[0:00]আশা করি চিকেন কারি আপনারা অনেকবার বানিয়েছেন, কিন্তু একবার এই পদ্ধতিতে ট্রাই করে দেখুন এর টেস্টটা একদম আলাদা হয়, আর খেতে অসাধারণ লাগে।
[0:10]খুব সহজ ও সিম্পল ভাবে চেষ্টা করেছি, এই রেসিপিটা আপনাদের করে দেখানোর। আর সাথে অবশ্যই থাকছে অনেক টিপস অ্যান্ড ট্রিকস। বাই দা ওয়ে, আমি শেফ অতনু, আপনারা দেখছেন অতনুর রান্নাঘর, আর আজকে আমাদের রেসিপি চিকেন কারি। তাহলে চিকেন কারি বানানোর জন্য এখানে সর্বপ্রথম নিয়ে নিয়েছি ৫০০ গ্রাম আলু। আর তার মধ্যে যদি এরকম বড় সাইজের আলু থাকে, সেটাকে আপনারা ওয়ান বাই টু করে নেবেন। আর এরকম ছোট সাইজের আলু থাকলে, অ্যাজ ইট ইজ রেখে দিতে পারেন।
[0:39]আলুগুলো কেটে নেওয়ার পরে যাতে এটা কালো না হয়ে যায়, সেই জন্য রেখে দিচ্ছি আমি এটা জলের মধ্যে। আর এবার নিয়ে নিয়েছি ২৫০ গ্রাম পেঁয়াজ, যেটা আমরা একদম ফাইনলি চপ করে নেব। আপনারা চাইলে এটাকে পাতলা পাতলা করে কেটে নিতে পারেন, বাট যেহেতু আমরা এটা চিকেন কারি বানাচ্ছি, সেই জন্য এভাবে কেটে নিলেই ভালো।
[0:59]এবার পেঁয়াজটা কাটা হয়ে গেলে, ফাইনালি আমরা চিকেন কারিটা বানিয়ে নেব। তার জন্য একটা কড়াই নিয়ে আমি তাতে দিয়ে দিয়েছি ১০০ মিলি সরষের তেল। আর তেলটা সামান্য একটু গরম হয়ে গেলে আমি এখানে দিয়ে দেবো আমাদের কেটে রাখা আলুগুলো। আর তারপর এটাকে একবার ভালো করে ভেজে নেব। আর ভাজার সময় অতি অবশ্যই একটু হলুদ আর নুন দিতে ভুলবেন না। এই হলুদ আর নুন দেওয়ার কারণেই দেখবেন আলুর রংটা খুব সুন্দর চলে আসবে, আর আলুর মধ্যে নুনটাও ভালো করে ঢুকে যাবে। এবার যখনই দেখবেন আলুটা একটু লাল লাল করে ভাজা হয়ে গেছে, তখনই আমাদের এটাকে তুলে নিতে হবে। বাট এটা মাথায় রাখতে হবে, আলুটা কিন্তু আপনাদের খুব বেশি ভাজলে হবে না। মোটামুটি ৬০% মতো কুক করলেই হবে। আচ্ছা এবার দেখে নিন, মোস্ট ইম্পর্টেন্ট স্টেপ। সেটা হলো আমাদের এই চিকেন কারি বানানোর জন্য আমি এখানে নিয়ে নিয়েছি ১.৫ কেজি চিকেন, আর পিসগুলো হয়তো আপনারা নিশ্চয়ই দেখতে পাচ্ছেন খুব বেশি বড় নয়, আবার খুব বেশি ছোটও নয়। এবার এই পুরো চিকেনটাকে আমি ভেজে নেব তেলের মধ্যে, যে তেলে আমরা আলুটাকে ভেজেছিলাম।
[2:00]আচ্ছা এবার বলি এই চিকেনটাকে আপনারা আগে ভেজে নেওয়ার কারণটা কি। প্রথমত যে তেলে আপনারা ভাজছেন, সেই তেলটা পুরোটাই একদম চিকেনের ফ্লেভারের হয়ে যাবে। তাই এরপর আপনারা পেঁয়াজ, টমেটো যাই কুক করেন, তার মধ্যে একদম চিকেনের ফ্লেভারটা ভালো করে ইনট্যাক্ট থাকবে, যেটা আপনারা পেঁয়াজ কুক করার পরে দিলে, অতটা আসবে না। আর দ্বিতীয়ত এভাবে ভেজে নেওয়ার কারণে চিকেনটা উপর থেকে বেশ হালকা হালকা ভাজা হয়ে যায়। তাই চিকেনের যে একটা স্মেল থাকে সেটা আর থাকবে না। তাই চিকেন কারি খাওয়ার সময় আপনাদের আর কোনো রকম স্মেল লাগবে না। এবার একটা জালের মাধ্যমে আমি চিকেনগুলোকে তুলে নিচ্ছি একটা বোলের মধ্যে। আর এভাবে একটু হালকা ভেজে নিলে দেখবেন চিকেনটা আপনাদের আর ছিঁবড়েও হবে না। আশা করি এই টিপসটা আপনাদের নিশ্চয়ই কাজে লাগবে। আর এপাশে দেখুন তেলটা কতটা বেড়ে গেছে। বেসিক্যালি চিকেনের যে জুসটা সেটা এর মধ্যে এসে গেছে। এবার এই তেলের মধ্যে আমি দিয়ে দেব কিছু গরম মশলা, যেমন একটা তেজপাতা, দুটো ছোট টুকরো দারচিনি আর চারটে এলাচ। আর এগুলোকে একবার ভালো করে ভেজে নেব। আর একটু ভালো গন্ধ বেরিয়ে আসলে এখানে দিয়ে দিতে হবে, ১ চা চামচ গোটা জিরে। আর সেটাকে একবার মিশিয়ে নিয়ে আমরা যে পেঁয়াজটা চপ করে রেখেছিলাম, সেটা এখানে দিয়ে দিচ্ছি। আর দেওয়া হয়ে গেলে একটু ধৈর্য্য ধরে এটাকে ভালো করে আপনারা ভেজে নেবেন। মোটামুটি তিন থেকে চার মিনিট এটাকে আপনাদের ভালো করে ভেজে নিতে হবে। আর এটা যতক্ষণ ভাজা হচ্ছে, আমাদের ভেজে নেওয়া চিকেনগুলোকে আমি ম্যারিনেট করে নেব। তার জন্য আমি ২০০ গ্রাম দই একটু ভালো করে ফেটিয়ে নিয়ে এখানে দিয়ে দেব। আর সাথে দিয়ে দেব কিছু মশলা, যেমন দেড় চা চামচ কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো। ২ চা চামচ ধনে গুঁড়ো, আর ১ চা চামচ গরম মশলা। তারপর এই দই, চিকেন আর মশলাটাকে আমি একটু ভালো করে মিশিয়ে নিচ্ছি।
[3:39]আচ্ছা এখানে বলে রাখি দই দেওয়ার এখানে দুটো কারণ আছে। প্রথমত দই দেওয়ার কারণে গ্রেভিটা একটু রিচ হয় বা বলতে পারেন একটু বেশি টেস্টি হয়। আর দ্বিতীয়ত দই দেওয়ার কারণে চিকেনটা একটু বেশি টেন্ডারাইজড হয় বা বলতে পারেন একটু বেশিই নরম হয়। আর ম্যারিনেট করার পরে এটাকে আপনাদের বেশিক্ষণ রাখতে হবে না। মোটামুটি ১০ থেকে ১৫ মিনিট রাখলেই হবে। আর এপাশে এতক্ষণে আমাদের পেঁয়াজটা খুব ভালো করে ভাজা হয়ে গেছে। তাই এবার এখানে আমি দিয়ে দিচ্ছি ২ চা চামচ আদা রসুন বাটা। আর সেটাকেও আপনারা ভেজে নিন যতক্ষণ না এর কাঁচা গন্ধটা চলে যাচ্ছে। আর এর কাঁচা গন্ধটা চলে গেলে আমি এখানে দিয়ে দিচ্ছি ১ চা চামচ হলুদ। আর এই হলুদটা আপনাদের তেলেই দিতে হবে। কারণ আপনারা নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন, আমি কিন্তু হলুদটা ম্যারিনেশনে দিইনি। বেসিক্যালি আমরা এখানে হলুদটা ব্যবহার করছি রঙের জন্য। তাই হলুদের বেস্ট কালারটা আপনারা পাবেন তেলে দিয়ে দিলে। আর এবার এখানে দিয়ে দিচ্ছি দুটো বড় সাইজের টমেটো পেস্ট করে। যেহেতু আমরা ম্যারিনেশনে দই ব্যবহার করেছি, তাই এখানে খুব বেশি টমেটো দেওয়ার দরকার নেই। আর আপনারা যদি দই ব্যবহার না করে থাকেন, সেক্ষেত্রে আপনারা এখানে চারটে টমেটো পেস্ট করে দিয়ে দিতে পারেন। আচ্ছা এখানে বলে রাখি টমেটোটাকে কিন্তু আপনাদের খুব ভালো করে কুক করতে হবে, যতক্ষণ না এর মধ্য থেকে তেলটা বেরিয়ে আসছে, আর এর কাঁচা গন্ধটা একদমই চলে যাচ্ছে। এবার টমেটোটা ভালো করে কুক হয়ে গেলে আমি এখানে দিয়ে দিচ্ছি আমাদের ভেজে রাখা আলুগুলো। আর তারপর দু থেকে তিন মিনিট আপনাদের এটাকে ভালো করে একবার মিশিয়ে নিতে হবে। আলুটা একটু নরম হয়ে গেলে আমাদের ম্যারিনেট করে রাখা চিকেনটাকে আমি এখানে দিয়ে দিচ্ছি। ব্যাস চিকেন কারি বানানোর জন্য আমাদের ৯০% কাজ কিন্তু এখানে হয়ে গেছে। এবার শুধু আপনাদের এটাকে ভালো করে একবার মিশিয়ে নিতে হবে।
[5:23]আর যত মেশাবেন দেখবেন এর কালারটা খুবই সুন্দর চলে আসছে, বাট এখানেও একটা ট্রিকস আছে, আপনাদের কিন্তু প্রথমে এখানে জল দিয়ে দিতে হবে না। কারণ চিকেনের সাথে যে মশলাগুলো আছে, সেগুলো আপনাদের কুক হওয়ার টাইম দিতে হবে। তাই কোন রকম জল না দিয়ে মিনিমাম ৭ থেকে ৮ মিনিট আপনাদের এটাকে একদম ঢাকা দিয়ে কুক করে নিতে হবে। আর এখানে বলে রাখি, আমার প্রতিটি রেসিপি একদম বাংলায় লিখিত ফরম্যাটে আপনারা পেয়ে যাবেন আমার নিজস্ব ওয়েবসাইট www.atanurannaghar.com এ। আর এই AR Kitchen এর সব ইউটেন্সিলের লিংক আমি ডেসক্রিপশনে দিয়ে রেখেছি। Amazon থেকে আপনারা সেটা ইজিলি কিনে নিতে পারবেন। এবার ৭ থেকে ৮ মিনিট পরে আমি আপনাদের ঢাকনাটা খুলে দেখাচ্ছি। দেখুন চিকেন থেকেই বেশ কতটা জল ছেড়ে দিয়েছে। আর পেঁয়াজটাও একদম পারফেক্টলি গলে গেছে। আর আশা করি আপনারা কালারটাও নিশ্চয়ই দেখতে পাচ্ছেন কতটা সুন্দর চলে এসেছে। ঠিক এই স্টেজে আপনাদের এখানে দিয়ে দিতে হবে পরিমাণ মতো জল। আর তারপর ফাইনালি একবার ভালো করে ফুটিয়ে নিতে হবে।
[6:25]আমি এটুকু আপনাদের গ্যারান্টি দিয়ে বলছি এর টেস্টটা আপনাদের দারুন সুন্দর লাগবে। আর এই রেসিপিটা করা কতটা ইজি সেটা তো আপনারা নিশ্চয়ই দেখলেন। জলটা দিয়ে একবার ভালো করে ফুটিয়ে নিয়ে এখানে এবার দিয়ে দেবো সামান্য একটু ধনেপাতা। ব্যাস তাহলেই রেডি আমাদের চিকেন কারি।
[6:50]আশা করি এই রেসিপিটা আপনাদের নিশ্চয়ই ভালো লাগবে। আর ভালো লাগলে প্রতিবারের মতো আমাকে কিন্তু কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। বাই দা ওয়ে, আমি শেফ অতনু, আপনারা দেখছিলেন অতনুর রান্নাঘর। দেখা হচ্ছে আপনাদের সাথে আরেকটা নতুন রেসিপি নিয়ে নেক্সট এপিসোডে। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।



