[0:04]পারস্য উপসাগরের নীল জলরাশিতে এখন অশান্ত উন্মাদন একদিকে মার্কিন রণতরীর সারি অন্যদিকে ইরানের হুঁশিয়ারি।
[0:13]সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক বিশাল আগ্নেয়গিরির মুখে দাঁড়িয়ে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ নিয়ে তেহরানের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থান বিশ্বজুড়ে নতুন করে যুদ্ধাতঙ্ক তৈরি করেছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিব অফ বুধবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কোনো আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশ যদি ইরানের কোনো দ্বীপ দখল করতে শত্রুপক্ষকে সহায়তা করে। তবে সেই দেশের অপরিহার্য অবকাঠামো গুড়িয়ে দেবে তেহরান।
[0:49]তার এই কঠোর বার্তা মূলত সংযুক্ত আরব আমিরাতকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে হোয়াইট হাউস থেকে আসছে ভিন্ন সুর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন পর্দার আড়ালে শান্তি আলোচনা চলছে। কিন্তু তার প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিটের কণ্ঠে শোনা গেল ধ্বংসের সুর। তিনি সাফ জানিয়েছেন ইরানকে বর্তমান বাস্তবতা মেনে নিতে এবং পরাজয় স্বীকার করতে হবে। অন্যথায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন এক নরক নামিয়ে আনবেন যা ইরান আগে কখনো দেখেনি। মাঠের চিত্র বলছে আলোচনার চেয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি বেশি জোরালো। পেন্টাগন ইতিমধ্যে 82 তম এয়ারবোন ডিভিশনের প্রায় 2000 সৈন্যকে উপসাগরীয় অঞ্চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর সাথে যোগ দিচ্ছে বিশাল উভচর যুদ্ধ জাহাজে থাকা মার্কিন মেরিন সেনারা। ওয়াশিংটনের এই দ্বিমুখী আচরণ একদিকে শান্তির বুলি আর অন্যদিকে সেনা মোতায়ন ইরানকে চরম ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। ইরান সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি খোদ পারস্য উপসাগরেই এই যুদ্ধের ফয়সালা হবে না। তেহরান হুমকি দিয়েছে যদি তাদের মূল ভূখণ্ড বা কোন দ্বীপে আঘাত আনা হয় তবে তারা লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাবেল মান্দেব প্রণালীতে নতুন ফ্রন্ট খুলে দেবে। অর্থাৎ বৈশ্বিক তেলের বাজার এবং বাণিজ্যিক রুট পুরোপুরি অচল করে দেয়ার ছক কষছে ইরান। ইয়েমেনের বিদ্রোহীরাও এই লড়াইয়ে শামিল হতে প্রস্তুত। ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে প্রয়োজনে ইয়েমেনি যোদ্ধারা লোহিত সাগরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শত্রুপক্ষকে উচিত শিক্ষা দেবে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা পিছু হটতে শেখেনি এবং মার্কিন সেনারা যদি খার্গ দ্বীপে পা রাখার দুঃসাহস দেখায় তবে সেটি হবে তাদের জন্য এক মরণঘাত।
[2:44]তেহরানের রাস্তায় এখন থমথমে পরিস্থিতি। আল জাজিরার প্রতিনিধিরা জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ শান্তি আলোচনার চেয়ে যুদ্ধের আশঙ্কায় বেশি করছেন। তারা বিশ্বাস করেন আমেরিকা আলোচনার আড়ালে আসলে সময় ক্ষেপণ করছে এবং যুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরানের সামরিক বাহিনীও এখন হাই অ্যালার্টে। প্রতিটি মার্কিন মুভমেন্ট তারা ড্রোন এবং গোয়েন্দা নজরদারীতে রাখছে। কূটনৈতিক টেবিলে 15 দফার শান্তি প্রস্তাব আর পাঁচ দফার পাল্টা শর্তের লড়াই চললেও সমুদ্রের মাঝখানে রণতরীগুলোর গর্জন অন্য কথা বলছে। আগামী কয়েকদিন মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত সংকটময় হতে যাচ্ছে।



