[0:00]আসসালামু আলাইকুম। আজ আমরা আলোচনা করব এনএসএআইডি নিয়ে। এনএসএআইডি হচ্ছে নন স্টেরয়েডাল অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি ড্রাগ। নামেই বোঝা যাচ্ছে, এগুলো হচ্ছে এক প্রকারের ড্রাগ, যা অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি অর্থাৎ ইনফ্লামেশনের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং এই ঔষধগুলো স্টেরয়েড না। অর্থাৎ এই ঔষধগুলো স্টেরয়েড না কিন্তু ইনফ্লামেশনের বিরুদ্ধে কাজ করে এগুলোকেই আমরা বলছি এনএসএআইডি বা নন স্টেরয়েডাল অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি ড্রাগ। সাধারণত জ্বর এবং ব্যথা নিবারক হিসেবে এই ঔষধগুলো বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও এক প্রকার এনএসএআইডি আছে যেমন অ্যাসপিরিন, ওই এনএসএআইডিটা বিভিন্ন কার্ডিওভাসকুলার সমস্যায় ব্যবহার করা হয়। আজকে আমরা এনএসএআইডির মেকানিজম সম্পর্কে একটা পরিপূর্ণ ধারণার আদেব চেষ্টা করব অতি সংক্ষেপে ইনশাআল্লাহ। এবং সাথে সাথে আমরা এও জানবো শরীরে বাহ্যিক কোন ইনজুরির প্রভাবে কিভাবে শরীরের মধ্যে ব্যথা উৎপন্ন হয় সেই জিনিসটিও আজ ইনশাআল্লাহ আমাদের আলোচনায় আসবে। এছাড়াও এনএসএআইডি ঔষধগুলোর বিভিন্ন শ্রেণীবিভাগ এবং এনএসএআইডির সাইড ইফেক্ট, কন্ট্রা ইন্ডিকেশন এ সম্পর্কিত বিষয়গুলো আজ আলোচিত হবে ইনশাআল্লাহ। শুরুতেই আমরা আসি হোয়াট ইজ ইনফ্লামেশন? ইনফ্লামেশন কি? এক্সটার্নাল স্টিমুলাস যেগুলো চেষ্টা করে আমাদের শরীরের বিভিন্ন ড্যামেজ ঘটাতে। এবং এই চেষ্টার বিপরীতে আমাদের শরীরও চেষ্টা করে সেই এক্সটার্নাল স্টিমুলাসটাকে প্রিভেন্ট করতে। এর ফলশ্রুতিতে যা সৃষ্টি হয় তাই হচ্ছে ইনফ্লামেশন। তাহলে আমরা বলতে পারি ইনফ্লামেশন ইজ দ্যা রেসপন্স অফ বডি টু এক্সটার্নাল স্টিমুলাস অর্থাৎ বাহিরের কোন উদ্দীপনার প্রতি আমাদের শরীরের যেই রেসপন্স সেটাকেই আমরা বলছি ইনফ্লামেশন। যেমন আমরা ধরে নেই এই হচ্ছে একটি সেল মেমব্রেন। আমরা জানি সেল মেমব্রেন ফসফোলিপিড দিয়ে গঠিত। বাহ্যিক কোন স্টিমুলাস কিংবা এক্সটার্নাল ইনজুরি ইত্যাদির প্রভাবে ওই স্থানের ফসফোলিপিডগুলো অ্যারাচিডোনিক অ্যাসিডের রূপান্তরিত হয়। উদাহরণস্বরূপ যদি এখানে খুব জোরে আঘাত করা হয় তাহলে এখানকার যেই ফসফোলিপিডগুলো আছে সেগুলো তখন অ্যারাচিডোনিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত হবে। দ্যাট মিন্স ফসফোলিপিড হবে অ্যারাচিডোনিক অ্যাসিডে। এক্ষেত্রে একটি এনজাইম এখানে কাজ করে। এই এনজাইমটি হচ্ছে ফসফোলিপেজ এটু। বাহ্যিক কোন ইনজুরির প্রভাবে ফসফোলিপেজ এটু এনজাইমের প্রভাবে ওই স্থানের ফসফোলিপিডগুলো অ্যারাচিডোনিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত হয়। এই অ্যারাচিডোনিক অ্যাসিড থেকে অ্যারাচিডোনিক অ্যাসিড থেকে সাইক্লো অক্সিজেনেজ এনজাইমের প্রভাবে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন এবং থ্রম্বক্সেন উৎপন্ন হয়।
[3:53]সাইক্লো অক্সিজেনেজ এনজাইম দুই প্রকার। সাইক্লো অক্সিজেনেজ ওয়ান এবং সাইক্লো অক্সিজেনেজ টু। এর মধ্যে কক্স ওয়ানটা হচ্ছে নরমাল। অর্থাৎ এটা শরীরের মধ্যে থাকে। শরীরের বিভিন্ন কার্যাবলীর জন্য কক্স ওয়ানটা জরুরি। যেমন গ্যাস্ট্রিক মিউকোসাকে প্রোটেক্ট করে এই কক্স ওয়ান। কক্স ওয়ান সাইক্লো অক্সিজেনেজ এনজাইম ওয়ান। এটি গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিডের নিঃসরণকে কমিয়ে দেয়। এটি গ্যাস্ট্রিক মিউকোসাকে প্রোটেক্ট করে। গ্যাস্ট্রিক মিউকোসা মানে হচ্ছে পাকস্থলীর দেয়ালের চারটা স্তর থাকে। এর মধ্যে একেবারে ভিতরের যেই স্তর সেটাকে বলা হয় গ্যাস্ট্রিক মিউকোসা। এই গ্যাস্ট্রিক মিউকোসাকে প্রোটেক্ট করে সাইক্লো অক্সিজেনেজ ওয়ান এনজাইম। এটি শরীরের মধ্যে সাধারণত থাকে।
[5:11]আজ সাইক্লো অক্সিজেনেজ টু যেই এনজাইম সেটি তৈরি হয় বিভিন্ন ইনফ্লামেশনের প্রভাবে। কিছু ইনফ্লামেটরি মিডিয়েটর রয়েছে যেগুলো সাইক্লো অক্সিজেনেজ টু তৈরি করে। যেমন টিউমার ন্যাক্রোটিং ফ্যাক্টর আলফা এরপর ইন্টারলিউকিন ওয়ান ইত্যাদি যেই ইনফ্লামেটরি মিডিয়েটরগুলো সাইক্লো অক্সিজেনেজ টু তৈরি করে থাকে। অ্যারাচিডোনিক অ্যাসিড থেকে সাইক্লো অক্সিজেনেজ টু এই এনজাইমের প্রভাবে উৎপন্ন হয় প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন এবং থ্রম্বক্সেন উৎপন্ন হয়। এই প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনটাই মূলত পেইন এবং ফিভারের জন্য রেসপন্সিবল। শরীরের তাপমাত্রা বাড়াতে এবং ব্যথা অনুভূত হয় সাধারণত এই প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের কারণে। আমরা যদি এটাকে আরো ক্লিয়ার করতে চাই তাহলে বলতে পারি অ্যারাচিডোনিক অ্যাসিড থেকে সাইক্লো অক্সিজেনেজ টু এনজাইমের প্রভাবে উৎপন্ন হয় প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন এইচ২। এই প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন এইচ২ টা কনভার্ট হয় প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন ই২ অর এফ২ তে। এটুক পর্যন্ত হওয়ার পর এটা বাইন্ড করে স্পেসিফিক প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন রিসেপ্টরের সাথে। বাইন্ডিং এর পরে ডিপোলারাইজেশন হয়। এবং ডিপোলারাইজেশনের পর স্টিমুলেশন অফ ফার্স্ট অর্ডার নিউরন।
[6:54]অর্থাৎ ফার্স্ট অর্ডার নিউরনের স্টিমুলেশন ঘটে। এর ফলশ্রুতিতে পেইন, ইনফ্লামেশন, শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি ঘটনাগুলো ঘটে থাকে। তাহলে আমরা দেখলাম পেইন, ফিভার ইত্যাদি শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া এসব ঘটনা হয় মূলত প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের কারণে। আর এনএসএআইডি গুলো কি করে? এই প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনকে ব্লক করে দেয়। আমরা দেখলাম প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন উৎপন্ন হয় সাইক্লো অক্সিজেনেজের প্রভাবে। তাই এনএসএআইডিগুলো এ কাজটিই করে। তারা এই সাইক্লো অক্সিজেনেজ এই এনজাইমটাকে ইনহিবিট করে দেয়। এতে করে আর প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন উৎপন্ন হতে পারে না। ফলশ্রুতিতে তার পেইন এবং ফিভার সেটা কমে যায়। এখানে আমরা আরেকটি জিনিস দেখলাম থ্রম্বক্সেন। থ্রম্বক্সেনটা প্লাটিলেটের মধ্যে অবস্থান করে। আমাদের রক্তর একটা উপাদান হচ্ছে প্লাটিলেট বা অণুচক্রিকা যেটা রক্ত জমাট বাঁধাতে সহায়তা করে। অর্থাৎ এই থ্রম্বক্সেনটা ব্লাড ক্লট বা রক্ত জমাট বাঁধায় ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে। আমরা এ সম্পর্কে কিছুক্ষণ পর আরো বিস্তারিত ইনশাআল্লাহ জানবো। আমরা বলেছি এনএসএআইডিগুলো সাইক্লো অক্সিজেনেজ এনজাইমকে ইনহিবিট করার মাধ্যমে পেইন, ফিভার ইত্যাদি দমন করে। এর উপর ভিত্তি করে এনএসএআইডিগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমত হচ্ছে নন-সিলেক্টিভ। নন-সিলেক্টিভ এনএসএআইডি হচ্ছে সেগুলো যেগুলো সাইক্লো অক্সিজেনেজ ওয়ান এবং সাইক্লো অক্সিজেনেজ টু উভয় প্রকার এনজাইমকেই ইনহিবিট করে।
[9:07]এর ফলশ্রুতিতে জ্বর এবং ব্যথা কমে ঠিকই। তবে তার পাশাপাশি আরো বিভিন্ন প্রকার সাইড ইফেক্ট দেখা দেয়। কারণ সাইক্লো অক্সিজেনেজ ওয়ান এটা শরীরের মধ্যে নরমালি থাকে এবং শরীরের বিভিন্ন কাজের জন্য এটার প্রয়োজন হয়। যখন সাইক্লো অক্সিজেনেজ ওয়ানটাও ইনহিবিট হয়ে যায় তখন যেই ঘটনাটি ঘটে সেটা হচ্ছে গ্যাস্ট্রিক মিউকোসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবং তারা তখন আলসারের সমস্যার সৃষ্টি হয়। এ কারণেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা যখনই এনএসএআইডি প্রেসক্রাইব করেন নন-সিলেক্টিভ যেগুলো সেগুলা তখন পাশাপাশি একটি অ্যান্টি-আলসারেন্ট সাজেস্ট করে থাকেন। এরপর সিলেক্টিভ এনএসএআইডি হচ্ছে সেগুলা যেগুলা শুধুমাত্র সাইক্লো অক্সিজেনেজ টু কেই ইনহিবিট করে। এই ঔষধগুলো নন-সিলেক্টিভের চাইতে অনেকাংশে বেশি নিরাপদ। আর প্রিফারাবলি সিলেক্টিভ হচ্ছে সেগুলা যেগুলা মূলতো কক্স টু কেই ইনহিবিট করে। তবে অল্প পরিমাণে কক্স ওয়ান কেও ইনহিবিট করে। নন-সিলেক্টিভ এনএসএআইডিগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাসপিরিন, ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম, পাইরক্সিক্যাম, ইন্ডোমিথাসিন, কিটোরোলাক, আইবুপ্রোফেন ইত্যাদি। এগুলো হচ্ছে নন-সিলেক্টিভ। এগুলো কক্স ওয়ান এবং কক্স টু উভয়কেই ইনহিবিট করে থাকে। আর প্রিফারাবলি সিলেক্টিভের মধ্যে রয়েছে নিমিসুলাইড, মেলোক্সিক্যাম ইত্যাদি। এগুলো বেসিক্যালি কক্স টু কেই ইনহিবিট করে। তবে সামান্য পরিমাণে কক্স ওয়ান কেও ইনহিবিট করে থাকে। আর সিলেক্টিভ এনএসএআইডির মধ্যে রয়েছে সেলিকক্সিব, রেফিকক্সিব, প্যারাকক্সিব ইত্যাদি। এগুলো অনেকাংশে নিরাপদ। কারণ এগুলো শুধুমাত্র কক্স টু কেই ইনহিবিট করে। আমরা যেই ঔষধগুলোর কথা বললাম এদের মধ্যে অ্যাসপিরিনটা অন্যগুলোর চাইতে একটু ব্যতিক্রম। অ্যাসপিরিনটা কক্স টু কে ইনহিবিট করে ইরিভার্সিবলি। অর্থাৎ একবার যদি অ্যাসপিরিন কক্স টু কে ইনহিবিট করে সেই কক্স টু আর ফিরে আসবে না। এই কারণে অ্যাসপিরিনটা একটা বিশেষ কাজে ব্যবহার করা হয়। আমরা দেখলাম থ্রম্বক্সেনের ব্যাপারে। থ্রম্বক্সেনটা কি করে? সেটা ব্লাড ক্লট করে, রক্ত জমাট বাঁধায়। যেহেতু অ্যাসপিরিন ইরিভার্সিবলি কক্স টু কে ইনহিবিট করে সেহেতু অ্যাসপিরিন বিভিন্ন কার্ডিওভাসকুলার সমস্যায়, বিভিন্ন কার্ডিওভাসকুলার রোগে ব্যবহৃত হয়। কারণ এটি থ্রম্বক্সেনকে ব্লক করবে এর ফলে রক্ত জমাট বাঁধে না। এছাড়া অন্য যেসব এনএসএআইডি রয়েছে সেগুলো হচ্ছে রিভার্সিবলি কক্স টু কে ইনহিবিট করে। আর তাই সেগুলো এই কার্ডিওভাসকুলার সমস্যায় ব্যবহার করা যায় না। সেগুলোকে নরমাল জ্বর ও ব্যথা নিবারণের কাজেই ব্যবহার করা হয়। এবার আসি এনএসএআইডিগুলোর সাইড ইফেক্ট নিয়ে।
[13:13]কিডনির রক্ত চলাচলে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর এ কারণে এনএসএআইডিগুলো যদি দীর্ঘদিন একটানা ব্যবহার করা হয় তাহলে সেটা কিডনির বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এরপর যারা নন-সিলেক্টিভ এনএসএআইডিগুলো বেশি ব্যবহার করে তাদের ক্ষেত্রে আলসারের সমস্যা হতে পারে। এবং যাদের এনএসএআইডির প্রতি অ্যালার্জি রয়েছে অথবা কোন স্পেসিফিক এনএসএআইডির প্রতি যাদের অ্যালার্জি রয়েছে তাদের জন্য তা বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। এবার আসি এনএসএআইডিগুলোর কনট্রা ইন্ডিকেশন নিয়ে অর্থাৎ কাদেরকে এই এনএসএআইডিগুলো সাজেস্ট করা যাবে না। প্রথমত বাচ্চাদেরকে বিশেষ করে অ্যাসপিরিন বাচ্চাদের জন্য প্রযোজ্য নয়। সাধারণত পনেরো বছরের নিচের বাচ্চাদের অ্যাসপিরিন দেয়া যায় না। তাহলে তা লিভার, কিডনি প্রবৃতিকে অ্যাফেক্ট করতে পারে। এরপর এটা কনট্রা ইন্ডিকেটেড প্রেগনেন্সিতে। এরপর হিমোফেলিয়া অর্থাৎ যাদের রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা কম কোথাও কেটে গেলে ব্লিডিং হতেই থাকে।
[15:00]তাদেরকে এই এনএসএআইডিগুলো তাদের জন্য ইনডিকেটেড না। তাদের জন্য এনএসএআইডিগুলো প্রযোজ্য না। এই ছিল আমাদের আজকের এনএসএআইডি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা। এনএসএআইডি সম্পর্কে আপনাদের আরো কোন প্রশ্ন থাকলে বা জানার থাকলে কিংবা স্বাস্থ্য ও ঔষধ বিষয়ক যেকোনো প্রশ্নের জন্য আমাদের কমেন্টে জানান অথবা ফেসবুক পেইজে ইনবক্স করুন। আজ এ পর্যন্তই মহান আল্লাহ সবাইকে সুস্থ ও নিরাপদে রাখুন। ড্রাগস বিডির ফেসবুক পেইজ এবং ইউটিউব চ্যানেলের সাথে কানেক্টেড থাকুন। আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ।



