[0:01]আসসালামু আলাইকুম প্রিয় শিক্ষার্থী সবাইকে আজকের এই ক্লাসে স্বাগত। আজকে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের বাংলা জাতীয় ভাষা বই থেকে আলোচনা করবো। আমরা জানি যে বাংলা জাতীয় ভাষা এটা আবশ্যিক একটা সাবজেক্ট। এটা সবারই আছে যারা ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষে পড়ে। আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে যৌবনে দাও রাজটীকা প্রবন্ধ। বাংলা জাতীয় ভাষা বইয়ে একটা প্রবন্ধ রয়েছে। প্রবন্ধের নাম হচ্ছে যৌবনে দাও রাজটীকা। এটি লিখেছেন প্রমথ চৌধুরী সম্ভবত। আজকে আমরা এটা প্রবন্ধের মূলভাবটা আলোচনা করব যে প্রবন্ধের মধ্যে কবি কি বুঝিয়েছেন? এটার মূল বিষয়টা কি? সেই বিষয়ে। প্রিয় শিক্ষার্থী, একটা কথা হচ্ছে যে প্রতিটা প্রবন্ধ গল্প অথবা কবিতা অংশের মূলভাবটা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা জানি যে মূলভাবটা যদি আমরা বুঝতে পারি তাহলে আমরা এটা যেকোনো প্রশ্নে আসুক না কেন আমরা পরীক্ষায় লিখতে পারবো। এবং ক বিভাগ খ বিভাগ সবকিছু আমাদের কমন পড়বে যদি আমরা মূলভাবটা বুঝি। সেজন্য আমরা প্রতিটা প্রবন্ধ গল্প অথবা কবিতার মূলভাবটা বেশি বেশি করে পড়বো, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। শুরু করছি যৌবনে দাও রাজটীকা প্রবন্ধের মূলভাব। অর্থাৎ কবি এ প্রবন্ধে কি বুঝিয়েছেন? সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। যৌবনে দাও রাজটীকা। যৌবনে দাও রাজটীকা প্রবন্ধে সুসাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরী যৌবনের বন্দনা করেছেন মুক্তকণ্ঠে। তিনি যৌবনকে রাজটীকা পরানোর প্রস্তাব করেছেন এই নিবন্ধে। যৌবন মানুষের জীবনের সর্বোৎকৃষ্ট সময়। যৌবনে প্রবেশ করে মানুষ খুঁজে পায় জীবনের চরম সার্থকতা। এ সময়ে মানুষের বাহ্যিক ইন্দ্রিয়, কর্ম ইন্দ্রিয় ও অন্তর ইন্দ্রিয় সবচেয়ে বেশি সজাগ ও সচল থাকে। যৌবন বহন করে অপরিসীম শক্তি। তাই এই শক্তির যথার্থ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য যৌবনকে সঠিক মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। সেই প্রয়োজনীয়তার কথাই লেখক এই প্রবন্ধে যুক্তিতর্কের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। আমাদের দেশে যৌবনকে বাঁকা চোখে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখা হয়ে থাকে। যৌবনকে মনে করা হয় একটা মস্ত বড় ফাড়া হিসেবে। তাই তার কপালে রাজটীকা পরানোর পরিবর্তে তার পিঠে দেওয়া হয় রাজদণ্ড। আমাদের দেশের জ্ঞানী-গুণীরা বসন্ত ঋতু ও প্রকৃতির যৌবনকে অশুভন ও শাসনযোগ্য মনে করেন। তাই তারা বাল্য থেকে এক লাফে বার্ধক্যে পৌঁছাতে চান। ফলে মিলন ঘটে এক জড়ত্বের সাথে আরেক জড়ত্বের। এ কারণে প্রমথ চৌধুরী বলেছেন, “আমাদের জীবন গ্রন্থের প্রথমে ভূমিকা আছে, শেষে উপসংহার আছে, ভিতরে কিছু নেই।” সৃজনশীল যৌবনের ললাটে রাজটীকা প্রদানে বিশেষ আপাতত জড়বাদীদের। জড়বাদীরা জড়ের পূজারী। তাই তারা দেহকে প্রাধান্য দেয়।
[2:57]যৌবনকে প্রাধান্য দিলেও তা দেহের যৌবনকে মনের যৌবনকে নয়। জড়বাদীরা চায় দেহের জড়তার সাথে মনের জড়তার মিল। মনের যৌবন জীবন প্রবাহকে জাগ্রত করে। এক জনের মনের যৌবন অন্যের মনে সঞ্চারিত করা যায়। কিন্তু জড়বাদীরা মনের পরিবর্তে জড়দেহকে প্রাধান্য দেয়। ফলে মনের যৌবন অস্বীকৃত থেকে যায়। দেহের যৌবন পায় সমাদর। যে যৌবন ভোগের ভোগটুকুই শেষ হলেই তার আয়ুটুকু শেষ; তার বৃদ্ধি নেই, সঞ্চারণ নেই, আছে কেবল ক্ষয়। আমরা যে যৌবনকে গোপন করে রাখতে চাই তার জন্য দায়ী আমাদের প্রাচীন সাহিত্য। সংস্কৃতি সাহিত্য দৈহিক যৌবনের বিচিত্র লীলাকলা সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণা লক্ষ্য করা যায়। এ সাহিত্যে যুবক-যুবতী ব্যতীত আর কারো স্থান নেই। যৌবনের যে ছবি সংস্কৃত দৃশ্যকাব্যে ফুটে উঠেছে, সে হচ্ছে ভোগবিলাসের চিত্র। সংস্কৃত কাব্যজগৎ মাল্যচন্দন বনিতা দিয়ে গঠিত। আর এ জগতে বনিতারই হচ্ছে স্বর্গ এবং মাল্যচন্দন তার উপসর্গ। এ কাব্যজগতের স্রষ্টা বা দ্রষ্টা কবিদের মতে প্রকৃতির কাজ হচ্ছে শুধু রমণী দেহের উপমা যোগান, পুরুষের কাজ শুধু রমণীর মন যোগান। যে জাতি নিজের ভোগবিলাস চরিতার্থ করার জন্য পুত্রদের কাছে যে দৈহিক যৌবন ভিক্ষা করেছিলেন সংস্কৃত কবিরা সেই যৌবনেরই রূপ-গুণ বর্ণনা করেছেন। প্রিয় শিক্ষার্থী এ বানানটা হবে যে জাতি বা জড়জাতীয়। আচ্ছা একই ব্যাপার। অর্থাৎ প্রাচীনপন্থী সংস্কৃতিসেবীরা যৌবন নিন্দায় সম্মুখ ছিলেন। কারণ তারা যৌবনকে কেবল ভোগের মোক্ষম সময় বলে মনে করতেন। যৌবন যে সৃষ্টির প্রধানতম বাহন তা তারা জানতেন না। ভোগ ও লালসার মাধ্যম হিসেবে যৌবনকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে এরা যৌবন ভয়ে ভীত থাকতেন। তাইতো যযাতি স্বার্থপরতার পরাকাষ্ঠা দেখাতে লজ্জাবোধ করেননি। প্রমথ চৌধুরী সংস্কৃত সাহিত্যের যৌবন চিন্তার ঘোর বিরোধী। তিনি যৌবনকে দেখেছেন প্রাণশক্তি হিসেবে। এ কারণেই তিনি যৌবনের ললাটে রাজটীকা পরানোর কথা বলেছেন। তাঁর মতে, দেহের যৌবনের সাথে মনের যৌবনের একটা যোগাযোগ থাকলেও দৈহিক যৌবন ও মানসিক যৌবন স্বতন্ত্র। এ মানসিক যৌবন লাভ করতে পারলেই আমরা তা সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে পারব। দেহ সংকীর্ণ ও পরিচ্ছন্ন; মন উদার ও ব্যাপক। একের দেহের যৌবন অপরের দেহে প্রবেশ করিয়ে দেওয়ার জো নেই; কিন্তু একের মনের যৌবন লক্ষ্য লোকের মনে সংক্রমণ করে দেওয়া যেতে পারে। তিনি আরো বলেন, মানসিক যৌবনই সমাজে প্রতিষ্ঠা করা আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা সমগ্র সমাজকে একটা ব্যক্তি হিসেবে দেখলেও আসলে মানবসমাজ হচ্ছে বহুব্যক্তির সমষ্টি। যে সমাজে বহুব্যক্তির মানসিক যৌবন আছে, সেই সমাজেরই যৌবন আছে। দেহের যৌবনের সঙ্গে সঙ্গেই মনের যৌবনের আবির্ভাব হয়। সেই মানসিক যৌবনকে স্থায়ী করতনির্বাচিত প্রবন্ধ হলে শেষ নয়, বার্ধক্যের দেশ আক্রমণ ও অধিকার করতে হবে। দেহের যৌবনের অন্তে বার্ধক্যের রাজত্ব যৌবনের অধিকার বিস্তার করবার শক্তি আমরা সমাজ হতেই সংগ্রহ করতে পারি। প্রমথ চৌধুরী প্রবন্ধের শেষাংশে গিয়ে বলেছেন, ব্যক্তিগত জীবনে ফাল্গুন একবার চলে গেলে আবার ফিরে আসে না; কিন্তু সমগ্র সমাজে ফাল্গুন চিরদিন বিরাজ করছে। অর্থাৎ দেহের যৌবন ক্ষণস্থায়ী। তা একবার গত হলে আর ফিরে পাওয়া যায় না। কিন্তু মানুষের সমাজে যে মানসিক যৌবন আছে তা অজর, অমর ও অব্যয়। যে মানুষ মানসিক যৌবনে সমৃদ্ধ বার্ধক্য তাকে কাবু করতে পারে না। সুতরাং বয়স দিয়ে যৌবন ও বার্ধক্য পরিমাপ করা ঠিক নয়। যার মনে প্রাণশক্তি আছে, সে যুবকই হোক আর বৃদ্ধই হোক সেই প্রকৃত যৌবনের অধিকারী, যৌবনের পূজারী। মনের যৌবনই প্রকৃত যৌবন। যার মনে নেই তার দৈহিক যৌবন মূল্যহীন। দেহের যৌবন এক দেহ থেকে অন্য দেহে স্থানান্তর করা যায় না; কিন্তু এক মনের যৌবন অন্যের মনে সঞ্চালন করা সম্ভব।
[7:42]দেহের যৌবন ক্ষণস্থায়ী আর মনের যৌবন চিরস্থায়ী। যৌবনকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। ত্যাগের উচিত যৌবনকে সমাদর করা। যৌবনের কপালে রাজটীকা পরানোর ক্ষেত্রে কোনো বিতর্ক থাকা অনুচিত। যদি সমাজ দেহে যৌবন শক্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় তবে সমাজ পঙ্গুত্ব থেকে মুক্তি পাবে। যে সমাজে যৌবন আছে সেই সমাজ প্রগতির পথে এগিয়ে যায়। তার গতি কেউ রোধ করতে পারে না। আমরা যৌবন সমৃদ্ধ সেই সমাজের প্রত্যাশা করি। প্রিয় শিক্ষার্থী, আজকে আমরা জানতে পেরেছি আসলে যৌবনে দাও রাজটীকা প্রবন্ধে কবি কি বুঝিয়েছেন? কবি আসল যৌবন বলতে মানসিক যৌবনকে বুঝিয়েছেন। মনের যে যৌবন তাকে প্রাণশক্তি থাকে, সেটাই কবি বুঝিয়েছেন। প্রিয় শিক্ষার্থী সবাইকে ধন্যবাদ। আর আমাদের এই ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের সকল ক্লাসগুলো আপনারা ইউটিউবে সহজভাবে পাওয়ার জন্য, ইউটিউবে সার্চ করবে Degree 2nd year class



