[0:00]Hello student, তোমরা যারা ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটির আন্ডারে প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র-ছাত্রী আছো, তোমাদের জন্য আজকের ক্লাসটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আজকের ক্লাসে তোমাদের কন্সটিটিউশনাল ভ্যালু অর্থাৎ সাংবিধানিক মূল্যবোধ বলে যে সাবজেক্টটা তোমাদের আছে সিভ্যাক সাবজেক্টের মধ্যে, এই সাবজেক্টের একটা গুরুত্বপূর্ণ বড় প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আলোচনা করব। প্রশ্নটা কি আছে দেখো সংবিধান এবং সাংবিধানিকতা কাকে বলে? তোমাদের জন্য মোস্ট ইম্পর্টেন্ট এই প্রশ্নটা। কন্সটিটিউশন এবং কন্সটিটিউশনালিজম এই প্রশ্নটা তোমাদের 10 নম্বর 10 নম্বর বা 15 নম্বরে পরীক্ষায় আসতে পারে। তোমাদের যে সিভ্যাক সাবজেক্টের কন্সটিটিউশন ভ্যালু পেপারটা আছে, এই পেপারে তোমাদের 25 নম্বরের প্রশ্ন হয়। সেখানে তোমাদের 10 প্লাস 15 এইভাবে প্রশ্ন হতে পারে বা 15 প্লাস 10 এইভাবে প্রশ্ন হতে পারে। সেখানে এই প্রশ্নটা তোমাদের 15 বা 10 এ আসার খুব সম্ভাবনা আছে। প্রথমে দেখে নাও সংবিধান, সংবিধান কাকে বলে সেটা বুঝে নাও। সংবিধান হলো একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। সাধারণভাবে সংবিধান বলতে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুন সমষ্টিকে বোঝায়। দেশের জনগণকে শাসন করার জন্য রাজনৈতিক ব্যবস্থার মূল কাঠামোর এক সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করে সংবিধান। রাষ্ট্রের প্রধান বিভাগ যথা আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ সংবিধান অনুসারেই গঠিত হয়ে থাকে। আবার সংবিধানেই এই সমস্ত বিভাগগুলির ক্ষমতা ও দায়িত্বকে সুনির্দিষ্টভাবে স্থির করে থাকে। পাশাপাশি রাষ্ট্র তথা রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জনগণের পারস্পরিক সম্পর্কও সংবিধান দ্বারাই নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। প্রসঙ্গগত উল্লেখযোগ্য যে, সংবিধান লিখিত আকারেও থাকতে পারে আবার অলিখিতও হতে পারে। অলিখিত সংবিধানের উদাহরণ হিসাবে ব্রিটেনের সংবিধানের কথা বলা যায়। তবে, ভারতের সংবিধান হলো বিশ্বের বৃহত্তম লিখিত সংবিধান। যেকোনো দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিচয় বহন করে সে দেশের সংবিধান।
[2:29]সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের স্বরূপ তথা প্রকৃতি সবকিছুই নির্ধারিত হয় সংবিধানের দ্বারা। তবে সংবিধান রচনার ক্ষেত্রে সেই দেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, চাহিদা বিশেষ প্রভাব ফেলে থাকে। সে কারণে সংবিধান যেকোনো রাষ্ট্র তথা রাষ্ট্রের জনগণের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। বলা বাহুল্য ভারতের সংবিধানও এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী নয়। সাংবিধানিকতা বা সংবিধানবাদ (Constitutionalism) সুভাষ সি. কাশ্যপ তাঁর Our Constitution গ্রন্থে নিয়মতান্ত্রিকতা বলতে সংবিধান শাসিত বা সংবিধানের অধীন রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে বুঝিয়েছেন। তাঁর মতে, নিয়মতান্ত্রিকতা সীমাবদ্ধ সরকার ও আইনের অনুশাসনকে প্রতিষ্ঠিত করে। ফলে শাসন ব্যবস্থা কখনোই স্বেচ্ছাচারী, স্বৈরাচারী বা একনায়কতান্ত্রিক হয়ে উঠতে পারে না। সেকারণে সাংবিধানিক সরকার সবসময়ই গণতান্ত্রিক সরকার হয়ে থাকে। তাছাড়া নিয়মতান্ত্রিকতা মানেই লিখিত সংবিধান; কারণ লিখিত সংবিধান রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষমতা ও কার্যাবলির সীমানা নির্ধারণ করে। ভারতেও সংবিধানের প্রাধান্য স্বীকৃত। ভারতের লিখিত সংবিধান হল দেশের সর্বোচ্চ মৌলিক আইন। সংবিধানের ঊর্ধ্বে কেউই নয়।
[4:26]সংবিধান অনুসারেই রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গগুলির ক্ষমতা, কার্যাবলীর সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। নিয়মতান্ত্রিকতার সূত্র মেনেই ভারতেও সীমাবদ্ধ সরকার এবং আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারের এখতিয়ারকে যেমন সীমাবদ্ধ করা হয়েছে, তেমনি পাশাপাশি আইনের অনুশাসন নীতির প্রেক্ষিতে ভারতের কোনো নাগরিকই বিশেষ কোনো সুযোগ-সুবিধা দাবি করতে পারে না এবং সব শ্রেণির নাগরিকই দেশের সাধারণ আইনের দ্বারা সমভাবে সংরক্ষিত হবে। ক্ষমতা, পদমর্যাদা ও অবস্থা নির্বিশেষে প্রতিটি ব্যক্তি সাধারণ আইনের অধীন এবং সাধারণ আদালতের কাছে একই রকম, বেআইনি কাজের জন্য সকলকে সমানভাবে দায়ী থাকতে হয়। এ বিষয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাধারণ একজন মানুষ সাধারণ একজন কৃষকের কোনো পার্থক্য নেই। এই ছিল তোমাদের ক্লাস।



