Thumbnail for স্বামী ও স্ত্রীর দৈহিক মিলন সম্পর্কে সনাতন শাস্ত্রে কি উল্লেখ রয়েছে? | কখন দৈহিক মিলন পাপ? by পঞ্চপুরাণ গল্প

স্বামী ও স্ত্রীর দৈহিক মিলন সম্পর্কে সনাতন শাস্ত্রে কি উল্লেখ রয়েছে? | কখন দৈহিক মিলন পাপ?

পঞ্চপুরাণ গল্প

10m 48s688 words~4 min read
Auto-Generated

[0:00]স্বামী ও স্ত্রীর দৈহিক মিলন সম্পর্কে সনাতন শাস্ত্রে কি উল্লেখ রয়েছে? সনাতন শাস্ত্রে স্বামী-স্ত্রীর দৈহিক মিলনকে কেবল ইন্দ্রিয় তৃপ্তি হিসেবে দেখা হয় না, বরং একে একটি 'পবিত্র ধর্মীয় কর্তব্য' বা 'যজ্ঞ' হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গৃহস্থাশ্রমে সন্তান উৎপাদন এবং দম্পতির মধ্যে প্রেম বজায় রাখা ধর্মেরই অংশ। এই বিষয়ে শাস্ত্রীয় উল্লেখযোগ্য দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো: ১. কাম বা রতিসুখ একটি 'পুরুষার্থ'। সনাতন ধর্মে মানুষের জীবনের চারটি প্রধান লক্ষ্যের একটি হলো 'কাম' (অন্য তিনটি হলো ধর্ম, অর্থ ও মোক্ষ)। তবে এই কাম হতে হবে 'ধর্মসম্মত'। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় (৭/১১) ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন: "ধর্মাবিরুদ্ধো ভূতেষু কামোহস্মি ভরতর্যভা"। (অর্থাৎ: হে অর্জুন, আমি প্রাণিগণের মধ্যে ধর্মসম্মত কামা)। এর অর্থ হলো, বিবাহিত দম্পতির মধ্যে যে মিলন ধর্ম ও শাস্ত্রের নিয়ম মেনে হয়, তা স্বয়ং ঈশ্বরেরই এক রূপ। ২. সন্তান উৎপাদন ও বংশ রক্ষা। শাস্ত্র মতে, বিবাহের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো 'সুপ্রজা' বা সৎ সন্তান লাভ করা। পিতৃঋণ থেকে মুক্তি পেতে এবং বংশের ধারা বজায় রাখতে স্বামী-স্ত্রীর মিলন একটি প্রয়োজনীয় কর্তব্য। তবে একে কেবল পাশবিক লালসা নয়, বরং একটি উচ্চতর আধ্যাত্মিক সচেতনতার সাথে পালন করতে বলা হয়েছে।

[2:08]৩. গৃহস্থ ব্রহ্মচর্য।

[2:16]শাস্ত্রের একটি বিশেষ ধারণা হলো 'গৃহস্থ ব্রহ্মচর্য'। এর অর্থ হলো, গৃহস্থ হয়েও যদি কেউ কেবল শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট সময়ে স্ত্রীর সাথে মিলিত হন এবং অতিরিক্ত আসক্তি বর্জন করেন, তবে তিনি ব্রহ্মচারীর সমতুল্য পুণ্য লাভ করেন। ৪. ঋতুকাল ও মিলনের নিয়ম (মনুস্মৃতি ও অন্যান্য শাস্ত্রানুসারে)।

[2:54]* ঋতুকাল: মাসিক ঋতুস্রাব শেষ হওয়ার পর থেকে ১৬ রাত পর্যন্ত সময়কে ঋতুকাল বলা হয়। এর মধ্যে প্রথম ৪ রাত মিলন নিষিদ্ধ। * জোড় ও বিজোড় রাত: শাস্ত্রে বলা হয়েছে, ঋতুকালের জোড় রাতগুলোতে (৬, ৮, ১০, ১২...) মিলন করলে পুত্র এবং বিজোড় রাতগুলোতে (৫, ৭, ৯, ১১...) মিলন করলে কন্যা সন্তান লাভের সম্ভাবনা থাকে। * নিষিদ্ধ সময়: দিনের বেলা মিলন শাস্ত্রীয়ভাবে কঠোর নিষিদ্ধ, কারণ এটি জীবনীশক্তি (ওজঃ) ক্ষয় করে। সন্ধ্যার সময় (প্রদোষ কাল) উপাসনার সময়, তাই এটিও বর্জনীয়।

[3:55]৫. পারস্পরিক সম্মান ও সম্মতি। কামশাস্ত্রে এবং অন্যান্য স্মৃতিশাস্ত্রে স্ত্রীর সন্তুষ্টি ও সম্মানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মিলন যেন কেবল পুরুষের ইচ্ছায় না হয়, বরং তা যেন উভয়ের প্রেম ও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ হয়। স্ত্রীকে 'সহধর্মিনী' বলা হয়েছে, তাই দৈহিক সম্পর্কও হবে ধর্মের পথে একে অপরের সহায়ক।

[4:39]সংক্ষেপে শাস্ত্রের শিক্ষা: * সংযম: মিলন যেন আসক্তিতে পরিণত না হয়। * পবিত্রতা: মিলনের পূর্বে ও পরে শারীরিক ও মানসিক শুদ্ধি বজায় রাখা। * সময় জ্ঞান: নিষিদ্ধ তিথি (একাদশী, পূর্ণিমা, অমাবস্যা) ও সময় মেনে চলা। উপসংহার: সনাতন শাস্ত্র অনুযায়ী, স্বামী-স্ত্রীর মিলন কোনো পাপ নয়, বরং এটি সৃষ্টির প্রক্রিয়া এবং একটি পবিত্র দায়িত্ব। তবে তা যেন লালসা বা মোহের বশবর্তী না হয়ে সংযম এবং ধর্মের সীমানার মধ্যে থাকে।

[5:43]স্বামী ও স্ত্রীর দৈহিক মিলন কখন কোন সময় পাপ হয়ে থাকে? সনাতন শাস্ত্র মতে, স্বামী ও স্ত্রীর দৈহিক মিলনের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট সময় ও তিথিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

[6:16]শাস্ত্র মতে, এই বিশেষ সময়ে মিলন করলে তা কেবল পাপ হিসেবে গণ্য হয় না, বরং দম্পতির শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে এবং অশুভ প্রভাব সৃষ্টি করে।

[6:46]সনাতন শাস্ত্র মতে, স্বামী ও স্ত্রীর দৈহিক মিলন মাসে ২ বারের বেশি শাস্ত্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। (গৃহস্থের ব্রহ্মচর্য পালন কারণেই)।

[7:08]১. নিষিদ্ধ তিথি: অষ্টমী, একাদশী, চতুর্দশী, পূর্ণিমা ও অমাবস্যা--এই তিথিগুলোকেও শাস্ত্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

[7:33]২. a) দিবাভাগ (দিনের বেলা): শাস্ত্রে দিনের বেলা শারীরিক মিলন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। বলা হয়, দিনের বেলা মিলনের ফলে শরীরের তেজ বা ওজঃ কমে যায় এবং পরবর্তী সন্তান স্বল্পায়ু বা রুগ্ন হতে পারে। b) সন্ধ্যাবেলা (প্রদোষ কাল): গোধুলি বা সন্ধ্যার সময়টি হলো উপাসনা ও ধ্যানের সময়। এই সময় মহাদেব ও দেবতারা বিচরণ করেন বলে বিশ্বাস করা হয়, তাই এই সময়টি অশুভ ফলদায়ক।

[8:24]৩. মাসিক ঋতুচক্র (Menstrual Cycle): * স্ত্রীর ঋতুস্রাবের প্রথম চার দিন শারীরিক মিলন শাস্ত্রীয় ও স্বাস্থ্যগত উভয় দিক থেকেই নিষিদ্ধ।

[8:42]একে 'অশৌচি' সময় হিসেবে গণ্য করা হয়।

[8:52]৪. বিশেষ ধর্মীয় ও শোকের সময়:- পবিত্র উৎসবের দিন: জন্মাষ্টমী, শিবরাত্রি বা দুর্গাপূজার মতো বড় উৎসবের দিনে।

[9:08]অশৌচ কাল: পরিবারে কেউ মারা গেলে বা সূতিকা অবস্থা (সন্তান জন্মের পর নির্দিষ্ট সময়) থাকাকালীন। শ্রাদ্ধ তর্পণ: পিতৃপুরুষের তর্পণ বা শ্রাদ্ধের দিনে।

[9:40]৫. গর্ভাবস্থা ও বিশেষ অবস্থা:- গর্ভাবস্থা: গর্ভধারণের নির্দিষ্ট মাস পর থেকে মিলন এড়িয়ে চলা উচিত (আয়ুর্বেদ ও স্বাস্থ্যসম্মত কারণে)। অসুস্থতা: স্বামী বা স্ত্রীর কেউ অসুস্থ থাকলে জোরপূর্বক মিলন পাপের পর্যায়ভুক্ত।

[10:17]শাস্ত্র অনুযায়ী, গৃহস্থ জীবনে কামকে 'যজ্ঞ' বা পবিত্র কাজ হিসেবে দেখা হয় যদি তা নিয়ম মেনে করা হয়। নিয়মহীন এবং কেবল অতি-আসক্তিমূলক মিলনকে 'রাক্ষসী প্রবৃত্তি' বলা হয়, যা মানুষের তেজ ও আয়ু ক্ষয় করে।

Need another transcript?

Paste any YouTube URL to get a clean transcript in seconds.

Get a Transcript