[0:00]একটা হাদীস না বললেই নয়, এটা আমাদের সমসাময়িক সর্বাবস্থাতের জন্য এটা প্রযোজ্য। এটা চমৎকার একটা হাদীস, এ হাদীসটি মূলত রয়েছে মুসাদে আহদে, কিন্তু এ হাদীসের মূল আপনি পাবেন মুসলিমে। যখনই কোন হাদীসের হুকুম তিরমিজি, আবু দাউদ, নাসাই থেকে কেউ মুসলিম, বুখারী থেকে কোট করবে তারমানে জেনে নেন তার অথেন্টিক এবং তার সত্যতার পাল্লা 100% বেড়ে যায়। যখনই কোন হাদীসকে অন্য কিতাব থেকে কোট করুক, যদিও এটা সহীহ, যদি সহীহ হয় তাহলে তো ভালো কথা। কিন্তু যখন বুখারী মুসলিম থেকে পেয়ে যাবেন আপনি তাতে কোন সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। কারণ তারা সহীহ ছাড়া দুর্বল কোন হাদিস তাদের কিতাবে আনেনি। তো এই হাদিসটি মুসলিমের রয়েছে। আমি পড়বো আপনার কাছে মুসাদে আহমদ থেকে আর নাম্বারিং সহই বলবো ইনশাল্লাহু আযিজ। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর ইবনে আস এ হাদীসের বর্ণনাকারী। মুসাদে আহমদে হাদিসটি রয়েছে 6806 নাম্বারে 6806। এবং এই হাদীসটি আপনি মুসলিমে পাবেন 34 নম্বর অধ্যায়ে কিতাবুল ইমারাত যেখানে প্রশাসনের নিয়ম-কানুন সম্পর্কে যে হাদীসগুলো রয়েছে। যে প্রথম আমীরের হাতে বায়াত করা সেই পর্বে গিয়ে আপনি পাবেন, হাদীস হচ্ছে 4630 নাম্বার হাদিসে গিয়ে আপনি পেয়ে যাবেন এটা। 4630 সম্ভবত ইনশাআল্লাহু আজীজ। নইলে 34 নম্বর পর্বে আপনি গিয়ে পেয়ে যাবেন মুসলিমে। তাতে রয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মান আহাব্বা আয়্যু জা হা আনি নার ওয়াদুখুলাল জান্নাহ, ফালতুতরিকুহু মানিয়াতুহু ওয়াহুয়া ইয়ুমিনু বিল্লাহি ওয়ালি ইয়াওমিল আখির। ওয়ায়াতাই ইলান্না নাছ মা ইউহিব্বু আয়্যু ইতা ইলাইহ, এটা হচ্ছে হাদীস। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তোমাদের মধ্যে যেই ব্যক্তি এটা পছন্দ করো যে মরার পরে তাকে বিনা শাস্তিতে জান্নাত দিয়ে দিক। আল্লাহ বলছে, মানে রাসূল সাল্লাম বলছেন তোমাদের মাঝে কোন সেই ব্যক্তি কে আছো যে যাকে মরার পরে হাশরের মাঝে উঠানো হবে জাহান্নামকে সে দেখতে পাবে জান্নাতকে দেখতে পাবে। এখন এবং তাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচিয়ে রেখে জান্নাত দিয়ে দেওয়া হবে। তার মানে কি বিনা শাস্তিতে জান্নাত। তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তিকে এমন আছো যে এটা পছন্দ করো। যে এটা পছন্দ করে যে আমি সেই ব্যক্তি আল্লাহ আমাকে বিনা শাস্তিতে জান্নাত দিয়ে দিক। রাসুল সাল্লাম বলছেন তার দুইটা করনীয় আছে। সে যদি দুইটা কাজ করে দেখাতে পারে তাহলে তাকে আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা ওয়াদা করছেন বিনা শাস্তিতে তাকে আল্লাহ জান্নাত দিয়ে দিবেন। সে কাজ দুইটা কি? যদিও কাজ দুইটা খুব সিম্পল কিন্তু করে দেখাতে পারলে আপনি হয়ে যাবেন জান্নাত। রাসূল সাল্লাম বলছেন, ফালতুতরিকুহু মানিয়াতুহু ওয়াহুয়া ইয়ুমিনু বিল্লাহি ওয়ালি ইয়াওমিল আখির। আপনাকে সর্ব অবস্থায় প্রস্তুত থাকতে হবে যে আপনি আল্লাহ এবং পরকালে বিশ্বাসী। কারণ মালেকুল মউত কারো সাথে কোন ডেট ফিক্সড করা আছে টাইমিং করা আছে যখন তখন আসতে পারে তাই নয় যখন তখন আসতে পারে। রাসূল সাল্লাম বলছেন মালেকুল মউত তো যখন তখন আসবে এটা তো আমাদেরকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তুমি এখন জেনে নাও তুমি প্রস্তুত থাকো। কি নিয়ে তোমার স্মরণজমিন নিয়ে যে কোন সময় তোমার ডাক আসবে আসো তোমার ফ্লাইট চলে আসছে। যাতে তোমাকে যখন ডাকা হবে তখন যেন তোমার কাছে দুইটা জিনিস থাকে সেটা কি? ফালতুতরিকুহু মানিয়াতুহু ওয়াহুয়া ইয়ুমিনু বিল্লাহি ওয়াল ইয়াওমিল আখির তার অবস্থাটা যেন এমন হয় সে আল্লাহ এবং পরকালে বিশ্বাসী। তার মানে যেই ব্যক্তি আল্লাহ এবং পরকালে বিশ্বাসী এটা যার অন্তরে গেঁথে গেছে এই অবস্থায় যদি মালেকুল মউত তার সাথে সাক্ষাৎ করে তার যদি মৃত্যু হয়ে যায়। রাসূল সাল্লাম বলছেন এই ব্যক্তি সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ বিনা শাস্তিতে জান্নাত দিয়ে দিবেন। কিন্তু কন্ডিশন কি? সূত্র কি? আপনার অন্তরে আল্লাহ এবং পরকালের প্রতি ঈমান থাকতে হবে। মুখে বললে চলবে না। কারণ আমি আর আমাকে আপনি ধোঁকা দিতে পারেন। আপনি আপনার নিজেকে ধোঁকা দিতে পারেন কিন্তু আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালাকে ধোঁকা দিতে পারবেন আপনি? ওয়াহুয়া আলিমু বি জাতি সুদুর আল্লাহ তোমার অন্তরের খবর জানে এটা আমাদেরকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপনার অন্তরে কি আছে ওটা আল্লাহ বের করে ছাড়বে কাল কেয়ামতের মাঠে এটাও আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা বলে দিয়েছে। কোথায় পাবেন আপনি কোরআনের আয়াতটা সূরা বাইয়েনাত। 100 নাম্বার সূরা তার নয় নাম্বার আয়াতটি আপনি পড়েন তাতে কি আছে আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা বলছেন, তারা কি জানে না যে কবরে কি আছে তা বের করা হবে, ওয়াহুসসিলা মা ফি সুদুর এবং তার অন্তরে যা আছে সেটাকে প্রকাশ করে দেওয়া হবে। আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা বলেছেন। কাল হাশরের মাঠে আল্লাহ বলছেন প্রত্যেককে তার কবর থেকে উঠানো হবে এবং কাল কেয়ামতের মাঠে তার অন্তরে সে কি ধারণ করে রেখেছে আল্লাহ সম্পর্কে পরকাল সম্পর্কে ইসলাম সম্পর্কে মোহাম্মদ সাল্লাম সম্পর্কে বা ঈমান সম্পর্কে সে কি ধারণা করে রাখতো আল্লাহ বলছেন এটা আমি হাশরের মাঠে প্রকাশ করে দেব।
[5:13]এটা হচ্ছে ঈমানের পাল্লা। একটা কাজও করে দেখাতে হবে সেটা কি? ওয়ায়াতাই ইলান্না নাস মা ইউহিব্বু আয়্যু ইতা ইলাই এবং মানুষের সাথে তাকে ওই আচরণ করতে হবে যেই আচরণটা সে নিজের জন্য পছন্দ করে। এটা খুব কঠিন লাগছে তাই না? আরে পরকালের প্রতি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস তো মুখে বলে দিলে হয়ে গেল। কিন্তু রাসূল সাল্লাম বলেছেন বিনা শাস্তিতে নাজাত পেতে হলে তোমাকে তোমার ভাইয়ের সাথে ওই আচরণ করে দেখাতে হবে যেটা তুমি নিজের জন্য পছন্দ করো।
[6:12]যে এই কাজটা করে দেখাতে পারবে রাসূল সাল্লাম বলছেন তাকে আল্লাহ বিনা শাস্তিতে জান্নাত দিয়ে দিবে। খাদ্যের ক্ষেত্রে আপনার বাসায় যখন কেউ আসে আপনার উচ্চ লেভেলের গেস্ট যারা তাদের জন্য আপনি যে খাদ্যের ব্যবস্থা করেন আপনি দেখেন তো এটা কি আপনার ওই নিম্নমানের ভাইয়ের সাথে যে অত পয়সাওয়ালা না।
[7:27]তার জন্য কি ওই একই মানের খাদ্য অ্যারেঞ্জ করেন নাকি আপনার ওয়াইফকে বলেন কি আছে আজকে বাসায় বলে যে হালকা খিচুড়ি টিচুড়ি আছে ঠিক আছে হয়ে যাবে এটা দিয়ে হয়ে যাবে। আর যখন বলা হয় অমুককে আসবে তখন বলছে কি আছে বলতেছে যে খিচুড়ি ভুনা করেছে এটা হয় না কি একটা টিকা করো একটা ফ্রাই করো একটা এটা করো এটা করো এটা করেন কিনা। এই রকম যদি করেন তাহলে সুবাহানাল্লাহ মানে এই গুণটা হাসিল হবে না। এটা খুব সেনসিটিভ কথা যদি আপনি মুখে বলছেন যে আমি আল্লাহ এবং পরকালে বিশ্বাসী এবং আমি আমার ভাইয়ের সাথে আচরণটা করে দেখাবো আপনার যতটা শ্রেষ্ঠ কাজটা অবশ্যই আপনার জন্য একটু ডিফিকাল্ট মনে হবে একটু কঠিন মনে হবে কিন্তু আপনি করে দেখাতে পারবেন বান্দা এটা আপনার করতে পারবেন বিধায় আল্লাহ আপনাকে এই চরিত্র শিক্ষা দিয়েছে। সম্ভব আপনার দ্বারা আপনি চাইলেই পারবেন কিন্তু আপনি চাচ্ছেন না বিধায় হচ্ছে না। আপনি চেষ্টা করে দেখেন আপনার দ্বারা সম্ভব এবং আপনি করে দেখাতে পারলে আপনাকে আল্লাহ সুবাহানাল্লাহু তায়ালা বিনা শাস্তিতে জান্নাত দিয়ে দিবে। তার মানে আমাদেরকে চরিত্রবান হতে হবে।



