Thumbnail for কেন টাইটানিক সমুদ্র থেকে আজও উদ্ধার করা যায়নি? বিজ্ঞানীরা কী দেখেছিলো? Why Titanic Hasn't Recovered by মায়াজাল

কেন টাইটানিক সমুদ্র থেকে আজও উদ্ধার করা যায়নি? বিজ্ঞানীরা কী দেখেছিলো? Why Titanic Hasn't Recovered

মায়াজাল

8m 44s1,357 words~7 min read
YouTube auto captions
Transcript source

YouTube auto captions

This transcript was extracted from YouTube's auto-generated caption track. The transcript below is server-rendered so it can be read, searched, cited, and shared without opening the original YouTube player.

Use this transcript
Related transcript hubs

[0:00]হ্যালো বন্ধুরা, আমাদের পৃথিবীর ৭১ ভাগই পানি, আর মাত্র ২৯ ভাগ জায়গাতে আমরা পৃথিবীর সমস্ত মানবজাতি বাস করছি। আর এই জায়গাটুকুতেই আমাদের সবকিছু। সমুদ্রের বিশালতা এতই যে আমাদের কল্পনাকেও হার মানায়। আর এই সমুদ্রে এত রহস্যপূর্ণ জায়গা রয়েছে তা আমরা সবগুলো কোনদিনও দেখতেও পারব না। এর মধ্যেই একটি বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল। আর এই রহস্যের মত টাইটানিক জাহাজটিও আরো একটি রহস্য। জাহাজটি ডোবার ৭৩ বছর পর পর্যন্ত গবেষকরা খুঁজে পায়নি যে জাহাজটি কোথায় আছে বা কিভাবে আছে। আর এই জাহাজটিকে খুঁজে পাওয়ার প্রায় ৩৫ বছর পরেও এটি উদ্ধার করা কোনভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। আজকের ভিডিওতে আমরা জাহাজটি কেন ডুবেছিল তা সম্পর্কে আলোচনা করব না। আজকের ভিডিওতে আমরা আপনাদেরকে জানাবো যে কেন এবং কি কারণে জাহাজটিকে আর কোনদিনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এবং হয়তোবা আর হবেও না। তো স্বাগতম আপনাকে মায়াজালের আরো একটি নতুন এপিসোডে। বন্ধুরা, টাইটানিক জাহাজটি কেন ডুবেছিল বা কিভাবে ডুবেছিল এগুলো আমরা প্রায় সবাই জানি। আর এই জানার পেছনের মূল ভূমিকা রয়েছে টাইটানিক নামের এই বেস্ট মুভিটি। ১৯১১ সালে টাইটানিক জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পরে এটি কোথায় আছে বা কিভাবে আছে তা জানার জন্য বিজ্ঞানীরা বারবার চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু তারা তা কোনভাবেই জানতে পারেননি। আর এইভাবে একটানা ৭৩ বছর ধরে জাহাজটিকে খোঁজার প্রচেষ্টা চালিয়েও তারা জাহাজটির অবস্থান কোথায় আছে তা জানতে পারেননি। কিন্তু ১৯৮৫ সালে এক আর্কিওলজিস্ট এবং আমেরিকান নেভি অফিসার রবার্ট বেলস মিলে জাহাজটিকে খোঁজার অভিযানে বের হয়। এবং তারা টাইটানিকের বর্তমান অবস্থান কোথায় কিভাবে আছে তা খুঁজে পায়। আর তারা টাইটানিককে খুঁজে পাওয়ার পরে টাইটানিককে ঘিরে আরো বেশ কিছু রহস্য উন্মোচন হয়। দুই ভাগে ভেঙে পড়া জাহাজটি ডুবে গিয়েছিল সমুদ্রের ১২০০০ ফুট গভীরে। অর্থাৎ প্রায় ৪ কিলোমিটার গভীরে। অফিসিয়াল রেকর্ড থেকে জানা যায় এই জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত আস্ত ছিল। কিন্তু যখনই এটা সমুদ্রের গভীরে ঢুকতে শুরু করে তখনই এটা দুই ভাগে ভেঙে যায়। কিন্তু সেটা কি কারণে? টাইটানিক দ্য নিউ এভিডেন্সের তথ্য অনুসারে বলা হয় যে টাইটানিক আইসবার্গের সাথে ধাক্কা লেগে ডোবে নি। বরং এটা ডুবেছিল জাহাজের মধ্যে আগুন লাগার ফলে। বন্ধুরা, গবেষকরা যখন জাহাজটিকে খুঁজে পায় তখন এই জাহাজের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে অনেক কিছুই দেখতে পায় যা তখনো প্রায় অক্ষত ছিল। তারা জাহাজটিকে পরবর্তীতে আবার রিকভার করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তারা এতদিনে বুঝতে পেরে গেছে যে এটা আর কখনোই রিকভার করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। কিন্তু তারা টাইটানিক জাহাজটিকে ডুবে যাওয়ার পেছনে আরো বেশ কিছু রহস্যপূর্ণ ঘটনার সন্ধান পায়। কিন্তু তারপরও টাইটানিক জাহাজটি ডুবে যাওয়ার মূল ঘটনা আজও একটি রহস্য হয়ে আছে পৃথিবীর সামনে। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগেও বহুবার চেষ্টা চালিয়ে জাহাজটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আর তাই জাহাজটি আজও সমুদ্রের অতল গহ্বরেই ডুবে আছে। বন্ধুরা, জাহাজটি সমুদ্রের তলদেশে ডুবে যায় প্রায় দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে। আর তাই এটি অন্যান্য জাহাজকে যেভাবে সমুদ্রের গভীর থেকে টেনে তোলা হয় সেভাবে তোলা সম্ভব হয়নি। চায়ের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ ডুবিয়ে রাখা বিস্কুটকে তোলার সময় যেমনটি হয় ঠিক এই জাহাজটিকেও তুলতে গেলে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীনই হতে হবে। কিন্তু তারপরও বিভিন্ন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাবমেরিন এবং ম্যাগনেটিক সিস্টেমের মাধ্যমে হয়তোবা জাহাজটিকে উদ্ধার করা সম্ভব। কিন্তু এতেও বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। এর মধ্যে প্রথমটি হল টাইটানিকের ওজন। কারণ এই টাইটানিকের ওজন ১.৪৩ লক্ষ টন যা অনেক বেশি। এবং তারপরে রয়েছে পানির চাপ যা জাহাজটির ওজন আরো বহুগুণে বাড়িয়ে তোলে। টাইটানিক জাহাজ বর্তমান সমুদ্রের যে গভীরতায় আছে সেখানে পানির চাপ অনেক বেশি। এত গভীরতা থেকে মাত্র ১ স্কয়ার বর্গফুটের কোন জিনিসকে তুলতে হলেও ৩৯২ কিলোমিটারের ফোর্সের প্রয়োজন পড়বে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা আজ পর্যন্ত এত পাওয়ারফুল ম্যাগনেট বা সাবমেরিন তৈরি করতে পারেনি যে এভাবে টাইটানিক জাহাজকে এত গভীর থেকে উপরে তুলে আনবে। ২১ শতাব্দীর শুরুতে এই জাহাজটিকে উদ্ধার করার কোন প্ল্যান গবেষকদের কাছে ছিল না। আর তাই তারা কিছু হাস্যকর পদ্ধতিতে জাহাজটিকে উদ্ধার করার পরিকল্পনা করতে থাকে। তার মধ্যে একটি হলো পিংপং বলের মাধ্যমে টাইটানিক জাহাজটিকে উদ্ধার করার পরিকল্পনা চালায়। আপনি ঠিকই শুনছেন। পিংপং বলের মাধ্যমেই। গবেষকরা ভেবেছিলেন সমুদ্রের অতল গভীরে থাকা জাহাজটির মধ্যে পিংপং বল দিয়ে ভর্তি করলে এই বলগুলো উপরের দিকে চাপ প্রয়োগ করবে। আর এতে করে জাহাজটিকে সাবমেরিন দিয়ে এবং পাওয়ারফুল ম্যাগনেটের মাধ্যমে উদ্ধার করা সম্ভব হবে। কিন্তু তখন গবেষকদের মাথায় এটা ছিল না যে সমুদ্রের এত গভীরে বেলুনের মধ্যে হিলিয়াম গ্যাস কে ভরবে। আর তাই তারা পরবর্তীতে আবার বেলুনের মাধ্যমে টাইটানিক জাহাজটিকে উদ্ধার করার পরিকল্পনা করতে থাকে। তারা ভেবেছিল হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ বেলুনের মধ্যে হিলিয়াম গ্যাস ভর্তি করে সেই বেলুনের সাথে জাহাজটিকে বেঁধে দিয়ে বেলুনের উর্ধমুখী চাপে জাহাজটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে। কিন্তু তাদের মাথায় ছিল না যে সমুদ্রের এত গভীরে বেলুনের মধ্যে হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা ফলানো কোনভাবেই সম্ভব নয়। তাই তারা পরবর্তীতে বুঝতে পারে যে সমুদ্রের এত গভীরে বেলুনগুলোকে হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা ফলানো কোনভাবেই সম্ভব নয়। তাই পরবর্তীতে তারা আরো একটি পরিকল্পনা করলো। তারা ভাবলো বরফের ডেনসিটি পানির চাইতে কম। আর তাই বরফ পানিতে ভাসে। তারা গবেষণা করে ভেবেছিলেন যে জাহাজটি সমুদ্রের গভীরে যে জায়গাটিতে রয়েছে সেই জায়গাটির পানিকে যদি কোনভাবে বরফে রূপান্তর করা যায় তবে এটি ভাসতে ভাসতে পানির উপরে চলে আসবে। আর তখন এটি যেখানে ইচ্ছা সেখানে নিয়ে যাওয়া যাবে। আর এই আইডিয়াটা দিয়েছিলেন আমেরিকান ইঞ্জিনিয়ার জন পিয়েরে। এর জন্য তিনি নাইট্রোজেনের বিপুল পরিমাণ মজুদ আনতে বলেন। আইডিয়াটা কিন্তু দারুণ ছিল কিন্তু ব্রিটেনের গ্যাস কোম্পানি বিওসির মতে এই প্রজেক্টের জন্য আধা মিলিয়ন টন নাইট্রোজেনের প্রয়োজন পড়বে। আর তখন সবার মনে একটাই প্রশ্ন আসে। তা হল বিপুল পরিমাণ তরল নাইট্রোজেন সেই সমুদ্রের গভীরে কিভাবে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে? আর তাই এই প্রযুক্তি বাস্তবায়িত হলো না। পরবর্তীতে এক লিজেন্ডারি শিপ বিল্ডার মিখাইল রাডনিটেস্কাই টাইটানিককে উদ্ধার করার জন্য একটি অন্যরকম প্রযুক্তির সাবমেরিন তৈরির কথা বলে। মিখাইলের ডিজাইনকৃত বহু সাবমেরিন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বিভিন্ন দেশের সেনারা ব্যবহার করেছে। মিখাইল বলেন জাহাজটিকে উদ্ধার করতে প্রথমে জাহাজের গায়ে জমে থাকা শেওলা এবং বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে। আর এর জন্য পাওয়ারফুল মেশিনের প্রয়োজন হবে যাতে এই ময়লাগুলো পরিষ্কার করতে সক্ষম হয়। তারপরে অনেক শক্তিশালী লোহার কেবলের মাধ্যমে টাইটানিককে খালি এই বোটের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। আর এই সমস্ত কাজ এই মেশিনই করবে। এরপরে এমন একটি সাবমেরিনের ব্যবস্থা করতে হবে যে সাবমেরিনের ট্যাংক গ্যাস দ্বারা পূর্ণ থাকবে। শুধু তাই না, এই প্রজেক্টের জন্য অত্যাধিক পরিমাণ বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে। মিখাইলের মতে এই প্রজেক্টের জন্য ২০ মিলিয়ন কিলোওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে। তাই এই প্রজেক্টের জন্য একটি বিশাল পাওয়ার প্লান্টের প্রয়োজন হবে। কিন্তু সমুদ্রের এত গভীরে এই বিশাল পাওয়ারফুল পাওয়ার প্লান্ট কিভাবে স্থাপন করা সম্ভব? তারা ফ্লোটিং পাওয়ার প্লান্ট তৈরি করার চিন্তা করেছিল। কিন্তু সমুদ্রের এত গভীরে বিদ্যুৎবাহী কেবল কোনভাবেই পৌঁছানো সম্ভব নয়। কারণ এটি পানির অত্যাধিক চাপে ফেটে যাবে। কিন্তু এই প্রজেক্টটি যদি কোনভাবে সম্ভব হয় তবে এটি হবে অনেক ব্যয়বহুল একটি প্রজেক্ট। আর তাই তারা ততক্ষণাৎ এই প্রজেক্টটিকে হোল্ড করে দেয়। অনেক কোম্পানিই জাহাজটিকে উদ্ধার করার জন্য পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু এটি উদ্ধার করতে হলে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হবে। কিন্তু তারপরও তারা এটি উদ্ধার করার জন্য চেষ্টা করত। কিন্তু করছে না কারণ এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে উদ্ধার করা যদি কোনভাবে সম্ভব হয় তবে লাভ তো দূরের কথা তা থেকে ব্যয়িত অর্থই উঠার কোন সম্ভাবনা নেই। আর তাই বড় বড় কোম্পানি এই প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করছে না। গবেষকদের পরিকল্পনা শুধু পরিকল্পনাই থেকে যাচ্ছে। কোন কোম্পানি যদি টাইটানিক জাহাজটিকে উদ্ধার করে মিউজিয়ামে পরিণত করে তবুও তাদের ব্যয়িত অর্থ জোগাড় করতে ১০০ বছরেরও বেশি সময় লেগে যাবে। যদিও এই জাহাজের সাথে অনেক ইমোশনাল কাহিনী জড়িয়ে আছে। কিন্তু কোন কোম্পানি এত বড় রিস্ক নিতে চাইবে না। তাছাড়া এই জাহাজটিকে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ক্ষয় করে ফেলেছে। বলা হয়ে থাকে কিছু বছর পরে এসব ব্যাকটেরিয়া জাহাজটিকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে ফেলবে। শুধু তাই না। বিভিন্ন প্রকার সামুদ্রিক মাছ জাহাজটিকে তাদের বসবাস স্থান বানিয়ে ফেলেছে। আর তাই ইউনেস্কো ২০০১ সালে এই জাহাজটিকে আন্ডারওয়াটার কালচারাল হেরিটেজ প্রটেক্টেড সাইট হিসেবে ডিক্লিয়ার করে দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবে বলা যায় যে কোন কোম্পানি এই জাহাজটিকে উদ্ধার করতে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করবে সেই পরিমাণ অর্থ দিয়ে এই জাহাজের মতোই অন্য যেকোনো নতুন জাহাজ ক্রয় করা সম্ভব হবে। আর তাই কোন কোম্পানি এমন বোকামির কাজ করতে চাইবে না। তাছাড়া এই জাহাজটিকে আর কোনভাবেই উদ্ধার করা সম্ভব নয়। কারণ এই জাহাজটি এখন একটা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এটি উদ্ধার করতে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে। আর এটা উদ্ধার করার পরে এটিকে কোন কাজেও লাগানো সম্ভব হবে না। আর তাই স্বাভাবিকভাবে বলা যায় জাহাজটিকে হয়তোবা আর কোনদিনই উদ্ধার করা সম্ভব নয়। তবে এই জাহাজটি যদি সমুদ্রের তলদেশে দীর্ঘদিন পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে তবুও আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই টাইটানিকের রহস্যপূর্ণ কাহিনীগুলো শুনতে পারবে এবং দেখতে পারবে। ভিডিওটি ভালো লাগলে লাইক করতে পারেন এবং আপনি যদি এমন রহস্য রোমাঞ্চ আনকমন আর ইন্টারেস্টিং ভিডিও দেখতে পছন্দ করে থাকেন তবে মায়াজল চ্যানেলটিকে এখনই সাবস্ক্রাইব করুন এবং পাশে রাখা বেল আইকনটি প্রেস করুন। তো দেখা হচ্ছে আগামী এপিসোডে ততক্ষণ পর্যন্ত ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।

Need another transcript?

Paste any YouTube URL to get a clean transcript in seconds.

Get a Transcript