Thumbnail for ইরানের যে সস্তা ড্রোনের তান্ডবে চোখে অন্ধকার দেখছে আমেরিকা - ইজরায়েল ! by মায়াজাল

ইরানের যে সস্তা ড্রোনের তান্ডবে চোখে অন্ধকার দেখছে আমেরিকা - ইজরায়েল !

মায়াজাল

7m 34s1,129 words~6 min read
YouTube auto captions
Transcript source

YouTube auto captions

This transcript was extracted from YouTube's auto-generated caption track. The transcript below is server-rendered so it can be read, searched, cited, and shared without opening the original YouTube player.

Use this transcript
Related transcript hubs

[0:00]এমন একটা যুদ্ধের দৃশ্য কল্পনা করুন যেখানে একদিকে রয়েছে পৃথিবীর সবথেকে শক্তিশালী সামরিক শক্তি আমেরিকা আর ইসরাইল এবং তাদের হাতে আছে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কোটি কোটি ডলারের মিসাইল আর পৃথিবীর সবচাইতে উন্নত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো এই বিশাল শক্তির সামনে দাঁড়িয়ে আছে এমন একটা অস্ত্র যার দাম সাধারণ গাড়ির থেকেও কম আর সেই ছোট্ট অস্ত্রটাই ধীরে ধীরে যুদ্ধের পুরো সমীকরণ বদলে দিতে শুরু করেছে অনেক সামরিক বিশ্লেষক এখন বলছেন এই ড্রোনটার কারণেই ইরান এমন একটা যুদ্ধের কৌশল তৈরি করেছে যেখানে শক্তি দিয়ে নয় বরং বুদ্ধি আর অর্থনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা যায়। কোটি ডলারের মিসাইল দিয়ে যে ড্রোনটাকে থামাতে হয় সেই ড্রোনটার দাম যদি হয় মাত্র কয়েক হাজার ডলার তাহলে যুদ্ধের হিসাবটা কতটা পাল্টে যেতে পারে তা সহজেই কল্পনা করা যায়। আর এই রহস্যের কেন্দ্রেই আছে ইরানের এক অদ্ভুত অস্ত্র শাহেদ 136 কামিকাজি ড্রোন বা সুইসাইড ড্রোন। হ্যাঁ, আমরা এখন এমন একটা সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি যেখানে যুদ্ধ, বিশ্ব রাজনীতি আর অর্থনৈতিক সংকট অনেক মানুষের ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎকেই অনিশ্চিত করে তুলেছে। কিন্তু একটা জিনিস লক্ষ্য করলে দেখবেন ডিজিটাল কনটেন্ট সেক্টরটা এখনো অনেকটাই স্থিতিশীল এবং ভবিষ্যতের জন্য একটা বড় সুযোগ তৈরি করছে। আর ঠিক এ কারণেই গত নয় বছরে শূন্য থেকে মায়াজালকে 11 মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবারের চ্যানেলে পরিণত করার যাত্রায় আমি যা শিখেছি সেই সকল স্ট্রাটেজি এবং কমপ্লিট এআই ইন্টিগ্রেশন প্রক্রিয়া আমি শেয়ার করবো আপনাদের কয়েকজনের সাথে। আপনি যদি ভবিষ্যতের কথা ভেবে এখন থেকেই নিজের একটা শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে চান তাহলে বিস্তারিত জানতে ঢুমেরা আসুন ডেসক্রিপশন বক্স এবং প্রথম কমেন্ট থেকে। তো এবার ভিডিওতে ফেরা যাক। যদিও প্রথম দেখায় এই ড্রোনটাকে খুব সাধারণ মনে হতে পারে। না কোন বিশাল যুদ্ধবিমান না কোন ভয়ঙ্কর মিসাইলের মতো চেহারা। কিন্তু বাস্তবতা হলো এই ছোট্ট অস্ত্রটাই গত কয়েক বছরে আধুনিক যুদ্ধের ধারণাটাই নীরবে বদলে দিতে শুরু করেছে। কারণ এতদিন সবাই ভাবতো যার অস্ত্র যত উন্নত আর যত দামী যুদ্ধক্ষেত্রেও তার শক্তি তত বেশি। কিন্তু শাহেদ 136 যেন সেই ধারণাটাকেই উল্টে দিচ্ছে। একটু হিসেব করে দেখুন আমেরিকার বিখ্যাত টমহক ক্রুজ মিসাইলের দাম কয়েক মিলিয়ন ডলার। রাশিয়ার কেএইচ-101 ক্রুজ মিসাইলের দামও মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। আবার ইরানের নিজস্ব ফাতেহ 110 ব্যালিস্টিক মিসাইলের দামও লাখ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু এইসব কিছুর মাঝখানেই হাজির হয় এমন একটা অস্ত্র যার দাম মাত্র কয়েক হাজার ডলার। অনেক সময় একটা সাধারণ পুরনো গাড়ির থেকেও কম দাম আর সেই অস্ত্রটাই হলো শাহেদ 136 ড্রোন। আর এখান থেকেই শুরু হয় এই ড্রোনটার শক্তির আসল রহস্য। এই ড্রোনটাকে অনেক সময় কামিকাজি ড্রোন বা সুইসাইড ড্রোন বলে ডাকা হয়। সামরিক ভাষায় একে লিটারিং মিউনিশনও বলা হয় কারণ এটা সাধারণ মিসাইলের মতো সরাসরি গিয়ে আঘাত করে না। বরং অনেক সময় ধরে আকাশে ঘুরতে থাকে আর লক্ষ্যবস্তু খুঁজতে থাকে। যেন শিকার খুঁজে বেড়ানো কোন শিকারী পাখি। কিছু টার্গেট এমন থাকে যেগুলো সবসময় দেখা যায় না। কিছু সময়ের জন্য সামনে আসে আবার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই অদৃশ্য হয়ে যায়। তাই এই ড্রোনটা অনেক সময় ধরে লক্ষ্যবস্তুর উপরে আকাশে ঘুরতে থাকে আর অপেক্ষা করে সঠিক মুহূর্তের জন্য। আর যখন সেই মুহূর্তটা আসে তখন এটা হঠাৎ করেই নিচের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের সাথে সাথে টার্গেটটাকে ধ্বংস করে দেয় আর নিজেও শেষ হয়ে যায়। এই ড্রোনটার আরেকটা অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হলো এর শব্দ। যখন এটা আকাশে উড়ে যায় তখন এর ইঞ্জিনের আওয়াজ অনেকটা স্কুটারের মতো শোনায়। এজন্য অনেক সময় একে ফ্লাইং স্কুটারও বলা হয়। কারণ এতে ব্যবহার করা হয়েছে একটা ছোট টু-স্ট্রোক ইঞ্জিন যেটা অনেকটা স্কুটারের ইঞ্জিনের মতোই কাজ করে। আর সেই অদ্ভুত শব্দটাই অনেক সময় মানুষের মনে ভয় তৈরি করে। কারণ যখন কেউ আকাশে এই শব্দটা শুনতে পায় তখন সে বুঝতে পারে যে কিছু একটা আসছে। এই ড্রোনটার দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে তিন মিটার আর ডানার বিস্তার প্রায় তিন মিটার। পুরো ড্রোনটার ওজন মাত্র 220 কেজি। সামনে থাকে একটা বিস্ফোরক ওয়্যারহেড যার ওজন 30 থেকে 50 কেজি পর্যন্ত হতে পারে। আর পেছনের দিকে থাকে একটা প্রোপেলার যেটা ঘুরে ঘুরে ড্রোনটাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। সেই সাথে ড্রোনটাতে ব্যবহার করা হয় একটা সাধারণ টু স্ট্রোক গ্যাসোলিন ইঞ্জিন। এটা প্রায় 50 হর্সপাওয়ার পর্যন্ত শক্তি তৈরি করতে পারে। আর ড্রোনটাকে প্রায় 200 কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা গতিতে উড়তে সাহায্য করে। এতে আলাদা করে কোন কুলিং সিস্টেম লাগানো নেই। ড্রোনটা যখন দ্রুত উড়ে যায় তখন বাতাসই এর ইঞ্জিনকে ঠান্ডা করে দেয়। ড্রোনটাকে স্থিরভাবে উড়তে সাহায্য করার জন্য এর পেছনে থাকে একটা নিয়ন্ত্রণকারী পাখা। ডানার অংশে থাকে ফ্লাপ আর এলিভন যে গুলো ড্রোনটাকে দিক পরিবর্তন করতে সাহায্য করে। এগুলো ছোট সার্ভো মোটরের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। ড্রোনটার মাঝখানে থাকে একটা ছোট কম্পিউটার সিস্টেম যেটা পুরো ফ্লাইটটাকেই নিয়ন্ত্রণ করে। সেই সাথে এর ভেতর থাকে জিপিএস সিস্টেম যেটা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ড্রোনটাকে তার অবস্থান জানায়। যদি কোন কারণে জিপিএস কাজ না করে তখন ড্রোনটা ব্যবহার করে ইনার্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম। এতে থাকা সেন্সরগুলো ড্রোনটার গতি আর দিক হিসাব করে তাকে সঠিক পথেই চালিয়ে নিয়ে যায়। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে এই ড্রোনটা রাডারের সিগনালও শনাক্ত করতে পারে। যদি কোন এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের রাডার সিগনাল পাওয়া যায় তাহলে ড্রোনটা সেই দিকে নিজেই আক্রমণ করতে পারে। কারণ কোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার ধ্বংস হয়ে গেলে সেই পুরো সিস্টেমটাই অনেকটা অন্ধ হয়ে যায়। এই ড্রোনটা আকাশে ওঠে বিশেষ লঞ্চার ট্রাকের মাধ্যমে। ট্রাকের উপরে একটা লঞ্চ রেল থাকে যেখানে ড্রোনটাকে একটা কোণে বসানো হয়। তারপর এর নিচে লাগানো ছোট রকেট বুস্টার চালু করা হয়। সেই বুস্টারটাই ড্রোনটাকে দ্রুত আকাশে তুলে দেয়। এরপর ড্রোনটার আসল ইঞ্জিন চালু হয়ে গেলে বুস্টারটা নিজে থেকেই আলাদা হয়ে যায়। এই ড্রোনটার রেঞ্জ প্রায় 2000 কিলোমিটার পর্যন্ত। কিন্তু এর আসল শক্তি এখানেই যে এগুলো সাধারণত একা আক্রমণ করে না। অনেক সময় একসাথে অনেকগুলো ড্রোন আকাশে পাঠানো হয়। কখনো কখনো শতাদিক ড্রোনও একসাথে উঠতে পারে আর তারা সবাই কিন্তু এক জায়গায় আঘাত করে না। বরং তারা আলাদা আলাদা টার্গেট বেছে নেয়। এই ড্রোনগুলো সাধারণত খুব বেশি উচ্চতায় ওড়ে না বরং মাটির কাছা কাছে দিয়েই উড়ে যায়। এজন্য অনেক সময় এগুলো রাডারে ধরা পড়তে বেশ দেরি হয়। আর যখন ধরা পড়ে তখন হয়তো ইতিমধ্যেই অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। অবশ্য প্রযুক্তিগতভাবে এগুলোকে ধ্বংস করা সম্ভব। কিন্তু এখানেই আসে সবচাইতে বড় সমস্যা খরচ। কারণ একটা ড্রোনের দাম যেখানে মাত্র কয়েক হাজার ডলার আর সেটাকে ধ্বংস করতে অনেক সময় ব্যবহার করা হয় এমন একটা মিসাইল যার দাম কয়েক লাখ বা কয়েক মিলিয়ন ডলার। উদাহরণ হিসেবে ইসরাইলের আয়রন ডোম সিস্টেমে ব্যবহৃত তামির মিসাইলের দাম এই ড্রোনটার তুলনায় অনেক বেশি। আবার আমেরিকার প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যবহার করলে সেই খরচ আরো কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অর্থাৎ সহজভাবে বললে একটা সস্তা ড্রোন ধ্বংস করতে অনেক সময় এমন একটা অস্ত্র ব্যবহার করতে হয় যার দাম সেই ড্রোনটার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। আর যখন একসাথে শত শত ড্রোন আক্রমণ করে তখন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও একসময় চাপে পড়ে যায়। এ কারণেই অনেক সামরিক বিশেষজ্ঞ মনে করেন শাহেদ 136 শুধু একটা ড্রোন না বরং আধুনিক যুদ্ধের এক নতুন বাস্তবতার প্রতীক। এমন এক বাস্তবতা যেখানে কোটি কোটি ডলারের অস্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করছে মাত্র কয়েক হাজার ডলারের একটা ছোট্ট ড্রোন। অনেকেই হয়তো ইতিমধ্যেই শুনেছেন ইসরাইল আর আমেরিকার ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুদও ফুরিয়ে আসছে। কারণ যেখানে ইরান এই ধরনের ড্রোন দ্রুত আর সংখ্যায় অনেক তৈরি করতে পারে সেখানে উন্নত ইন্টারসেপ্টর মিসাইল বানানো অনেক বেশি সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল। তাই শেষ পর্যন্ত এই লড়াই কোন দিকে যাবে আর সামনে কি অপেক্ষা করছে তা এখন অনেকটাই অনুমান করা যাচ্ছে।

Need another transcript?

Paste any YouTube URL to get a clean transcript in seconds.

Get a Transcript