[0:07]আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ইরান নিয়মিত আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে মার্কিন সেনারা ঘাঁটির বাইরে অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু তেহরান সেটা জানতে পেরে প্রায় 500 মার্কিন সেনা যেখানে লুকিয়ে ছিল সেখানেই হামলা করেছে। আল জাজিরার আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ইরান এবার ইউক্রেনীয় ড্রোন ডিপোতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। ইরানের দাবি স্থাপনাটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করছিল। এছাড়াও মার্কিন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা দাবি করেছেন রাশিয়া আরো উন্নত সংস্করণের ড্রোন সরবরাহ করছে ইরানকে। ইরানের ইসলামিক রেভলুশনারি গার্ড কস বা আইআরডিসি খাতাম আল আম্বিয়া সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগির বরাতে আধা সরকারি সংবাদ মাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে দুবাইয়ে দুটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এসব জায়গায় 500 এর বেশি মার্কিন সেনা লুকিয়ে ছিলেন এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম যে আমাদের বাহিনীর শক্তিশালী আক্রমণের কারণে মার্কিন সেনারা তাদের ঘাঁটি ছেড়ে বাইরে গিয়ে লুকিয়ে রয়েছে। এছাড়া মার্কিন নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন সামরিক নেতৃত্বকে বুঝতে হবে এই অঞ্চল আমেরিকান সেনাদের জন্য কবরস্থানে পরিণত হবে এবং শেষ পর্যন্ত তাদের আত্মসম্পর্ক করার ছাড়া উপায় থাকবে না। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের 17 টি ঘাঁটি গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল শিক্ষার্থী এ দাবি করেছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে মেহের নিউজ। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল শেখাচি জানান পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত 17 টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে 17 টি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছিল। সেগুলো ইতোমধ্যেই ইরানী বাহিনী ধ্বংস করেছে। তিনি দাবি করেন এসব ঘাঁটি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে মার্কিন বাহিনী।
[2:13]তিনি 2025 সালের 13 জুন শুরু হওয়া 12 দিনের ইসরাইল ইরান সংঘাত প্রসঙ্গে বলেন ওই যুদ্ধের পর ইরান তাদের প্রতিরক্ষামূলক নীতি পরিবর্তন করে আরো আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করেছে। শিক্ষার্থী দাবি করেন গত 47 বছরে ইরান কোন দেশকে আক্রমণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তবে কেউ ইরানের উপর হামলা চালালে পাল্টা আঘাত করে শত্রুকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করা হবে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে একটি ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে ইরান। এলাকাটি ইউক্রেনের ড্রোন বিধ্বংসী ডিপো হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। শনিবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
[2:58]ইরানের খাতামাল আম্বিয়া সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায় দুবাইয়ে অবস্থানরত একটি ইউক্রেনীয় এন্টি ড্রোন সিস্টেম ডিপোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি ওই স্থাপনাটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করছিল।
[3:14]রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বিবৃতিতে বলা হয় দুবাইয়ে মার্কিন কমান্ডার ও সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তার জন্য স্থাপিত একটি ইউক্রেনীয় এন্টি ড্রোন সিস্টেম রিপোর্ট ধ্বংস করা হয়েছে। এদিকে একই দিনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি আকস্মিক সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যান। সফরকালে তিনি জানান দুই দেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো জোরদারে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত শাহে ড্রোনের আরো উন্নত সংস্করণ রাশিয়া ইরানে পাঠাচ্ছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা। ওই কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা এপিকে এই তথ্য জানিয়েছে। সূত্রের বরাতে এপি জানিয়েছে আগে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের ময়দানে ইরানের তৈরি শাহে ড্রোন ব্যবহার করলেও এখন সেগুলোকে আরো আধুনিক করে তুলেছে মস্কো। নতুন সংস্করণে যুক্ত করা হয়েছে জেট ইঞ্জিন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নির্ভর নেভিগেশন, উন্নত জ্যামার প্রতিরোধী প্রযুক্তি এবং স্টারলিং এর স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ডিভাইস। এই উন্নত ড্রোন গুলো বর্তমানে তেহরানে পাঠানো হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের ধারণা আজারবাইজান হয়ে মানবিক সহায়তার আড়ালে ট্রাকে করে এসব ড্রোন পরিবহন করা হচ্ছে। তবে এটি এককালীন নাকি ধারাবাহিক সরবরাহ তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকফ বলেন এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন ইরান অন্য কোন দেশ থেকে যাই পাক না কেন তা আমাদের অভিযানের সাফল্যে প্রভাব ফেলবে না।



