Thumbnail for ইরানকে হারানো কেন অসম্ভব ? by Ki Keno Kivabe

ইরানকে হারানো কেন অসম্ভব ?

Ki Keno Kivabe

8m 34s1,182 words~6 min read
YouTube auto captions
Transcript source

YouTube auto captions

This transcript was extracted from YouTube's auto-generated caption track. The transcript below is server-rendered so it can be read, searched, cited, and shared without opening the original YouTube player.

Pull quotes
[0:01]আমেরিকা কেন হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না এবং এই যুদ্ধে কেন ইরানকে হারানো অসম্ভব সে সম্পর্কে আলোচনা করা হবে কি কেন কিভাবে এর এই পর্বে।
Use this transcript
Related transcript hubs

[0:01]কথায় আছে, পরিকল্পনা করে যুদ্ধ শুরু করা গেলেও পরিকল্পনা অনুযায়ী যুদ্ধ শেষ করা যায় না। বর্তমান ইরান যুদ্ধ সেই বাস্তবতার নতুন করে আবারো সামনে নিয়ে এসেছে। ট্রাম্প নেতানিয়াহু জুটি ভেবেছিল যে তারা হামলা করে খামেনিকে হত্যা করলেই ইরানে ক্ষমতার পালাবদল ঘটবে। সেই সাথে মাত্র সপ্তাহের ব্যবধানে তারা বিজয়ী হয়ে যুদ্ধ শেষ করবে। কিন্তু ক্রমাগত হামলার শিকার হলেও ইরান এখনো ভেঙে পড়েনি। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানকে এত সহজে কাবু করা সম্ভব হবে না। ইরানের সম্পূর্ণ সামরিক শক্তি নিঃশেষ হয়ে গেলেও ভৌগোলিকভাবে ইরানের হাতে আছে এক প্রাকৃতিক অস্ত্র। আর তা হলো হরমুজ প্রণালী। শুধুমাত্র হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়ে ইরান সারা বিশ্বের তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। যার ফলে আমেরিকা সমগ্র বিশ্বের চাপে এই যুদ্ধ থামাতে বাধ্য হবে। আমেরিকা যুদ্ধ বন্ধ না করলেও ইরান শুধুমাত্র হরমুজ নিয়ন্ত্রণ করে এই যুদ্ধ বছরের পর বছর টেনে নিয়ে যেতে পারবে। উল্টোদিকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে আমেরিকার প্রতিদিন খরচ হবে কমপক্ষে বিলিয়ন ডলার। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা ইরানের জন্য কেন এত সহজ? আমেরিকা কেন হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না এবং এই যুদ্ধে কেন ইরানকে হারানো অসম্ভব সে সম্পর্কে আলোচনা করা হবে কি কেন কিভাবে এর এই পর্বে।

[1:19]ভৌগোলিকভাবে পারস্য উপসাগরের উত্তর পাড় সম্পূর্ণ ইরানের মধ্যে রয়েছে। সে কারণে হরমুজ প্রণালীর সম্পূর্ণ অংশ নিয়ন্ত্রণ করা ইরানের জন্য খুবই সহজ। উপকূল থেকে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, মাইন ও দ্রুতগতির নৌকা ব্যবহার করে তারা যেকোনো নৌবহরের উপর আক্রমণ করতে পারে। ইরান বহু বছর ধরে উপকূলে অ্যান্টি-শিপ মিসাইল এবং সামুদ্রিক মাইন ব্যবহার করার সক্ষমতা তৈরি করেছে। এগুলো সাধারণ তেলবাহী জাহাজ তো বটেই বড় বড় যুদ্ধ জাহাজের জন্যও বিশাল বড় হুমকি। আমেরিকা দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর কাজে ব্যবহার করা ইরানের সকল যুদ্ধ জাহাজ তারা ধ্বংস করে দিয়েছে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে এখান দিয়ে যাতায়াত করা তেলবাহী জাহাজ আটকাতে খুব বেশি কিছুর দরকার পড়ে না। হরমুজ প্রণালীতে মাত্র ৩ কিলোমিটার প্রস্থের দুটি শিপিং লেন রয়েছে। তাছাড়া এই অঞ্চলের সমুদ্রের গভীরতাও অত্যন্ত কম। তাই এত অল্প জায়গায় এত বড় বড় জাহাজকে টার্গেট করা শিশুদের ভিডিও গেম খেলার চেয়েও অনেক সহজ। ইরানের ভূখণ্ডের যেকোনো জায়গা থেকে মাত্র হাজার ডলারের ড্রোন দিয়ে হামলা করে মিলিয়ন ডলারের জাহাজ ধ্বংস করা সম্ভব। সেই সাথে এসব জাহাজে থাকা কয়েক মিলিয়ন ডলারের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ড্রোন হামলার বিস্ফোরণকে বাড়িয়ে দিতে পারে বহু গুণ। আমেরিকা আর ইসরাইল যদি ইরানের সকল মিসাইল আর ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংসও করে দেয় তারপরও ইরানের সামুদ্রিক মাইনগুলো এই অঞ্চলের জন্য ত্রাস হিসেবে কাজ করবে। সামুদ্রিক মাইন বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। তবে মোটা দাগে সেসব মাইনকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। একটি ধরণ হলো কন্টাক্ট মাইন এবং অন্যটি হলো ইনফ্লুয়েন্স মাইন। কন্টাক্ট মাইন হলো সবচেয়ে পুরনো ও সহজ ধরনের মাইন। এগুলো গোলাকার ধাতব বলের মতো দেখতে এবং এর চারপাশে থাকে ছোট ছোট হর্ন বা শিং এর মতো সেন্সর। যখন কোন জাহাজ এই মাইনের সাথে ধাক্কা খায় তখন সেই হর্ন সক্রিয় হয়ে বিস্ফোরণ ঘটায়। ইরানের কাছে থাকা মাহাম ১.১ এই ধরনের মাইন। এগুলো প্রায় ১২০ কেজি বিস্ফোরক বহন করতে পারে এবং অগভীর পানিতেও এগুলো অনায়াসেই কাজ করে। অন্যদিকে ইনফ্লুয়েন্স মাইন জাহাজের সাথে সরাসরি ধাক্কা লাগার অপেক্ষা করে না। এই ধরনের মাইন সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে বসানো থাকে। এগুলো সেন্সরের মাধ্যমে জাহাজের উপস্থিতি বুঝতে পারে। সাধারণত জাহাজ চলার সময় বেশ উচ্চমাত্রার শব্দ হয়। এসব মাইন জাহাজের ইঞ্জিনের শব্দ শনাক্ত করে এবং জাহাজ কাছাকাছি এলে নিজে নিজেই বিস্ফোরিত হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকা ইরানের মাইন উৎপাদন এবং মাইন সংগ্রহাগারেও হামলা চালিয়েছে বলে খবর এসেছে। কিন্তু আমেরিকা যদি ইরানের সকল যুদ্ধজাহাজ আর উন্নত মাইন ব্যবস্থা ধ্বংসও করে দেয় তাতেও কিচ্ছু আসে যায় না। কারণ হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ইরানের বেশি বড় জাহাজের দরকার নেই। সে কারণে ইরানের ইসলামিক রেভলুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির নৌবাহিনী আশুরা ক্লাস ফাস্ট অ্যাটাক বোট তৈরি করেছে। এগুলো মূলত পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীর মতো সরু সমুদ্রপথে দ্রুত আক্রমণ চালানোর জন্যই তৈরি করা হয়েছে। ইরানের নৌ কৌশলে বড় বড় যুদ্ধ জাহাজের বদলে অসংখ্য ছোট দ্রুতগতির নৌকা ব্যবহার করা হয়। এই কৌশলকে অনেক সামরিক বিশ্লেষক সোয়ার্ম ট্যাকটিক বা ঝাঁকে ঝাঁকে আক্রমণ কৌশল হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন। অর্থাৎ একসাথে অনেকগুলো ছোট ছোট নৌকা শত্রুর বড় যুদ্ধ জাহাজকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। আশুরা ক্লাস নৌকাগুলো সাধারণত প্রায় ৭ মিটার লম্বা এবং খুব হালকা কাঠামোর হয়ে থাকে। এগুলোতে শক্তিশালী আউটবোর্ড ইঞ্জিন থাকে যার কারণে এই নৌকাগুলো ঘণ্টায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ নট বা ৭৫ থেকে ৯০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে। এই দ্রুতগতির কারণে বড় যুদ্ধজাহাজ বা ট্যাঙ্কারের কাছে দ্রুত পৌঁছে আক্রমণ করা যায়। অনেক সময় এই নৌকা থেকে দ্রুত মাইন ফেলেও সমুদ্রপথকে বিপজ্জনক করে তোলা যায়। ইরানের যদি আশুরা নৌকাও শেষ হয়ে যায় তাহলেও নৌবাহিনীর একজন ডুবুরি সাঁতরে গিয়ে জাহাজের গায়ে একদম সস্তা লিম্পেড মাইন লাগিয়ে দিতে পারে। এসব মাইনে ম্যাগনেট থাকে তাই জাহাজের গায়ে সহজে আটকে যায়। এরপর ঠিক টাইম বোমার মতো টাইমার সেট করে দেওয়া হয় এবং কিছু সময় পরে সেটি বিস্ফোরিত হয়। এই কৌশল ব্যবহার করলে শত্রুপক্ষ বুঝতেই পারে না কোথা থেকে হামলা করা হলো। সাধারণত মাঝ সাগরে এই ধরনের হামলা করা সম্ভব হয় না। কিন্তু হরমুজ প্রণালীর মত অগভীর এবং সরু সমুদ্র অঞ্চলে এই ধরনের হামলা খুবই কার্যকর। সামুদ্রিক মাইন অত্যন্ত সস্তা হলেও জাহাজের জন্য অত্যন্ত ভয়ঙ্কর অস্ত্র। একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে কয়েকশো মাইন বসিয়ে দিলে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনীকেও সেই পথ পরিষ্কার করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এ কারণেই সামরিক বিশ্লেষকদের মতে হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানো ইরানের সবচেয়ে সেরা যুদ্ধ কৌশল। ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে দাবি করছে আমেরিকা এই যুদ্ধে ইতোমধ্যেই জিতে গেছে। অন্যদিকে আমেরিকার পশ্চিমা মিত্রদেরকে এই যুদ্ধে যোগ দিতে বলছে। একই সাথে আবার ইরানের সাথেও আলোচনার টেবিলে বসার জন্য মরিয়া হয়ে আছে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে ইরান এবার আর এত সহজে আলোচনায় বসতে রাজি হবে না। কারণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা চলাকালীন সময়েই একাধিকবার মার্কিন ইসরাইল জোট ইরানের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। বিশেষ করে গত বছর জুন মাসে ইরান ইসরাইলের মধ্যে ঘটা ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরাইলের যুদ্ধবিরতি কৌশল ইরান খুব ভালো করেই বুঝে গেছে। বর্তমান উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকার সামরিক উপস্থিতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা মিসাইলও ফুরিয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের আসল উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধ আপাতত বন্ধ করে ইসরাইল আর আমেরিকা তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আর একটু গুছিয়ে নিবে। ইসরাইলের আয়রন ডোম এর শেষ হয়ে যাওয়া মিসাইলের মজুদ বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল মিলে কয়দিন পর আবারো ইরানে হামলা চালাবে। তাছাড়া ইসরাইলই পৃথিবীর একমাত্র দেশ যারা যতবারই যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেছে ততবারই যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করেছে। তাই ইসরাইলকে বিশ্বাস করার মত বোকামি আর হতেই পারে না। আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য ইরান আমেরিকার সামনে বেশ কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। যার অন্যতম শর্ত হলো আমেরিকা যদি মধ্যপ্রাচ্য থেকে তাদের সকল সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নেয় শুধুমাত্র তখনই আলোচনা সম্ভব তার আগে নয়। কিন্তু এই শর্ত মেনে যুদ্ধবিরতি তো সম্ভবই নয় বরং যুদ্ধ আরো বাড়বে। আমেরিকা আর ইসরাইলের মতো নীতিহীন শত্রুদের সাথে লড়াই করার জন্য ইরান ১৯৮০ এর দশক থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিল। দীর্ঘ চার দশক ধরে চলা ইরানের সেই সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এমন বহু কৌশল দেশটির রয়েছে যা অন্য কোনো দেশের নেই। একটি দেশের সাধারণত একটি সেনাবাহিনী থাকে। কিন্তু ইরানের আছে দুটি সমান্তরাল সেনাবাহিনী। এই দুই বাহিনীও আবার অসংখ্য ইউনিট এবং ব্লকে বিভক্ত। ইরানের সেনাবাহিনী ইউনিটগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা শুনলে সাধারণ মানুষ তো বটেই যেকোনো দেশের সামরিক জেনারেলরাও সহজেই বিভ্রান্ত হয়ে যাবে। ইরানের কেন একাধিক সেনাবাহিনী আছে এবং এরা কিভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে জানতে চাইলে কি কেন কিভাবে এর এই ভিডিওটি দেখতে পারেন। বর্তমান সময়ে এআই না শিখলে আপনি নিশ্চিতভাবেই পিছিয়ে পড়বেন। যারা নিজে নিজে এআই এর ব্যবহার শুরু করতে ভয় পাচ্ছেন তারা কি কেন কিভাবে একাডেমির এআই দক্ষতা কোর্সে ভর্তি হতে পারেন। ভিডিও ডেসক্রিপশন ও পিন কমেন্টে কোর্সের লিংক দেওয়া আছে।

Need another transcript?

Paste any YouTube URL to get a clean transcript in seconds.

Get a Transcript