[0:01]দশরা অক্টোবর, 1872। ফিলিয়াস ফগ তার বন্ধুদের সাথে বাজি ধরলেন, মাত্র 80 দিনে তিনি একবার গোটা পৃথিবী ঘুরে আসবেন। জুল ভের্ণের উপন্যাস 80 দিনে বিশ্বভ্রমণ গল্পটি শুরু করেছেন এভাবেই। কি আশ্চর্যের বিষয়! ফিলিয়াস ফগের মুখ দিয়ে ভের্ণ যখন এই কথাগুলো বলছেন, তখন তো প্লেন আবিস্কারই হয়নি। ভের্ণের উপন্যাসের প্রায় 30 বছর পর উইলভার রাইট এবং অরভিল রাইট এ্যারোপ্লেন আবিষ্কার করেন। তাহলে ফগের এই ভ্রমণ আসলে কিভাবে সম্ভব? তবে কি ভের্ণ জানতেন পৃথিবীর আকাশ একদিন মানুষেরও হবে? কিন্তু কিভাবে? জর্জ বার্নার্ড শ বলেছেন ইমাজিনেশন ইজ দ্য বিগিনিং অফ ক্রিয়েশন। অর্থাৎ কল্পনাই সৃষ্টির সূচনা। এই কল্পনার ভ্রমণ নিছক কোন ভ্রমণ নাকি ভের্ণ আন্দাজ করতে পেরেছিলেন ভবিষ্যতের পৃথিবী কেমন হবে? কিভাবে বিজ্ঞানের স্পর্শে বদলে যাবে চিরচেনা এই জগত? জগতকে নিজের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মিলিয়ে কল্পনায় বহুদূর যাওয়া যায়। তখন প্রশ্ন থেকেই যায় ভের্ণ কি কল্পনার আড়ালে তার বিজ্ঞানী সত্তা আড়াল করেছিলেন? এসব প্রশ্নের ভেতর দিয়েই চলুন আবিষ্কার করি কল্পবিজ্ঞানের জনক জুল ভের্ণকে। তার কল্পনা কেন এত বাস্তব? আমরা জেনেছি অনেক সময় প্রচলিত ধারণার বিপরীতে গিয়ে যারা কিছু ভেবেছে যেমন ধরুন বিজ্ঞানী, লেখক, কবি কিংবা প্রফেট, তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে। নয়তো শাস্তি ভোগের মধ্য দিয়ে অথবা বিষপান ও ক্রুশবিদ্ধ করে আগুনে পুড়িয়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মারা হয়েছে। তাই বলে মানুষের কল্পনা বা চিন্তা করা কোনো সময়ই থেমে থাকেনি। মানুষের বহু কল্পনা যেগুলো প্রথমে অসম্ভব স্বপ্ন বলে মনে হতো, পরবর্তীতে তা সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে এবং পরে মানুষ গ্রহণও করেছে তা। সক্রেটিসকে যেমন মৃত্যুর প্রায় 2415 বছর পর আদালত নির্দোষ বলে ঘোষণা দিয়েছে। জুল ভের্ণও কি তেমন? শুধুই কি লেখক না একজন বিজ্ঞানী? নাকি কেবলি তুখোর একজন কল্পনাপ্রবণ মানুষ? অদ্ভুত কল্পনা মিশ্রিত লেখার জন্য ভের্ণকে কোনো বিচারের কাঠগড়ায়ও দাঁড়াতে হয়নি। তবে তার উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি ফ্রান্সের বিখ্যাত সব প্রকাশক ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। শুধুমাত্র উদ্ভট অদ্ভুত কল্পনার লেখার জন্য। তারা ভেবেছিল আদতে এসব সম্ভব নয়। কি একটা ব্যাপার বলুন তো এখানেও মুখ ফিরিয়ে নিল সমাজ। জুল ভের্ণ যে সময় এসে আবার এসব লিখছেন তখন মানুষ বিজ্ঞানকে সবে চিনতে শিখেছে। নব বিজ্ঞানের উদ্ভাসিত ইউরোপে কল্পবিজ্ঞান তখন নিছকই ছেলেমানুষী। বেচারা ভের্ণ পাত্তা পেলেন না একদমই। এ অবস্থায় মানুষ যা করে আরকি। অভিমানে ক্ষোভে জুল ভের্ণ পুড়িয়ে ফেলতে চেয়েছিলেন তার প্রথম উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি। কিন্তু স্ত্রীর চোখে সেই ঘটনাটি না পড়লে বেঘরে একজন লেখকের অপমৃত্যু হতে পারত। ঘুরে দাঁড়ালেন ভের্ণ। আবার ফিরে গেলেন প্রকাশকের দরজায়। যার ফলেই আমরা পেয়ে যাই ফাইভ উইকস ইন আ বেলুনের মত উপন্যাস। ভবিষ্যৎ খুঁজে বেড়ানো মানুষ জুল ভের্ণের শারীরিক মৃত্যু 120 বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখনো বিশ্ববাসীর যেন শোক কাটেনি কাটেনি ঘোর। যারা গবেষণা ও ভাবনার তথাকথিত দাস তারা কেন ভুলেনি তাকে? এই প্রশ্ন থেকেই যায়, তার চাহিদা আমাদের মধ্যে এখনো টন্টনে। সাল 1872। প্রকাশিত হলো জুল ভের্ণের ফ্রম দ্য আর্থ টু দ্য মুন নামে আরো একটি উপন্যাস। সেখানে তিনি দেখান আমেরিকান গৃহযুদ্ধের কয়েক মাস পরের ঘটনা। বাল্টিমোর গান ক্লাবের সদস্যদের হাতে তখন কোনো কাজ নেই। চারপাশে থমথমে পরিবেশ। ভীষণ আলস্যমি ও বিরক্তিতে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে। এই সময় ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ইমে বারবিকানের উর্বর মস্তিষ্কে নতুন এক আইডিয়া খেলে গেল। যেন তিনি বিশাল কিছু পেয়ে গেছেন। তার ভাবনাটি নিমেষেই ডালপালা মেলে দিল। সে এমন এক কামান বানানোর কথা ভাবল যা থেকে বিশাল আকৃতির কোনো গোলা ছুড়লে তা পৃথিবীতে না ফিরে সরাসরি চাঁদে পৌঁছে যাবে। অভিনব এই পরিকল্পনার কথা শুনে উত্তেজনায় ক্লাবের সদস্যরা বলল যাক অনেকদিন পর মনের মত একটা কাজ পাওয়া গেছে। যে ভাবনা সেই কাজ। বাস্তবায়নের জন্য তারা দ্রুত কাজও শুরু করল। মোদ্দা কথা উপন্যাসের এই অংশটুকুই বলে দেয় তার চিন্তা কত সুদূরপ্রসারী। শুধু কি তাই? ভের্ণের এই উপন্যাসের 104 বছর পর চাঁদে প্রথম পা রাখেন মহাকাশচারী নেইল আর্মস্ট্রং। চলুন দেখি নাসার অ্যাপোলো 11 মিশনের সঙ্গে কেমন মিল রয়েছে জুল ভের্ণের উপন্যাসের চন্দ্রাভিজানের। অ্যাপোলো 11 মিশনে নভোচারী ছিলেন তিনজন। নেইল আর্মস্ট্রং, বাজ অলরিন আর মাইকেল কলিন্স। ভের্ণের উপন্যাসে নভোচারীর সংখ্যাও কিন্তু তিন। ভের্ণের কামানের গোলা বা নভোযানটির নাম ছিল কলম্বিয়াড। আর নেইল আর্মস্ট্রং-এর কমান্ড মডিউলের নাম রাখা ছিল কলম্বিয়া। এটা কি শুধুই কাকতাল? কিন্তু কুইন নয়। উপন্যাসে জুল ভের্ণ বর্ণিত সিলিন্ডার আকৃতির অ্যালুমিনিয়াম গোলা বা ক্যাপসুলটার উচ্চতা ছিল 4.5 মিটার এবং ব্যাস 2.7 মিটার। তিনজন নভোচারীর আশ্রয়ের জন্য যথেষ্ট। চাঁদে পা রাখার পর বিখ্যাত যে উক্তিটি নেইল আর্মস্ট্রং করেছিলেন।
[5:24]আর চাঁদ জয় করে ফেরার পথে নেইল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন 100 বছর আগে চাঁদে অভিযান নিয়ে একটি বই লিখেছিলেন জুল ভের্ণ। তার নভোযান কলম্বিয়ার ফ্লরিডা থেকে উৎক্ষেপিত হয়। এরপর চন্দ্রাভিজান শেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরে নেমেছিল। এই অভিযাত্রীদের কিছু বিষয় আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া উচিত বলে মনে করছি। কারণ, বর্তমানের কলম্বিয়াও আগের মতোই আগামীকাল আবার পৃথিবীর সঙ্গে এবং সেই প্রশান্ত মহাসাগরে মিলিত হবে। আমাদের মনে প্রশ্ন আসতেই পারে ভের্ণ কি এই কল্পনার একমাত্র আবিষ্কারক! ভের্ণ কি প্রথম পৃথিবীর মানুষকে উদ্ভট কল্পনার মধ্য দিয়ে শত বছর এগিয়ে দিয়েছেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে একটু পেছনে ফিরে যাওয়া যাক। খ্রিস্টপূর্ব 79 সালে গ্রিক লেখক লুসিয়ান লিখেছিলেন ট্রু হিস্টরি নামে একটা বই। তবে সেখানে খুব একটা বিজ্ঞান আছে বলে বলা যায় না। এরপর জার্মান জ্যোতির্বিদ জোহানেস কেপলারের কথা ধরা যাক। তিনি লিখেছিলেন সোমনিয়াম নামের একটি উপন্যাস। তবে চাঁদ নিয়ে প্রথম কিছুটা বিজ্ঞানসম্মত লেখা শুরু হয় এডগার অ্যালান পোর হাতে 1835 সালে। চন্দ্রাভিজান নিয়ে তিনি লেখেন দ্য আনপ্যারালেল্ড অ্যাডভেঞ্চার অফ ওয়ান হ্যান্স ফল নামের একটি ছোট গল্প। আইজ্যাক আজিমভ ভের্ণের বইগুলোকে বিশ্বের প্রথম বিজ্ঞান কল্পকাহিনি বলে উল্লেখ করেছেন। আজিমভ আরো উল্লেখ করেছিলেন যে ভের্ণের কাজ উনবিংশ শতাব্দীতে নিহিত ছিল এবং বিনোদনের জন্য কাজ করেছিল। নিজের কাজে বিপরীতে তার লক্ষ্য ছিল বুদ্ধিবৃত্তিকভাবেও চ্যালেঞ্জিং হওয়া এবং কল্পনার সাথে প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে অন্বেষণ করা। কাজটা সহজ নয় কিন্তু কিভাবে এত সহজে করলেন ভের্ণ? কল্পনার প্রথম কাজ হলো পালানো। মন থেকে মাথা থেকে না পালালে অন্য কিছু ধরা অসম্ভব। এ কারণেই ভের্ণ বাড়ি ছাড়তে চেয়েছিলেন। পালাতে চেয়েছিলেন চেনা ছকের ঘর থেকে। অবশ্য ধরা পড়েন। সে গল্প হবে অন্য একদিন। অভিযাত্রী এবং উদ্ভাবকদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি তিনি একটি নতুন সাহিত্য ধারা তৈরি করেছিলেন বিজ্ঞান কল্পকাহিনি। তখন ভের্ণের মতো করে এই জি ওয়েলস একই ধরনের বই লিখতে শুরু করেন। ভের্ণ জোর দিয়ে বলেছেন যে তার এবং ওয়েলসের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো আমি পদার্থবিদ্যা ব্যবহার করি আর সে আবিষ্কার করে। আমরা অনেকেই জানিনা ডুবে যাওয়া ট্র্যাজেডি কিং টাইটানিক জাহাজের সন্ধানকারী ডক্টর রবার্ট ডি ব্যালার্ডের কাছে কিশোর বয়স থেকেই ভের্ণের বই ছিল আদর্শ। সমুদ্র অন্বেষণকারীদের মধ্যে বিখ্যাত জ্যাকেসটা ভের্ণের 20000 লীগস আন্ডার দা সী বইটিকে জাহাজের বাইবেল বলেছেন। ভুলে গেলে চলবে না এই উপন্যাসের ক্যাপ্টেন নিমোর কাহিনি আমাদের গ্রিক মহাকাব্য হোমারের ওডিসিকে স্মরণ করিয়ে দেয়। আধুনিক বিশ্ব বিজ্ঞানকে পুঁজি করে শুরু হয়েছে দমিয়ে রাখার খেলা। ত্রাস সৃষ্টি করে যুদ্ধ চাপিয়ে দিচ্ছে। আকাশ শাসনের জন্য যেমন আধুনিক যুদ্ধবিমান তেমনি সমুদ্র শাসনের জন্য দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সাবমেরিন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় সাবমেরিনের ব্যাপক ব্যবহার হয়েছিল। বর্তমানে বিশ্বের সকল শক্তিধর রাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে রয়েছে আধুনিক ডুবোজাহাজ বা সাবমেরিন। শত্রু বাহিনীর জাহাজকে দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিতে যেন চাষ করছে বৃহৎ নীল তিমির মত সাবমেরিন। জুল ভের্ণের উপন্যাস 20000 লীগস আন্ডার দা সী যেখানে দেয়া ছিল নটিলাস নামক একটি আধুনিক সাবমেরিনের ধারণা যা পরবর্তীতে বাস্তবে রূপ নিয়েছে এবং আধুনিক সাবমেরিন প্রযুক্তিতে এটি এসে আমাদের চমকে দিয়েছে।
[8:50]যতদিন যাচ্ছে প্রতিটি ডিভাইস আপডেট হচ্ছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মানুষ ছুটছে। যে যত নতুন আইডিয়া নিয়ে আসছে তাকেই লুফে নিচ্ছে বিশ্ব। জুল ভের্ণ তেমনই এক আইডিয়া ম্যান। এখনো প্রতিটি প্রযুক্তির আড়ালে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিশ্চয়ই ভের্ণের ছায়া রয়েছে। ভবিষ্যৎ ভবিষ্যদ্বাণী করা সব সভ্যতাতেই ছিল আর সেখান থেকেই মানুষ কল্পনার সাহায্য নিয়ে ছুটে গেছে বহুদূর। ভের্ণও তাই করেছেন। তার একটি চাপা পড়া পাণ্ডুলিপি 1989 সালে আবিষ্কার হলে বিশ্বজুড়ে হইচই পড়ে যায়। ভের্ণের প্রপ্রোত্র একদিন টেবিলের মধ্যে একটি ড্রয়ারে দেখলেন তাতে বহুদিন তালা দেয়া। কেউ গুরুত্ব দিয়ে খুলেও দেখেনি কি আছে এতে। তিনি আগ্রহ নিয়ে খুলে দেখলেন ভের্ণের ব্যবহৃত জিনিসপত্রের সাথে রয়েছে একটা পাণ্ডুলিপি। অবিশ্বাস্য বিষয় পাণ্ডুলিপিটি লেখা হয়েছিল খুঁজে পাওয়ার বছর থেকে প্রায় 130 বছর আগে। সাথে সাথে এটি সারা বিশ্বের টপ খবর হয়ে যায়। তারপর পাণ্ডুলিপিটি 1994 সালে প্যারিসে প্রকাশিত হয়। এটি ভের্ণের প্রথম দিকের লেখা। বইয়ের গল্পটি 1960 সালের প্যারিসে কি কি ঘটতে পারে তারই পটভূমিতে রচিত। তিনি দেখিয়েছিলেন তৎকালীন ভবিষ্যৎ কেমন হবে আর ছিল ভবিষ্যৎ সময়ের একটি অত্যন্ত ভয়াবহ চিত্র। এই পাণ্ডুলিপিটি এত দেরিতে প্রকাশিত হওয়ার কারণ ভের্ণের অদ্ভুত কিছু ভবিষ্যদ্বাণী যা পরবর্তীতে মিলেও গিয়েছিল। বইটিতে ফ্যাক্স মেশিন, অটোমোবাইল, উঁচু ভবন, শপিং অভিযান, ইলেকট্রনিক ক্যালকুলেটর এমনকি ইন্টারনেটের একটি রূপের উল্লেখ রয়েছে। এবং সেই কারণেই এটি অপ্রকাশিত থেকে যায়। কারণ সেই সময় 1863 সালে এই জিনিসগুলো একেবারেই বিশ্বাসের যোগ্য ছিল না। বিশেষত প্রকাশকের টিপ্পণীতে নাস্তানাভূত হতে থাকত একে। আমরা যাকে নিয়ে এত কথা বলছি জুল ভের্ণ, তিনি কিন্তু আমাদের সাথে জড়িয়ে আছেন। আপনি জানলে অবাক হবেন বাংলাদেশ কিংবা ভারতের মানুষের কাছে ভের্ণ অনেকটা ঘরের মানুষের মতই আপন। কেউ যখন ঘরের কথা বলে তখন তাকে ঘরের মানুষ না বলে পারা যায় না। ভের্ণের লেখায় বাংলাদেশ ও ভারতও রয়েছে। যেমন রুমার গর্ডেনের লেখা দ্য রিভার উপন্যাসটির কথা আমরা বলতে পারি। ভের্ণ কিন্তু ঘুরে বেড়াতে চেয়েছিলেন। ধরাবাঁধা কোন পেশার প্রতি ছিল না তার বিশ্বাস। লোভনীয় আইন পেশা ছেড়ে পেট চালাতে করেছেন স্টক মার্কেটের দালালি। যখন তার হাতে পয়সা আসতে শুরু করল তখন তার ভেতর ভ্রমণে যাওয়ার ইচ্ছা জেগে উঠল। তিনি পরিবার নিয়ে ঘুরতে যান যুক্তরাস্ট্রে এবং সেখানে দেখেন নিউইয়র্ক সিটি ও নায়াগ্রা ফলস। মানুষ কতটা ক্ষেপাতে হয় ভাবুন। তিনি নিজের ভাবনাকে স্বীকৃতি দিতে কিনে ফেললেন কয়েকটি নৌকা এবং ভ্রমণ করেন ইউরোপের কিছু দেশ। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস সেই নৌকাগুলো ভের্ণ ধরে রাখতে পারেননি। তার ছেলের জন্য বিক্রি করে দিতে হয়েছিল। শেষ বয়সে ভের্ণ হতাশার মধ্যে পড়েন। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ভাগ্নের আক্রমণে ভের্ণের পায়ের নিচের অংশে গুলি লাগে। যার ফলে তিনি আংশিকভাবে পঙ্গু হয়ে যান। হতাশায় বিজ্ঞানপন্থী অনুসন্ধান থেকে এবং আবিষ্কারের গল্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা এমন এক যুগে বাস করছি যার বীজ বপন করেছিলেন জুল ভের্ণের মত কল্পবিজ্ঞানের লেখকরা। তাই তো টেলিভিশন ভিডিও গেমস এবং ইন্টারনেট থাকা সত্ত্বেও মানুষ এখনো তার লেখা পড়তে পছন্দ করে। সাথে আজ আমরা জন গ্রিশাম এবং জে কে রাউলিংস, নোরা রবার্টস এবং টনি হিলারম্যানের মতো জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিকদের লেখাও পড়ি। কিন্তু এদের চেয়ে আরো প্রখর কল্পনাশক্তির নিয়ে কেউ যদি ভবিষ্যৎ পৃথিবী কল্পনা করে বই লেখে। অথবা আবার যদি টাইম মেশিন ধরে ফিরে আসে ভের্ণ, তাহলে কি আমরা তাকে গ্রহণ করব? না কি হেসে বলব এসব উদ্ভট ঘটনা আমাদের এই পৃথিবীতে ঘটতেই পারে না?



