[0:00]পৃথিবীতে আপনি কোন এক টাইমে শুধুমাত্র একটি জায়গাতেই থাকতে পারবেন। কিন্তু কি হবে যদি আপনি একই টাইম ইনস্ট্যান্টে প্যারালালভাবে পাঁচটি আলাদা আলাদা জায়গায় থাকতে চান? সো ওয়েলকাম টু দ্যা কোয়ান্টাম ইউনিভার্স।
[0:35]কোয়ান্টাম বলবিদ্যা বা কোয়ান্টাম মেকানিক্স হলো এখনো পর্যন্ত বিজ্ঞানের সবথেকে রহস্যময় বিষয়গুলির একটি। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সব এটোমিক পার্টিকেলস যেমন ইলেকট্রন প্রোটন কোয়ার্কস এছাড়াও লাইট ও এনার্জির ফোটন এগুলি সব হলো কোয়ান্টাম পার্টিকেলস। এই কোয়ান্টাম পার্টিকেলসগুলি মিলে তৈরি করে তাদের কোয়ান্টাম ইউনিভার্স এবং এই কোয়ান্টাম ইউনিভার্সের রুলস রেগুলেশনস লজিকস এই সব নিয়ে ডিল করে পদার্থবিদ্যার শাখা কোয়ান্টাম ফিজিক্স। কোয়ান্টাম ওয়ার্ল্ডকে আমরা আমাদের জেনারেল সাইন্টিফিক লজিক দিয়ে বুঝতেই পারি না। কোয়ান্টাম ফিজিক্সের কোন এক্সপেরিমেন্টের রেজাল্ট এতটাই আশ্চর্যজনক হয় যে আপনি সেম এক্সপেরিমেন্ট আবার করলে কখনোই নিশ্চিতভাবে বলতে পারবেন না তার রেজাল্ট এখন কি হবে? কোয়ান্টাম লেভেলে করা এক্সপেরিমেন্টগুলো আনসার্টেনটি অর্থাৎ অনিশ্চয়তায় ভর্তি। প্যারালাল ইউনিভার্স মাল্টিভার্স টাইম ট্র্যাভেলিং টেলিপোর্টেশন টানেলের মত কল্পবিজ্ঞানের এই বিষয়গুলিও কোয়ান্টাম ফিজিক্সের সাহায্যে ভবিষ্যতে হয়তো কখনো সত্যি হবে বলে অনেকে মনে করেন। কোপেনহেগেনের এক কনফারেন্সে কোয়ান্টাম পার্টিকেলের বিহেভিয়ার নিয়ে আলোচনা করা হয়। যেখানে অ্যালবার্ট আইনস্টাইন আরউইন শ্রুডিংজারের মতো বড় বড় বিজ্ঞানীরা কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন যা কোপেনহেগেন ইন্টারপ্রিটেশন অফ কোয়ান্টাম ফিজিক্স নামে পরিচিত। সেই সিদ্ধান্তগুলিকে ক্লাসিক্যাল ফিজিক্সের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখলে এতটাই অবাস্তব বলে মনে হয় যে আরউইন শ্রুডিংজারের সেই সিদ্ধান্তগুলিকে একদম পছন্দ হয়নি। সেই সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে একটি ছিল এরকম: কোয়ান্টাম সিস্টেমে কোন পার্টিকেল বা অবজেক্টকে যতক্ষণ না দেখা হচ্ছে বা অবজার্ভ করা হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত সেই পার্টিকেল বা অবজেক্ট একইসাথে তার সমস্ত পসিবল স্টেটে অবস্থান করবে। সহজ করে বোঝার জন্য মনে করুন পৃথিবীটা হলো একটা কোয়ান্টাম সিস্টেম। এবং পৃথিবীর সব অবজেক্ট হলো কোয়ান্টাম অবজেক্ট। তাহলে এটা হলো একটা কোয়ান্টাম ফুটবল। এটাকে সামনে রেখে দিয়ে আপনি পিছনে ঘুরলেন। তাহলে আপনি যখন ফুটবলটির দিকে তাকাচ্ছেন না মানে কি অবজার্ভ করছেন না তখন এই ফুটবলটি একই সময় স্পেসের সব জায়গাতেই রয়েছে অনেকটা এইরকম। সে একই সাথে আপনার পিছনে, ইন্ডিয়াতে, আমেরিকাতে এমনকি আপনার বাড়ির ছাদেও রয়েছে। অনেকটা ওয়েভের মতো চারিদিকে ছড়িয়ে আছে। কিন্তু যখনই আপনি ফুটবলটির দিকে তাকাবেন ওমনি সেটার ওয়েভ ফাংশন সব কোলাপস করে যাবে আর আপনি ফুটবলটি সেখানেই দেখতে পাবেন যেখানে আপনি এটাকে আগে রেখেছিলেন। আবার যদি আপনি বলটা থেকে চোখ সরান তাহলে তার সব ওয়েভ ফাংশন আবার তৈরি হয়ে যাবে এবং স্পেসে সেগুলি ছড়িয়ে পড়বে। অর্থাৎ আপনার দৃষ্টির উপর নির্ভর করে কোয়ান্টাম পার্টিকেল তার ক্যারেক্টার বদলে ফেলবে। আরউইন শ্রুডিংগার কোয়ান্টাম পার্টিকেলের এই আচরণকে সহজভাবে বোঝানোর জন্য একটি থট এক্সপেরিমেন্ট বা কাল্পনিক এক্সপেরিমেন্ট করেন যা শ্রুডিংগারস ক্যাট এক্সপেরিমেন্ট নামে পরিচিত। এই এক্সপেরিমেন্টে একটি বাক্সের ভিতর এই জিনিসগুলি রাখা হয়। কিছু রেডিওঅ্যাক্টিভ সাবস্টেন্স, একটা গাইগার কাউন্টার, একটা হাতুড়ি ও একটা বিষের কৌটো। চলুন এই এক্সপেরিমেন্টের প্রসেসটা বুঝে নিই। রেডিও অ্যাক্টিভ এলিমেন্টটিকে এমন নেওয়া হয় যাতে তা থেকে রেডিয়েশন ঘটার 50% চান্স থাকে। মানে ওই সাবস্টেন্স থেকে রেডিয়েশন হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। যদি রেডিয়েশন হয় তাহলে গাইগার কাউন্টার সেটা ডিটেক্ট করে নেবে আর হাতুড়িটা বিষের কৌটোর উপর ফেলবে যাতে বিষের কৌটোটা ভেঙে বিষ সারা বাক্স ছড়িয়ে পড়বে। এখন এই বাক্সের ভিতর একটা কাল্পনিক বেড়ালকে ঢুকিয়ে দিয়ে বাক্সের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হলো। এখন যদি বাক্সের ভিতর রেডিয়েশন ঘটে তাহলে গাইগার কাউন্টার ওই হাতুড়ি দিয়ে বিষের কৌটোটা ভেঙে ফেলবে। ফলে বেড়ালটি ওই বিষে মারা যাবে। কিন্তু যদি রেডিয়েশন না ঘটে তাহলে সবকিছু ঠিকঠাক থাকবে ও বেড়ালটিও বেঁচে থাকবে। এখন সব সেটাপ রেডি করার পর এক্সপেরিমেন্ট স্টার্ট করা হলো। ওই এক্সপেরিমেন্টের এক ঘন্টা পর বাক্সের ভিতর ওই বেড়ালটির কি অবস্থা হবে? আপনি কি বাক্স না খুলে তা বলতে পারবেন? এই এক্সপেরিমেন্টের শ্রুডিংগার বলেন আমাদের লজিক অনুযায়ী বাক্সের ভিতর বেড়ালটি হয়তো মারা যাবে না হয় বেঁচে থাকবে যে কোনো একটা ঘটবে। কিন্তু কোয়ান্টাম ওয়ার্ল্ডের লজিক অনুযায়ী যতক্ষণ না আপনি বাক্স খুলে বেড়ালটির সিচুয়েশন অবজার্ভ করছেন ততক্ষণ পর্যন্ত বেড়ালটি একই সাথে তার সকল পসিবল স্টেটে থাকবে। মানে সে একই সাথে বেঁচে থাকবে এবং একই সাথে মারা যাবে। কিন্তু এটা কি করে সম্ভব? একই সাথে বেঁচে থাকা এবং একই সাথে মারা যাওয়া? সত্যিই তাই। কোয়ান্টাম জগতে এমন কিছু আছে যা আমাদের ক্লাসিক্যাল ফিজিক্স আজও এক্সপ্লেইন করতে পারে না। ওয়েল শ্রুডিংগার কোয়ান্টাম ইউনিভার্সের এই অদ্ভুত ব্যাপারটি মানতে পারেননি এবং তিনি কোয়ান্টাম ফিজিক্সের উপর রিসার্চ ছেড়ে দিয়ে পরে তিনি বায়োলজির উপর কাজ শুরু করেন। সবশেষে এটা তো স্পষ্ট যে কোয়ান্টাম ওয়ার্ল্ড এক্সিস্ট করে কিন্তু তার নিয়ম কানুন আমরা আমাদের সাধারণ জীবনের লজিকগুলো দিয়ে এক্সপ্লেইন করতে পারবো না। চলুন যাওয়ার আগে একটা ম্যাজিক দেখাই। ওই যে এস ইউ বি হ্যাঁ ওই যে কি লেখা হ্যাঁ হ্যাঁ ওই যে লাল রঙের বাটন দেখতে পাচ্ছেন ভিডিওর নিচে? হ্যাঁ ওই বাটনটায় একবার জাস্ট ক্লিক করুন তো দেখুন ওই লালটা সাদা কালো হয়ে যাবে। কি হলো বিশ্বাস হচ্ছে না? আচ্ছা আচ্ছা ট্রাই করে দেখুন না।



