Thumbnail for কেমন ছিল ইসলামের সোনালী যুগের শাসন? by Islamic Video Bangla

কেমন ছিল ইসলামের সোনালী যুগের শাসন?

Islamic Video Bangla

20m 20s2,423 words~13 min read
YouTube auto captions
Transcript source

YouTube auto captions

This transcript was extracted from YouTube's auto-generated caption track. The transcript below is server-rendered so it can be read, searched, cited, and shared without opening the original YouTube player.

Use this transcript
Related transcript hubs

[0:00]আজকে যদি ফোরাত নদীর তীরে একটা কুকুরও খেতে না পেয়ে মারা যায়, তার জন্য আমি ওমর আল্লাহর কাছে দায়ী থাকবো। বিখ্যাত এই উক্তি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর। একজন শাসক তার দায়িত্বের ব্যাপারে কতটা সচেতন থাকলে এমন কথা বলতে পারেন যে, মানুষ নয়, একটা কুকুরও যদি খাবারের অভাবে মারা যায় তবে তার জন্য আমি দায়ী থাকবো। আজকে তথাকথিত এই সভ্য সমাজে বাস করে, আমরা যারা অতীতের দিকে কৃপার দৃষ্টিতে তাকাই, মনে মনে ভাবি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে আমরা উত্তম সময় পার করছি, উত্তম শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছি, উত্তম জীবন ব্যবস্থা অনুসরণ করছি, তাদের জন্য আমার আজকের ভিডিওটি। বিশেষ করে যারা ইসলামিক শাসন প্রতিষ্ঠার কথা শুনলে শিউরে ওঠেন, ভীত কম্পিত হন, গায়ে জ্বর উঠে যায়, তাদের জন্য। হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর ১০ বছরের শাসনামলের মাত্র দশটি ঘটনা আমি উল্লেখ করবো। আর চ্যালেঞ্জ করে বলবো, এর একটি ঘটনার অনুরূপ দৃষ্টান্ত আজকের এই তথাকথিত সভ্য সমাজের রাষ্ট্রনায়করা স্থাপন করে দেখাতে পারেননি। হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর কয়েকজন আত্মীয় এসেছেন তার সাথে সাক্ষাত করতে। ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তখন নিজের ঘরে একটা দ্বীপ জ্বালিয়ে রাষ্ট্রীয় কাজ করছিলেন। আত্মীয়দেরকে দেখে তিনি দ্বীপটি নিভিয়ে দিলেন এবং অন্য একটা দ্বীপ জ্বালিয়ে দিলেন। তো আগত মেহমানরা এটা দেখে তো বেশ অবাক। তাদেরকে অবাক হতে দেখে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন, এতক্ষণ যে দ্বীপটি জ্বালিয়ে রেখেছিলাম সেটি ছিল বাইতুল মাল অর্থাৎ রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে টাকা নিয়ে কেনা। এতক্ষণ ওটা জ্বালিয়ে আমি রাষ্ট্রের কাজই করছিলাম। কিন্তু এখন যেহেতু তোমরা এসেছো, তোমাদের সাথে হয়তো আমার ব্যক্তিগত অনেক আলাপ হবে। আর ব্যক্তিগত কাজে জনগণের আমানত থেকে আমি তো কিছু খরচ করতে পারি না। তাই ওটা নিভিয়ে নিজের টাকায় কেনা আরেকটা দ্বীপ আমি জ্বালিয়েছি। খলিফার এমন বক্তব্য শুনে আত্মীয়রা তো হতভম্ভ। তারা মূলত এসেছিলেন আত্মীয়তার খাতিরে কিছু সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায় কিনা সেই আশায়। কিন্তু তারা যখন দেখলেন, খলিফা ওমর রাষ্ট্রের টাকায় কেনা সামান্য একটা দ্বীপ বা মোমবাতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এত সতর্ক, তারা বুঝলেন তার কাছ থেকে কোনো ধরনের অন্যায় আবদার করে লাভ হবে না।

[2:37]উল্টো অপদস্থ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। অতএব তারা এ ধরনের কোনো আলোচনায় না গিয়ে কুশলাদি বিনিময় করে সম্মানের সাথে বিদায় নিলেন। সৃষ্টিকার অর্থে ইসলামের আদর্শ ধারণকারী একজন রাষ্ট্রনায়ক হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু যেখানে নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে একটা মোমবাতিও খরচ করতে রাজি ছিলেন না। সেখানে আজকের যুগে তথাকথিত গণতন্ত্রের নামে প্রতিষ্ঠিত এই ব্যবস্থায় আমাদের মহামান্য রাজা বাদশা মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা প্রধান উপদেষ্টারা কী করছেন? উত্তরটা আপনারও জানা আছে। একদিন বাইতুল মাল থেকে সবাইকে এক প্রস্থ করে কাপড় দেয়া হলো। কিন্তু তাতে কাপড়ের পরিমাণ একটু কম হওয়ায় জামা বানাতে গিয়ে দেখা গেলো সবার জামাই কমবেশি ছোট হয়ে গেছে। এ নিয়ে মোটামুটি সবারই মন খারাপ। কয়েকদিন বাদে জুমার দিবস আসলো। তো জুমার দিনে খলিফা ওমর মেম্বরে দাঁড়ালেন খুতবা দিতে। গায়ে তার নতুন জামা, অন্যদের মতো ছোট মোটো নয়, একেবারে মাপমতো। এটা দেখে একজন মুসল্লি দাঁড়িয়ে বললেন, আমিরুল মু'মিনীন, বাইতুল মাল থেকে আপনি আমাদেরকে যে কাপড় দিয়েছেন, তাতে আমাদের কারো জামাই ঠিকঠাক মতো হয়নি। কিন্তু আপনার জামা তো দেখছি একেবারে মাপমতো। আপনি কি বাইতুল মাল থেকে বাড়তি জামা নিয়েছেন? আগে এই প্রশ্নের জবাব তো দিন, তারপর না হয় আপনার খুতবা শুনবো। তো খলিফার পুত্র আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর সেখানেই ছিলেন। তিনি বললেন, আমার ভাগে যে কাপড়টা ছিল ওটা আমি আব্বাকে দিয়েছি। আমাদের দুইজনের কাপড় মিলিয়ে তার জন্য এই জামাটি প্রস্তুত করা হয়েছে। মুসল্লি তখন বললেন, ও আচ্ছা। আমি আমার প্রশ্নের উত্তর পেয়েছি। এবার আপনি খুতবা দিতে পারেন। দর্শক, আজকের যুগে একজন রাষ্ট্রপ্রধান বা প্রধানমন্ত্রী জনগণের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন, জনগণকে নসিহত করবেন, আর ঠিক তখন জনতার কাতার থেকে একজন দাঁড়িয়ে বললো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার বক্তব্য পরে শুনবো, আগে আমাকে একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। তো কল্পনা করুন তার ভাগ্যে কি ঘটতে পারে? একবার খলিফা ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর ছোট্ট শিশু সন্তান নতুন জামার জন্য বায়না ধরলো। পিতা তার মুসলিম দুনিয়ার শাসক অথচ তাকে পরতে হয় ছেঁড়া তালিযুক্ত কাপড়। এ নিয়ে বন্ধুরা তাকে মাঝে মাঝেই খোঁচা মেরে কথা বলে। এ নিয়ে তার দুঃখের শেষ নেই। তো পুত্রের দুঃখের কথা শুনে ওমর ভাবলেন বাচ্চাটাকে একটা নতুন জামা দেওয়া আসলেই উচিত। কিন্তু হাতে তার কোনো অর্থকড়ি ছিল না। নিরুপায় হয়ে বাইতুল মালের কেশিয়ার বরাবর তিনি একটা আবেদন লিখলেন। তিনি লিখলেন খলিফা হিসেবে আমাকে যে ভাতা দেওয়া হয়, আগামী মাসের ভাতা থেকে কিছু টাকা অগ্রিম দিলে বড়ই উপকৃত হবো। কোষাগারের দায়িত্বে যিনি তিনি খলিফার এই আবেদন হাতে পেয়ে বড় কষ্ট পেলেন। খলিফার এই দৈন্য দশা তাকেও আহত করতো। কিন্তু নিজের দায়িত্বের জায়গা থেকে তিনি ফিরতি চিঠিতে খলিফাকে লিখলেন, অগ্রিম অর্থ আমি দিতে পারি। যদি আপনি নিশ্চিত করতে পারেন যে, আগামী মাসে আপনি বেঁচে থাকবেন। আর যদি বেঁচে থাকেনও তাহলে আগামী মাসে যে আপনিই খলিফার দায়িত্বে থাকবেন সেটাই বা কিভাবে নিশ্চিত হবো। এই চিঠি হাতে পেয়ে খলিফা ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু কান্না করে দিলেন। তবে এটা কষ্টের কান্না ছিল না, বরং এটা ছিল আনন্দের অশ্রু। তিনি বললেন তার মতো ব্যক্তি যতদিন কোষাগারের দায়িত্বে থাকবে ততদিন জনগণের সম্পদ কেউ তছরুপ করতে পারবে না। দর্শক খলিফা ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু আর তার ওই কেশিয়ারের কথা স্মরণ করুন। আর আজকে যারা নামাজ পড়তে পড়তে কপালে দাগ ফেলে দেয় এমন কি তাহাজ্জুতও কাজা করে না। অথচ পারে তো পুরো দেশটাকে গিলে ফেলে। তাদের কথাও বিবেচনা করুন। পার্থক্যটা নিজেই উপলব্ধি করতে পারবেন। খলিফা ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর কাছে অভিযোগ আসলো ইদানিং মদিনার মেয়েরা এত বেশি দেনমোহর চাচ্ছে যা মিটিয়ে বিয়ে করা যুবকদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এরকম বেশ কয়েকটা অভিযোগ পেয়ে খলিফা একদিন ফরমান জারি করলেন, এখন থেকে কোনো নারী ৪০০ দিরহামের বেশি দেনমোহর দাবি করতে পারবে না। যদি কোনো নারী এর বেশি দেনমোহর আদায় করে তাহলে ৪০০ দিরহামের অতিরিক্ত অংশ রাষ্ট্র কেড়ে নিয়ে বাইতুল মালে জমা দিয়ে দেবে। তো সেখানে একজন নারী উপস্থিত ছিলেন উম্মে শিফা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা। তিনি বললেন ইয়া আমিরুল মু'মিনীন এ আপনার কেমন নির্দেশ? আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন যদি একজন স্বামী তার স্ত্রীকে মোটা অংকের ধন সম্পদ দিয়ে থাকে তবে তা থেকে যেনো কোনো কিছুই ফেরত না নেয়। আল্লাহ বলেছেন এটা অন্যায় এবং স্পষ্ট গুনাহ। পবিত্র কোরআনে সূরা নিসার ২০ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ এমনটাই বলেছেন যা ওই নারী খলিফাকে স্মরণ করিয়ে দিলেন। খলিফা ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু সাথে সাথে বললেন, এই নারী সঠিক কথাই বলেছেন, আমারই ভুল হয়েছে, আমি আমার নির্দেশ তুলে নিলাম। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তির মুখোমুখী দাঁড়িয়ে একজন সাধারণ নারী রাষ্ট্রপ্রধানের ভুল ধরছেন, তার নির্দেশের বিরোধিতা করছেন এবং রাষ্ট্রপ্রধান সঙ্গে সঙ্গে বিনয়ের সাথে নিজের ভুল স্বীকার করে নিচ্ছেন। আপনি আজকের এই তথাকথিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এমন দৃশ্য কল্পনা করতে পারেন? খলিফা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে ব্যবসা করে সংসার চালাতেন হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু। কিন্তু খলিফা নিযুক্ত হবার পর রাষ্ট্রীয় কাজের চাপ এত বেড়ে যায় যে তার পক্ষে ব্যক্তিগত আয় রোজগার করা আর সম্ভব হয়ে ওঠে না। স্বাভাবিকভাবেই তখন রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করার হেতু বাইতুল মাল থেকে তাকে ভাতা দেওয়া হতো যেটা পরিমাণে ছিল খুব সামান্য। আর ওই সামান্য ভাতা দিয়েই তিনি নিজের ও পরিবারের ভরণ-পোষণ করতেন। একদিন হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু, ওসমান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এবং তালহা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু নিজেদের মধ্যে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করলেন। তারা ঠিক করলেন যে খলিফার মাসিক ভাতা পর্যাপ্ত নয় এটা বাড়ানো উচিত। খলিফার এই দৈন্য দশা আর মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। কথা তো ঠিক আছে কিন্তু প্রশ্ন হলো এই প্রস্তাব খলিফার সামনে পেশ করবে কে? যে মেজাজি লোক তিনি যদি ক্ষেপে যান? শেষ পর্যন্ত কেউ সাহস করতে না পেরে তারা তিনজনে মিলে গেলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহার কাছে। আম্মা হাফসা ছিলেন হযরত ওমরেরই কন্যা। তারা আম্মা হাফসাকে অনুরোধ করলে তিনি রাজি হলেন। বড় সাহস করে তিনি খলিফার কাছে গিয়ে প্রস্তাবটি তুলে ধরলেন। আর যেমনটা হওয়ার কথা খলিফা তো রেগে আগুন। তিনি বারবার জিজ্ঞাসা করছেন তোমার কাছে এই প্রস্তাব কারা নিয়ে এসেছে? কারা তোমাকে আমার কাছে পাঠিয়েছে? আম্মা হাফসা তো নীরব হয়ে গেলেন। খলিফা বললেন যদি তাদের নাম জানতে পারতাম পিটিয়ে নীল করে দিতাম। খানিক পরে খলিফা শান্ত হলেন। আম্মা হাফসাকে কাছে ডেকে বললেন বেটি তুমি তো রাসূলুল্লাহর সাথে সংসার করেছো। তিনি কি ধরনের পোশাক পরতেন কেমন খাবার খেতেন কি রকম বিছানায় ঘুমাতেন তুমি তো জানো। আমাকে বলতো আমার পোশাক আমার খাবার আমার বিছানা কি তার চাইতে খারাপ? হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা উত্তর দিলেন না আব্বাজান। খলিফা বললেন তাহলে যারা এই প্রস্তাব দিয়ে তোমাকে পাঠিয়েছে তাদেরকে বলিও আমাদের নবী আমাদের সামনে জীবনের যে আদর্শ স্থাপন করে গেছেন আমি ওমর তা থেকে একচুল পরিমাণও সরবো না। দর্শক সেই দীনহীন খলিফা ওমরের কথা ভাবুন আর আমাদের আজকের রাষ্ট্রনায়ক মহানায়কদের দিকে তাকান। কিংবা আমাদের সরকারি অফিসের বড় বড় বাবুদের দিকে তাকান। পার্থক্যটা নিজেই ধরতে পারবেন। জেরুজালেম থেকে খবর এসেছে সেখানে মুসলিমরা খ্রিস্টানদেরকে কয়েক মাস ধরে অবরুদ্ধ করে রেখেছে কিন্তু তারপরও খ্রিস্টানরা আত্মসমর্পণ করছে না। তারা জানিয়েছে একমাত্র খলিফা ওমর নিজে সেখানে গেলে তারা আত্মসমর্পণ করবে। অগত্যা খলিফা রওয়ানা হলেন জেরুজালেমের পথে। সাথে নিলেন নিজের এক ভৃত্যকে আর একটা উট। খলিফা উটের পিঠে চললে ভৃত্য রশি ধরে আগে আগে এগিয়ে চলল। অনেক দূর যেয়ে খলিফা খেয়াল করলেন ভৃত্য বড় ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তার পা ফেটে রক্ত বেরিয়ে আসার অবস্থা। তিনি সাথে সাথে ওর থেকে নেমে এসে বললেন এবার তুমি উটের পিঠে চড়ো আমি হাঁটি। ভৃত্য তো কি করবে বুঝতে পারছে না। সে বললো আমিরুল মু'মিনিন এটা কি করে হয়? আপনি মনিব আমি আপনার দাস। খলিফা বললেন মানুষের মনিব তো কেবল আল্লাহ। আল্লাহর চোখে তুমি আমি সকলেই সমান। বাধ্য হয়ে ভৃত্য উটের পিঠে চড়ে বসলো। আর অর্ধ পৃথিবীর বাদশা যিনি তিনি হেঁটে চললেন উটের রশি ধরে। সুধী দর্শক সেই খলিফার কথা কল্পনা করুন। আর আজকের যুগে সভ্য সমাজের প্রেসিডেন্ট প্রাইম মিনিস্টারদের কথা ভাবুন যারা বাসা থেকে এই খানিকটা দূরে অফিসে যাওয়ার সময় রাস্তাঘাট সব বন্ধ করে দেয়। স্কুল বাস, এম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সব থেমে যায় জাহাপনা যাবেন বলে। নিজের ভৃত্যকে নিয়ে খলিফা ওমর ছদ্মবেশে বের হলেন নাগরিকদের সুখ দুঃখ নিজের চোখে দেখবেন বলে। এমনটা তিনি মাঝে মধ্যেই করতেন। তো ওইদিন ঘুরতে ঘুরতে অনেক দূরে গ্রামের মধ্যে ঢুকে পড়লেন তারা। হঠাৎ একটা বাড়ি থেকে বাচ্চাদের কান্নার আওয়াজ শোনা গেলো। কাছে গিয়ে তারা দেখলেন কয়েকটা বাচ্চা বারান্দায় শুয়ে শুয়ে কান্না করছে। পাশেই একজন মধ্যবয়স্ক নারী চুলার উপর কিছু একটা চড়িয়ে জাল দিচ্ছেন আর আঁচলে চোখের পানি মুছছেন। জিজ্ঞাসা করলে ওই নারী জানান ঘরে তাদের কোনো খাবার নেই। বাচ্চাগুলোকে মিথ্যা সান্ত্বনা দিতে খালি পাতিলে শুধু পানি চড়িয়ে জাল দিচ্ছেন তিনি। এই দৃশ্যটা দেখে না খলিফা ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলেন না। তিনি দৌড়ে বাইতুল মালের গুদাম ঘরে ছুটে গেলেন। সেখান থেকে একটা গমের বস্তা নিজের কাঁধে তুলে রওয়ানা হলেন ওই গ্রামের উদ্দেশ্যে। ওমরের বয়স তখন ৬০ বছরের বেশি। বস্তার ভারে ঠিকমতো হাঁটতেও পারছিলেন না। ভৃত্য বললেন আমিরুল মু'মিনীন বস্তাটা আমার কাঁধে দিন আপনার তো খুব কষ্ট হচ্ছে। খলিফা বললেন কিয়ামতের দিন আমার বোঝা তুমি বহন করবে কি? ভৃত্য এই প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারলো না। অগত্যা খলিফার পিছে পিছে বিভ্রান্তের মতো হাঁটতে লাগলো সে। আর ভারি বোঝা কাঁধে বৃদ্ধ খলিফা হেঁটে চললেন ওই গ্রামের পথে। মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন। বাইতুল মালের কিছু সম্পদ জনগণের মধ্যে বন্টন করছিলেন খলিফা ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু। স্বাভাবিকভাবেই সেখানে লোকজনের ভিড় জমে যায়। লাইনে দাঁড়িয়ে সবাই খলিফার কাছ থেকে নিজের অংশ বুঝে নিচ্ছিলেন। এই অবস্থায় সেখানে উপস্থিত হলেন হযরত সাদ বিন আবু বক্কাস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু। তিনি প্রভাবশালী অভিজাত পরিবারের সন্তান। খলিফার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ পরামর্শদাতা যারা আজকের যুগে যাদেরকে মন্ত্রী বলা হয় তাদেরই একজন ছিলেন সাদ রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু। তো লোকজনের ভিড় দেখে তিনি অন্য সাধারণ নাগরিকদের মতো ধৈর্য ধারণ না করে বরং ভিড় ঠেলে সামনে এগিয়ে গেলেন। খলিফা ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বিষয়টি লক্ষ্য করলেন। লোকদেরকে ঠেলে ঠুলে সাদ যখন কাছাকাছি আসলেন ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তখন নিজের হাতে থাকা দররা দিয়ে সাদের পিঠে দুই ঘা বসিয়ে দিলেন। বললেন ওহে সাদ সবার উপরে যে আল্লাহর আইন তা তোমার মনে নেই? আল্লাহর আইনের সামনে তোমার যে কানাকড়িও মূল্য নেই এটা তোমাকে বুঝিয়ে দেওয়া প্রয়োজন ছিল। তাই তোমার পিঠে দুই ঘা বসিয়েছি। সাদ রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বুঝলেন তিনি যেটা করেছেন সেটা অন্যায় হয়েছে। তিনি অনুতপ্ত হলেন এবং সোজা গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়লেন। ন্যায় অন্যায়ের প্রশ্নে, নিয়ম নীতির প্রশ্নে খলিফা ওমরের এই কঠোরতা এবং সাদ রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর অনুতাপের এই বিষয়টি বিবেচনা করুন। আর আজকের এই তথাকথিত সভ্য সমাজের মন্ত্রী এম পিদের কথা বাদ দেন সরকারি দলের সামান্য পা চ্যাটা চামচা যারা ট্রাফিক আইন অমান্য করে সার্জেন্টকে বলে আমি তোর কোন বাপ ব্যাটা জানিস? দাড়া ফোন দিচ্ছি। তাদের কথাও বিবেচনা করুন। মিশরের এক নাগরিক মদিনায় এসে খলিফা ওমরের দরবারে অভিযোগ করলেন মিশরের গভর্নরের পুত্র তার উপর অন্যায় করেছে। তো খলিফা মিশরের গভর্নর আমর ইবনুল আস ও তার পুত্রকে মদিনায় তলব করলেন। অতঃপর সকলের উপস্থিতিতে আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর পুত্রকে জেরা করা হলো। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলো। খলিফা তখন নিজের হাতে থাকা লাঠিটি অভিযোগকারী মিশরীয় নাগরিকের হাতে দিয়ে বললেন আমরের পুত্রকে পেটাও। মিশরীয় লোকটি নিজের জেদ মেটার আগ পর্যন্ত জনসম্মুখে গভর্নরের পুত্রকে আচ্ছা মতো ধোলাই দিলেন। অতঃপর লোকটি খলিফার হাতে লাঠি ফেরত দিতে গেলে খলিফা বললেন না বিচার তো শেষ হয়নি। আমরকেও পেটাও তার ক্ষমতার দাপটের কারণেই না তার পুত্র তোমার সাথে এই অন্যায় করার সাহস পেয়েছে। একথা শুনে উপস্থিত জনতা বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে গেলো। আর মিশরীয় লোকটি কান্না করে দিলো। সে জোর করে লাঠিটি খলিফার হাতে ফেরত দিয়ে বললো ইয়া আমিরুল মু'মিনীন আমি আমার ন্যায় বিচার পেয়ে গিয়েছি। আমাদের গভর্নরের প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই। সুধী দর্শক আমি কোনো মন্তব্য করলাম না। আপনার কোনো মন্তব্য থাকলে কমেন্ট বক্স খালি আছে করতে পারেন। মিশরের গভর্নরের পুত্রকে তো খলিফা শাস্তি দিয়েছিলেন। কিন্তু নিজের পুত্র হলে কি করতেন? আসেন দেখি নিজের পুত্রের বেলায় ওমরের আচরণ কী ছিল। তার এক পুত্রের নাম ছিল আব্দুর রহমান আবু শাহমা। তিনি মিশরের সেনাবাহিনীতে যুদ্ধরত ছিলেন যে মিশরের গভর্নর ছিলেন সেই আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু। একদিন আবু শাহমা খেজুর ভিজিয়ে তৈরি করা এক প্রকার শরবত পান করলেন। আর তাতে তার মধ্যে একটা মাতলামি সৃষ্টি হলো। পরে তিনি যখন স্বাভাবিক হয়ে উঠলেন তখন নিজেই গভর্নর আমর ইবনুল আসের কাছে গিয়ে বললেন আমি মাদক পান করেছি সেটা বুঝে হোক না বুঝে হোক। আমাকে শাস্তি দিন। আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু খলিফার সম্মানের কথা বিবেচনা করে তার পুত্রকে লোকচক্ষুর আড়ালে ঘরের ভেতরে ব্যাত্রাঘাত করলেন। এই খবরটা পৌঁছে গেলো মদিনায় খলিফার কানে। খলিফা তো রেগে আগুন। কি ভাবছেন? তার পুত্রকে পেটানো হয়েছে এই কারণে? না। বরং জনসম্মুখে শাস্তি না দিয়ে কেন বদ্ধ ঘরে লোকচক্ষুর আড়ালে তাকে শাস্তি দেওয়া হলো এই কারণে। মিশরের গভর্নরকে তিনি লিখলেন সাধারণ নাগরিকদেরকে যেভাবে জনসম্মুখে শাস্তি দেওয়া হয় তাকেও সেইভাবে শাস্তি দিতে হবে। এতে যদি তোমার হাত কাঁপে তাহলে তাকে মদিনায় পাঠিয়ে দাও। বিষয়টি জানতে পেরে আবু শাহমা মদিনায় গেলেন। ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এবার নিজে জনসম্মুখে তাকে শাস্তি দিলেন। পর পর দুই দফা এই শাস্তির ধকল আবু শাহমা সহ্য করতে পারলেন না। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং কিছুদিন পর ইন্তেকাল করলেন। দর্শক এটা ছিল ইসলামের সোনালী যুগের শাসন। যেখানে শাসকের পুত্ররা চুরি করলে তাদেরও হাত কাটা হতো, ব্যভিচার করলে তাদেরকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো। ইসলামের সেই মহান শাসকদের ন্যায় বিচারের কথাও ভাবুন আর আমাদের আজকের দিনে গণতন্ত্রের নামে জনগণের সাথে যে প্রতারণা ভন্ডামি আর জুলুম করা হয় তার কথাও ভাবুন। আর আপনার ভাবনার কথাটি জানিয়ে দিন কমেন্ট বক্সে। ইসলামের গৌরবময় ইতিহাস নিয়ে নির্মিত ভিডিও চিত্র আমরা ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরছি আমাদের চ্যানেলে। আপনি যদি নতুন হয়ে থাকেন তাহলে চ্যানেলটিতে সাবস্ক্রাইব করার অনুরোধ রইলো আর আজকের ভিডিওটি কেমন ছিল কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই লাইক ও শেয়ার করে ছড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ রইলো।

Need another transcript?

Paste any YouTube URL to get a clean transcript in seconds.

Get a Transcript