[0:00]মানুষ যখন কোন সিদ্ধান্ত নেয়, তখন কতগুলো বিষয়ের উপর নির্ভর করে এই সিদ্ধান্ত নেয়। যেমন তার বিশ্বাস, তার মূল্যবোধ, তার ব্যক্তিত্ব, তার লক্ষ্য, তার আকাঙ্ক্ষা। এর বাইরে আমাদের ব্রেইনে দুটো অংশ আছে। একটাকে বলা হয় ইমোশনাল ব্রেইন, অন্যটাকে বলা হয় লজিক্যাল ব্রেইন। যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় ব্রেইনের এই দুইটা অংশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনেক মানুষ বলে থাকে যে যারা খুব বেশি লজিক্যাল তারা বেশি বুদ্ধিমান। আসলেই কি তাই? আজকে আমরা ইমোশনাল এবং লজিক্যাল ব্রেইন নিয়ে কথা বলবো।
[0:50]আমি আহসান আজিজ সরকার। আমি একজন সাইকিয়াট্রিস্ট বা মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ। এছাড়া আমি গবেষণা করি। আমি একটা সাইকিয়াট্রি জার্নালের এডিটর হিসেবে কাজ করি। আমার ইন্টারেস্ট হচ্ছে সাইকিয়াট্রি, নিউরোসাইকিয়াট্রি এবং বিহেভিওরাল নিউরোসায়েন্সের মতো সাবজেক্টে। আমি বিশ্বাস করি মানুষকে যদি বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক তথ্য দেয়া যায় তাহলে মানুষ নিজেকে বুঝতে পারে এবং মানুষ নিজেকে বুঝতে পারলে তার বিকাশ এবং ওয়েলবিং দুটোই নিশ্চিত হয়। তো কথা বলছিলাম মানুষের সিদ্ধান্ত নেয়া নিয়ে। মানুষ যখন কোন সিদ্ধান্ত নেয় তা অনেকগুলো বিষয়ের উপর নির্ভর করে। তার বিশ্বাস, তার ব্যক্তিত্ব, তার মূল্যবোধ, তার লক্ষ্য, তার আকাঙ্ক্ষা। আমরা যে সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে থাকি সেই সিদ্ধান্তগুলো আবার অনেক রকম হয়ে থাকে। যেমন কতগুলো হচ্ছে অটোমেটিক ডিসিশন। কোথাও আমি হাত দিলাম আগুনে সাথে সাথে আমি হাত সরিয়ে ফেলছি। এই ধরনের সিদ্ধান্ত হচ্ছে অটোমেটিক। কতগুলো সিদ্ধান্ত হচ্ছে অভ্যাসগত। যেমন আমি কি খাবো বা কি পোশাক পরবো। এর বাইরে কতগুলো ডিসিশন আছে যেটা হচ্ছে ইমোশনাল। আমি রাগের উপর ভিত্তি করে, আনন্দের উপর ভিত্তি করে, দুঃখ পেয়ে এরকম সিদ্ধান্ত নেই। কতগুলো সিদ্ধান্ত বলা হয় সোশ্যাল ডিসিশন। সমাজের অন্য মানুষ কি ভাবছে, অন্য মানুষ কি চিন্তা করছে এর উপর ভিত্তি করে আমরা এই ডিসিশনগুলা নেই। আর কতগুলো ডিসিশন বলা হয় কনশাস বা লজিক্যাল ডিসিশন। আমরা রিস্ক বেনিফিট এনালাইসিস করে এই সিদ্ধান্তগুলা নেই। এবং সবশেষ আরেকটা ডিসিশন আছে যেটাকে বলা হয় ইন্টুইটিভ ডিসিশন। যে আমাদের মন বলছে এটা করা উচিত, আমার মনে হচ্ছে যে ভবিষ্যতে এটা হতে পারে, এই ধরনের ইনটুইশনের উপর বেস করে আমরা এই সিদ্ধান্তটা নেই। তো যে ধরনের সিদ্ধান্তই হোক না কেন, সেটা অটোমেটিক হোক, হ্যাবিচুয়াল হোক, কিংবা লজিক্যাল হোক, ইমোশনাল হোক, আমাদের ব্রেইনের দুটো অংশ সবসময় কাজ করে। একটা হচ্ছে ব্রেইনের লজিক্যাল পার্ট, আরেকটা হচ্ছে ব্রেইনের ইমোশনাল পার্ট। এটাকে আমরা সংক্ষেপে বলতে পারি ইমোশনাল মাইন্ড আর লজিক্যাল মাইন্ড। ইমোশনাল এবং লজিক্যাল ব্রেইনের মধ্যে মিল কোথায় বা পার্থক্যটা কোথায়? ইমোশনাল ব্রেইন যখন আমরা ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত নেই তখন তা হচ্ছে ইমোশনের উপর বা আবেগের উপর বেস করে আমরা সিদ্ধান্ত নেই। যেমন রাগের মাথায় আমরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের ইমোশন আবার কয়েক রকম হয়। যেমন একেবারে প্রাথমিক লেভেলের ইমোশন হচ্ছে রাগ, ভয়, বিরক্ত এই জিনিসগুলা। একটু আমরা যখন বড় হই তখন আমাদের মধ্যে সোশ্যাল ইমোশন দেখা যায়। যেমন আমরা হিংসা করি, আমরা গর্ব অনুভব করি। এই জিনিসগুলাকে বলা হয় সোশ্যাল ইমোশন। আরো যখন ম্যাচিউর হই আমরা তখন আমাদের মধ্যে নতুন কিছু ইমোশন আসে। যেমন জাস্টিস বা সাম্যতা, মোরালিটি বা নৈতিকতা, অ্যাসথেটিক বা সৌন্দর্যবোধ। তো মানুষ এগুলোর উপর বেস করেও ডিসিশন নিতে পারে। আর আমরা যখন লজিক্যাল মাইন্ড ব্যবহার করি তখন আমরা মূলত কি তথ্য আছে? তার পক্ষে কি যুক্তি আছে, কি এভিডেন্স আছে, রিস্ক কি, বেনিফিট কি এই ভাবে আমরা সিদ্ধান্ত নেই। যেমন দেখেন, কোভিড যখন হয় তখন কোভিড হওয়ার সময় অনেকে ভিটামিন সি, জিঙ্ক এই ধরনের সাপ্লিমেন্টগুলা খেতে শুরু করে। এটার কারণ হচ্ছে তারা ভয় পায় বা অন্য সবাই করছে দেখে করে। কিন্তু একজন মানুষ যদি লজিক্যাল হয়, লজিক্যাল মাইন্ড ইউজ করে তখন সে চিন্তা করে যে আসলেই কি এটার পক্ষে কোন এভিডেন্স আছে? আমি যে ভিটামিন সি কিংবা জিঙ্ক খাচ্ছি, খেয়ে কি আসলেই প্রতিরোধ করতে পারবো? তো এইভাবে ইমোশনাল মাইন্ড এবং লজিক্যাল মাইন্ড চিন্তা করে। ইমোশনাল ব্রেইনের আরেকটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ইমোশনাল ব্রেইন খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কোথাও আগুন লেগেছে কিংবা শব্দ হচ্ছে এই অবস্থায় কি করা উচিত, সেকেন্ডের মধ্যে ইমোশনাল ব্রেইন আপনাকে ডিসিশন দিয়ে দিবে। লজিক্যাল ব্রেইন প্রবলেম সলভিং অ্যাপ্রোচে আগায়। স্টেপ বাই স্টেপ চিন্তা করে। তো ধরেন ইমোশনাল ব্রেইন ব্যবহার করলে আপনার কাছে মনে হবে যে আমার একে পছন্দ একেই বিয়ে করা দরকার। কিন্তু আপনি যখন লজিক্যাল ব্রেইন ব্যবহার করবেন তখন আপনি চিন্তা করবেন যে তার বংশমর্যাদা কি? তার ধনসম্পদ কেমন আছে, তার ব্যক্তিগত যোগ্যতা কিরকম, তার রূপ কিরকম এইভাবে আপনি লজিক্যালি চিন্তা করে আগাবেন। কিন্তু ইমোশনাল মাইন্ড খুব দ্রুত যে একে আমার পছন্দ আমার একেই দরকার। এই দুইটা পার্থক্যের বাইরে আরেকটা পার্থক্য হচ্ছে ইমোশনাল ব্রেইন যখন আমরা ব্যবহার করি তখন আমরা অনেক ইনফরমেশন একসাথে প্রসেস করতে পারি। আর লজিক্যাল ব্রেইন যখন আমরা ব্যবহার করি তখন আমরা অল্প কিছু ইনফরমেশন প্রসেস করতে পারি। যেমন আমি একটা ঘরে ঢুকলাম ঘরের মধ্যে আসলে পরিবেশটা কি, ঢোকার সাথে সাথে আমি বুঝতে পারি। এটা হচ্ছে ইমোশনাল মাইন্ড। আর আমি যখন আমার লজিক্যাল মাইন্ড বা ব্রেইন ব্যবহার করি তখন আমাকে ঘরের দিকে তাকাতে হয়, শুনতে হয় কি অবস্থা, তারপরে আমি ডিসিশন নিতে পারি। ইমোশনাল মাইন্ডকে বলা হয় সাবজেক্টিভ মাইন্ড। যে আমরা আমাদের নিজস্ব প্রিফারেন্স বা ভালো লাগা যেই জিনিসগুলা সেগুলোর উপর বেস করে সিদ্ধান্ত নেই। আর লজিক্যাল মাইন্ড হচ্ছে অনেক বেশি অবজেক্টিভ। অন্য মানুষ কি চিন্তা করে, অন্য কি মত আছে, অন্য কি তথ্য আছে এসব বিচার করে আমরা লজিক্যাল মাইন্ডের উপর বেস করে সিদ্ধান্ত নেই। দেখেন ইমোশনাল মাইন্ড যদি আমরা ব্যবহার করি ধরেন একজন মানুষ চিন্তা করছে যে সে টেসলা কোম্পানির শেয়ার কিনবে। কারণ তার এলন মাস্ককে পছন্দ। আর লজিক্যাল মাইন্ড যদি ব্যবহার করে সে চিন্তা করবে যে এই কোম্পানির মূলধন কত? অন্য কার কোম্পানির সাথে সে কম্পিট করতে পারবে কিনা, এটার রিটার্ন কিরকম এইভাবে চিন্তা করে। ইমোশনাল এবং লজিক্যাল মাইন্ডের মধ্যে আরেকটা পার্থক্য হচ্ছে লজিক্যাল মাইন্ড ডিটেইল এনালাইসিস করে এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এনালাইসিস করে। অন্যদিকে ইমোশনাল মাইন্ড অত বেশি ডিটেইল এনালাইসিস করে না। যেমন ধরেন দুটো দলের মধ্যে খেলা হচ্ছে। লজিক্যাল মাইন্ড চিন্তা করে যে এই খেলার রেজাল্ট কিভাবে হতে পারে। সে চিন্তা করে যে আজকের আবহাওয়া কিরকম, টিম পারফরম্যান্স গত 10 বছরে কিভাবে করেছে, কোচের পারফরম্যান্স কিরকম, খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স কিরকম, মাঠের পরিস্থিতি কিরকম, ক্রাউড কিরকম হবে? সবকিছু বিচার বিবেচনা করে সে সিদ্ধান্ত নিতে চায়। অন্যদিকে ইমোশনাল মাইন্ড সে হয়তো জাস্ট জিজ্ঞেস করবে যে গত পাঁচ ম্যাচের পারফরম্যান্স কিরকম, এর উপর বেস করে সে সিদ্ধান্ত দিয়ে দিবে। তাহলে আমরা দেখলাম ইমোশনাল মাইন্ড বা ইমোশনাল ব্রেইন ইমোশনের উপর বেস করে ডিসিশন নেয়। খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে, প্রচুর ইনফরমেশন একসাথে প্রসেস করতে পারে কিন্তু ডিটেইল এনালাইসিস কম করে। এবং ইমোশনাল মাইন্ড সবসময় পার্সোনাল প্রিফারেন্স বা নিজের ভালো লাগাকে গুরুত্ব দেয়। অন্যদিকে লজিক্যাল মাইন্ড খুব আস্তে আস্তে সিদ্ধান্ত নেয়, রিস্ক বেনিফিট এনালাইসিস করে। সম্ভাবনা বা প্রোবাবিলিটি কতটুকু এটা এনালাইসিস করে। এভিডেন্স, ফ্যাক্ট এসব বিবেচনা করে সে ডিটেইল এনালাইসিস করে এবং সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় সময় বেশি লাগে। তাহলে আমরা ইমোশনাল এবং লজিক্যাল দুই রকম ব্রেইন ব্যবহার করে সবসময় ডিসিশন নিয়ে থাকি। তো অধিকাংশ ডিসিশন বা অধিকাংশ কাজ আমরা যেগুলা করি সেসব ক্ষেত্রে আমরা ইমোশনাল মাইন্ড ব্যবহার করি। যেমন আমি কি পড়বো? কোন একজন মানুষকে জিজ্ঞেস করলেন যে লাল রঙ সে কেন পরে সে হয়তো উত্তর দিবে যে লাল রঙ আমার পছন্দ। অন্যদিকে একজন মানুষ যিনি লজিক্যাল ব্রেইন ব্যবহার করছেন তাকে যদি জিজ্ঞেস করেন যে আপনি লাল রঙ কেন পড়েন উনি আপনাকে বলবেন যে লাল হচ্ছে ওয়ার্ম কালার, এটার মধ্যে অ্যাগ্রেশন আছে, কারেজ আছে, বিপ্লব আছে। কালার সাইকোলজি অনুযায়ী আমি যদি এই কালার পড়ি তাহলে মানুষ আমাকে কারেজিয়াস ভাববে। এ কারণে আমি লাল রঙ পরি। আবার ধরেন একজনকে আপনি জিজ্ঞেস করলেন যে আপনি এক্সারসাইজ কেন করেন না? সে যদি ইমোশনাল মাইন্ড ব্যবহার করে সে বলবে যে আমার ভালো লাগে না তাই আমি এক্সারসাইজ করি না। অন্যদিকে একজন মানুষ যিনি লজিক্যাল মাইন্ড ব্যবহার করেন তাকে যদি জিজ্ঞেস করেন যে আপনি কেন এক্সারসাইজ করেন না? তিনি বলবেন যে এক্সারসাইজ করা খুব বেশি জরুরি না। দেখা গেছে যে যিনি এক্সারসাইজ করেন, খুব বেশি এক্সারসাইজ করলে মানুষ অল্প বয়সে মারা যায়। যেমন যারা ম্যারাথন দৌড় দেয় তারা অল্প বয়সে মারা যায়। তো এইভাবে লজিক্যাল এবং ইমোশনাল মাইন্ড কাজ করে। লজিক্যাল মাইন্ড হচ্ছে এক ধরনের ব্রেক হিসেবে কাজ করে। যেমন আপনি চটপটি খেতে গেলেন রাস্তার পাশে আপনার কাছে মনে হচ্ছে যে এটা খাওয়া দরকার। যেই মুহূর্তে খেতে গেছেন লজিক্যাল মাইন্ড বলছে এটা খাওয়া উচিত হবে না কারণ এখানে রোগ জীবাণু থাকতে পারে। তো এক ধরনের ব্রেক হিসেবে কাজ করছে। আমরা যেকোনো ডিসিশন যখন নেই তখন ইমোশনাল এবং লজিক্যাল মাইন্ড সাধারণত দুটোই একসাথে ব্যবহার করি। কারো ক্ষেত্রে হয়তো ইমোশনাল মাইন্ড বেশি কারো ক্ষেত্রে লজিক্যাল মাইন্ড বেশি। অনেক মানুষ মনে করে যে মানুষ যত বেশি লজিক্যাল সে তত বেশি বুদ্ধিমান এবং তত বেশি ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আসলেই কি তাই? লজিক্যাল মাইন্ডের কিছু প্রবলেম আছে। যেমন একটা প্রবলেম হচ্ছে আপনি যদি খুব বেশি চিন্তা করেন বা ওভার থিংকিং করেন তখন আপনি ঠিকমতো ডিসিশন নিতে পারবেন না। যেমন খেলার মাঠে আপনি যদি খুব বেশি চিন্তা করেন যে আমি ব্যাট এভাবে বল দিয়ে মারবো, বল এখানে আসবে আমি এভাবে চালাবো তাহলে আপনি দেখবেন যে ব্যাট এবং বল একসাথে লাগছে না। আপনাকে ইমোশনাল ব্রেইন বা রিফ্লেক্স ইউজ করে ব্যাট এবং বলের সাথে কানেক্ট করতে হবে। তাহলে লজিক্যাল ব্রেইনের একটা প্রবলেম হচ্ছে ওভার থিংকিং করতে গেলে সমস্যার বা সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন হয়ে যায়। লজিক্যাল ব্রেইনের আরেকটা প্রবলেম হচ্ছে খুব বেশি যদি ইনফরমেশন থাকে তাহলে লজিক্যাল ব্রেইন ডিসিশনে পৌঁছাতে পারে না। বেশি ইনফরমেশন থাকলে ইমোশনাল ব্রেইন ব্যবহার করা হচ্ছে সবচেয়ে ভালো। যেমন ধরেন কিছুদিন আগে বিশ্বকাপ শেষ হলো। বিশ্বকাপে সবাই প্রেডিক্ট করতো যে ফ্রান্স কিংবা বেলজিয়াম অথবা ব্রাজিল এই টিমগুলো চ্যাম্পিয়ন হতো। এবং যারা প্রেডিক্ট করতো তারা সবাই এক্সপার্ট ছিলেন। তারা অনেক কিছু বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছিয়েছেন। কিন্তু যখন খুব বেশি ইনফরমেশন হয়ে যায় যে একটা দল চ্যাম্পিয়ন হবে কি হবে না তা অনেক কিছুর উপর যখন নির্ভর করে তখন লজিক্যাল ব্রেইন ডিসিশনে পৌঁছাতে পারে না। বা ডিসিশনে পৌঁছালেও তা ভুল হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে। আবার ধরেন হিলারি ক্লিনটন কিংবা ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনের কথা। এক্সপার্টরা সবাই মনে করতেন যে হিলারি ক্লিনটন এই নির্বাচনে জিততে যাচ্ছেন। কিন্তু আলটিমেটলি ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নির্বাচনে জিতান। কেন এই প্রেডিকশন ভুল হলো? তার কারণ হচ্ছে যখন অনেক অনেক অনেক ফ্যাক্টর কোন একটা আউটকাম ডিসাইড করে তখন লজিক্যাল ব্রেইন, এক্সপার্টরা ব্যাসিক্যালি লজিক্যাল ব্রেইন। সেটা কাজ করে না ঠিকমতো কিংবা কাজ করলেও ভুল ডিসিশন হয়। লজিক্যাল ব্রেইনের সমস্যা হচ্ছে লজিক্যাল ব্রেইন যদি ওভার থিংকিং করে তাহলে ভুল ডিসিশন দেয়। খুব বেশি যদি ইনফরমেশন বা তথ্য থাকে তাহলে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে না বা ভুল ডিসিশন দেয়। কখনো কখনো যেই তথ্য খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ না সেই তথ্যকে বেশি গুরুত্ব দেয়। যেমন ফুড কোম্পানিগুলা অনেক সময় মানুষকে ব্লাইন্ড টেস্টের জন্য ডাকে। যে একই খাবার বিভিন্ন ধরনের প্যাকেটে দিয়ে দেয়া হয়। তো অধিকাংশ মানুষ যেটা করে যেই প্যাকেটটা খুব বেশি আকর্ষণীয় মনে হয় বলে যে সেই প্যাকেটের খাবারটা খুব বেশি টেস্ট বেশি। কিন্তু খাবার কিন্তু একই প্যাকেট শুধু আলাদা। তো মানুষকে অনেক সময় যেই এই ধরনের অর্থহীন যেটা খুব বেশি গুরুত্ব নাই এই তথ্যগুলোকে খুব বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেয় তার ফলে ডিসিশন ভুল হতে পারে। লজিক্যাল ব্রেইনের আরেকটা সমস্যা হচ্ছে খুব বেশি যদি কেয়ারফুল এনালাইসিস করে তাহলে লজিক্যাল ব্রেইন ঠিকমতো ডিসিশন দিতে পারে না। যেমন আপনাকে যদি বলা হয় মোনালিসার ছবি বেশি সুন্দর নাকি একটা বিড়ালের ছবি বেশি সুন্দর? আপনি ইমোশনাল ব্রেইন ইউজ করলে বলবেন যে মোনালিসার ছবি বেশি সুন্দর। কিন্তু আপনাকে যদি লজিক্যালি এক্সপ্লেইন করতে বলা হয় যে কেন মোনালিসা বেশি সুন্দর আর কেন বিড়ালের ছবি বেশি সুন্দর? তাহলে দেখা গেছে অধিকাংশ মানুষ লজিক্যালি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে মোনালিসার চেয়ে বিড়ালের ছবি বেশি সুন্দর। তো খুব বেশি কেয়ারফুল এনালাইসিস করলে লজিক্যাল ব্রেইন ঠিকমতো সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। তাহলে আমরা যখন সিদ্ধান্ত নিব তখন কি ধরনের ব্রেইন ব্যবহার করব? লজিক্যাল না ইমোশনাল? সাধারণত অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে ইমোশনাল এবং লজিক্যাল ব্রেইন দুটোই থাকে এবং দুটোই একসাথে কাজ করে। তবে সাধারণ মানুষ যারা ম্যাচিউর না তারা বেশি ইমোশনাল ব্রেইন ব্যবহার করে। লজিক্যাল ব্রেইন নতুন কোন সিচুয়েশন যে আপনি নতুন একটা রেস্টুরেন্টে গেছেন বা নতুন কিছু করতে যাচ্ছেন বা নতুন কিছু শিখতে যাচ্ছেন, এসব ক্ষেত্রে ভালো ডিসিশন দিতে পারে। লজিক্যাল ব্রেইন যখন তথ্য কম, ইনফরমেশন কম, আপনাকে সিদ্ধান্ত দিতে হবে তখন ভালো ডিসিশন দেয়। অন্যদিকে ইমোশনাল ব্রেইন যখন আপনাকে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে তখন ভালো সিদ্ধান্ত দেয়। ইমোশনাল ব্রেইন যখন আপনার প্রচুর ইনফরমেশন আছে, আপনি ডিসাইড করতে পারেন না লজিক্যাল ব্রেইন দিয়ে তখন ইমোশনাল ব্রেইন ভালো সিদ্ধান্ত দেয়। আর লং টার্ম ডিসিশন নেয়ার ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে ইমোশনাল ব্রেইন ভালো সিদ্ধান্ত দেয়। আপনার সাবজেক্ট কি হবে, আপনার ক্যারিয়ার কি হবে এই জিনিসগুলা ইমোশনাল ব্রেইন ভালো সিদ্ধান্ত দিতে পারে। তো অধিকাংশ মানুষ মনে করে যে লজিক্যাল ব্রেইন ব্যবহার করলে ভালো ডিসিশন নেয়া সম্ভব। কিন্তু ইমোশনাল ব্রেইন আপনাকে অনেক ক্ষেত্রেই খুব ভালো ভালো ডিসিশন দিতে পারে। তো ইমোশন আবার প্রথমেই বলেছি অনেক রকম হয়। প্রাইমারি ইমোশন যেমন রাগ, দুঃখ বা আনন্দ। তো রাগের মাথায় বা দুঃখ পেয়ে বা আনন্দ নিয়ে যদি আপনি ডিসিশন নেন তাহলে এটা ভুল হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আবার সোশ্যাল ইমোশন যেমন গর্ব বা জেলাসি এই ধরনের ইমোশন ব্যবহার করে যদি আপনি ডিসিশন নেন তাহলে সেটাও ভুল হতে পারে। তো টেকনিক হচ্ছে আপনাকে ম্যাচিউর ইমোশন ইউজ করতে হবে। ম্যাচিউর ইমোশন হচ্ছে মোরালিটি বা নৈতিকতাবোধ, জাস্টিস বা সাম্যতা কিংবা অ্যাসথেটিক বা সৌন্দর্যবোধ। তো আপনারা চেষ্টা করবেন ইমোশনকে কাজে লাগানোর জন্য এবং ম্যাচিউর ইমোশন ব্যবহার করে ডিসিশন নেয়ার জন্য। হোপফুলি আপনারা খুব ভালো ভালো ডিসিশন নিতে পারবেন। ধন্যবাদ।



