[0:04]সুপ্রিয় দর্শক শ্রোতা, আইন শিক্ষার্থী কিংবা ল গ্রাজুয়েটদের অনেকেই আমাদের নিকট জানতে চান, আইন পড়ে কি কি চাকরি করা যায় কিংবা কোন কোন পেশায় যাওয়া যায়?
[0:15]কেউ কেউ আমাদের কাছে অনুরোধ করেছেন এই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনাপূর্বক একটা এপিসোড বানানোর।
[0:22]আইন শিক্ষার্থী এবং ল গ্রাজুয়েটদের এমন অনুরোধ বা আগ্রহের কথা চিন্তা করেই আমরা নির্মাণ করেছি এই এপিসোডটি।
[0:30]আশা করি আইন শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার সংক্রান্ত এই এপিসোডটি দেখার পর এই বিষয়ে সন্তোষজনক ধারণা লাভের পাশাপাশি পাবেন একটি যুথসই দিকনির্দেশনা আর তাতে ভারী হবে ল গ্রাজুয়েটদের কনফিডেন্সের পাল্লাটিও।
[1:06]প্রথমেই আমরা যাচ্ছি অ্যাডভোকেট হিসেবে আদালতে প্র্যাকটিসের বিষয়ে।
[1:10]পেশা হিসেবে ল গ্রাজুয়েটদের জন্য আমাদের দেশে সবচেয়ে বড় যে প্ল্যাটফর্মটা রয়েছে সেটি হচ্ছে অ্যাডভোকেসি।
[1:18]এই পেশাটা খুবই চ্যালেঞ্জিং একটা পেশা। তবে সুযোগ রয়েছে সবচেয়ে বেশি এই পেশাতেই।
[1:24]আইন শিক্ষার্থীরা হয়তো সবাই অবগত আছেন যে বাংলাদেশে অ্যাডভোকেট হতে গেলে ল গ্র্যাজুয়েটদের এনরোলড বা তালিকাভুক্ত হতে হয় বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে।
[1:34]যে তালিকাভুক্তিক আমরা বলে থাকি সনদ পাওয়া।
[1:37]বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে এনরোলড হতে গেলে অর্থাৎ সনদ পেতে গেলে আইনে অনার্স বা গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করার পর সকলকে অবতীর্ণ হতে হয় বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক অনুষ্ঠিত এনরোলমেন্ট পরীক্ষায়।
[1:49]যে পরীক্ষাটা অনুষ্ঠিত হয় দুই বা আড়াই বছর পর পর তিনটি স্তরে অর্থাৎ প্রিলি, রিটেন এবং ভাইভা।
[1:56]এমসিকিউ পদ্ধতির প্রিলিমিনারি পরীক্ষার নম্বর থাকে একশ।
[2:01]রিটেন পরীক্ষার নম্বরও থাকে একশ। এই দুটো পরীক্ষারই পাশ নম্বর হচ্ছে 50।
[2:06]আর ভাইভা হয় 50 নম্বরে।
[2:09]এভাবে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণদের নাম এনরোল্ড বা তালিকাভুক্ত করা হয় অ্যাডভোকেট হিসেবে।
[2:15]এই তালিকাভুক্তির মধ্য দিয়ে পাওয়া যায় অ্যাডভোকেটশিপ সনদ।
[2:19]তারপরই ল গ্রাজুয়েটরা অপটেড বারের সদস্য হয়ে অধস্তন আদালত বা সাবঅর্ডিনেট কোর্টে করতে পারেন অ্যাডভোকেট হিসেবে প্র্যাকটিস।
[2:29]আর হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিস করতে হলে অ্যাডভোকেটশিপ সনদ হওয়ার পর অধস্তন আদালতে ২ বছরের প্র্যাকটিসের অভিজ্ঞতা লাগে।
[2:37]তারপর আবার অবতীর্ণ হতে হয় বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক অনুষ্ঠিত হাইকোর্ট পারমিশন এক্সামে, যে এক্সামটা হয় দুই স্তরে।
[2:44]25 নম্বরের রিটেন এক্সাম আর 25 নম্বরের ভাইভা।
[2:48]মোটামুটি এক বছর অন্তর অন্তর অনুষ্ঠিত হয় এই পারমিশন পরীক্ষাটা।
[2:51]এভাবে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণদের দেওয়া হয় হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিস করার অনুমতি।
[2:57]এরপর কেউ যদি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্র্যাকটিস করতে চান, তাহলে লাগবে হাইকোর্ট বিভাগে পাঁচ বছরের প্র্যাকটিসিং এক্সপেরিয়েন্স।
[3:05]আর হাইকোর্ট বিভাগের মাননীয় বিচারপতিগণের স্বীকৃতি। তারপর আপিল বিভাগের এনরোলমেন্ট কমিটি উপযুক্তদের এনরোল্ড বা তালিকাভুক্তির মাধ্যমে অনুমতি প্রদান করে থাকেন আপিল বিভাগে প্র্যাকটিসের।
[3:16]যাই হোক, আমরা আসি মূল আলোচনায়।
[3:19]পেশা হিসেবে অ্যাডভোকেসি কেমন কিংবা কি কি সুযোগ রয়েছে এই পেশায় সেই প্রসঙ্গে।
[3:26]প্রথমেই আসছি আমরা অধস্তন আদালতে প্র্যাকটিস প্রসঙ্গে।
[3:29]অধস্তন আদালত মানে জেলা আদালতগুলোর কথা বলছি আমরা।
[3:34]ধরুন আপনি ঢাকা জজ কোর্টে কিংবা আপনার নিজ জেলায় প্র্যাকটিস করতে চান।
[3:40]যেখানেই করুন না কেন আপনার পছন্দমতো সিভিল বা ক্রিমিনাল যেকোনো প্রকারের কিংবা উভয় প্রকারের প্র্যাকটিসি করতে পারেন আপনি।
[3:48]এটা সত্য যে প্র্যাকটিস শুরুর প্রথম দিকটা খুব একটা সুখকর হয় না। ভালো সিনিয়র না পাওয়া, আয় রোজগার না হওয়া, মামলা না পাওয়া, দিন এনে দিন খাওয়ার মত চলা ইত্যাদি বিষয় দু তিন বছর সহ্য করতে হবে আপনাকে।
[4:01]কিন্তু এভাবে লেগে থাকলে মজাটা পেতে শুরু করবেন তারপর।
[4:05]সাথে এটাও বলে রাখছি যে চাকরি বলেন আর ব্যবসা বলেন সবচেয়ে পরিশ্রমী পেশা কিন্তু অ্যাডভোকেসি।
[4:11]ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কি কি মজা আছে এই পেশায় তা শুনলে এই কষ্টটাকেও তুরি মেরে উড়িয়ে দেবেন চট করেই।
[4:19]চলুন তাহলে জানিয়ে দিচ্ছি এটাও এবার। প্রথমত, অ্যাডভোকেসি কমপ্লিটলি একটা স্বাধীন পেশা।
[4:25]অর্থাৎ কারো অধীনস্থ নন আপনি। দ্বিতীয়ত, আয়ের দিক থেকে বললে শুরুতে একটু একটু করে হলেও বছর পাঁচেক আঠার মতো লেগে থাকার পর সর্বোচ্চটা নয় নাই বললাম।
[4:36]তবে আমরা নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি মোটামুটি মানের যোগ্যতা আর পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকলে যেকোনো প্রথম শ্রেণীর চাকরির বেতন থেকে আপনি কয়েক গুণ বেশি আয় করতে পারবেন অনায়াসেই।
[4:48]যোগ্যতা বলতে আমরা বোঝাচ্ছি আপনার ক্লায়েন্ট ডিলিংস, কানেকটিভিটি, হিয়ারিং করার অ্যাবিলিটি, আইন বোঝা এবং সেটি ভালো করে বিশ্লেষণ ও আদালতে উপস্থাপন করতে জানা, ড্রাফটিং কোয়ালিটি এবং সর্বোপরি ওকালতের নানা ট্যাকটিস টেকনিক বা কৌশল রপ্ত করা।
[5:06]বছর দশেক লেগে থাকার পর যদি আপনি আদালতপাড়ায় একটা সুখ্যাতি অর্জন করে ফেলতে পারেন তাহলে কিন্তু আর ক্লায়েন্টের আশায় পথ চেয়ে বসে থাকতে হবে না আপনাকে।
[5:14]ক্লায়েন্ট আসবে আপনাআপনি।
[5:17]পাশাপাশি আপনার কলিগ অ্যাডভোকেটরাও দ্বারস্থ হবেন আপনার নিকট তার ক্লায়েন্ট বা মামলা নিয়ে।
[5:22]একটা সুখকর তথ্য দিয়ে যাই এখানে আপনাদের। একজন প্রতিষ্ঠিত অ্যাডভোকেট কিন্তু মামলার ভারে নতুন আসা মামলা একদমই নিতে চান না।
[5:30]তাহলে এবার বুঝুন এমন অ্যাডভোকেটদের ইনকামটা কত?
[5:39]এবার আসি আমরা অধস্তন আদালতে অ্যাডভোকেসির পাশাপাশি আর কি কি করা যায় সে বিষয়ে।
[5:44]আর যা যা করা যায় বা হওয়া যায় তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে প্রসিকিউশন বা সরকারপক্ষের আইনজীবী হওয়া।
[5:52]প্রতিটি জেলা আদালতেই ফৌজদারি এবং দেওয়ানি উভয় প্রকার মামলা পরিচালনার জন্যই সরকারের তরফ থেকে নিয়োগ করা হয় আইনজীবী।
[6:02]অধস্তন আদালতে বিচারধীন প্রায় সকল ফৌজদারি মামলা পরিচালনার জন্য একজন পাবলিক প্রসিকিউটর বা পিপি'র নেতৃত্বে নিয়োগ করা হয় একাধিক অ্যাডিশনাল পিপি এবং অসংখ্য অ্যাসিস্ট্যান্ট পিপি।
[6:14]তাছাড়া বিশেষ কোনো ফৌজদারি মামলা বা বিশেষ শ্রেণীর ফৌজদারি মামলার জন্য নিয়োগ করা হয় স্পেশাল পিপি।
[6:21]মোটের উপর এই সংখ্যাটা কিন্তু কম নয়।
[6:24]কোনো কোনো জেলায় যেমন ঢাকা চট্টগ্রামের মতো বড় বড় জেলা বা মহানগর আদালতগুলোতে দুই শতাধিক পিপি, অ্যাডিশনাল পিপি ও এপি নিয়োগ করা হয়।
[6:32]আর একইভাবে যে সকল দেওয়ানি মামলায় সরকারের স্বার্থ জড়িত থাকে সে সকল দেওয়ানি মামলা পরিচালনার জন্য নিয়োগ করা হয় গভর্ণমেন্ট প্লিডার বা জিপি এবং জিপি'র নেতৃত্বে থাকেন একাধিক অ্যাডিশনাল জিপি এবং অসংখ্য অ্যাসিস্ট্যান্ট জিপি।
[6:48]তবে যেহেতু এখনো পর্যন্ত কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে আমাদের দেশে পিপি জিপি নিয়োগের বিধান করা হয়নি ফলে পিপি জিপিদের সাধারণত নিয়োগ প্রদান করা হয় ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত অ্যাডভোকেটদের এবং সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়ে যান তারাও।
[7:05]তাদের স্থলে তখন নিয়োগ পায় পরিবর্তিত ক্ষমতাসীন দলের অ্যাডভোকেটরা।
[7:09]সুতরাং আদালত অঙ্গনে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত অ্যাডভোকেটদের জন্য প্রসিকিউশন বা সরকারি উকিল হওয়ার এটা একটা বাড়তি সুযোগই বটে।
[7:21]এবার আসি আমরা অধস্তন আদালতে অ্যাডভোকেসির পাশাপাশি আর কিভাবে আপনি অধস্তন আদালতে বাড়তি আয় করতে পারবেন সে বিষয়ে।
[7:30]ইদানিং কিন্তু বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের অর্থ আদায় কিংবা অন্যান্য স্বার্থ সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো পরিচালনার জন্য প্র্যাকটিসিং অ্যাডভোকেটদের মধ্য থেকে একটি প্যানেল নির্বাচন করে থাকে।
[7:44]আর ওই প্যানেলে ঢুকে গেলে এবং এভাবে যদি আপনি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্যানেল লয়ার হয়ে যেতে পারেন, তাহলে ওইসব প্রতিষ্ঠানের মামলা করেও আরামসে আপনি মাসপ্রতি আয় করতে পারবেন একটা ফিক্সড অ্যামাউন্ট।
[8:00]আবার অধস্তন আদালতে এমন প্র্যাকটিসের পাশাপাশি আপনি হতে পারেন একজন আয়কর আইনজীবীও।
[8:07]তার জন্য নতুন করে কোনো পরীক্ষায় অংশ নিতে হয় না কাউকে। পালন করতে হয় কেবলমাত্র কয়েকটি আনুষ্ঠানিকতা।
[8:13]সরকারের রাজস্ব বিভাগের তৎপরতায় ইদানিং আয়কর সংক্রান্ত মামলাও বেড়েছে কয়েক গুণ।
[8:18]সুতরাং আয়কর আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিসেরও রয়েছে এখন ভালো প্রসপেক্ট।
[8:22]প্রসঙ্গক্রমে জানিয়ে রাখছি ইদানিং অনেকেই কেবলমাত্র ইনকাম ট্যাক্স লয়ার হয়ে বেশ ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছেন তাদের পেশাগত জীবনে।
[8:35]এবার আসি আমরা সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিসের বিষয়ে।
[8:38]নিঃসন্দেহে সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিসের ক্ষেত্রে একটু বেশি কোয়ালিটি, একটু বেশি এক্সপেরিয়েন্স, আইন জানা বা বোঝার ক্ষেত্রে ভালো পারদর্শিতা, স্মার্টনেস ইত্যাদি লাগে বটে।
[8:48]তবে কেউ যদি টানা পাঁচ-সাত বছর কোন ভালো চেম্বারের সাথে সম্পৃক্ত থেকে থিতু হয়ে যেতে পারেন হাইকোর্টে তাহলে কিন্তু গাড়ি, বাড়ি, শান শওকত এমন বৈষয়িক বিষয়ে দের কোন কিছুরই অভাব হবে না আপনার আর।
[9:01]সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিসের ক্ষেত্রে কিন্তু অনেক উইং রয়েছে। যেমন রিট ম্যাটার, সিভিল, ক্রিমিনাল, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ, অ্যাডমিরালটি ইত্যাদি যেকোনো এক বিষয়ে যদি আপনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলতে পারেন তাহলে কিন্তু মামলা নিয়ে যেমন কুলাবেন না আপনি তেমনি থাকবে না ইনকামেরও কোনো লিমিট।
[9:21]এবার আসছি আমরা সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিসের পাশাপাশি আর কি কি সুযোগ রয়েছে আপনার জন্য সে বিষয়ে।
[9:28]সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিসের পাশাপাশি আপনি হয়ে যেতে পারেন অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল বা এএজি, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বা ডিএজি, অ্যাডিশনাল অ্যাটর্নি জেনারেল এবং অ্যাটর্নি জেনারেল।
[9:39]সেজন্য অবশ্য কোন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসতে হবে না আপনাকে।
[9:42]এএজি হতে গেলে সুপ্রিম কোর্টে পাঁচ বছরের প্র্যাকটিস এবং ডিএজি বা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হওয়ার ক্ষেত্রে 10 বছরের প্র্যাকটিসিং এক্সপেরিয়েন্স থাকতে হয়।
[9:52]1972 সালের বাংলাদেশ ল অফিসার্স অর্ডার্স মোতাবেক এই প্রকারের পদগুলোতে নিয়োগ প্রদান করে থাকেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট।
[10:00]তবে সরকারের পছন্দ মতোই নিয়োগ প্রদান করা হয় এই পদগুলোতে।
[10:03]যাই হোক, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে কাজ করার বাড়তি সুবিধা হলো এই যে, হাইকোর্ট বিভাগে যখন অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগ দেয়া হয় পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে প্রতি দশজনের মধ্যে কমবেশি দুই থেকে তিনজন নিয়োগ পেয়ে থাকেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলদের মধ্য থেকেই।
[10:25]এবার বলছি আমরা লিগ্যাল অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করার বিষয় নিয়ে।
[10:30]অধস্তন আদালত কিংবা সুপ্রিম কোর্ট যেখানেই আপনি প্র্যাকটিস করুন না কেন প্র্যাকটিসের পাশাপাশি ন্যাশনাল বা মাল্টিন্যাশনাল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার হয়েও আপনি আপনার পার্সোনাল ট্রেজারিতে যোগ করতে পারেন বাড়তি ইনকাম।
[10:44]সেক্ষেত্রে অবশ্য একটু অভিজ্ঞতা সম্পন্নদেরই নিয়োগ প্রদান করা হয় লিগ্যাল অ্যাডভাইজার হিসেবে।
[10:50]তাতে কি? প্র্যাকটিস শুরু করলে একদিন তো আপনার থলিতে আপনা আপনিই যোগ হবে অভিজ্ঞতা নামক দুষ্প্রাপ্য যোগ্যতাটা।
[14:21]এবার আসছি আমরা হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক হওয়ার বিষয়ে।
[14:24]দুই ফোরাম থেকেই কিন্তু হওয়া যায় হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক।
[14:28]অর্থাৎ অধস্তন আদালতের বিচারক কিংবা সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট এই দুই পেশা থেকেই নিয়োগ দেয়া হয় হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকদের।
[14:36]সংবিধানের 95 অনুচ্ছেদ মোতাবেক সুপ্রিম কোর্টে অ্যাডভোকেট হিসেবে 10 বছরের এক্সপেরিয়েন্স আর সাবঅর্ডিনেট জজদের ক্ষেত্রে 10 বছরের জুডিশিয়াল এক্সপেরিয়েন্স থাকাই হচ্ছে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক হিসেবে নিয়োগ লাভের পূর্বশর্ত।
[14:51]আর কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার বালাই নেই এখানে।
[14:54]প্রাথমিক যোগ্যতা থাকা বিচারক এবং অ্যাডভোকেটদের মধ্য থেকে রাষ্ট্রপতি উপযুক্তদের নিয়োগ দিয়ে থাকেন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক হিসেবে যাদেরকে প্রচলিত অর্থে বলা হয় জাস্টিস।
[15:08]আর একবার জাস্টিস হয়ে গেলে কিন্তু সরকারি চাকরির বয়সসীমা যেখানে 59 সেখানে বিচারপতি হিসেবে আপনি চাকরি করতে পারবেন 67 বছর পর্যন্ত।
[15:22]এবার আসছি আমরা বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস বা বিসিএস প্রসঙ্গে।
[15:26]অন্যান্য সাবজেক্টের গ্র্যাজুয়েটদের ক্ষেত্রে যেমন দু একটি অপশনের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিসিএস ল গ্র্যাজুয়েটদের জন্য কিন্তু অনেকগুলো অপশনের মধ্যে এটা একটা বাড়তি অপশন মাত্র।
[15:37]ল গ্র্যাজুয়েটদের কেউ যদি জাজ বা অ্যাডভোকেট পেশায় না গিয়ে অন্য পেশায় সুইচ করতে চান তারা বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস বা বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে হয়ে যেতে পারেন প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা।
[15:49]বিসিএস এর মোট 26 টি ক্যাডারের মধ্যে পররাষ্ট্র, প্রশাসন, পুলিশ, অডিট, কর, আনসার, ডাক ইত্যাদি সহ কমপক্ষে 10 টি ক্যাডার হচ্ছে সাধারণ বা জেনারেল ক্যাডার।
[16:01]অর্থাৎ এই সকল ক্যাডারে ল গ্রাজুয়েটরা যেতে পারেন অন্যান্য সাবজেক্টের গ্রাজুয়েটদের মতোই।
[16:06]পাশাপাশি ল গ্রাজুয়েটরা বিসিএস পরীক্ষায় কিছুটা বাড়তি প্রায়োরিটি পেয়ে থাকেন সংগত কারণেই।
[16:13]বিসিএস পরীক্ষা হয় তিন স্তরে 200 নম্বরের প্রিলিমিনারি, 900 নম্বরের রিটেন আর 200 নম্বরের ভাইভা।
[16:19]প্রায় এক-দেড় বছর পর পরই হয় বিসিএস এর সার্কুলার।
[16:22]প্রতিটি সার্কুলারে গড়পরতা পাঁচ শতাধিক পদ থাকে জেনারেল ক্যাডারে।
[16:26]21 বছর থেকে 30 বছর বয়সী ল গ্র্যাজুয়েটরা আবেদন করতে পারবেন বিসিএস এর জেনারেল ক্যাডার পদগুলোতে।
[16:35]আর চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে আপনি হয়ে যেতে পারেন পররাষ্ট্র বিষয়ক সহকারী সচিব কিংবা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার কিংবা পুলিশের এএসপি কিংবা সমমানের অন্য কোনো পদ।
[16:46]তাছাড়া ইদানিং আরেকটা সুযোগ তৈরি হয়েছে বিসিএস উত্তীর্ণদের বেলায়।
[16:50]ক্যাডার পদে চূড়ান্তভাবে মনোনীতদের পরের মেধাতালিকা থেকে রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী প্রথম শ্রেণীর নন-ক্যাডার পদ যেমন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, সাব-রেজিস্ট্রার ইত্যাদি বিভিন্ন পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়।
[17:05]সুতরাং ল গ্রাজুয়েটরা বিসিএস অ্যাপিয়ার করে ক্যাডার না পেলেও পরের মেধাতালিকায় স্থান পেলে সেখান থেকেও হয়ে যেতে পারেন প্রথম শ্রেণীর একজন সরকারি কর্মকর্তা।
[17:18]এবার আসছি আমরা আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একটি চাকরি প্রসঙ্গে।
[17:24]বিজেএস বা বিসিএস ছাড়াও কিন্তু ল গ্রাজুয়েটদের প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা হওয়ায় রয়েছে একাধিক সুযোগ।
[17:30]তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের চাকরি।
[17:37]সহকারী সচিব থেকে সচিব পর্যন্ত আপনি হতে পারেন এই বিভাগের।
[17:41]যদিও পদসংখ্যা সীমিত তবে এই চাকরিটির সুবিধা হলো এই যে চাকরি জীবনের পুরোটা সময় আপনি চাকরি করবেন ঢাকায় বদলির কোন বালাই নেই এখানে।
[17:55]এবার বলছি আমরা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি প্রসঙ্গে।
[17:59]প্রথমেই বলছি আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরির বিষয়ে।
[18:02]বাংলাদেশ ব্যাংকে রয়েছে পৃথক একটি ল ডিপার্টমেন্ট যেখানে ল গ্রাজুয়েটদের জন্য রয়েছে সাতটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর বা এডি, দুইটি ডেপুটি ডিরেক্টর বা ডিডি, দুইটি জয়েন্ট ডিরেক্টর বা জেডি এবং একটি অ্যাডিশনাল ডিরেক্টরের পদ সহ 12 টি পদ।
[18:19]তবে এই পদ সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি আছে প্রক্রিয়াধীন।
[18:22]যাই হোক, এখনো পর্যন্ত পদ খুব বেশি না হলেও একমাত্র ল গ্রাজুয়েটরা পেয়ে থাকেন এই চাকরিটি।
[18:28]সুতরাং আগ্রহী ল গ্রাজুয়েটরা খোঁজ রাখতে পারেন এই চাকরির সার্কুলারের বিষয়েও।
[18:33]পাশাপাশি বাংলাদেশে এখন বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে 61 টি আর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে 35 টি অর্থাৎ প্রায় 100 খানেক।
[18:41]এই ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত প্রতারণা বা জালিয়াতি অর্থ আদায় ইত্যাদি সংক্রান্ত মামলা দায়ের ও পরিচালনার জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেরই রয়েছে একটি করে ল ডিভিশন।
[18:55]যেখানে থাকে ল অফিসার বা এমন নামের একাধিক পদ যেগুলো বেতনও বেশ আকর্ষণীয়।
[19:02]সুতরাং আইন পড়ে এইসব প্রতিষ্ঠানেও আপনি চাকরি করতে পারেন নির্ভিগ্নে।
[19:15]এবার আসছি আমরা আরেকটা ভিন্ন পেশা নিয়ে। এমন অনেক শিক্ষার্থী আছেন যাদের একসময় স্বপ্ন ছিল আর্মি, নেভি বা এয়ারফোর্সের অফিসার হওয়ার।
[19:24]কিন্তু তখন পারেননি। তাই বলে যে স্কোপ একেবারেই শেষ হয়ে গেছে তা কিন্তু নয়।
[19:30]ল গ্রাজুয়েটরা এবার পূরণ করতে পারেন সেই স্বপ্নটা।
[19:33]অর্থাৎ আপনি উপযুক্ত হলে হয়ে যেতে পারেন বাংলাদেশ আর্মি, নেভি বা এয়ারফোর্সের অফিসার।
[19:39]ল গ্রাজুয়েটদের জন্য ডিফেন্সের এই বিভাগটির নাম হচ্ছে জাজ অ্যাডভোকেট জেনারেলস ব্রাঞ্চ।
[19:46]সংক্ষেপে এই বিভাগটিকে বলা হয় জ্যাগ।
[19:50]এটা ডিফেন্সের এডুকেশন কোরের অন্তর্গত একটি বিভাগ।
[19:54]মূলত এই তিন বাহিনীতে কর্মরত সদস্যদের বিষয়ে একটি স্মুথ জুডিশিয়াল সিস্টেম চালুর উদ্দেশ্যেই গঠন করা হয়েছে এই বিভাগটি।
[20:01]তিন বাহিনীর সদস্যরা যখন স্ব স্ব অ্যাক্ট বা অর্ডিনেন্স এ বর্ণিত অপরাধ সংঘটিত করে তখন তাদের বিচারের জন্য গঠিত কোর্ট মার্শাল বা ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট মার্শাল বা ফিল্ড জেনারেল মার্শাল কোর্টে জাজ অ্যাডভোকেটরা দায়িত্ব পালন করেন বিচারক প্যানেলের অন্যতম একজন সদস্য হিসেবে।
[20:18]জাজ অ্যাডভোকেট হতে গেলে 30 বছর বয়স পর্যন্ত ট্রাই করতে পারবেন ল গ্র্যাজুয়েটরা।
[20:23]তবে তার জন্য এসএসসি এবং এইচএসসিতে সিজিপিএ ফোরের মধ্যে থ্রি আর এলএলবি এলএলএমএ পেতে হবে কমপক্ষে জিপিএ থ্রি আর হতে হবে অবিবাহিত।
[20:33]তবে নিয়মিত সার্কুলার হয় না এই পদে। ভ্যাকেন্সি সাপেক্ষেই কেবল করা হয় সার্কুলার।
[20:38]কখনো বছরে দুইবার আবার কখনো দুই-তিন বছরেও একবার হয় সার্কুলার।
[20:42]যাই হোক আবেদন করার পর আইকিউ টেস্ট, ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্ট, মেডিকেল টেস্ট এসবের মাধ্যমে প্রাইমারিলি সিলেক্টেড হলে তারপর পার করতে হয় আইএসএসবি'র কঠিন ধাপটি।
[20:54]এরপর চূড়ান্তভাবে মনোনীত হলে ট্রেনিং শেষে জাজ অ্যাডভোকেটদের দেয়া হয় লেফটেন্যান্ট বা সমমান মর্যাদা।
[21:01]আর পদোন্নতি পেয়ে পেয়ে আপনি হয়ে যেতে পারেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বা সমমানের র্যাঙ্ক পর্যন্ত।
[21:07]তবে এখন পর্যন্ত এই ডিপার্টমেন্টের স্ট্রেন্থ খুব একটা বড় নয়।
[21:10]প্রতিটা ফোর্সে 20 থেকে 30 টির মত পদ রয়েছে বর্তমানে।
[21:15]তবে ডে বাই ডে বড় হচ্ছে এই ডিপার্টমেন্টের স্ট্রেন্থ।
[21:18]সুতরাং যে সকল ল গ্রাজুয়েটরা আর্মি, নেভি বা এয়ারফোর্সের জাজ অ্যাডভোকেট হতে চান তাদের জন্য এটাও একটা অপশন বটে।
[21:30]এবার আসছি আমরা নন-গভর্ণমেন্টাল অর্গানাইজেশন বা এনজিওতে চাকরির বিষয়ে।
[21:35]বাংলাদেশে এখন কাজ করছে দেশি বিদেশি অনেক এনজিও।
[21:40]এই সকল এনজিওদের বেশ কয়েকটি কিন্তু কাজ করে কেবলমাত্র আইনগত অধিকার নিয়েই।
[21:44]ওই সকল এনজিওগুলোতে ল গ্রাজুয়েটরা চাকরি করতে পারেন কমফোর্টেবলি।
[21:49]সেখানে স্যালারিও কিন্তু কম নয় বেশ ভালো।
[21:52]আর যারা সাধারণ জনগণের আইনগত অধিকার নিয়ে কাজ করতে ইন্টারেস্টেড তারা তাদের ক্যারিয়ার বিল্ডআপ করতে পারেন এই সেক্টরেও।
[21:58]এছাড়া পদ সংখ্যা অল্প হলেও ইউনাইটেড নেশনস কিংবা ইউএনডিপির মত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও রয়েছে ল গ্রাজুয়েটদের জন্য প্রেস্টিজিয়াস চাকরির সুযোগ।
[22:11]তাছাড়া অন্যান্য প্রাইভেট সেক্টর কিন্তু এখন অনেক বিস্তৃত।
[22:14]প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে সকল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিগুলোকে মেনে চলতে হয় সংশ্লিষ্ট দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক আইন।
[22:23]তাছাড়া নানান স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোতে দিন দিন বেড়েই চলেছে লিটিগেশন।
[22:30]এজন্য এখন প্রায় বাধ্যবাধকতাভুলকভাবেই কোম্পানিগুলোকে নিয়োগ দিতে হয় এক বা একাধিক ল অফিসার।
[22:37]প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই এখন ল ডিভিশন নামে একটি আলাদা উইং রয়েছে যেখানে থাকে ল অফিসার বা এমন নামের একাধিক পদ যেগুলোর বেতনও বেশ আকর্ষণীয়।
[22:48]সুতরাং আইন পড়ে এইসব প্রতিষ্ঠানেও আপনি চাকরি করতে পারেন নির্ভিগ্নেই।
[22:56]এবার বলছি আমরা টিচিং প্রফেশন নিয়ে।
[22:59]ল গ্রাজুয়েটদের মধ্যে যাদের শিক্ষকতা পছন্দ তারা যেতে পারেন শিক্ষকতা পেশায়ও।
[23:06]যদিও তার জন্য করা চাই ভালো রেজাল্ট। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার ক্ষেত্রে যেমন ব্যাচের প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় হওয়া চাই আবার প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার ক্ষেত্রেও অর্জন করতে হবে শীর্ষ ফলাফল।
[23:19]এখন পাবলিক আর প্রাইভেট মিলিয়ে প্রায় শতাধিক ইউনিভার্সিটি রয়েছে বাংলাদেশে।
[23:22]এই শতাধিক ইউনিভার্সিটিগুলোতে কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক শিক্ষকের পদ রয়েছে।
[23:29]সুতরাং ভালো ফলাফলধারীরা অনায়াসেই বেছে নিতে পারেন সম্মানজনক এই পেশাটি।
[23:32]একেবারে নির্ঝঞ্ঝাট পেশা।
[23:36]এছাড়া আইন সংশ্লিষ্ট যে পেশায়ই আপনি নিয়োজিত হন না কেন সেখান থেকেও কিন্তু এই সকল ইউনিভার্সিটি বা ল কলেজগুলোতে আপনি করতে পারেন খণ্ডকালীন বা পার্ট টাইম শিক্ষকতা।
[23:48]ওখান থেকে যেমন আসবে বাড়তি রোজগার তেমনি থলিতে যোগ হবে বাড়তি সম্মানও।
[23:58]আমরা বলছি এবার ল গ্রাজুয়েটদের একটা প্রেসটিজিয়াস ডিগ্রির বিষয়ে আর সেটা হচ্ছে ব্যারিস্টার ডিগ্রি।
[24:05]যদিও এটা কোন পৃথক পেশা নয় তবে ল গ্রাজুয়েটদের অনেকেরই একটা স্বপ্ন থাকে ব্যারিস্টার হওয়ার কিংবা বিদেশে গিয়ে সেটেলড হওয়ার।
[24:13]বাংলাদেশে অ্যাডভোকেসি করতে যদিও ব্যারিস্টার ডিগ্রিটির একদমই দরকার পড়ে না তবে আইন বিষয় একটু বেশি জানাশোনা আর পেশাগত জীবনে বাড়তি প্রায়োরিটি পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যারিস্টারি ডিগ্রিটা রয়েছে একটা আলাদা গুরুত্ব।
[24:25]আবার ব্যারিস্টারি পড়তে গিয়ে কিংবা উচ্চতর পড়াশোনা করতে গিয়ে বিদেশে থিতু হওয়ার ক্ষেত্রেও কিন্তু ল গ্রাজুয়েটরা অন্যদের চেয়ে একটু বেশিই কনফিডেন্ট হয়ে থাকেন।
[24:40]আমরা চলে এসেছি এপিসোডটির শেষের দিকে।
[24:43]তবে যাওয়ার আগে বলে যাচ্ছি একেবারেই ভিন্ন একটি প্রসঙ্গে।
[24:47]প্রসঙ্গটি হচ্ছে ল গ্রাজুয়েটদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়ে।
[24:52]বার বা আইনজীবী সমিতিতে সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সম্পৃক্ত থেকে সরকারি আইনজীবী হওয়ার পাশাপাশি কিন্তু আপনি সম্পৃক্ত হয়ে যেতে পারেন জাতীয় রাজনীতিতেও।
[25:00]ব্যবসায়ীরা ছাড়া আর চাকরিজীবীদের অবসরে যাওয়া ছাড়া একমাত্র অ্যাডভোকেটরাই কিন্তু তাদের ওকালতি পেশা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি শুরু থেকেই জড়িয়ে যেতে পারেন রাজনীতিতে।
[25:11]এই যে দেখুন না বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সব রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ পদে কিন্তু অ্যাডভোকেটদেরই প্রাধান্য।
[25:17]আর যেকোনো সরকারের এমপি মন্ত্রীদের মধ্যে একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যা থাকে অ্যাডভোকেটদের দখলেই।
[25:24]যদিও রাজনীতির পথ অনেক পিচ্ছিল পাশাপাশি থাকতে হয় বাড়তি যোগ্যতা আর ধৈর্য্য।
[25:29]তবে চাইলে কিন্তু এটাও একজন যোগ্য ল গ্রাজুয়েট এর জন্য একটি ব্যতিক্রমী প্ল্যাটফর্মই বটে।
[25:34]সুতরাং প্রিয় আইন শিক্ষার্থী বৃন্দ ল গ্রাজুয়েটদের এত এত স্কোপ শুনে নিশ্চয়ই চোখ ছানাবড়া হয়ে গেছে এতক্ষণে আপনাদের।
[25:42]হওয়ারই কথা। অন্যান্য সাবজেক্টের গ্রাজুয়েটদের স্কোপগুলোর সাথে তুলনাটা করুন না একবার।
[25:50]দেখবেন বিসিএস না হলে অন্যান্য গ্রাজুয়েটদের অধিকাংশেরই করতে হয় যেনতেন একটা চাকরি।
[25:55]অথচ ল গ্রাজুয়েটদের রয়েছে কত ধরনের স্কোপ।
[25:59]কেবলমাত্র এক অ্যাডভোকেসি পেশাই রয়েছে অন্তত গোটাদর্শেক বাড়তি পেশায় সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ।
[26:05]তবে এত এত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও একটা কথা কিন্তু মাথায় রাখতে হবে সবসময়।
[26:10]কথাটি হচ্ছে যে পেশায়ই আপনি যেতে চান না কেন তার জন্য লাগবে প্রথমে একটা টার্গেট ঠিক করা।
[26:15]তারপর সেই অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করা।
[26:19]সব পেশায় যাওয়ার জন্য যে খুব বেশি মেধাবী হতে হয় কিংবা একাডেমিক পরীক্ষায় খুব ভালো রেজাল্ট করতে হয় বিষয়টা কিন্তু মোটেই এমন নয়।
[26:28]জাস্ট মন থেকে আপসোস, হতাশা কিংবা আলসেমিটা ঝেড়ে ফেলুন আর চেষ্টাটা চালিয়ে যান আন্তরিকভাবে।
[26:36]আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি এমনটা হলে যেকোনো ল গ্রাজুয়েটই কামিয়াব হবেন শতভাগ।
[26:43]বিদায় নিচ্ছি আমরা এখানেই। সবাই নিরাপদে থাকুন আর যুক্ত থাকুন ল টিউব বিডি'র সঙ্গে।



