Thumbnail for বিপুল ঋণের বোঝা নিয়ে কতদূর যেতে পারবে তারেক রহমান? 113 Billion Foreign Debts | Shahedin | BNP |Yunus by সরল কথক শাহিদিন-Shahedin

বিপুল ঋণের বোঝা নিয়ে কতদূর যেতে পারবে তারেক রহমান? 113 Billion Foreign Debts | Shahedin | BNP |Yunus

সরল কথক শাহিদিন-Shahedin

13m 8s2,090 words~11 min read
YouTube auto captions
Transcript source

YouTube auto captions

This transcript was extracted from YouTube's auto-generated caption track. The transcript below is server-rendered so it can be read, searched, cited, and shared without opening the original YouTube player.

Use this transcript
Related transcript hubs

[0:00]নির্বাচিত সরকার দেশের ক্ষমতায় এসেছে আর এই মুহূর্তে দেশের ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় 112 বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতাচ্যুত হন তখন বাংলাদেশের ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় 103 বিলিয়ন ডলার। মানে গত দুই বছরেরও কম সময়ে দেশের ঋণ বেড়েছে 10 বিলিয়ন ডলারের মতো। কিভাবে বাড়লো তারচেয়ে বড় কথা এই পুরো ঋণের চাপ গিয়ে পড়বে কিন্তু নতুন সরকারের উপর। ঠিক যেমনটা হাসিনা আমলের 103 বিলিয়ন ডলার ঋণের চাপ নিয়েই শুরু করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। যাই হোক, ঋণ বাড়ার ফলে অনেকেই ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসকে ব্যাপক গালমন্দ করতেছেন। অনেকে ধারণা করতেছেন যে ইউনুস তো নতুন কোন প্রকল্প হাতে নেয় নাই। তারপরও এত ঋণ বাড়লো কেন? এই ঋণের টাকা কি তারা বিদেশে পাচার করে দিলো? তো চলেন আজকের ভিডিওতে আলোচনা করি পুরো ব্যাপারটা। সেই সাথে বোঝার চেষ্টা করবো সামনের দিনগুলোতে এই ঋণ বৃদ্ধির প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে কিনা, সেইটা কতটা চাপে ফেলবে বর্তমান সরকারকে। চলো। তো শুরুতেই একটু খেয়াল করে দেখেন গত দেড় বছরে আমরা আমাদের বাকস্বাধীনতার সর্বোচ্চটা ব্যবহার করেছি। ইউনুস সরকারকে নানা সমালোচনা করেছি, বৈশ্বিকভাবে একজন সম্মানিত ব্যক্তির আমরা 14 গুষ্টি উদ্ধার করে ফেলেছি। আবার নানান জায়গায় ইউনুস সরকার কিন্তু ব্যর্থও হয়েছে। কিন্তু একটা বার চিন্তা করে দেখেন যে অভ্যুত্থান পরবর্তী সময় দেশের যে টালমাটাল অবস্থা ছিলো, যেভাবে ভারতীয় মিডিয়া আমাদের এই অভ্যুত্থানটাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করছিলো। সেইরকম অবস্থায় পুরো বিশ্বের কাছে দেশের এবং অভ্যুত্থানের ইমেজ ঠিক রাখার জন্য ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস ছাড়া আর কে ছিল আমাদের? ইউনুস সরকারের নানান সমালোচনা আপনি করতেই পারেন, নানান ব্যর্থতা আপনি দেখাতেই পারেন। কিন্তু প্রতিবেশীর সাথে নিজের স্বার্থ বজায় রেখে কিভাবে মাথা উঁচু করে কথা বলতে হয় সেইটা মোহাম্মদ ইউনুস আমাদেরকে দেখিয়ে গিয়েছেন। মুদ্রাস্ফীতি যেভাবে বাড়তে শুরু করেছিল সেটা ওখানেই আটকে রেখেছিলেন। ধ্বংস হয়ে যাওয়া ব্যাংকগুলোকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাইছেন। যেগুলো না করা হলে হয়তো দেশে একটা দুর্ভিক্ষ লেগে যেতে পারতো। আর যেসব ক্ষেত্রে ইউনুস সরকার ব্যর্থ হয়েছে সেসব জায়গায় ব্যর্থ হয়েছে মূলত আমাদের জন্যই। কারণ আমরা গত দেড় বছরে ইউনুস সরকারকে প্রায় 200টির মতো আন্দোলন উপহার দিয়েছি। সরকারের যেকোনো সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেছি, প্রশাসনের মধ্যে অসহযোগিতা করেছি, মিডিয়া ট্রায়াল দিয়েছি আরো কত কি। একটা সরকার কখনোই একা একা সফল হতে পারে না। প্রশাসন এবং বিভিন্ন বাহিনীর সর্বোচ্চ সহায়তা তার দরকার হয়, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোরও সহায়তা দরকার হয়, যেসব জায়গায় পিছিয়ে ছিল ইউনুস সরকার। তো এতকিছুর পরেও দেশটা ভিন্নভাবে বহির্বিশ্বে পরিচিত হয় নাই, দেশের অর্থনীতিটা দাঁড়িয়েছিল এবং সময়মতো একটা নির্বাচনও হয়েছে। সো এসবের জন্য ইউনুস সরকার কিন্তু অ্যাটলিস্ট একটা ধন্যবাদ ডিজার্ভ করে। যাই হোক, চলেন মূল আলোচনায় ঢুকি। মানে বাংলাদেশের ঋণের হিসাবে ঢুকি। খেয়াল করেন 2006 সালে যখন বিএনপি সরকার ক্ষমতা ছাড়ে তখন বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ছিলো 19 বিলিয়ন ডলারের কিছুটা কম। এরপর প্রায় দুই বছরের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসন আমালে তা বেড়ে 22 বিলিয়ন ডলার হয়। মানে 2009 সালে যখন আওয়ামী লীগ তার শাসন ক্ষমতা শুরু করে তখন ঋণ ছিল 22 বিলিয়ন ডলার। সেই আওয়ামী আমল যখন শেষ হলো মানে 2024 সালের আগস্ট মাস তখন দেশের ঋণের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় 103 বিলিয়ন ডলার। মানে আওয়ামী আমলের 15.5 বছরে দেশের ঋণ বেড়েছে প্রায় 82 বিলিয়ন ডলার। বছরভিত্তিক হিসাব করলে প্রতি বছর প্রায় 5 বিলিয়ন ডলার করে নতুন ঋণ করেছিল শেখ হাসিনা। আর ইউনুস সরকারও সেই ধারা অব্যাহত রেখেছেন। গত দুই বছরেরও কম সময়ে তিনিও প্রায় 10 বিলিয়ন ডলার ঋণ করে ফেলেছেন। তো চলেন এই বিশাল ঋণের বাস্তবতাটা দেখি। দেখেন বাংলাদেশের রপ্তানির তুলনায় আমদানি কিন্তু বেশি। সাম্প্রতিক হিসাব মতে, আমাদের আমদানি-রপ্তানি ঘাটতি থেকে যায় মোটামুটি 20 বিলিয়ন ডলারের আশেপাশে। আর আমাদের এই ঘাটতি পূরণ করে দেয় আমাদের প্রবাসী ভাইদের পাঠানো রেমিট্যান্স। মানে কাগজে-কলমে আমাদের বেসিক চাহিদা পূরণে আমরা কিন্তু মোটামুটি স্বয়ংসম্পূর্ণ। কিন্তু আমাদের উদ্দ্রিত্ত নাই যে কারণে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য আমাদেরকে ঋণ করতে হয়। বিগত সময়ের সরকারগুলো ঋণ করেছে এই অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য। মানে রাস্তাঘাট, ব্রিজ, ফ্লাইওভার, বন্দর, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ইত্যাদি নির্মাণের জন্য। কিন্তু সেই উন্নয়ন প্রকল্পের অনেকগুলোই ছিল অপরিকল্পিত এবং অদূরদর্শী। সরকার এসব উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিত তিনটা চিন্তা মাথায় রেখে। প্রথমত, দেশের মানুষের উপকার হবে, যোগাযোগ স্মুথ হবে। দ্বিতীয়ত, দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে উন্নয়নের গল্প বলা যাবে। তৃতীয়ত, এই উন্নয়ন প্রকল্প থেকে বিপুল অর্থ দুর্নীতি করা যাবে। এই যে হাসিনা আমলের প্রায় 82 বিলিয়ন ডলার ঋণ এই টাকার বেশিরভাগই নেয়া হয় দেশের মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য। দেশব্যাপী গত 15 বছরে প্রয়োজনীয় অপ্রয়োজনীয় এরকম অসংখ্য মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যেগুলো কয়েকটা আমি উল্লেখ করছি। যেমন পদ্মা সেতু, পদ্মা রেল সেতু, যমুনা রেল সেতু, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে, আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা মেট্রোরেল, বিমানবন্দর থার্ড টার্মিনাল, ঢাকা রংপুর এশিয়ান হাইওয়ে, ঢাকা মাওয়া হাইওয়ে, ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়ক, কর্ণফুলী টানেল, অসংখ্য ব্রিজ, ফ্লাইওভার, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বেশ কিছু সমুদ্রবন্দর ইত্যাদি। তো এগুলোর মধ্যে বেশ কিছু প্রকল্প আছে খুবই উপকারী, আবার কিছু প্রকল্প খরচ বিবেচনায় কোনোভাবেই উপকারী না। আর এসব প্রকল্পের জন্যই গত 16 বছরে 82 বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছিল শেখ হাসিনা। কিন্তু আপনার কি মনে হচ্ছে যে এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য যত টাকা দরকার ছিল সবটাই শেখ হাসিনা নিয়ে ফেলেছিল? না কারণ বৈদেশিক ঋণের বা সরকারি প্রকল্পের ঋণের একটা সিস্টেম আছে। এখানে যেই কাজের জন্য ঋণ চুক্তি করা হয় সেই কাজের অগ্রগতির সাথে ধাপে ধাপে সেই ঋণের অর্থ ছাড়া হয়। মনে করেন আপনি 10 টি প্রকল্পের জন্য 100 বিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তি করলেন 5টি প্রতিষ্ঠানের সাথে। মানে আপনি 100 বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি করে ফেলেছেন। এবার কাজের অগ্রগতির সাথে সাথে কখনো 5 বিলিয়ন ডলার, কখনো 10 বিলিয়ন ডলার এইভাবে অর্থ ছাড়া হবে। আর এভাবেই হাসিনা 82 বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কিন্তু ঋণ ছাড়াতে পেরেছিল। কিন্তু প্রকল্পগুলো তো এখনো শেষ হয় নাই মানে শেষ না হওয়া প্রকল্পগুলোর ঋণের টাকা এখনো পুরোপুরি দেশে ঢুকে নাই চুক্তি হয়ে আছে। কাজ এখনোর সাথে সাথে সেই টাকাগুলোও দেশে ঢুকবে, আর মোট ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকবে। যেইভাবে ইউনুস সরকারের আমলেও কিন্তু ঢুকেছিল। এবার খেয়াল করেন গত দেড় বছরে ইউনুস সরকার নতুন নতুন কোন প্রকল্প হাতে নিয়েছে কিনা? নেয় নাই। কিন্তু চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে গেছেন। সেই কাজে এগিয়ে নেওয়ার জন্য ঋণ এসেছে কারণ চুক্তি তো আগেই ছিল। যদি ইউনুস সরকার চাইতেন যে আমি চলমান প্রকল্পের কাজগুলো এগিয়ে নেব না আটকে রাখবো তাহলে কিন্তু গত দেড় বছরে প্রকল্প কেন্দ্রিক যে ঋণের টাকা সেগুলো আসতো না। কিন্তু কাজ থামিয়ে রাখার মধ্যে কোন ক্রেডিট নাই, বরং কাজগুলো শেষ হলেই বরং জনগণের ভোগান্তি কমে যায়। সেই জায়গা থেকে গত দেড় বছরে অস্বাভাবিক গতিতে প্রতিটি প্রকল্পের কাজ এগিয়েছে। যমুনা রেল সেতুর কাজ শেষ হয়ে গেছে। ভাঙ্গা যশোরের নতুন রেল প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে গেছে। আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা রংপুর হাইওয়ে, মেট্রোরেলের এক নাম্বার এবং পাঁচ নাম্বার লাইনের কাজ, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ ইত্যাদি তে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই ঢাকা বাইপাস উদ্বোধনও হয়ে গেছে। আর এই কাজগুলো কিন্তু সবই শেখ হাসিনার আমলে শুরু হয়েছিল, এইসব কাজের জন্য ঋণের শিডিউলটাও হাসিনাই করে গিয়েছিলেন। ইউনুস শুধু কাজগুলো চলতে দিয়েছে প্রতিহিংসা করে কাজগুলো বন্ধ করে দেন নাই, ফলে তার সময়েও ঋণ বেড়েছে। আর যেসব প্রকল্প এখনো শেষ হয় নাই, সেসব প্রকল্পের জন্য আরো প্রায় 45 বিলিয়ন ডলার ঋণ পাইপলাইনে আছে। যেগুলো আগেই চুক্তি করে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। সামনে সরকারের উপর সেই নতুন ঋণগুলোও কিন্তু চলে আসবে, তারমানে এখনো যে দেশে ঋণ ঢুকতেছে এগুলো হাসিনাম আমলের চুক্তির ফলেই, হাসিনা আমলের চালু করে যাওয়া কাজের ফলেই। তো আপনি আসলে ঋণ বৃদ্ধির জন্য ইউনুস সরকারকে তখনই জুড় দিতে পারতেন যদি ইউনুস নিজে বড় কোন ঋণ চুক্তি করে যাইতো কিংবা বড় কোন প্রকল্প শুরু করতো। কিন্তু সেটা তিনি করেন নাই। সেই সাথে আরো কিছু কারণে ঋণ বেড়েছে। দেখেন দরিদ্র এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যখন উন্নত বিশ্ব ঋণ দেয় তখন একটা সময় বেঁধে দেয় যে, এত সময় পর থেকে এই ঋণের কিস্তি শুরু হবে। আর সরকার ঐ সময়ের মধ্যে দুই একটা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে ফেলে সেই প্রকল্পের রাজস্ব থেকে ঋণ পরিশোধের প্ল্যান করে। কিন্তু আমাদের বাস্তবায়ন হয়ে যাওয়া প্রকল্পগুলোর রাজস্বও ঋণ পরিশোধের ছিঁটেফোঁটা অ্যাফোর্ড করতে পারছে না। আপনাদের মনে থাকার কথা, হাসিনা আমলের শেষ দিকে এরকম বেশ কিছু ঋণের কিস্তি শুরু হয়ে গিয়েছিল। আর সেসব কিস্তি পরিশোধের জন্য হাসিনা আমাদের রিজার্ভের টাকা খরচ করতে থাকে এবং আমাদের রিজার্ভ কমতে শুরু করে। সেই সাথে ঋণের কিস্তি প্রদানের জন্য আইএমএফ থেকে নতুন করে ঋণের পথেও হাঁটে হাসিনা সরকার। সেই ঋণের প্রথম চালান কিন্তু তারা পেয়েও যায়। আর হাসিনার পর সেই ঋণ পরিশোধের চাপ আসে ইউনুস সরকারের উপর। নতুন করে কয়েকটি ঋণের কিস্তিও শুরু হয় গত কয়েক বছরে। আর সেই কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে ইউনুস সরকার দেশের প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এবং আইএমএফ থেকে প্রাপ্ত ঋণটাকেই ব্যবহার করেছে। মানে দেশের অবস্থা এমন হয়ে গেছে যে উন্নয়নের জন্য এমন পরিমাণ ঋণ করা হয়েছে সেই ঋণের টাকা পরিশোধ করার জন্য নতুন করে ঋণ করতে হচ্ছে। কারণ ঋণ পরিশোধের সময় চলে এসেছে কিন্তু প্রকল্পগুলো এখনো শেষ হয় নাই, যেগুলো শেষ হয়েছে সেগুলো থেকেও পর্যাপ্ত রাজস্ব আসছে না। তো অর্থনীতিবিদরা কিন্তু হাসিনা আমলে একাধিকবার বলেছিলেন যে, যেই পরিমাণ ঋণ করে মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে সেই প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব দিয়ে সেই ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। শুধুমাত্র ঋণের বোঝা বাড়বে এবং হচ্ছেও কিন্তু তাই। হ্যাঁ জনগণ সুবিধা পাচ্ছে কিন্তু অতিরিক্ত ঋণের ফলে দেশের মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাচ্ছে, দ্রব্যমূল্য বাড়তেছে। এসবের ফলে আবার বিপদেও পড়তেছে ওই জনগণই। বলা হয়েছিল যে পদ্মা রেল সেতু থেকে আয় হবে 1400 কোটি টাকা বাট বাস্তবে হয়েছে মাত্র 26 কোটি টাকা। আবার পদ্মা সেতুর ফলে দেশের জিডিপি 2% বেড়ে যাবে বলে বলা হয়েছিল কিন্তু সেটাও বাস্তবে হয় নাই। রাজস্ব বাড়ে নাই কিন্তু ঋণ বেড়েছে। শুধু দৃশ্যমান উন্নয়নটাই হয়েছে। বরং ইউনুস সরকার গত দেড় বছরে রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য চেষ্টা করেছিল, দুই একটা জায়গায় সফলও হয়েছে। যেমন বিমান পরিবহন খাত গত বছর সর্বোচ্চ মুনাফা করে। দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ গত বছর রেকর্ড 30 বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যায়। চট্টগ্রাম বন্দরও গত বছর সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করে। কিন্তু নানান আন্দোলন, দাবি-দাওয়া, সরকারকে অসহযোগিতা ইত্যাদির কারণে অন্য সব জায়গায় সরকার আয় বাড়াতে ব্যর্থ হয়। এসব নানান ঝামেলায় পড়ে পোশাকের রপ্তানি কমে যায়, বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে যায় ইত্যাদি। আর এত কিছুর পরেও কোনোরকম ব্লান্ডার না করে বরং ইউনুস সরকার রিজার্ভের পরিমাণটা ডাবল করে রেখে গেছেন। তার মানে আশা করি বুঝতে পারছেন যে ইউনুস সরকারের সময়ে আসলে কেন ঋণ বেড়েছিল। আর ঠিক ঐসব কারণে আগামী কয়েক বছরে বিএনপি সরকারের আমলেও কিন্তু ঋণ বাড়বে। কারণ হাসিনা আমলের শিডিউল হয়ে থাকা আরো 45 বিলিয়ন ডলার ঋণ আসবে। আর নতুন করে কিছু ঋণের পরিশোধের পিরিয়ডও শুরু হয়ে যাবে। তবে হ্যাঁ বিএনপি চাইলে এই 45 বিলিয়ন ডলার ঋণটা আটকে দিতে পারে। কিভাবে? যদি সে চলমান মেগা প্রকল্পের কাজগুলো বন্ধ করে দেয়। কিন্তু এই বন্ধ করে দেওয়া সিদ্ধান্তটা হবে বিএনপির জন্য আরো বেশি ক্ষতিকর। কারণ ইতোমধ্যেই অনেক প্রকল্পের 80 থেকে 90% কাজ শেষ হয়ে গেছে। তারমানে বিপুল পরিমাণ অর্থ এখানে বিনিয়োগ হয়ে গেছে যেই টাকাগুলোর কিস্তি কিন্তু পরিশোধ করতেই হবে। কিন্তু প্রকল্প শেষ না হলে সেই পুরো অর্থটাই অপচয় হয়ে যাবে যেটা কোনোভাবেই ভালো কিছু বয়ে আনবে না। তাই বিএনপিকে ঠিকঠাক টিকে থাকতে হলে সরকারের আয় বাড়াতে হবে যাতে ঋণ পরিশোধ করাটা সহজ হয়। ইউনুস সরকার যেমন বেশ কিছু প্রবাসী বান্ধব উদ্যোগ নিয়ে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি করেছিল। সেইরকম ভাবে আরো কিছু চমৎকার কাজ রেমিট্যান্স প্রবাহের জন্য করতে হবে। বিভিন্ন সূত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে বাংলাদেশের প্রবাসীরা বিদেশের মাটিতে বছরে প্রায় 40 বিলিয়ন ডলারের উপরে আয় করে। কিন্তু এর অর্ধেকই আসে অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে ফলে দেশের রেমিট্যান্স আসে বছরে 20 থেকে 25 বিলিয়ন ডলার। গত দেড় বছরে এই মাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় রেকর্ড 30 বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। এইটা আরো বৃদ্ধি করা সম্ভব এবং বৃদ্ধি করে এটা 40 থেকে 45 বিলিয়নে নিয়ে যাওয়া পসিবল। এই জায়গায় বিএনপিকে কাজ করতে হবে, নইলে ঋণের বিশাল চ্যালেঞ্জে পড়তে হবে তাকে। আবার এই বিশাল ঋণ বিএনপিকে আরেকটা বিশাল চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়। তাহলো নিজেদের চিহ্ন রেখে যাওয়ার মতো কোন মেগা প্রকল্প বিএনপি সহজে নিতে পারবে না যদি না চলমান ঋণগুলো পরিশোধের উদাহরণ তারা সেট করতে পারে। আবার নিজেদের ক্ষমতার চিহ্ন রেখে যাওয়ার জন্য কিন্তু ভালো কিছু প্রকল্প হাতে নেওয়াটাও তার জন্য জরুরি। কিন্তু মেগা প্রকল্প হাতে নিতে গেলে ঋণ লাগবে আর ঋণ পাওয়ার শর্ত হচ্ছে আগের ঋণ ঠিকঠাক পরিশোধ করতে পেরেছো কিনা সেটা। আর সেই জায়গাতেই বিএনপির কিন্তু আয় বৃদ্ধি করতে হবে এবং ঋণগুলো ঠিকঠাক পরিশোধ করতে হবে তারপর নিজেদের চিহ্ন রাখার জন্য নতুন প্রকল্প। তবে এই জায়গায় ঋণের পথে না গিয়ে লাভজনক প্রকল্পগুলোর জন্য বিএনপি কিন্তু এফডিআই বা ফরেইন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্টের দিকেও যেতে পারে। এতে করে কি হবে? বিদেশীরাই প্রকল্প বাস্তবায়ন করে দিয়ে যাবে, বিদেশীরা এখান থেকে লাভ উঠিয়ে নিয়ে যাবে দিনশেষে অবকাঠামোটা আমাদের হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে ঋণের চাপেও পড়বে না বিএনপি, বরং দেশের উন্নয়নটা ঠিকই হবে। এখন দেখা যাক সামনে কি হয়। তবে হাসিনা যে বিশাল ঋণের পাইপলাইনটা দিয়ে গেছে এইটা সামনের যেকোনো সরকারকেই টানতে হবে এটা মোটামুটি নিশ্চিত এবং এইটার জন্য আমাদের জনগণকে কিন্তু ভোগতেও হবে। সো আমরা অনেক সময় শুধুমাত্র অবকাঠামোগত উন্নয়ন দেখে হচ্ছে পাগল হয়ে যাই। আহ কত সুন্দর বানাইছে। আরে ভাই বানাইছে তো আমাদের টাকা দিয়েই এবং যখন দেখছেন নগদ টাকা নাই তখন বাইরে থেকে ঋণ করে আইনা বানাইছে সেই টাকা পরিশোধের দায়িত্বটা কিন্তু আমাদের উপরে বর্তায় দেয়। যে কারণে অনেক সময় ট্যাক্স বাড়ে ভ্যাট বাড়ে নানান রকম জিনিস বেড়ে যায়। আলটিমেটলি জনগণের টাকা দিয়ে উন্নয়ন হয় সেই উন্নয়ন কাজের তদারকি করে হচ্ছে সরকার। সো সরকার জনগণের তদারক আমরা অনেক সময় ভাবি যে ওরাই আমাদের সবকিছু করে দিছে বলে বিশাল কিছু। আরে না ভাই আমার টাকা দিয়ে আমার উন্নয়ন করছে। সো এত এরকম ভাবার কোন দরকার নাই।

Need another transcript?

Paste any YouTube URL to get a clean transcript in seconds.

Get a Transcript