প্রমথ চৌধুরী।

[3:54]এবার আমরা চলে যাব এই প্রবন্ধের মূল বক্তব্যে যদিও এখানে প্রবন্ধের হুবহু লাইনগুলো তুলে ধরা হয়নি কিন্তু এই প্রবন্ধের যে মূল বক্তব্যগুলো অর্থাৎ প্রমথ চৌধুরী যৌবনে দাও রাজটীকা এই প্রবন্ধে যা বোঝাতে চেয়েছেন সেই মূল বক্তব্যগুলো আপনাদের সামনে এখন উপস্থাপন করব। তাহলে প্রবন্ধের মূল বক্তব্য কি ছিল? যৌবনে দাও রাজটীকা প্রবন্ধের প্রমথ চৌধুরী মুক্তকণ্ঠে যৌবনের গৌরবগাথা গেয়েছেন। তিনি যৌবনকে মানুষের জীবনের সর্বোৎকৃষ্ট ও সর্বশ্রেষ্ঠ সময় বলে আখ্যায়িত করেছেন। প্রাবন্ধিকের মতে যৌবনকালটি জীবনের পূর্ণতা ও পরিপূর্ণ অভিব্যক্তির সময় কৈশর পেরিয়ে যে মানুষ জীবনের প্রভাত বেলায় প্রাণশক্তি ও সৃষ্টিশীলতার উচ্ছ্বাস নিয়ে এগিয়ে চলে তাকে আমরা যুবক বলি আবার বয়স বাড়লে সে মানুষ হয়ে ওঠে বৃদ্ধ। প্রমথ চৌধুরী এই শারীরিক পরিবর্তনের সীমাবদ্ধ যৌবনকে দৈহিক যৌবন বলে চিহ্নিত করেছেন এবং বলেছেন এটি ক্ষণস্থায়ী কিন্তু মনের যৌবন বা মানসিক যৌবন দীর্ঘস্থায়ী ও প্রকৃত তার মতে শরীরের যৌবন ফুরিয়ে গেলেও মনের যৌবন অমর অক্ষয় এই মানসিক যৌবনের তিনি জয়গান গেয়েছেন পুরো প্রবন্ধ জুড়ে। এই ঐতিহাসিক লেখক বলেন জীবনের সজীবতা সচলতা ও সজাগতার মধ্যে দিয়ে জীবনের প্রকৃত স্বরূপ প্রকাশ পায় যৌবন কেবল ভোগের উপকরণ নয় বরং সৃষ্টি ও কর্মে প্রেরণা যারা যৌবনের শক্তিকে অপব্যবহার করে ভোগে মত্ত হয় তারা ভাটার স্রোতে ভেসে গিয়ে জীবন হারায় মানুষের বার্জেন্দ্রীয় কর্মেন্দ্রীয় ও অন্তর্জেন্দ্রীয় যখন একত্রে সক্রিয় হয়ে ওঠে তখনই মানুষ অনুভব করে সৃষ্টির প্রেরণাকে আর সেই প্রেরণার নামই যৌবন যৌবনই অমিত শক্তির উৎস মানব জীবনের অমূল্য সম্পদ। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের সমাজের যৌবনের কপালে রাজটীকা দানের পরিবর্তে অনেকে রাজদণ্ড প্রয়োগে বেশি পারদর্শী হয়ে উঠেছে। প্রাবন্ধিকের মতে ব্যক্তিগত বিকাশ ও সামাজিক উন্নয়নে যৌবনের ভূমিকা অপরিহার্য কারণ জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় যৌবনকাল। সমাজে তাই যৌবনের যথার্থ মর্যাদা রয়েছে মানুষ চিরকাল যৌবনের আকাঙ্ক্ষা করে এসেছে। সেই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন আমরা দেখি পুরাণের জাজতি কাহিনীতে যিনি পুত্রের কাছে যৌবনের ভিক্ষা করেছিলেন তবে তার সেই যৌবন লাভ ছিল ভোগের জন্য যা ক্ষণস্থায়ী কিন্তু প্রকৃত যৌবন হলো সেই শক্তি যা ভোগ নয় সৃষ্টির কর্ম ও আদর্শের জন্য নিবেদিত যে যৌবন সমাজে কল্যাণ মানবতার সেবায় সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে নিজেকে উৎসর্গ করে সেই যৌবনই সত্যিকার অর্থে পূজনীয়। প্রমথ চৌধুরী বলেন যৌবনকে বয়সের ফ্রেমে আবদ্ধ করা যায় না এটি দেহের নয় মনের অশান্ত উদার উদ্ভাবন শক্তিকে ভরপুর এক শক্তি এই মানসিক যৌবনই মানুষের প্রকৃত শক্তি যা মানুষকে চিরতরুণ রাখে লেখক একে সৃষ্টির মূল ও সমাজ জীবনের ধারাবাহিকতার অপরিহার্য শর্ত হিসেবে দেখেছেন। তার ভাষায় প্রাণীজগতের রক্ষার জন্য নিত্য নতুন প্রাণের সৃষ্টি আবশ্যক এবং সে সৃষ্টির জন্য দেহের যৌবন প্রয়োজন তেমনি মনোজগতের এবং তধীন কর্ম জগতের রক্ষার জন্যও নিতন্তয়ী প্রয়োজন আর সে সৃষ্টির জন্য দরকার মনের যৌবন।

[8:08]অতএব পুরাতনকে আঁকড়ে থাকা মানে বার্ধক্য ও জড়তা মানসিক যৌবন অর্জনের প্রথম শর্ত হলো প্রাণশক্তি ও সৃষ্টিশীল উদ্দম। সুতরাং প্রমথ চৌধুরীর মতে মনের যৌবনই প্রকৃত যৌবন যা সমাজ ও মানবজীবনের চিরন্তন শক্তির উৎস যে মানুষ বা সমাজ এই মানসিক যৌবনের তাৎপর্য বুঝতে পারে না তার জীবন নিষ্প্রাণ ও ব্যর্থ। যৌবনে দাও রাজটীকা প্রবন্ধে লেখক যৌবনের সেই চিরনব প্রাণবন্ত ও সৃষ্টিশীল শক্তিরই বন্ধনা করেছেন যা মানুষকে রাখে চিরতরুণ চিরজাগ্ৰত ও চির সৃষ্টিশীল। তাই লেখক আহ্বান জানিয়েছেন যৌবনে দাও রাজটিকা অর্থাৎ নিজের শক্তি মেধা সাহস আর কর্মের মাধ্যমে হয়ে ওঠো রাজা। পুরাতন জড়তাকে ভেঙে দাও নতুন আলোর জেলে তোলো তোমার মন ও সমাজ যে যৌবন সমাজকে বদলে দেয় যে যৌবন দেহের সীমা ছাড়িয়ে মনকে জাগায় সেই যৌবন প্রকৃত যৌবন যে যৌবন কখনো মরে না। প্রমথ চৌধুরী এই প্রবন্ধ আমাদের শেখায় যৌবন হারায় না বয়সে হারায় নিষ্ক্রিয়তায় মনের যৌবন জীবনের চিরন্তন দীপ্তি। তাই বলি জীবনে বয়স বাড়ুক কিন্তু মন থাকুক তরুণ সৃষ্টি হোক অবিরাম কর্ম হোক নিরন্তর এই হোক আমাদের যৌবনের রাজটীকা। ধন্যবাদ সবাইকে লাইক কমেন্ট এবং শেয়ার করতে ভুলবেন না পরের ভিডিওতে আবারও দেখা হবে নতুন সাহিত্য আলোচনা নিয়ে ধন্যবাদ আসসালামু

Need another transcript?

Paste any YouTube URL to get a clean transcript in seconds.

Get a Transcript