[0:11]পারমাণবিক বোমার আবিষ্কার মানব সভ্যতার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম। আণবিক শক্তির আবিষ্কার মানুষকে একদিকে যেমন অপার শক্তির উৎসের সন্ধান দিয়েছিল, অন্যদিকে তেমনই প্রকট করে তুলেছিল সভ্যতা বিনাশের আশঙ্কাও। আমরা কি জানি কেন তৈরি করা হয়েছিল ভয়ঙ্কর ও বিধ্বংসী এই মারণাস্ত্র? কেমনই বা ছিল এর আবিষ্কারের পেছনের গল্প? আজকে সেসবই জানার চেষ্টা করব আমরা। সুপ্রিয় দর্শক, চলুন তবে আর কথা না বাড়িয়ে আদোপান্তের এই পর্বে জেনে আসি পারমাণবিক বোমা আবিষ্কারের খুঁটিনাটি।
[0:55]বিংশ শতকের একেবারে গোড়ার দিক থেকেই পরমাণুর অভ্যন্তরীণ গঠন নিয়ে ব্যাপক গবেষণা শুরু হয়। ফলশ্রুতিতে ইংরেজ বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড ও ড্যানিশ বিজ্ঞানী নীলস বোর পরমাণুর অপেক্ষাকৃত উন্নত ও গ্রহণযোগ্য মডেল দাঁড় করান। এরপর আইনস্টাইনের ইকুয়াল টু এমসি স্কয়ার সূত্রের আবিষ্কার থেকে পৃথিবী জানতে পারে অতি ক্ষুদ্র পরিমাণ ভরকেও যদি শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব হয়, তবে বিপুল পরিমাণ শক্তি পাওয়া যাবে। মূলত এই সূত্র আবিষ্কারের পর থেকেই বিজ্ঞানী ও গবেষকগণ বিপুল শক্তির সন্ধানে পরমাণু গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় 40 এর দশকের দিকে কুরি দম্পতি তেজস্ক্রিয়তা সম্পর্কিত গবেষণায় ব্যাপক সাফল্য পান যা পরবর্তী পারমাণবিক গবেষণায় বেশ কাজে এসেছিল। এরপর পরেই 1938 সালে বিজ্ঞানী ওটোহান এবং ফ্রীজ স্ট্রেসম্যান ইউরেনিয়াম পরমাণুর তেজস্ক্রিয় ভাঙন আবিষ্কার করেন।
[1:59]মূলত এটি ছিল পারমাণবিক গবেষণায় প্রথম বড় সড় সাফল্য। এই আবিষ্কারের মাধ্যমে পরমাণুত শক্তি উৎপাদনে একটা পথের সন্ধান পেয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। তবে তা বাস্তবে নয়, শুধু তাত্ত্বিকভাবে। পরমাণু চুল্লি বা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার তাত্ত্বিক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল 40 এর দশকের এই সময়টায়। তবে পারমাণবিক গবেষণার জন্য যে পরিমাণ বিনিয়োগ কিংবা অবকাঠামো দরকার তার যোগাড় তো আর কোন বিজ্ঞানীর একার পক্ষে করা সম্ভব ছিল না। তাই তখন কেবল তাত্ত্বিকভাবে এগিয়ে গিয়েছিল আণবিক শক্তির গবেষণার কাজ। তবে বিজ্ঞানীদের জন্য সাপে বর হয়ে আসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
[2:44]হান ও স্ট্রেসম্যানের ইউরেনিয়াম ভাঙনের উপায় আবিষ্কারের পর 50 এর দশকের একেবারে শুরুর দিকে জার্মানির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আণবিক গবেষণায় আগ্রহ দেখায়। এ সময় জার্মানিতে প্রচুর প্রতিভাবান বিজ্ঞানীর বাস ছিল। ফলে তাদের সাথে নিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান আণবিক গবেষণায় বিনিয়োগ করে। ইতোমধ্যেই বিশ্বযুদ্ধের দামামা বেজে যায়। হিটলারের যুদ্ধংদেহী মানসিকতার কারণে এসব গবেষণায় ঢুকে যায় রাজনীতি। ফলে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে ঝুঁকে পড়ে এসব গবেষণা। এর মধ্যে আবার হিটলারের ইহুদি বিদ্বেষী আগ্রাসন শুরু হলে জার্মানি অনিরাপদ হয়ে পড়ে অনেক বিজ্ঞানীর কাছে। ফলে আইনস্টাইন সহ 15 জন নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী জার্মানি ত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেন। এর মধ্য দিয়ে একঝাঁক প্রতিভাবান বিজ্ঞানী হারায় জার্মানি। কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাজ।
[3:45]ব্রিটেন খুব সম্ভবত বুঝতে পেরেছিল পারমাণবিক শক্তির অসীম ক্ষমতা মানুষের হাতে আসতে খুব বেশি দেরি নেই। আর চলমান বিশ্বযুদ্ধে যার হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে সেই জয় লাভ করবে। ফলে পারমাণবিক গবেষণার উপর জোর দেয় তারাও। ব্রিটেন 1941 সালে কানাডার সহায়তায় টিউব অ্যালয়স নামক পারমাণবিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান তৈরি করে। এর পূর্বেই যুদ্ধ শুরুর সময়ে হিটলার এক বেতার ভাষণে মিত্রশক্তিকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন তার কাছে এমন অস্ত্র আছে যা ঠেকানোর সাধ্যও কারো নেই। এই বিধ্বংসী মারণাস্ত্র সম্পর্কে সে সময় ধারণা করা হয়েছিল তিনি খুব সম্ভবত পারমাণবিক অস্ত্রের কথাই বলছেন। ফলে মিত্রশক্তির পক্ষেও পারমাণবিক গবেষণা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধের এত এত খরচ পাশ কাটিয়ে এত বড় প্রকল্পে হাত দেয়ার মতো অর্থনৈতিক অবস্থা কিংবা অবকাঠামো কোনোটাই ছিল না ব্রিটেনের। তবে সে সক্ষমতা ছিল তাদের আরেক মিত্রের, আমেরিকার।
[4:52]40 এর দশকের একেবারে শেষে ও 50 এর দশকের গোড়ার দিকে আমেরিকার পারমাণবিক গবেষণা চলছিল বেশ মন্থর গতিতেই। ওদিকে বিশ্বযুদ্ধের দামামা বেজে গেছে। তবে আমেরিকা তখনও যুদ্ধের বাইরে। জার্মানি ও জাপানের অক্ষশক্তির বিপক্ষে লড়ছে মিত্রশক্তির দেশগুলো। তাতে গায়ে গতরে বিশেষ কিছু করার ছিল না মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের। ওদিকে জার্মানিতে তখন চলছে ইহুদি বিদ্বেষ। ইউরোপে নির্যাতিত অনেক বিজ্ঞানী আশ্রয় নিয়েছেন তার দেশে। তাদেরই মধ্যে একজন হঠাৎ চিঠি লিখে বসলো তাকে। চিঠির ভাষ্য এই, জার্মানি পারমাণবিক অস্ত্র বানিয়ে ফেলার আগেই আপনি তা বানিয়ে ফেলুন। নয়তো হিটলারের হাতে পড়লে এই অস্ত্রের ফল মানবজাতির জন্য হতে পারে ভয়াবহ। চিঠির উপর বড় বড় হরফে লেখা আলবার্ট আইনস্টাইন ওল্ড গ্রোব রোড। জগৎ বিখ্যাত বিজ্ঞানীর চিঠির গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিলেন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট। পাল্টা চিঠিতে জানিয়ে দিলেন পরমাণু গবেষণায় পিছিয়ে নেই আমেরিকাও। বেশ ভালোভাবে চলছে তাদের পরমাণু কর্মসূচি। এরপর 1941 সালের জুন মাসে রুজভেল্টের নির্দেশে সাইন্টিফিক রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট দপ্তরের মাধ্যমে ন্যাশনাল ডিফেন্স রিসার্চ কমিটি গঠিত হয়। কিন্তু তখনও গবেষণা ত্বরান্বিত করার খুব একটা তোর জোর দেখা যাচ্ছিল না মার্কিন প্রশাসনে। অবশেষে সেই সময় চলে আসে যখন জাপান কর্তৃক যুক্তরাষ্ট্রের নৌঘাটি পার্ল হারবার আক্রমণের শিকার হয়। এতদিন থেকে দর্শকের ভূমিকায় থাকা যুক্তরাষ্ট্র এবার নামে যুদ্ধের ময়দানে। আমেরিকা সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করে বসে জাপান আর জার্মানির বিরুদ্ধে। সেই সাথে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রবেশ ঘটে মার্কিনিদের। আর একই সাথে পূর্ণ উদ্যমে শুরু হয় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাজ। এতদিনের পারমাণবিক অস্ত্র সম্পর্কিত তাত্ত্বিক যেসব কথাবার্তা বাতাসে উড়ে বেরিয়েছিল সে সবের বাস্তব প্রয়োগ ঘটানোর সময় চলে আসে। মার্কিন প্রশাসন অতি গোপন এক প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। যার নাম দেওয়া হয় ম্যানহাটন প্রজেক্ট। লক্ষ্য একটাই পারমাণবিক অস্ত্র।
[7:11]পার্ল হারবার আক্রমণের পর সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোডের সহযোগিতায় সুগঠিত করা হয় ম্যানহাটন প্রজেক্ট। অতি গোপনীয় ওই প্রকল্পের সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত করা হয় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল লেজলি রিচার্ড গ্রোভসকে। পূর্বে পেন্টাগন নির্মাণে তার ভূমিকা ছিল অসামান্য। অবকাঠামোগত সকল সুবিধা তিনি নিশ্চিত করেন। সেই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি ভিন্ন স্থানে তিনটি সুবৃহৎ ফেডারেল স্থাপনা নির্মাণ করেন। এ স্থানগুলো ছিল টেনেসির ওক রিজ, ওয়াশিংটনের হ্যান্ডফোর্ড এবং নিউ মেক্সিকোর লস আলমাস। এরপর শিকাগো ম্যাসাচুসেটস সহ আমেরিকার নামকরা অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে একযোগে শুরু হয় গবেষণার কাজ। ভিন্ন ভিন্ন প্রচেষ্টায় এগিয়ে যেতে থাকলো আমেরিকার পরমাণু কর্মসূচি। 1942 সালের 2 ডিসেম্বর ধরা দিল প্রথম বড় ধরনের সাফল্য। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের এনরিকো ফার্মী আবিষ্কার করে ফেললেন নিয়ন্ত্রিত নিউক্লিও শক্তি বিমুক্তকরণ প্রক্রিয়া। তবে তিনি যে পরিমাণ শক্তি উৎপাদন করতে পেরেছিলেন তার দ্বারা শুধুমাত্র একটি বাতি জ্বালানো সম্ভব হয়েছিল। পরিমাণে কম হলেও এটি ছিল নিউক্লিও শক্তিকে জয় করার প্রথম কার্যকরী পদক্ষেপ। এরপর একদিকে ইউরেনিয়ামের 235 আইসোটোপ আলাদা করার প্রক্রিয়া অন্যদিকে ইউরেনিয়ামের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে বিজ্ঞানী গ্লেন সিবোর্ড গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন প্লুটোনিয়ামকে কিভাবে পারমাণবিক বিক্রিয়ক হিসেবে ব্যবহার করা যায় তা নিয়েই। উভয় দিকেই জোর গতিতে এগিয়ে চললো পারমাণবিক গবেষণা। অন্যদিকে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা খুঁজতে থাকলেন এমন এক নিরাপদ স্থান যেখানে কোনোরকম ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই চালানো যাবে পারমাণবিক পরীক্ষা। আর সরকারি অনুদানে পূর্বেই ফুলে ফেঁপে উঠেছিল গবেষণার তহবিল। তাই গবেষণায় অর্থ সংক্রান্ত কোন সমস্যারই উদ্রেক ঘটেনি। ফলে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে পরমাণু কর্মসূচি। ম্যানহাটন প্রজেক্টকে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শিল্পীক ও বৈজ্ঞানিক প্রকল্প বলা হয়। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে প্রায় 2 বিলিয়ন ডলারের তহবিল সরবরাহ করতে হয়েছিল। এবং এই প্রকল্পের সক্রিয় কর্মীর সংখ্যা ছিল 1 লাখ 25 হাজার 310 জন। এত বিপুল সংখ্যক লোক জড়িত থাকলেও প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল শতভাগ গোপনীয়। লাইফ ম্যাগাজিনের তথ্য অনুসারে নাগাসাকিতে পারমাণবিক হামলার পূর্বে মাত্র 10 থেকে 12 জন জানত এই প্রকল্পের আসল উদ্দেশ্য কি। এক লাখের অধিক কর্মী কাজ করত একেবারে অন্ধকারে। অর্থাৎ তাদের নিজের কাজের জন্য যা প্রয়োজন তারা ঠিক ততটুকুই জানতো। পুরো প্রকল্প সম্পর্কে তাদের দূর দূরান্তেও কোনো ধারণা ছিল না। আর এই প্রকল্পের কর্মীদের তথ্য পাচারের শাস্তি ছিল 10 বছরের জেল বা 10 হাজার ডলার জরিমানা। এ থেকেই বোঝা যায় প্রকল্পের গোপনীয়তা রক্ষায় ন্যূনতম কোনো ছাড় দেয়নি মার্কিন প্রশাসন।
[10:16]এর মধ্যেই 1943 সালে তাত্ত্বিক পদার্থবিদ রবার্ট ওপেনহাইমারকে লস আলমাসে পরীক্ষাগারের পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। তার উপর দায়িত্ব দেয়া হয় পরীক্ষাগারটিকে পারমাণবিক অস্ত্র গবেষণায় স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলার। এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয় প্রজেক্ট ওয়াই। এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় দেড় বছর পর অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে অবশেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেখা পায় প্রথম পারমাণবিক অস্ত্রের। তবে শুধু বানালেই তো হবে না সেটা কাজও করতে হবে ঠিকঠাক ভাবে। তাই সফলভাবে এর পরীক্ষাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তাই আর কালক্ষেপণ না করে পৃথিবীর প্রথম পারমাণবিক অস্ত্রকে প্রস্তুত করা হয় পরীক্ষার জন্য। প্রথম পারমাণবিক বোমা পরীক্ষার এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয় প্রজেক্ট ট্রিনিটি। নিউ মেক্সিকোর অ্যালামোগোরডের কাছে মরুভূমিতে অবস্থিত মার্কিন বিমানবাহিনীর বেসকে এই পরীক্ষার জন্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে অনুমোদন করেন জেনারেল লেসলি গ্রোভস। একটি ইস্পাত টাওয়ারের উপর থেকে বিস্ফোরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ম্যানহাটন প্রজেক্টের সাথে জড়িত বিজ্ঞানী সেনারা সদস্যরা কৌতুহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন মার্কিন বিমানঘাটির দিকে। সফল কি হবে তাদের এতদিনের পরিশ্রম? অবশেষে এলো সেই মহেন্দ্রক্ষণ। 21 হাজার টন টিএনটি বিস্ফোরকের সমতুল্য বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বোমা সফলভাবে বিস্ফোরিত হলো।
[11:53]মুহূর্তেই প্রচন্ড তাপে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল ইস্পাতের টাওয়ারটি। এক অশরীরী আলোর ঝলকানিতে বন্ধ হয়ে গেল সকলের চোখ। পরমুহূর্তেই মনে হলো যেন আগুনের একটি বিশাল গোলা আকাশ ফুরে উপরে উঠে যাচ্ছে। সেই সাথে 40 হাজার ফুট ব্যাসার্ধ বিশিষ্ট মাশরুমের মতো মেঘে ছেয়ে গেল চারপাশ। অবাক চোখে তাকিয়ে মানবজাতির গুটি কয়েক সদস্য সেদিন সাক্ষী হলেন এক ধ্বংসাত্মক অস্ত্রের। বিস্ময় আর আতংকে মানবজাতি দেখল তার বিনাশের হাতিয়ার আর চলে এসেছে তাদের হাতে।
[12:35]এরপরের ইতিহাসটা প্রায় সবারই জানা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অত্যধিক ক্ষয়ক্ষতির কারণে জার্মানি আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়। অন্যদিকে কিছুতেই বাগে আনা যাচ্ছিল না জাপানকে। আত্মসমর্পণে অস্বীকৃতি জানায় তারা। অন্যদিকে আবার পার্ল হারবারে হামলার একটা ক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্রের বরাবরই ছিল। তাই দুয়ে দুয়ে চার মিলিয়ে পৃথিবীর প্রথম পারমাণবিক বোমার শিকারী পরিণত হয় জাপান। 6 আগস্ট জাপানের হিরোশিমা নগরীতে আছড়ে পড়ে পৃথিবীর দ্বিতীয় পারমাণবিক বোমা লিটল বয়। মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে যায় শহরটি। এর তিন দিন পর 9 আগস্ট নাগাসাকি শহরের উপর নেমে আসে পৃথিবীর তৃতীয় পারমাণবিক বোমা ফ্যাটম্যান। এই দুই হামলায় 1 লাখেরও বেশি মানুষ মারা যায়। সেই সাথে কতজন পঙ্গুত্বের অভিশাপ নিয়ে বেঁচে যান তার ইয়ত্তা নেই। তেজস্ক্রিয়তার কারণে শত বছরের জন্য পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে শহর দুটি। 15 আগস্ট জাপান ওয়াশিংটনের কাছে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত জানায়। আর 2রা সেপ্টেম্বর তাদের আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের মাধ্যমে ইতি ঘটে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের। তবে বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার সুসংবাদের সাথে সাথে মানবজাতির উপর নেমে আসে আরেক বড় অভিশাপ। এটি পারমাণবিক অস্ত্রের অভিশাপ। মানুষ সন্ধান পেয়ে যায় নিজেকে ধ্বংসের সবচেয়ে বিধ্বংসী হাতিয়ারের। এতে করে যে হুমকির মুখে পড়ে যায় পুরো মানব সভ্যতা তার বলার অপেক্ষা রাখে না।



