[0:02]বাংলাদেশ যখন ভোটের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ঠিক তখনই একটি গোপন নথি এসেছে আমাদের হাতে যা দেশের অন্যতম প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতার মুখোশ খুলে দিয়েছে।
[0:15]বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে উদার সংস্কারের প্রবক্তা হিসেবে দেখা হয়।
[0:24]কিন্তু আমাদের হাতে আসা তথ্য বলছে তিনি বাংলাদেশের জনগণের জন্য নয় বরং প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার জন্য কাজ করছেন।
[0:35]ফাঁস হওয়া একটি সরকারি নথি অনুযায়ী চট্টগ্রামের উত্তর কাট্টলিতে জন্ম নেওয়া এই বিএনপি নেতা গত তিন বছরে অন্তত 14 বার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি সফর করেছেন।
[0:46]এসব সফরের কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে চিকিৎসা ও পারিবারিক ভ্রমণ।
[0:51]তবে গোয়েন্দা সূত্র বলছে সফর সূচির কারণ ছিল ভিন্ন।
[0:56]ইংল্যান্ডের লন্ডনে হিসাব বিজ্ঞান নিয়ে অধ্যয়ন করা এই নেতা হিসাব মিলাতে জানেন ভালোভাবে।
[1:02]তবে এবার তিনি যে হিসাব করছেন তা দেশের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপোসের।
[1:06]ফাঁস হওয়া নথি অনুযায়ী 2024 সালের নভেম্বরের একটি সফরে তিনি প্রায় ছয় ঘন্টা তার নিরাপত্তা বহর থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন।
[1:15]ওই সময় তাকে কূটনৈতিক এলাকায় অবস্থিত একটি সেফ হাউজে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
[1:20]ওই এলাকাটি ভারতের বহিরাগত গোয়েন্দা সংস্থার হ্যান্ডলারদের আতাতের জায়গা হিসেবে পরিচিত।
[1:26]গোপন সূত্রের দাবি 2023 সাল থেকে আমীর খসরু অন্তত নয়বার ভারতের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।
[1:33]এমনকি শুধু ভারতেই নয় ব্যাংকক এবং সিঙ্গাপুরের মতো নিরপেক্ষ জায়গাতেও ওই কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন আমির খসরু।
[1:44]প্রশ্ন হলো এসব গোপন মিটিং এ কি নিয়ে আলোচনা হয়েছে?
[1:48]গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মতে বিষয়টি ভয়াবহ।
[1:51]বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করার একটি বিশেষ ছক।
[1:55]চট্টগ্রাম চেম্বার অফ কমার্সের সাবেক সভাপতি এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আমীর খসরু জানেন দেশের অর্থনীতির রক্তনালী গুলো কোথায়?
[2:07]মূলত এসব প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্ব নিতে আর ফাঁক ফোকর বুঝতেই আমীর খসরুর সাথে একাধিকবার গোপন মিটিং করেন ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা।
[2:16]আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানিয়েছে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে একটি গোপন চুক্তি করতে রাজি হয়েছেন আমীর খসরু।
[2:24]আর ওই চুক্তির সাংকেতিক নাম দেওয়া হয়েছে ট্রানজিট প্যাক্ট।
[2:28]এই চুক্তির সব শর্ত গুরুতর মূলত আমীর খসরুর নিজস্ব দক্ষতাকে ব্যবহার করেই সাজানো হয়েছে চুক্তিপত্রটি।
[2:37]আমির খসরুর ভারতপ্রীতির প্রমাণ মেলে আরো অনেকভাবেই।
[2:40]চট্টগ্রামের সন্তান হয়েও তিনি ইতোমধ্যেই নতুন আন্তর্জাতিক গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
[2:48]অথচ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বৈশ্বিক বাণিজ্যের কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
[2:53]জানা গেছে এই প্রকল্পের বদলে পণ্য পরিবহন ভারতের নিজস্ব এবং বর্তমানে সংকটে থাকা বন্দরগুলোর দিকে ঘুরিয়ে দেয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
[3:04]গোপন এই চুক্তি অনুযায়ী বৈচিত্র্যময় জ্বালানি চুক্তি বাতিল করে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ গ্রিডকে একচেটিয়াভাবে ভারতের জ্বালানি রপ্তানির উপর নির্ভরশীল করার অঙ্গীকার করা হয়েছে যার দাম বর্তমান বাজার মূল্যের চেয়ে প্রায় 20 শতাংশ বেশি।
[3:20]চুক্তিতে সবচেয়ে বিস্ময়কর দাবি হলো নতুন কিছু কমপ্লায়েন্স রেগুলেশনে সম্মতির বিষয় যার ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বা আরএমজি শিল্প কার্যত অচল হয়ে পড়বে।
[3:30]সেই সাথে ভারতীয় টেক্সটাইল খাত তাদের হারানো বৈশ্বিক বাজার আবার দখলের সুযোগ পাবে।
[3:37]2018 সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় গ্রেফতার হন আমীর খসরু মাহমুদ।
[3:42]2023 সালেও এক পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যুর মামলায় তার বিরুদ্ধে নেওয়া হয় আইনি পদক্ষেপ।
[3:48]এসব কারণে নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে ধরা হয় এই বিএনপি নেতাকে।
[3:52]তবে গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের দাবি মূলত ওই সময়ে তাকে চাপে রেখে কৌশল নেওয়া হয় গোপন চুক্তিতে রাজি করানো।
[4:01]এতসব কিছুর পর আমীর খসরু আসলে নির্বাচনে ভোট চাইছেন না।
[4:05]তিনি চাইছেন বাংলাদেশকে ভারতের কাছে আত্মসমর্পণ করাতে।
[4:09]ভোটের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে প্রশ্নটি এখন আর নীতিগত নয় প্রশ্ন সার্বভৌমত্বের।
[4:14]আমরা কি এমন এক নেতাকে ভোট দেব যিনি জনগণের কাছে জবাবদিহি করেন নাকি যিনি দেশের ভাগ্য সীমান্তের ওপারে কোনো হ্যান্ডেলারের হাতে তুলে দিয়েছেন তাকে?
[4:26]আল্লাহ হাফেজ।



