[0:00]কল্পনা করুন, পৃথিবীর কোথাও কোন এক অজানা জায়গায় ঠিক এই মুহূর্তে একটা ব্যালিস্টিক মিসাইল লঞ্চ হলো। ঠিক সেই মুহূর্তে পৃথিবীর অনেক উপরে প্রায় 22 হাজার মিটার উচ্চতায় ঘুরতে থাকা কিছু স্যাটেলাইট হঠাৎ করে কিছু অস্বাভাবিক সিগন্যাল ধরে ফেলে। এদের কাজ একটাই, যেখানেই কোন মিসাইল লঞ্চ হবে তাদের গরম ধোঁয়ার সিগন্যাল ধরতে হবে। আর মিসাইলটা আকাশে ওঠার আগেই সেই সিগন্যাল আলোর গতিতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে পৃথিবীতে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেই তথ্য পৌঁছে যাবে আমেরিকার সবথেকে গোপন আর সুরক্ষিত জায়গাগুলোর একটাই। একটা পাহাড়ের ভেতরে লুকানো কমান্ড সেন্টারে, যেখানে কয়েক হাজার ফুট পুরু পাথরের নিচে বসে কিছু মানুষ সারাক্ষণ মনিটর করতে থাকে কোথাও কোন আক্রমণ হচ্ছে কিনা। তাদের সামনে থাকা স্ক্রিনগুলোতে হঠাৎ করে একের পর এক সিগন্যাল দেখাতে শুরু করে। তারা বুঝতে পারে কিছু একটা ভুল হচ্ছে, খুব বড় কিছু। তারা দ্রুত হিসাব করতে শুরু করে কতগুলো মিসাইল কোন দিক থেকে আসছে, কোথায় আঘাত করবে? আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো হাতে কত সময় বাকি, কারণ এই কয়েক মিনিটই ঠিক করে দিবে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ। কিন্তু সমস্যা হলো প্রেসিডেন্ট এখনো কিছুই জানেন না। এই বিশাল একটা ঘটনার খবর তার কাছে এখনো পৌঁছায়নি। আর সময় কিন্তু থেমে নেই, প্রতি সেকেন্ডে মিসাইলগুলো এগিয়ে আসছে। এদিকে হোয়াইট হাউসে একজন সামরিক কর্মকর্তা দৌঁড়ে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্টের রুমের দিকে। তার হাতে একটা কালো ব্রিফকেস যেটাকে বলা হয় নিউক্লিয়ার ফুটবল। বাইরে থেকে এটাকে একটা সাধারণ ব্যাগ মনে হলেও এর ভেতরে আছে এমন কিছু জিনিস যা পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। ভেতরে আছে একটা বই যেখানে লেখা আছে বিভিন্ন ধরনের নিউক্লিয়ার আক্রমণের অপশন। কোনোটা মানে ছোট আঘাত আবার কোনোটা মানে শত শত মিসাইল একসাথে ছোড়া। প্রেসিডেন্টকে ঘুম থেকে তোলা হয়। তাকে দ্রুত একটা সিকিউর কলে যুক্ত করা হয় যেখানে সামরিক বাহিনীর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা অপেক্ষা করছেন। তারা প্রেসিডেন্টকে জানায় কতগুলো মিসাইল আছে কোথায় আঘাত করবে আর তার হাতে কত সময় আছে। আর এখানেই শুরু হয় সবথেকে ভয়ংকর অংশটা। প্রেসিডেন্টের হাতে থাকে মাত্র ছয় মিনিট আর এই ছয় মিনিটের মধ্যেই তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি কি পালটা আক্রমণ করবেন নাকি অপেক্ষা করবেন। এই ছয় মিনিটের প্রতিটা সেকেন্ডের দাম হাজার হাজার জীবনের সমান। একটা ভুল সিদ্ধান্ত মানেই হতে পারে গোটা মানব সভ্যতার শেষ অধ্যায়। আর আরও ভয়ংকর ব্যাপার হলো এই সিদ্ধান্তটা নেওয়ার সময় প্রেসিডেন্টের কাছে সব তথ্য পুরোপুরি নিশ্চিত নাও থাকতে পারে। কারণ ইতিহাসে এমন ঘটনাও ঘটেছে যেখানে ভুল অ্যালার্মের কারণে গোটা নিউক্লিয়ার সিস্টেম একবার প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বোঝা যায় যে সেটা ছিল একটা ভুল সিগন্যাল। আর সেই ভুল যদি ধরা না পড়তো তাহলে হয়তো আজকে পৃথিবীটাই অন্যরকম হতো। এ কারণেই প্রতিটা সেকেন্ডের নিশ্চিত হতে হয় যে আক্রমণ কি আসলেই হয়েছে নাকি এটা শুধু একটা ভুল সংকেত। কিন্তু সেই নিশ্চিত হওয়ার সময়টুকুই আবার সবচাইতে মূল্যবান সময়। এই সময়ের মধ্যে প্রেসিডেন্ট একটা অপশন বেছে নেন। তারপর নিজের পরিচয় নিশ্চিত করতে একটা গোপন কোড ব্যবহার করেন। সবকিছু ঠিক থাকলে সেই আদেশটা মুহূর্তেই পৌঁছে যাবে আমেরিকার প্রতিটা নিউক্লিয়ার ইউনিটে। মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা মিসাইল ছিল, সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে থাকা সাবমেরিন আর আকাশে প্রস্তুত থাকা বোমারু বিমান সব একসাথে সেই নির্দেশে পৌঁছে যায়। এই পুরো প্রক্রিয়াটা এত দ্রুত হয় যে কয়েক মিনিটের মধ্যেই শত শত মিসাইল একসাথে আকাশে উঠে যেতে পারে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট তখনো বসে থাকেন না। আক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথেই তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। যদি সময় খুব কম থাকে তাহলে তাকে নিয়ে যাওয়া হবে হোয়াইট হাউসের নিচে থাকা একটা গোপন বাঙ্কারে। কিন্তু সময়টা যদি একটু বেশি থাকে তাহলে তাকে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হবে হেলিকপ্টারে করে এক বিশেষ বিমানে যেটাকে বলা হয় ডুমসডে প্লেন মানে কেয়ামতের প্লেন। বাইরে থেকে এটা একটা সাধারণ বিমান মনে হলেও এর ভেতরে থাকে আস্ত একটা উড়ন্ত কমান্ড সেন্টার। এখান থেকে প্রেসিডেন্ট গোটা যুদ্ধ পরিচালনা করতে পারেন। এই বিমানটা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন নিউক্লিয়ার বিস্ফোরণের পরেও এটা আকাশে টিকে থাকতে পারে। এমনকি মাঝ আকাশে জ্বালানি নিয়ে দিনের পর দিন এটা আকাশেই থাকতে পারে। ভেতরে আছে অসংখ্য কমিউনিকেশন সিস্টেম, স্যাটেলাইট লিংক এনক্রিপ্টেড ফোন যেখান থেকে পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় যোগাযোগ করা সম্ভব। এই বিমানের ভেতরের পরিবেশটা অনেকটা সাবমেরিনের মতো। বাইরের পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেলেও ভেতরে বসেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। কিন্তু এখানেই শেষ না, কারণ যদি প্রেসিডেন্ট বেঁচে না থাকেন তাহলে কি হবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার জন্য আমেরিকা তৈরি করেছে বিশাল বিশাল আন্ডারগ্রাউন্ড বাঙ্কার। পাহাড়ের নিচে মাটির গভীরে, এমন সব জায়গায় যেখানে হাজার হাজার মানুষ মাসের পর মাস থাকতে পারে। সেখানে বিদ্যুৎ আছে, পানি আছে, খাবার আছে, হাসপাতাল আছে এমনকি পুরো সরকার চালানোর মতো ব্যবস্থাও আছে। আর এই বাঙ্কার গুলো তৈরি করা হয়েছে একটাই উদ্দেশ্যে। যেকোনো পরিস্থিতিতে যেন সরকার টিকে থাকে। আর এই পরিকল্পনাকে বলা হয় কন্টিনিউটি অফ গভমেন্ট। এদিকে মাটির নিচে থাকা মিসাইল গুলো প্রস্তুত হয়ে যাচ্ছে। দুইজন অফিসার একসাথে চাবি ঘুরিয়ে মিসাইল লঞ্চ করার জন্য প্রস্তুত। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই মিসাইল গুলো মহাকাশ পাড়ি দিয়ে লক্ষ্যের দিকে ছুটে যাবে। এই মিসাইল গুলো এত দ্রুত চলে যে কয়েক মিনিটের মধ্যেই হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছে যেতে পারে। সমুদ্রের নিচে লুকিয়ে থাকা সাবমেরিন গুলো একইভাবে প্রস্তুত। এই সাবমেরিন গুলো এতটাই গোপনে চলে যে সেগুলোকে খুঁজে বের করা প্রায় অসম্ভব। আর এগুলোর একটাই একটা পুরো দেশকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে। আকাশে বোমারু বিমান গুলো উড়তে শুরু করেছে। পার্থক্য শুধু একটাই, এই বিমান গুলোকে শেষ মুহূর্তে ফিরিয়ে আনা যায়। মানে শেষ মুহূর্তে যদি সিদ্ধান্ত বদলানো হয় তাহলে হয়তো পৃথিবীকে বাঁচানো সম্ভব হবে। আর এই পুরো নিউক্লিয়ার সিস্টেমটার উদ্দেশ্য একটাই। যে কেউ যদি প্রথমে আঘাত করে তাহলে সে নিজেই ধ্বংস হয়ে যাবে। এটাই নিউক্লিয়ার ডিটারেন্স এক ধরনের ভারসাম্য, ভয় আর প্রতিশোধের সমীকরণ যা এতদিন যুদ্ধকে থামিয়ে রেখেছে। কিন্তু একইসাথে এই সিস্টেমটাই পৃথিবীর জন্য সবচাইতে বড় ঝুঁকি। কারণ যদি কোনদিন এটা সত্যি হয়ে যায় তাহলে আর কোনকিছুই থামানো যাবে না। শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট আকাশে, মিসাইল গুলো পথে, সাবমেরিন গুলো প্রস্তুত, বাঙ্কার গুলো প্রস্তুত। আর পুরো পৃথিবী অপেক্ষা করছে পরবর্তী কয়েক মিনিটে কি হতে যাচ্ছে। সৌভাগ্যবশত এই পুরো ঘটনাটা এখনো বাস্তবে ঘটেনি। কিন্তু ভয়ংকর সত্যটা হলো এই সিস্টেমটা প্রতিদিন প্রস্তুত থাকে। প্রতিদিন 24 ঘন্টা। কেউ না কেউ বসে আছে সেই স্ক্রিনের সামনে। অপেক্ষা করছে কোন অস্বাভাবিক সিগন্যাল আসে কিনা। আর যদি কোনদিন সত্যিই সেই সিগন্যাল আসে আর যদি সেই ভয়ংকর বার্তাটা সত্যি হয়ে যায় অর্ডার কনফার্মড, তাহলে হয়তো সেই দিনটাই পৃথিবীর ইতিহাসের সবচাইতে অন্ধকার দিন হবে।

পৃথিবীর শেষ দিনেও যেভাবে টিকে থাকার প্লান করেছে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট !
মায়াজাল
7m 59s973 words~5 min read
Auto-Generated
Watch on YouTube
Share
MORE TRANSCRIPTS


