Thumbnail for স্বাক্ষর ও সাক্ষরের মধ্যে পার্থক্য by SHOHOJ PATH 24

স্বাক্ষর ও সাক্ষরের মধ্যে পার্থক্য

SHOHOJ PATH 24

12m 18s1,557 words~8 min read
Auto-Generated

[0:00]আসসালামু আলাইকুম প্রিয় বন্ধুরা, আজকে আমরা স্বাক্ষর নিয়ে আলোচনা করবো। বাংলা ভাষায় স্বাক্ষর একই উচ্চারণে দুটি শব্দ আছে। স্বাক্ষর নাকি স্বাক্ষর? আসলে একটি হচ্ছে স্বাক্ষর, যেটি দন্তস স-আ-কা-র। আরেকটা আছে দন্তস নিচে একটা ব-ফলা আছে। আজকে আমরা এই দুটোর পার্থক্য এবং দুটোর আলাদা আলাদা অর্থ এসব নিয়ে আলোচনা করবো। কেন আলোচনা করবো? একটু দেখে আসি। আমরা অনেক সময় শিক্ষার্থীদেরকে তাদের নামের পাশে স্বাক্ষর দিতে বলি। যেমন দেখো এখানে ইসরাত জাহান ইভা একজন মেয়ের নাম, তাকে বলা হয়েছে তুমি তা তোমার সাবজেক্টের পাশে স্বাক্ষর করো। তখন সে তার বাংলায় তার নামটা লিখেছে। আবার ইংরেজি পরীক্ষার দিন আবার ইংরেজিতে সে লিখেছে ইত্যাদি। পূর্ণিমা আক্তার সেও বাংলাতে পূর্ণিমা লিখে দিয়েছে। বলা হয়েছিল স্বাক্ষর দিতে কিন্তু তারা প্রত্যেকে লিখেছে তাদের নাম। বন্ধুরা তাহলে নাম কি আর স্বাক্ষর কি, আবার আরেকটা স্বাক্ষর আছে তা কি, সব কিছুই আজকে আমরা আলোচনা করবো। চলো বন্ধুরা দেখি স্বাক্ষরের অর্থ কি। স্বাক্ষর দু'রকমের। স্বাক্ষর শব্দের অর্থ হল অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন। অর্থাৎ যে ব্যক্তি নিজে নিজে পড়তে পারে বা লিখতে পারে তাকে আমরা স্বাক্ষর বলতে পারি। আবার স্বাক্ষর যদি দন্ত্য স নিচে একটা ব-ফলা থাকে এই যে এখানে যেটা আছে, তাহলে এর অর্থ হচ্ছে দস্তখত করা, সই করা। ইংরেজিতে যেটাকে বলা হয় সিগনেচার। তাহলে আমরা কিন্তু পার্থক্যটা বুঝলাম। স্বাক্ষর শব্দের অর্থ হচ্ছে যিনি লেখাপড়া জানেন তাকে আমরা স্বাক্ষর বলতে পারি। যেমন বাংলাদেশের স্বাক্ষরতার হার কত। এটা হচ্ছে স্বাক্ষর যে পড়াশোনা জানে অক্ষর জ্ঞান আছে। আর স্বাক্ষর দন্তস নিচে যদি ব-ফলা থাকে এই যে এখানে যেটা আছে তাহলে এর অর্থ হচ্ছে দস্তখত করা। সই করা। প্রিয় বন্ধুরা, সিগনেচার আমরা এটা বুঝলাম। তো এখন আরেকটা বলি যে স্বাক্ষর মানে স্ব অক্ষর। অর্থাৎ আপনার ইউনিক আইডেন্টিক্যাল কিছু অক্ষরের সমন্বয়ই স্বাক্ষর। সাধারণত পরস্পর দুটি স্বাক্ষর এমন হতে হবে যাতে নিখুঁতভাবে না দেখলে এদের মধ্যে কোনো পার্থক্য বোঝা না যায়।

[2:47]অক্ষর সামান্য বড় ছোট হতে পারে কিন্তু অক্ষরের স্টাইল বা আকার প্রতিবার হুবহু এক হতে হবে। তা নাহলে স্বাক্ষর ইনভ্যালিড হয়ে যাবে। প্রত্যেক স্বাক্ষরের ওয়েব কাউন্ট সমান থাকতে হবে। প্রথম প্রথম কিছু গড়মিল থাকবেই, এক পর্যায়ে অভ্যাস হয়ে গেলে আর বিশেষ সমস্যা হবে না। অর্থাৎ স্বাক্ষরের মধ্যে যদি কোনো নির্দিষ্ট একটা ঢেউ থাকে তাহলে সবগুলো একই ঢঙে একই রকমের হতে হবে। এখন কেউ যদি প্রথম প্রথম স্বাক্ষর তৈরি করতে চায় প্রথম প্রথম একটু এলেমেলো হতে পারে। কিন্তু আস্তে আস্তে যত চর্চা করবে ততই স্বাক্ষরের পরিপক্কতা আসবে সকল স্বাক্ষর একরকম হবে। তো সুতরাং আমাদের সকলের উচিত যে একটি চমৎকার স্বাক্ষর তৈরি করে নেওয়া। যারা আমরা চাকরি-বাকরি করি প্রত্যেকেরই একটি স্বাক্ষর আছে কিন্তু যারা তোমরা ছাত্র আছো যারা এখনো চাকরি জীবনে প্রবেশ করো নি তোমরা অনেকেই এই স্বাক্ষর তৈরি করোনি। আর এই জন্যই আজকে আমি স্বাক্ষর নিয়ে আলোচনা করছি যেন তোমরা প্রত্যেকেই তোমার নিজের একটি সুন্দর স্বাক্ষর তৈরি করতে পারো। বন্ধুরা দেখো স্বাক্ষর নিজস্ব মুন্সীয়ানায় তৈরি করতে হয়। যা অন্য কেউ জাল বা নকল করতে পারে না। তুমি এমনভাবে এমন পেঁচে এমন ছকে একটি স্বাক্ষর তোমারটা তৈরি করবে যা অন্য কেউ কখনো জাল বা নকল করতে না পারে। কেউ যদি সহজে জাল করে ফেলে তাহলে সেটা স্বাক্ষর হলো না। যেমন আমি শুরুতেই একটি ছবি দেখিয়েছিলাম সেখান দিয়ে দেখিয়েছিলাম যে না তুমি তোমার নামের পাশে স্বাক্ষর করো কিন্তু সেখানে অনেকে নাম লিখেছে। তো তোমার নাম তো অন্য যে কেউ তোমার মতো করে লিখে দিতে পারে। তো তোমার নাম লেখা থাকলেই সেটা তো তোমার চিহ্ন সেটা কিন্তু প্রমাণ করে না। তো সুতরাং তুমি তোমার নিজের মুন্সীয়ানায় বা নিজের মার পেঁচে বর্ণ দিয়ে বা রেখাচিত্র দিয়ে এমন একটি চিত্র অঙ্কন করবে যা তুমি ছাড়া আর কেউ তৈরি করতে পারবে না সেটা হচ্ছে তোমার স্বাক্ষর। বন্ধুরা এবার আলোচনা করবো নমুনা স্বাক্ষর কাকে বলে। নমুনা স্বাক্ষর হচ্ছে এমন একটি স্বাক্ষর যে কোনো একটি একটি কর্তৃপক্ষ তোমার একটি স্বাক্ষর আগে থেকে নিয়ে রাখলো। পরবর্তীতে যখন তুমি আবার সেখানে কোনো কাজে যাবে তোমার এই স্বাক্ষরটিকে আগে রেখে দেওয়া স্বাক্ষরের সাথে তারা মিলিয়ে দেখবে যে এটা আদৌ তোমার স্বাক্ষর কিনা যেমন সাধারণত ব্যাংকে এটা রাখা হয়। তুমি যখন একটি অ্যাকাউন্ট খুলবে তখন ব্যাংকে একটি স্বাক্ষর তারা রাখবে। তারপর যখন তুমি টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে যাবে তোমারই স্বাক্ষরটি তারা আগের ওই স্বাক্ষরের সাথে মিলিয়ে দেখবে। তারা সাধারণত এই ব্যাপারে এক্সপার্ট হয়। যদি অন্য কেউ হুবহু তোমার মতো স্বাক্ষর তৈরি করে নিয়েও আসে তারা কিন্তু ঠিকই সেটা ধরে ফেলবে। তো বন্ধুরা তোমরা ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট করবে বা চাকরির ক্ষেত্রে অথবা এই যে পরীক্ষা দিতে আসো সেখানে তোমরা স্বাক্ষর না দিয়ে নিজের নামটা লিখে চলে যাও তোমরা এখন বড় হয়ে যাচ্ছো কলেজে পড়াশোনা করছো তোমাদের এখন এই সকল ভুলগুলো করা যাবে না। আর এই জন্যই আমি এই ব্যাপারে আজকে বিস্তারিত তথ্য তোমাদের সামনে তুলে ধরছি। এবার আমরা আলোচনা করবো একটি সিগনেচার বা একটি স্বাক্ষর কেমন হওয়া উচিত। তাই না? এটা আমাদের জানা উচিত। চলো বন্ধুরা দেখি সিগনেচারে এমনভাবে তুমি তৈরি করবা সিগনেচারটি যেখানে তোমার নামটাও ফুটে আসবে আবার তোমার পদবীটাও ফুটিয়ে রাখবে। ফুটে উঠবে। এখানে একটা আভাস দেওয়া একটা চিহ্ন দেওয়া। তুমি যে পদে আছো সেই পদের একটি প্রথম বর্ণ রাখা যেতে পারে। আবার বর্ণটি এমন একটা চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা যেতে পারে যেখানে যেন একটা অঙ্কন বা একটা ছবির মতো হয়েছে তাও হবে। অর্থাৎ সিগনেচার বা স্বাক্ষরের কোনো ভাষা হয় না কোনো বর্ণ হয় না। যেকোনোভাবেই একটি রেখাচিত্র এমন হবে যা তুমি ছাড়া অন্য কেউ কখনোই তৈরি করতে পারবে না। আর নামের সাথে পদবী যেরকম রাখতেই হবে এমন কথা না একটা আভাস রাখা রাখা যেতে পারে বা রাখা উচিত এরকম আর কি। দুই নম্বর যে বিষয়টা মনে রাখতে হবে সেটা হলো কেউ যেন সিগনেচারটিকে সহজে নকল করতে না পারে। একটু কঠিন করা উচিত এমন সব প্যাঁচ দেওয়া উচিত এমনভাবে কলমটা ঘুরানো উচিত বা নির্দিষ্ট অ্যাঙ্গেল থেকে শুরু করা উচিত যা তুমি কেবল তোমার মানসিকতার কারণে সেটা পারবে অন্য কেউ সেটা পারবে না। তিন নম্বর যে বিষয়টা মনে রাখা উচিত সেটা হচ্ছে একেক জায়গায় একেক ধরনের স্বাক্ষর করা যাবে না। সব জায়গায় স্বাক্ষরের সাইজ ছোট বড় হতে পারে কিন্তু কখনোই একেকবার একেক রকম হচ্ছে একবার বাংলায় হচ্ছে একবার ইংরেজিতে হচ্ছে কখনোই এমনটি করা যাবে না। আরেকটা বিষয় হলো যে স্বাক্ষর দেওয়ার সময় কিছু ঢেউ বা ছন্দ তৈরি করে অনেক সময় পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে জিলাপির মতো পেঁচিয়ে অনেকে তৈরি করে। কিন্তু কখনো কখনো কোনো ঢেউ বড় কোন ঢেউ ছোট একবার প্রথমটা বড় হয়েছে পরেরবার ছোটটা পরেরটা ছোট হয়েছে এরকম না প্রতিবারই একরকম হতে হবে। আর এমনভাবে নিজের সিগনেচারটি নির্বাচন করা দরকার যাতে সেটাকে পরিবর্তন করার প্রয়োজন না হয়। প্রথমেই তুমি একটি সাদা কাগজ নিয়ে একজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ নিয়ে তুমি এমন একটা সুন্দর দেখতে চমৎকার হয় অথচ তুমি চট করে তৈরি করতে পারো খুব যে দেরি হবে তা না। তুমি বারবার বারবার চর্চা করে এক পৃষ্ঠা দুই পৃষ্ঠা তিন পৃষ্ঠা জায়গা ব্যয় করে তুমি এটা শিখে ফেলো এবং সারাটা জীবন তোমার সেই পেঁচানো স্বাক্ষরটি তুমি যেন দিতে পারো। পেঁচানো বলছি এই জন্য যাতে সহজে কেউ নকল না করতে পারে। কারণ তোমার স্বাক্ষর যদি কেউ নকল করতে পারে তাহলে তোমার জমির দলিলে অথবা তোমার ব্যাংকের টাকাও কিন্তু কেউ তোমার চেক চুরি করে উঠিয়ে নিতে পারবে। তো সুতরাং এ বিষয়গুলো খুব সতর্ক থাকবে বিশেষ করে যারা জালিয়াতি করে তারা কিন্তু খুব ধুরন্ধর হয়। তারা অবিকল তোমার স্বাক্ষর তৈরি করে ফেলবে। এজন্য রেখাচিত্রগুলো এমনভাবে অঙ্কন করবে এমন সব প্যাঁচ দিবে এমন সব অ্যাঙ্গেল থেকে শুরু করবে যেন কেউ সহজে নকল না করতে পারে। আর তোমাকেও সেটা কয়দিন পর পর যে হে একটা তৈরি করেছিলাম এটা তো একজন নকল করে ফেলেছে এমন যেন না হয়। কেউ যেন নকল না করতে পারে এই বিষয়টি মাথায় রাখবে। সর্বশেষ যে বিষয়টি সেটা হলো নির্ধারিত স্থানেই স্বাক্ষর সমাপ্ত করতে হবে। অনেক সময় একটা বক্স দেওয়া থাকে যেখানে স্বাক্ষর করুন। দেখা গেল আমার স্বাক্ষর তো বড়। কারণ স্বাক্ষর ইয়া বড় স্বাক্ষর করতে করতে সেই ঘর ছাড়িয়ে বাইরে চলে যাওয়া হচ্ছে এমনটি করা যাবে না। বিশেষ করে যে সমস্ত শিক্ষক শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের ওএমআর শীটে স্বাক্ষর করেন ওখানে নির্ধারিত ঘরের ভিতরেই স্বাক্ষর করতে হয়। কেউ যদি স্বাক্ষর কারণটা বড় থাকার কারণে ঘরের বাইরে চলে যায় তাহলে কিন্তু সেই ওএমআর শীটটি নষ্ট হয়ে যাবে। সুতরাং স্বাক্ষরের একটা লিমিট থাকা উচিত একটা মাপজোখ থাকা উচিত। এই এই ছিল মোটামুটি একটি স্বাক্ষর কেমন হওয়া উচিত তার রুম। তো বন্ধুরা এবার আমরা তোমাদের সামনে বেশ কিছু স্বাক্ষর তুলে ধরবো। দেখো এই যে একটি স্বাক্ষর। এখানে অধিকাংশই স্বাক্ষরটা ভিতরে বর্ণ দিয়েই উনি তৈরি করেছেন। এরকম একটি স্বাক্ষর হতে পারে। তবে প্রতিটি স্বাক্ষর একই রকম হবে। আবার এখানে একটি স্বাক্ষর দেখা যাচ্ছে। এখানে কোনো বর্ণই বোঝা যাচ্ছে না। তারপরও এটি একটি স্বাক্ষর। উনি এভাবেই দেন। সারাজীবন এইভাবে যদি দেয় এরকম একটি স্বাক্ষর অন্য কারো দ্বারা নকল করা বেশ একটু কঠিন হয়ে যাবে। আবার দেখো ইনি একটি স্বাক্ষর তৈরি করেছে আর একটি স্বাক্ষর দেখাচ্ছি। এটাও কিন্তু মোটামুটি একটু বেশ কঠিন অন্যজন নকল সহজে করতে পারবে না। আবার এখানে আরেকটি স্বাক্ষর দেখালাম এই স্বাক্ষরটি যদি আমরা কেউ উনি যদি আবার একটু ছোট করে দেয় দেখো এই যে দুটি স্বাক্ষর একটি ছোট আরেকটি বড় করেছে। এই দুটি কিন্তু একই রকম একই রকম হয়েছে। ওটা আকারে ছোট হয়েছে কিন্তু স্বাক্ষর কিন্তু একরকম। আবার দেখো একই রকম। তো বন্ধুরা এভাবে আমরা স্বাক্ষরগুলো ঠিক করে দিতে পারি। দেখো আমরা প্রথমে যেটা তুলে ধরেছিলাম যে এই যে স্বাক্ষর শিক্ষার্থীদেরকে বলা হয়েছিল যে তোমরা তোমাদের নামের পাশে যে সাবজেক্টে আজকে পরীক্ষা দিচ্ছো সেই সাবজেক্টের পাশে তোমরা নাম স্বাক্ষর দাও কিন্তু ওরা প্রত্যেকেই এই যে নাম লিখে চলে আসছে। এরকম নাম তো আমিও লিখতে পারি এই যেমন আকলিমা আমিও লিখতে পারি এই যে তানিয়া এরকম তানিয়া তো আমিও লিখে দিতে পারি। এটা কখনোই স্বাক্ষর নয়। বন্ধুরা এজন্য তোমরা নিজেদের প্রয়োজনে স্বাক্ষর সুন্দরভাবে তৈরি করো। এজন্য তোমরা আমার সাথে অথবা তোমার পিতামাতা বা অন্য কোনো শিক্ষককে পরামর্শ নিতে পারো যে কিভাবে সহজে অতি কঠিন দুর্বোধ্য চমৎকার একটি স্বাক্ষর তোমরা তৈরি করতে পারো। বন্ধুরা মনোযোগ সহকারে ভিডিওটি দেখার জন্য তোমাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। তোমরা সুস্থ থাকো ভালো থাকো। মহান আল্লাহর কাছে এই কামনা করছি। আল্লাহ হাফেজ।

Need another transcript?

Paste any YouTube URL to get a clean transcript in seconds.

Get a Transcript