Thumbnail for History of BJP | বিজেপির ইতিহাস | Bharatiya Janata party | ভারতীয় জনতা পার্টি by Katha  Kahini

History of BJP | বিজেপির ইতিহাস | Bharatiya Janata party | ভারতীয় জনতা পার্টি

Katha Kahini

17m 22s1,860 words~10 min read
Auto-Generated

[0:02]বিশ্বের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল। বর্তমানে যার সদস্য সংখ্যা ১৮ কোটিরও বেশি। দলটির নাম ভারতীয় জনতা পার্টি অর্থাৎ বিজেপি। এই মুহূর্তে ভারতের লোকসভায় বিজেপির আসন সংখ্যা ৩০৩, যা মোট লোকসভা আসনের ৫৫ শতাংশের বেশি। ভারতবর্ষের মোট ২৯টি রাজ্যের মধ্যে ১৩টি রাজ্যেই এই মুহূর্তে বিজেপির সরকার চলছে। এছাড়াও আরও ৫টি রাজ্যে বিজেপির সমর্থনে কোয়ালিশন বা জোট সরকার চলছে। মাত্র চার দশক আগে প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল কিভাবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলে পরিণত হলো তা বুঝতে গেলে আমাদের বিজেপির জন্মলগ্ন থেকে এ পর্যন্ত তাদের ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখতে হবে।

[0:49]নমস্কার বন্ধুরা। কথা কাহিনী চ্যানেলে আপনাদের স্বাগত। ২১শে অক্টোবর ১৯৫১, ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী আরএসএসের সহায়তায় বিজিএস বা ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী একাধারে শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ এবং একজন ব্যারিস্টারও ছিলেন। ভারতের সংবিধান রচনার জন্যে যে কনস্টিটিউয়েন্ট অ্যাসেম্বলি বা সংবিধান সভা তৈরি হয়েছিল তারও একজন সদস্য ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর প্রথম মন্ত্রীসভায় তিনি শিল্প ও সরবরাহ মন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে যে নেহেরুলিয়াকত প্যাক্ট বা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় তার প্রতিবাদে তিনি মন্ত্রসভা থেকে পদত্যাগ করেন এবং ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। ভারতীয় জনসংঘের প্রাথমিক উদ্দেশ্য বা আদর্শ ছিল স্বাধীন ভারতবর্ষে হিন্দুদের কালচারাল আইডেন্টিটি বা সাংস্কৃতিক সত্তা বা পরিচয়কে রক্ষা করা। কংগ্রেস তথা নেহেরু সরকারের মুসলিম তোষণ নীতিকে বিরোধিতা করা এবং জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের সম্পূর্ণরূপে সংযুক্ত করা। এই উদ্দেশ্য এবং আদর্শকে সামনে রেখেই ১৯৫১-৫২ খ্রিস্টাব্দের যে সাধারণ নির্বাচন হয় তাতে তারা অংশগ্রহণ করে এবং তিনটি আসন দখল করতে সক্ষম হয়। ধীরে ধীরে জনসংঘের জনপ্রিয়তা এবং ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎই ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের ২৩শে জুন ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দেহত্যাগ করেন। এর ফলে জনসংঘের অগ্রগতি কিছুটা থমকে যায়। ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর মৃত্যুর পর জনসংঘের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়। তিনি জনসংঘকে একটি সম্পূর্ণ নতুন রূপ দান করেন। যার ফলস্বরূপ ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দের সাধারণ নির্বাচনে জনসংঘ দারুণ ভালো ফল করে এবং তারা ৩৫টি লোকসভা আসন দখল করতে সক্ষম হয় এবং পার্লামেন্টে তারা তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। হিন্দি বলয় অর্থাৎ যে সকল অঞ্চলে হিন্দি ভাষা কথা বলা হয় সেখানে অকংগ্রেসি আঞ্চলিক দলগুলোর সঙ্গে জনসংঘ মিলিত হয়ে দা ইউনাইটেড লেজিসলেচার পার্টি বা সংযুক্ত বিধায়ক দল তৈরি করেন। যার ফলস্বরূপ জনসংঘ উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ এবং বিহারে জোট সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়। ইতিমধ্যে অটল বিহারী বাজপায়ী, লালকৃষ্ণ আদবানীর মতন তরুণ জনসংঘের নেতারা ভারতীয় রাজনীতিতে তথা জনসংঘে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করে। ১৯৬৮ সালের পর জনসংঘের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন অটল বিহারী বাজপায়ী। এই সময় জনসংঘের প্রধান রাজনৈতিক এজেন্ডা ছিল ইউনিফর্ম সিভিল কোড বাস্তবায়ন। অর্থাৎ জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলের জন্যে একই প্রকার আইন প্রণয়ন করা এবং লাগু করা। তাদের দ্বিতীয় এজেন্ডা ছিল গোহত্যা নিষিদ্ধকরণ। তাদের তৃতীয় রাজনৈতিক এজেন্ডা ছিল জম্মু-কাশ্মীরের জন্য দেওয়া স্পেশাল স্ট্যাটাস বা আর্টিকেল ৩৭০কে সংবিধান থেকে প্রত্যাহার করা। এই সকল রাজনৈতিক এজেন্ডার কারণে জনগণের মধ্যে জনসংঘের জনপ্রিয়তা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে ইন্দিরা গান্ধী দেশের জরুরি অবস্থা বা ইমার্জেন্সি ঘোষণা করলে অন্যান্য অনেক রাজনৈতিক দলের মতন জনসংঘও এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তোলে। জনসংঘের অনেক নেতাকেই গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর জনসংঘ কংগ্রেস বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে জনতা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল তৈরি করেন। যাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দের সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেসকে পরাজিত করে ইন্দিরা গান্ধী সরকারের পতন ঘটানো। এবং সত্যি সত্যিই জনতা পার্টি ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দের সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেসকে পরাজিত করে কেন্দ্রে সরকার গঠন করে। নতুন এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন মোরারজী দেশাই। জনতা পার্টির মধ্যে জনসংঘ একাই ৯৩টি আসন দখল করতে সক্ষম হয়েছিল, যা প্রায় জনতা পার্টির মোট আসনের ৩১ শতাংশের মতো। তবে এই মিলিঝুলি জোট সরকারের প্রধান দুর্বলতা ছিল তাদের সমন্বয়ের অভাব এবং আদর্শগত অমিল। জনতা পার্টির মধ্যে একটি দাবি ওঠে যে ডুয়েল মেম্বারশিপ বিলোপ করতে হবে। এখন এই ডুয়েল মেম্বারশিপ বলতে কি বোঝায় তা একটু বুঝে নেওয়া যাক। যেমন জনসংঘের সদস্যরা একদিকে যেমন জনতা পার্টিরও সদস্য ছিলেন, অপরদিকে তারা আরএসএস-এরও সদস্য ছিলেন। স্বাভাবিকভাবে জনসংঘ এই দাবিকে মানতে অস্বীকার করে। কিন্তু জনতা পার্টির অপর একটি অংশ জনতা পার্টি সেকুলার নামে নতুন একটি পার্টি গঠন করে সরকার থেকে আলাদা হয়ে যায়। যার ফলস্বরূপ এই মিলিঝুলি জোট সরকার লোকসভায় তার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় এবং মোরারজী দেশাই সরকারের পতন হয়। ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে আবার সাধারণ নির্বাচন হয় এবং এই নির্বাচনে জনতা পার্টির শোচনীয় পরাজয় ঘটে। তারা সব মিলিয়ে মাত্র ৩১টি লোকসভা আসন দখল করতে সক্ষম হয়। এই হারের কারণ পর্যালোচনা করার জন্য ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে একটি সভা ডাকা হলে সেই সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে ডুয়েল মেম্বারশিপ ব্যান করা হবে। অর্থাৎ জনসংঘের সদস্যদের পরিষ্কার ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে হয় তারা আরএসএস-এর মেম্বার থাকবেন, অথবা তারা জনতা পার্টির মেম্বার থাকবেন। স্বাভাবিকভাবে জনসংঘের সদস্যদের কাছে জনতা পার্টি ত্যাগ করা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না। এরপর ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে ৬ই এপ্রিল আরএসএস এফিলিয়েটেড জনসংঘের সদস্যরা মিলে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি প্রতিষ্ঠা করে। বিজেপির প্রথম সভাপতি ছিলেন অটল বিহারী বাজপায়ী। এ পর্যন্ত আলোচনা থেকে একথা পরিষ্কার হয় যে, যদিও মাত্র চার দশক আগে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, কিন্তু তার বীজ রোপণ করা হয়েছিল অনেক আগে, অর্থাৎ স্বাধীনতার পরপরই। প্রথম অবস্থায় বিজেপিকে রাজনৈতিক জমি প্রস্তুত করতে কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। কারণ তখন পর্যন্ত ভারতীয় জনসংঘের সুস্পষ্ট প্রভাব এই বিজেপির উপর ছিল। নিজেদের আদর্শ নির্ধারণ করার ক্ষেত্রেও প্রাথমিক স্তরে বিজেপি কিছুটা কনফিউজ বা বিভ্রান্ত ছিল। তারা ভারতীয় জনসংঘের কট্টর হিন্দুত্ববাদী ইমেজ থেকে নিজেদেরকে পৃথক করে গান্ধীবাদী সমাজবাদের মতন মডারেট আদর্শকে অনুসরণ করার চেষ্টা চালাচ্ছিল। একদিকে ভারতীয় জনতা পার্টির এই বিভ্রান্তিকর আদর্শ, অপরদিকে ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে ইন্দিরা গান্ধীর মর্মান্তিক হত্যা, ইত্যাদি কারণে ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপির শোচনীয় পরাজয় ঘটে। তারা লোকসভায় মাত্র দুটি আসন দখল করতে সক্ষম হয়। এই শোচনীয় পরাজয়ের পর বিজেপি তাদের আদর্শগত অবস্থান পরিবর্তন করে। লালকৃষ্ণ আদবানিকে বিজেপির সভাপতি করা হয় এবং তারা জনসংঘের হিন্দু ন্যাশনালিজমের আদর্শকেই গ্রহণ করে। ১৯৮০ সালে এই বিশ্ব হিন্দু পরিষদ অযোধ্যায় রাম জন্মভূমি আন্দোলন শুরু করেছিল। হিন্দুদের আস্থানির্ভর এই আন্দোলনকে বিজেপি সমর্থন করে এবং তাদের নির্বাচন ইস্তেহারেও রাম জন্মভূমি আন্দোলনকে স্থান দেওয়া হয়। রাম জন্মভূমি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সভায় বিজেপি নেতাদের দেওয়া বক্তব্য জনগণকে দারুণভাবে উদ্বেলিত করে তোলে। এই বিষয়টি যেন বিজেপিতে নতুন জোয়ার নিয়ে আসে। যার ফলস্বরূপ ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপি ৮৬টি আসন দখল করতে সক্ষম হয়। বিজেপির সমর্থনে ভিপিসি ন্যাশনাল ফ্রন্ট জোট সরকার গঠন করে। আর এই সময় থেকেই বিজেপি ভারতীয় রাজনীতির সর্বোচ্চ স্তরে বিচরণ করে চলেছে। ১৯৯০ সাল থেকেই ভারতবর্ষের প্রায় সকল মানুষই অটল বিহারী বাজপায়ী এবং লালকৃষ্ণ আদবানীর নামের সঙ্গে পরিচিত হয়ে যায়। ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে লালকৃষ্ণ আদবানি এই রাম মন্দির নির্মাণের সমর্থনে সোমনাথ মন্দির থেকে অযোধ্যা পর্যন্ত একটি রথযাত্রার আহ্বান করেন। আর এই রথযাত্রার সঙ্গে সঙ্গেই ভারতীয় রাজনীতির রং যেন গেরুয়া রঙে রঙিন হয়ে যায়। আদবানি তথা বিজেপির মতে এই রথযাত্রার উদ্দেশ্য ছিল সমগ্র ভারতবর্ষের হিন্দুদের জাগরিত করা এবং রাম মন্দির নির্মাণের জন্য সমর্থন আদায় করা। কিন্তু ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ এই রথযাত্রা সম্পর্কে বলেছেন যে এই রথযাত্রা প্রতিবিম্ব ছিল হিন্দুত্বের, ধর্মযুদ্ধের, পুরুষার্থের এবং উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদের। এই রথযাত্রা চলাকালীন বিভিন্ন সভায় লালকৃষ্ণ আদবানি সহ বিজেপির বিভিন্ন নেতারা সরকারের মুসলিম তোষণ নীতি এবং ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষতাকে তীব্র আক্রমণ করতে থাকে। এই সময় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদব এই রথযাত্রা আটকাতে লালকৃষ্ণ আদবানীর উপর প্রিভেন্টিভ ডিটেনশনের অর্ডার জারি করেন। যদিও এরপরেও হাজার হাজার করসেবক এবং ভলেন্টিয়ার্সরা ইতিমধ্যেই অযোধ্যায় পৌঁছে যায়। এই বিপুল জমায়েত দেখে উত্তরপ্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মুলায়াম সিং যাদব করসেবকদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। করসেবকদের আটকাতে রাজ্যে প্যারামিলিটারি ফোর্স নামানো হয়। প্যারামিলিটারি ফোর্সের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে বহু করসেবক প্রাণ হারায়। এর ফলে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় দাঙ্গা শুরু হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই ভিপিসি সরকারের উপর থেকে বিজেপি তার সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়। এর ফলস্বরূপ ভিপিসি সরকারের পতন ঘটে এবং নতুন করে সাধারণ নির্বাচন হয়। আর এই নির্বাচনে বিজেপি ১২০টি লোকসভা আসন দখল করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও উত্তরপ্রদেশে তারা সরকার গঠন করে। ১১ই ডিসেম্বর ১৯৯১। তৎকালীন বিজেপির সভাপতি মুরলি মনোহর জোশীর নেতৃত্বে বিজেপি আরও একটি যাত্রা করে, যার নাম একতা যাত্রা। কন্যাকুমারী থেকে এই যাত্রা শুরু হয় এবং ভারতের প্রায় ১৪টি রাজ্য ঘুরে শ্রীনগরে ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দের ২৬শে জানুয়ারি ভারতের তেরঙ্গা পতাকা উত্তোলন করে এই যাত্রার সমাপ্তি ঘটে। এই একতা যাত্রার মাধ্যমে বিজেপি সমগ্র দেশবাসীকে এই বার্তাই দিতে চেয়েছিল যে তারা রাষ্ট্রীয় একতাকে সমর্থন করে। মুরলী মনোহর জোশীর এই একতা যাত্রা এবং লালকৃষ্ণ আদবানীর অযোধ্যার রথযাত্রা, এই দুটি ক্ষেত্রেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। ৬ই ডিসেম্বর ১৯৯২, আরএসএস বিতর্কিত রাম মন্দির বা বাবরি মসজিদের পাশেই একটি সমাবেশ বা র‍্যালির আয়োজন করে। এই সমাবেশে বিজেপি এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রায় ১ লক্ষ করসেবক উপস্থিত হয়েছিল এবং এই করসেবকরা বাবরি মসজিদের উপর হামলা চালায় এবং মসজিদকে ধ্বংস করে। এই ঘটনার ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা শুরু হয়ে যায়, বহু লোক প্রাণ হারায় এবং এই ঘটনার জন্য বিশ্ব হিন্দু পরিষদকে ব্যান করে দেওয়া হয়। লালকৃষ্ণ আদবানি সহ বিজেপির বহু নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অনেকেই মনে করেন এটি ছিল একটি প্রিপ্ল্যান্ড কনস্পিরেসি অর্থাৎ পূর্ব পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এ প্রসঙ্গে ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে জাস্টিস মনমোহন সিং লিবারহানের রিপোর্টে লালকৃষ্ণ আদবানি, অটল বিহারী বাজপায়ী, মুরলী মনোহর যোশী সহ ৬৮ জন বিজেপি নেতাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এছাড়াও বিজেপি শাসিত তৎকালীন উত্তরপ্রদেশ সরকারকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়। কিন্তু ৩০শে সেপ্টেম্বর ২০২০ সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সকলকে নির্দোষ বলা হয় এবং সকল প্রকার অভিযোগ থেকে সকলকেই মুক্ত করা হয়। ৯০-এর দশক থেকেই ভারতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের আধিপত্য ক্রমশঃ হ্রাস পেতে শুরু করে এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক দলগুলি উঠে আসতে থাকে। কিন্তু কোন আঞ্চলিক দলগুলিরই এমন ক্ষমতা ছিল না যে তারা এককভাবে বিজেপি বা কংগ্রেসকে হারিয়ে কেন্দ্রে সরকার গঠন করতে পারে। যার ফলস্বরূপ ভারতীয় রাজনীতিতে জোট সমীকরণ দেখতে পাওয়া যায়। অ-কংগ্রেসি এবং কংগ্রেস বিরোধী বিভিন্ন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলিকে নিয়ে বিজেপি গঠন করে এনডিএ বা ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স। অপরদিকে কংগ্রেসও বিভিন্ন বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে গঠন করে ইউপিএ বা ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স। এই সময় বিজেপি তথা এনডিএর নেতৃত্ব দেন অটল বিহারী বাজপায়ী। তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী হন। যদিও কেবলমাত্র একবারই অর্থাৎ ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত তিনি সম্পূর্ণ সময়কালের জন্য প্রধানমন্ত্রী থাকেন। অটল বিহারী বাজপায়ীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকারের কাজ দারুণভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্যে তিনি দিল্লী থেকে লাহোর পর্যন্ত একটি বাস যাত্রা করেছিলেন। যদিও এর বিনিময়ে পাকিস্তান কেবলমাত্র ভারতবর্ষকে ধোঁকায় দেয়। পাকিস্তানী ফৌজ এবং কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী অনুপ্রবেশকারীরা লাইন অফ কন্ট্রোল পেরিয়ে ভারতে ঢুকে পড়ে, যার ফলস্বরূপ ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে কারগিল যুদ্ধের সূচনা হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর অভূতপূর্ব লড়াই, অটল বিহারী বাজপায়ীর অসাধারণ নেতৃত্ব এবং তার কূটনৈতিক দক্ষতার কারণে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর তাদের ফৌজকে প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। এই সাফল্যের কারণে অনেকেই মনে করেছিল যে আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি আবার জয়লাভ করবে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে কংগ্রেস এই নির্বাচনে ইউপিএ রূপে জয়লাভ করে এবং কেন্দ্রে সরকার গঠন করে। নানা প্রতিকূলতা এবং শাসন সংক্রান্ত নানা অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইউপিএ টানা দুটি টার্ম অর্থাৎ ২০০৪ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত এবং ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রে সরকার চালাতে সক্ষম হয়। যার ফলস্বরূপ অনেকেই মনে করতে থাকে যে কংগ্রেস আবার তার পুরনো ফরমে ফিরে এসেছে। কিন্তু রাজনীতির অংক সাধারণ পাটিগণিতের নিয়মে হয় না। বিজেপির নতুন নেতৃত্ব দলের দায়িত্বভার গ্রহণ করতে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছিল। তারা নতুন ভাবনা দ্বারা দলকে উজ্জীবিত করে তোলে। এ যেন এক নতুন বিজেপি। আর এই নতুন বিজেপিকে নেতৃত্ব দেন ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র দামোদর মোদী। ইউপিএ সরকারের দ্বিতীয় টার্মের সময় নানা রকম দুর্নীতি, ভূষ্ঠাচার এবং অত্যধিক হারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে জনগণও সরকারের পরিবর্তন চেয়েছিল। এবং গুজরাটের তৎকালীন অতি জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেই তারা ভবিষ্যৎ কান্ডারী বলে মনস্থির করে। নরেন্দ্র মোদীর অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, তার প্রেজেন্টেশন, তার অ্যাপিয়ারেন্স, তার অগণিত ভক্তকুল এবং তার জনপ্রিয়তা ইত্যাদি কারণে ২০১৪ এবং ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে বিজেপির ঐতিহাসিক জয় হয়। কেন্দ্রে এই মুহূর্তে এনডিএ সরকার থাকলেও বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। লোকসভা হোক বা বিধানসভা, কেন্দ্র বা রাজ্যে যেকোনো জায়গাতেই, যেকোনো ভোটেই বিজেপি নরেন্দ্র মোদীর নামেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করে। এই মোদি সাহ জুটির কারণেই বিজেপি আজ বিশ্বের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল এবং তারা কংগ্রেসকে পেছনে ফেলে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে।

[17:09]ভিডিওটি আপনাদের কেমন লাগলো অবশ্যই জানাবেন। যদি ভালো লাগে লাইক করবেন, কমেন্টস করবেন, শেয়ার করবেন এবং অবশ্যই চ্যানেলটিকে সাবস্ক্রাইব করবেন। ধন্যবাদ, জয় হিন্দ।

Need another transcript?

Paste any YouTube URL to get a clean transcript in seconds.

Get a Transcript