Thumbnail for আমাজন রেইনফরেস্টের সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রাণী | আমাজন জঙ্গল সম্পর্কে অদ্ভুত তথ্য by ছায়াপথ

আমাজন রেইনফরেস্টের সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রাণী | আমাজন জঙ্গল সম্পর্কে অদ্ভুত তথ্য

ছায়াপথ

10m 49s1,368 words~7 min read
YouTube auto captions
Transcript source

YouTube auto captions

This transcript was extracted from YouTube's auto-generated caption track. The transcript below is server-rendered so it can be read, searched, cited, and shared without opening the original YouTube player.

Pull quotes
[0:00]আপনি যদি মনে করেন এই সম্পর্কে আলাদা একটি ভিডিও তৈরি করা দরকার আমাদের কমেন্ট বক্সে পার্ট টু লিখে জানাতে পারেন। আজকের এই ভিডিওটি ভালো লাগলে একটি লাইক করতে পারেন তাহলে দেখা হচ্ছে পরবর্তী নতুন একটি এপিসোডে।
Use this transcript
Related transcript hubs

[0:00]এটা হল অ্যামাজন জঙ্গল। আমাদের গোটা দুনিয়ার সবচেয়ে বড় এবং নির্জন এলাকা। এটি এত বড় জঙ্গল যে আপনাকে যদি ঠিক এর মাঝখানে ছেড়ে দেওয়া হয়, আপনাকে এই জঙ্গলের বাইরে বেরিয়ে আসতে 472 দিন সময় লাগবে। আর এই যাত্রাকালীন সময় আপনার সাথে সাক্ষাৎ হবে এইসব প্রাণীগুলির, যারা কতটা ছোট বা কতটা বড় সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। সবাই এক একজন ঘাতক প্রাণী। এদের সবার উদ্দেশ্য আপনাকে আক্রমণ করা। কেননা এরা সবাই অ্যামাজনের বাসিন্দা। এখানকার একটি ছোট্ট পিঁপড়েও আপনার জীবন নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এই জঙ্গল আমাদের পৃথিবীর এমন একটি জায়গা যে একাই 55 লাখ স্কয়ার কিলোমিটার জমি নিয়ে গঠিত। যে আয়তনকে আপনি অনুমান করতে পারেন এখানে বাংলাদেশের মত 37 টি দেশ, ভারতের মতো দুটি দেশ এবং দুবাইয়ের মতো 157 টি দেশকে সহজেই জায়গা দিতে পারবে। এই জঙ্গল মোট আটটি দেশের মধ্যে বিস্তৃত। এবং এর শেষ সীমানা আমেরিকা, কলম্বিয়া, গুয়ানা, ব্রাজিল, পেরু এবং বলিভিয়াতে মিশেছে। একটি বিষয় ভেবে আপনি বেশ অবাক হতে পারেন যে আমাদের গোটা পৃথিবীর জীবিত প্রাণীরা যে শ্বাস নিয়ে বেঁচে আছে, তার 20 শতাংশ অক্সিজেন এই অ্যামাজন জঙ্গল থেকে আসে। 40000 প্রজাতির গাছপালার এই জঙ্গল যেখানে প্রকৃতি একমাত্র রাজা। তাই এখানে যা ঘটে তা সবই প্রকৃতির রহস্যময় নিয়মে। তাই আজকের ভিডিওতে আমরা আপনাকে অ্যামাজন জঙ্গল সম্পর্কে এমন এমন সব রহস্য দিতে চলেছি, যা এর আগে আপনি হয়তো কখনো শোনেন নি। আসলে অ্যামাজন জঙ্গল কত বড় এবং এখানে কোন কোন ঘাতক প্রাণীর বসবাস, যারা কয়েক হাজার বছর ধরে এই জঙ্গলে ঘাঁটি তৈরি করেছে। জানতে হলে ভিডিওটি সম্পূর্ণ দেখার অনুরোধ রইল আর নতুন বন্ধুরা অবশ্যই পাশে থাকা সাবস্ক্রাইব লেখাটি প্রেস করে বেল আইকনের অল অপশন সিলেক্ট করুন। যদিও অ্যামাজন রেইন ফরেস্টের আয়তন 55 লাখ স্কয়ার কিলোমিটার। কিন্তু আপনি যদি এর সীমানা বরাবর হেঁটে যাওয়ার কথা ভাবেন তাহলে আপনাকে 9500 কিলোমিটার অতিক্রম করতে হবে। তার মানে হলো মুম্বাই থেকে নিউ দিল্লি সাতবার এবং ঢাকা থেকে বরিশাল 51 বার যাতায়াত করার সমপরিমাণ। এত বড় এবং ঘন অ্যামাজন জঙ্গলকে রেইন ফরেস্ট বলা হয়। কারণ বছরে একটি মাত্র সপ্তাহ নেই যে এখানে বৃষ্টি হয় না। অ্যামাজন জঙ্গল এত ঘন যে গাছপালার উপর বৃষ্টি পড়ার 10 মিনিট পর সেই বৃষ্টি মাটিকে স্পর্শ করে। এবং এই ঘন জঙ্গলের কারণে দিনের বেলাতেও অ্যামাজন জঙ্গল রাতের মতো প্রায় অন্ধকার থাকে। কারণ এই ঘন জঙ্গল সূর্যের আলোকে ভিতরে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। সুতরাং এমন একটি জঙ্গল যেখানে প্রচুর বৃষ্টি এবং ঘন হওয়ার কারণে এখানে যে গাছপালা পশুপাখি বাস করে তা অনেক অঞ্চলে খুঁজে পাওয়া যায় না। এই জঙ্গলে 40000 প্রজাতির গাছপালা, 1300 প্রজাতির পাখি, 2200 প্রজাতির মাছ, 270 প্রজাতির ম্যামালস এবং 380 প্রজাতির অদ্ভুত আর ভয়ঙ্কর ছোট প্রাণীর বসবাস। যদি এই অঞ্চলের ছোট বিষাক্ত প্রাণীর কথা বলা হয় তাহলে এখানে 25 লক্ষেরও বেশি আলাদা আলাদা বিষাক্ত পোকামাকড় রয়েছে। এই জঙ্গল বাইরে থেকে যতটা সুন্দর এর ভেতরটা ততটাই ভয়ঙ্কর। কেননা এর মধ্যে যে কোন সময় যে কোন কিছু হতে পারে। এর মধ্যে যে ছোট বড় প্রাণীর বসবাস এরা আপনার ধারণার চেয়েও অনেক বেশি ভয়ঙ্কর। যদি কোন মানুষ ভুল করে এই জঙ্গলে প্রবেশ করে তাহলে প্রথম এই জঙ্গলে তার সাথে দেখা হবে গ্রিন অ্যানাকোন্ডার। এই গ্রিন অ্যানাকোন্ডা দুনিয়ার সব থেকে লম্বা এবং বিষাক্ত সাপের প্রজাতি। এই সাপ 33 ফুট লম্বা এবং 250 কেজি ওজনের হয়ে থাকে। এবং এই সাপের সবথেকে ভয়ঙ্কর একটি দিক হলো, এটি তার নিজের থেকেও বড় একটি প্রাণীকে জীবিত গিলে ফেলতে পারে। অ্যামাজন জঙ্গলে এরকম কতগুলি সাপ আছে তা এখনো পর্যন্ত কেউ নির্ণয় করতে পারেনি। এছাড়াও এই জঙ্গলে অ্যানাকোন্ডার সাথে সাথে কোবরা এবং পাইথনের মতো আরো বিষধর সাপের প্রজাতি দেখতে পাওয়া যায়। আপনার জীবনে আপনি একবার হলেও পিঁপড়ের কামড় খেয়েছেন। যদি সেই পিঁপড়েটি বিষাক্ত হয়ে থাকে তাহলে আপনি জানেন সেই যন্ত্রণা কতখানি। কিন্তু অ্যামাজন জঙ্গলে এক ধরনের পিঁপড়ে পাওয়া যায় যার কামড় আপনি সহ্য করতে পারবেন না। বুলেট অ্যান্ট নামে এক ধরনের পিঁপড়ে যা অ্যামাজন জঙ্গলে পাওয়া যায় এবং এগুলি তার শরীরের মধ্যে বিষধর বিষ লুকিয়ে রাখে। এগুলিকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পিঁপড়ে বলা হয়। যা 4 সেন্টিমিটার লম্বা। কোন কারণবশত এই পিঁপড়ে যদি কোন মানুষকে কামড় দেয় তাহলে সেই মানুষটি প্রচুর যন্ত্রণা ভোগ করবে এবং সে মানুষটি মারাও যেতে পারে। বুলেট অ্যান্ট এই কারণে বলা হয় যে আজ পর্যন্ত যতগুলি মানুষ এর কামড় খেয়েছে তারা এই পিঁপড়ের কামড়কে বন্দুকের গুলির সাথে তুলনা করেছে। যেন মনে হয় ক্ষত স্থানে একটি বন্দুকের গুলি লেগেছে। হাজারো মাইল লম্বা এই জঙ্গলে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী এবং জলের স্রোত অনুসারে পৃথিবীর প্রথম বৃহত্তম নদীর অবস্থান। এটি হলো অ্যামাজন নদী। এই নদীর দৈর্ঘ্য 6840 কিলোমিটার। গোটা অ্যামাজন জঙ্গলে সারা বছর ধরে যতটা বৃষ্টি হয় সেই জল এই নদীর মাধ্যমে সমুদ্রে গিয়ে মেশে। মোটামুটি 329 ফুট গভীর এই নদীতে বাস করে পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হাজারো হাজারো কুমির। যারা তাদের খিদে মেটানোর জন্য যে কোন পরিস্থিতিতে যেতে পারে। আপনি জানলে অবাক হবেন অ্যামাজন নদীতে এক সেকেন্ডে 2 লক্ষ 19 হাজার কিউবিক মিটার জল অতিবাহিত হয়। আর এই জলের পরিমাণ আপনি একটি অনুমানের সাথে করতে পারেন যে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সুইমিং পুল সিটি স্টার শর্ম উল শেখ যা ইজিপ্টে অবস্থিত। এই পুল অ্যামাজন থেকে অতিবাহিত জল দ্বারা মাত্র এক সেকেন্ডে পূরণ করা যেতে পারে। অ্যামাজন নদী থেকে যতটা জল অতিবাহিত হয়ে সমুদ্রে মেশে, এই জলের পরিমাণ আপনি পৃথিবীর আরো 40 টি নদীর জলের সাথে তুলনা করতে পারেন। যার মানে একটি নদীর জল 40 টি নদীর সমান। অ্যামাজন নদীতে মনুষ্য জগতের অনুপস্থিতির কারণে এখানে বেশ কিছু রেয়ার প্রজাতির প্রাণী দেখা যায়। যার মধ্যে সবচেয়ে বিশেষ পিঙ্ক ডলফিন। মোটামুটি 9 ফুট লম্বা এবং 200 কেজি ওজনের এই ডলফিন গুলি অন্য সব ডলফিনের থেকে দ্রুত গতি সম্পন্ন এবং এদের বুদ্ধি অন্যদের থেকে বেশি হয়ে থাকে। কারণ এদের মস্তিষ্ক অনেক বুদ্ধি সম্পন্ন হয়ে থাকে। যদিও সমস্ত ডলফিন মানুষের সাথে সহজে মিশে যেতে পারে। তবে অ্যামাজন নদীর এই প্রাণীগুলি মানুষের উপর আক্রমণও করে থাকে। বিজ্ঞানী এবং বিশেষজ্ঞদের কাছে এমন বহু প্রমাণ রয়েছে যে ফেলে আসা 2800 বছর ধরে এই নদীতে এক ধরনের মাছ বসবাস করে। যাদেরকে ইলেকট্রিক ইল বলা হয়। অদ্ভুতভাবে এই মাছগুলির একটি বিশেষত্ব রয়েছে যে এগুলি তার শিকারীদের ইলেকট্রিক শক প্রদান করে। যে ইলেকট্রিক শক এখনো পর্যন্ত 860 ভোল্ট পরিমাপ করা হয়েছে। অ্যামাজন নদীতে এরকম অনেক ঘটনা দেখা গিয়েছে যে ইলেকট্রিক ইল গুলি মানুষদেরকে হাই ভোল্টেজ ইলেকট্রিক শক দিয়েছে এবং প্রাণনাশ করেছে। শুধু মানুষ নয় এরা মাছদের উপরও হামলা করতে পারে। এরা নিজেদের শরীরের থেকেও 100 গুণ ওজনের বেশি প্রাণীর উপর হামলা করে থাকে। এদের সামনে যেই হোক না কেন একটি ইলেকট্রিক ঝটকা নিমিষেই তাকে মেরে ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করে যে এই ইলেকট্রিক ইলের 860 ভোল্ট দ্বারা একটি প্রাণীর নার্ভাস সিস্টেম সহজেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে মার্টিন স্টেল নামের একজন ম্যারাথন সুইমার এই গোটা অ্যামাজন নদীকে সাঁতরে পার করেছিলেন। হ্যাঁ সেই ভয়ঙ্কর অ্যামাজন নদী। যেখানে হাজার হাজারো পরিমাণে ভয়ঙ্কর কুমির, ইলেকট্রিক ইল এবং সেই ভয়ঙ্কর সাপের বসবাস। কিন্তু মার্টিন কিভাবে এই ভয়ঙ্কর নদীকে পার করেছিলেন এবং এই রেকর্ড তৈরি করেছিলেন তাও মাত্র 66 দিনের মধ্যে। 2007 সালে তিনি সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রেকর্ড তৈরি করতে এই ভয়ঙ্কর নদী অ্যামাজনকে বেছে নিয়েছিলেন। একটি গোটা দিনের মধ্যে তিনি 10 ঘন্টা অ্যামাজন নদীতে সুইমিং করতেন এবং বাকি সময়টা কিনারায় বিশ্রাম নিতেন। মার্টিনের বক্তব্য অনুসারে এই ভয়ঙ্কর নদী যেখানে বিশাল বড় সাপ, জঙ্গলি কুমির, ইলেকট্রিক ইল এবং এরকম বহু ভয়ঙ্কর প্রাণীর বসবাস। এদের হাত থেকে বাঁচতে হলে তাদের নজর ফেরানো দরকার। তাই তাদের একটি দল কিনারের আশেপাশে মাংসের টুকরো ছড়িয়ে দিতেন যেন তারা সেই দিকে আকৃষ্ট হয়। এছাড়াও অ্যামাজন জঙ্গলে এমন একটি নদী রয়েছে যার জল সব সময় ফুটছে। সাড়ে ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ জল থেকে ধোঁয়া নির্গত এই নদী অ্যামাজনের সেই অংশে অবস্থিত যা পেরু দেশের মধ্যে পড়ে। এই নদীতে জলের তাপমাত্রা 90 থেকে 100 ডিগ্রি সেলসিয়াস। যেখানে যেকোনো খাবার রান্না করা যেতে পারে। গোটা বছর জুড়ে এই জল সিদ্ধ হয়ে চলেছে। কিন্তু এর কারণ এখনো পর্যন্ত কেউ জানে না। তবে ভয়ঙ্কর অ্যামাজনের এই জঙ্গল জুড়ে প্রায় 600 জনগোষ্ঠীর বসবাস। যে মানুষেরা অ্যামাজন জঙ্গল থেকে শিকার করে এবং এভাবেই তারা জীবিকা নির্বাহ করে। এদের মধ্যে এমনও কিছু গোষ্ঠীর মানুষ আছে যারা আজ পর্যন্ত সভ্য জগতের মানুষের সাথে কোনদিন পরিচয় করেনি। এবং যখন কোন সভ্য মানুষ হঠাৎ এদের সামনে এসে পড়ে এরা এমন রিয়াক্ট করে যেন এমন কিছু তারা প্রথমবার দেখছে। অ্যামাজনে এরকম অনেক রহস্যময় ছবি রয়েছে। যেগুলিকে স্যাটেলাইট থেকে দেখার পর বহু এলাকা জুড়ে এরকম আকৃতি লক্ষ্য করা যায়। এই আকৃতিগুলিকে জিওগ্লিপসও বলা হয়। এর মধ্যে কিছু জিওগ্লিপস 1 থেকে 5 কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত। এবং এরকম 300 টিরও বেশি জিওগ্লিপস অ্যামাজন জঙ্গলে দেখতে পাওয়া যায়। আসলে কি কারণে এই আকৃতিগুলি অ্যামাজনে তৈরি করা হয়েছিল এবং কারাই বা তৈরি করেছিল? আপনি যদি মনে করেন এই সম্পর্কে আলাদা একটি ভিডিও তৈরি করা দরকার আমাদের কমেন্ট বক্সে পার্ট টু লিখে জানাতে পারেন। আজকের এই ভিডিওটি ভালো লাগলে একটি লাইক করতে পারেন তাহলে দেখা হচ্ছে পরবর্তী নতুন একটি এপিসোডে।

[10:48]ধন্যবাদ।

Need another transcript?

Paste any YouTube URL to get a clean transcript in seconds.

Get a Transcript