[0:04]রাব্বিশরাহলি সদরি ওয়াইয়াসিরলি আমরি ওয়াহলুল ওয়াকদাতামিললিসানি ইয়াফকাহুকৌলি রাব্বি আউজুবিকা মিনহাম্মাদাতিশ শাইয়াতিন ওয়াউজুবিকা রাব্বি আইয়াহদুরুম কোরআন মাজিদের ৬৮ নম্বর সূরা সূরাতুল কলাম
[0:26]নুন ওয়াল কলামে ওয়ামা ইয়াসতুরুম শপথ বা নুন বিচ্ছিন্ন অক্ষর, যার মানে শুধু আল্লাহই জানেন ওয়াল কলামে শপথ কলমের। واما ইয়াসতুরুম আর শপথ তারও যা সে কলম লেখে। এখানে লিখেছেন লেখকগণ যাহা লেখে। এখন এই ব্যাপারগুলো একসময় ছিল এখন আমাদের ওই যে বলেছি আপনাদেরকে যে কোরআন নিয়ে সারা পৃথিবীতে নতুন নতুন গবেষণা শুরু হয়েছে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে কোরআনকে দেখার, কোরআনকে বোঝার। চেষ্টা করা হচ্ছে আমরাও চেষ্টা করছি। তো শপথ কলমের এবং যা তার লেখা বা যা সে লিখেছে অর্থাৎ আমরা কিতাবকেই এখানে মানে প্রাধান্য আনতে পারি বা কিতাবকেই আমরা সামনে আনতে পারি। মা আংতা বেনেয়ামাতে রাব্বিকা বিমাজুনুন। নও তুমি তোমার প্রতিপালকের করুণায় কোনো পাগল। ওয়া ইন্নাল্লাকালা আজরান গাইরা মামনুন। আর নিশ্চিত এই যে আছে তোমার জন্য অনেক বড় পুরস্কার যার ধারাবাহিকতা কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না। ওয়া ইন্নাকালা আলা খুলুকি নাজিম। তর্জমা করা হচ্ছে যে তুমি নৈতিকতার অতি উচ্চ মর্যাদায় অভিষিত। এইরা আমরা যারা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে যারা এতকাল যাবত বিভিন্ন ধরনের কথা বলে এসছি আসছি তাদের সেই ব্যাপারটাকে দৃষ্টিভঙ্গিটা সামনে রেখেই এই তর্জমা করা হয়। এখন এখানে শপথ কাকে দিয়ে করানো হলো? মানে আমাদের আমরা মুরব্বীদেরকে দেখেছি যে একখানা আয়াত যদি পড়েন লাভ দিয়ে কখন কালা কালা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামে চলে যাবেন অস্থির হয়ে থাকতেন তারা হাদীস কখন বলবেন। কিন্তু কোরআনের বাণী কোরআনের প্রতিটি আয়াতেই জি হাদীস যেই কথা স্বয়ং আল্লাহ বলছেন। এই ব্যাপারটা আমরা ছোটবেলায় আমাদের যৌবনে এমনকি কোরআনের মধ্যে প্রবেশ করার আগে আমাদেরকে কেউ শোনাননি। এখন কোরআনে এসে দেখি যে কোরআনের যে আয়াত তাই হাদীস আর তো কোন হাদীস বলে কোনো কিছু কোরআন মানে না। কোরআন লিগ্যাল বলে মানে আপনার সায়ে দেয় না বা সম্মতি দেয় না। যাইহোক, তাহলে এখন এই কোরআনি হাদীস বলছে যে শপথ কলমের এবং তার যা সে লেখে। তুমি নও করুণায় তোমার প্রতিপালকের কোন পাগল। তারমানে কলমের এবং যা সে লেখে এই ব্যাপারটার ত মানে শপথ করা হচ্ছে কেন? এই জন্যে যে রাসূলের জাবানীতে এই কোরআন লেখা হয়েছে। আমরা কয়েকটা কারণ দেখাবো এই কোরআন লেখা হয়েছে। এবং লেখা হয়েছে কিভাবে যে রসূল বলেছেন এবং তারপর তার সঙ্গী সাথীরা তার লিখেছেন কেউ হাড়ের পুরোনো হাড়ের গাঁয়ে লিখেছেন পাতলা চার্মা মানে চ মানে চামড়ার উপরে লিখেছেন বিভিন্নভাবে লিখিত হয়েছে। এবং সেই সমস্ত কলমগুলোর শপথ করেছেন এবং যা সে কলমগুলো লেখে অর্থাৎ রাসূলের জাবানীতে যা আসে তার অনেক আসহাব যার সঙ্গীসাথী যারা তারা লিখে রাখেন। এগুলো এক লেখার কথা। আরেক লেখা আমি আপনাদেরকে দেখাচ্ছি যে এই ব্যাপারটার বাস্তবতা কি?
[4:32]ফালা উকসিমু বিমা ওয়া কাইন নুঝুম সূরাতুল ওয়াকেয়া ৫৬ নম্বর সূরার আয়াত আয়াত ৭৫। আমি শপথ করছি তারকাদের হারিয়ে যাওয়ার সেই জায়গার অর্থাৎ আমরা এই আমাদের একালের ভাষায় যেটাকে আমরা ব্ল্যাক হোল বলি বড় বড় গ্রহ নক্ষত্র তার মধ্যে হারিয়ে যায়। অর্থাৎ ব্ল্যাক হোলদের বা আকাশের যে সমস্ত অধিবাসীরা আছে তাদের মৃত্যু মানে যারা ঘটায় সেই ব্ল্যাক হোল যেটাকে কৃষ্ণ গহ্বর যেটাকে আমরা বাংলায় বলি। তো তার শপথ করছেন এখন দেড় হাজার বছর আগে আজকের বিজ্ঞানের যে পর্যায় সেই বিজ্ঞানের পর্যায় কোথায় ছিল বুঝতেই পারছেন। সেটা আল্লাহ এভাবে ইঙ্গিত করছেন ইন্নাহুলা কাসামুন। নিঃসন্দেহে এটা এমন একটা শপথ লাওতালামুন যদি তোমরা জানতে আজিম অনেক বড় শপথ। তার মানে এই আয়াত ব্যক্ত করছে যে সেকালের লোকেরা যাদের কাছে বলা হচ্ছে তারা এই মাওয়াকে নুঝুম বা ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে তাদের কোন অবগতি ছিল না। ব্যাচ তাইনা যেমন আমাদের ভূত সম্পর্কে আমাদের কোন প্রত্যক্ষ অবগতি কারোরই নেই কিন্তু ভূত একদম কাচ্চা বাচ্চা বড় ছোট সকলের কাছেই প্রতিষ্ঠিত এক সত্য। তো তেমনি যারা আল্লাহর কথা বিশ্বাস করতেন রাসূলের জাবানীতে তারা বুঝে নিতেন যে হ্যাঁ নিশ্চয়ই রাব্বুল আলামিন এমন একটা শপথ করেছেন যেটা বড় হয়তো আমি বুঝি না। এই যে হয়তো আমি বুঝি না এই চেতনাও কোরআনি চেতনা। অর্থাৎ মানে আল্লাহ সূরাতুল আল ইমরানে যে যেটা দেখিয়েছেন সেটাও আপনারা এখান থেকে ওই যে বললাম যে কোরআনি রেফারেন্সের বাইরে আমরা যাবো না। এখানে হুয়াল্লাজি আনঝালা আলাইকাল কিতাব বিষয়টা কিতাবের সেই তিনি কিতাব নাযিল করেছেন তোমার উপরে মিনহু আয়াতুন মুক্কামাতুন এর মধ্যে রয়েছে বাণী ও বার্তা যা একেবারে প্রাঞ্জল সহজবোধগম্য হুন্না উম্মুল কিতাব। এই যে যে সমস্ত আয়াত শুনলে বোঝা যায় সেগুলোই এই কিতাবের মূল উপজীব্য ওয়া উখারা মুতাশাবিহাত। হ্যাঁ কিছু আছে যেগুলো সংশয়পূর্ণ বহু বহু অর্থবোধক বা দ্ব্যর্থবোধক যেভাবেই আমরা বলি না কেন সংশয়পূর্ণ অস্পষ্ট। সঙ্গে সঙ্গে বলে দিচ্ছেন ফা আম্মাল্লাজিনা ফি কুলুবিম জাইগুন যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে ফা ইয়া তাবিউনা মা তাশাবাহা মিনহুম। তারা পেছনে পেছনে ঘোড়ে তারা খুঁজে বরে যার মধ্যে সংশয়পূর্ণ কথা যার মধ্যে বহু অর্থ বের করা যায় সেগুলোর পেছনে ইফতেগায়ে ফেতনা ঝামেলা পাকাতে যায় সমাজে। ওই আয়াতে এইটা বলেছে ওর মানে এইটা আলিফ লাম মিম মানে এইটা মানে নানান ধরনের কথাবার্তা এখানে ইয়াসিন মানে ইয়া আবুল কাসেম ইত্যাদি ইত্যাদি। তো আল্লাহই আল্লাহর আল্লাহর হাদিসেই বলে দেওয়া হচ্ছে যে এরা আসলে চায় কি ফেতনা বাধাতে চায়। আবার যেহেতু তিনি আহকামুল হাকিমিন সর্বোত্তম বিচারক তিনি আবার বলছেন বহু লোক আছে এটা আমরা ব্র্যাকেটেই বলতে হবে ইবতেগা তাবিলহি। অনেকেই এর আসল বুঝটা বুঝতে চায় যে আসলে এর মানে আছে কিনা কিন্তু যদি এই কথা বলে দেওয়া হয় সঙ্গে সঙ্গে ওয়ামা ইয়ালামু তাবিলহু। যেখানে জানে না এর বিশদ ব্যাখ্যা বা এই কথাটির বা এই আয়াতে মুতাশাবিহাতের মানে ইল্লাল্লাহ আল্লাহ ছাড়া আর কেউ। বাস হয়ে গেল বান্দার জন্য। একটা কথা আল্লাহ বলেছেন আলিফ লাম মিম আল্লাহ দিয়েছেন এই সূরা আল ইমরানের সূচনা সূরা বাকারার সূচনা আলিফ লাম মিম। এর মানে কি আল্লাহ বলছেন এটা তুমি বুঝতে পারবা না। বাস আমিও বুঝতে চাই না। কোরআনের বাণী ওয়া রারাজিকুনা ফিল ইলম যারা জ্ঞানের কোন একটার পর্যায়ে মানে উঠেছেন বা পৌঁছানো ফিল ইলমি ইয়া কুনুন আমান্না বিহি। বাস আমরা বিশ্বাস এনেছি তার প্রতি কুল্লুন মিনা আইনদে রাব্বিনা। আমার সব বুঝতে হবে এমন কোন প্রয়োজন নেই। যতটুকু বুঝ আল্লাহ আমাকে দেবেন অতটুকুই আমি বুঝবো। এটার মধ্যে অনেক বড় একটা ফিলোসফিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড রয়েছে যে মানুষের সাধ্বে সমস্ত মানুষ সবকিছু বুঝবে এমন কোন দায়িত্ব দিয়ে আল্লাহ পৃথিবীতে মানুষকে পাঠায়নি। আর সবকিছু বুঝতে হবে এই ধারণা যেন তোমার মনের মধ্যে না আসে। বহু কিছু এমন আছে যা তুমি বুঝতেও পারবে না। যেমন এটাই স্বাভাবিক। তাহলে ওয়ামা ইয়াজ্জাকারু ইল্লা উলুল আলবাব। তাহলে এখন আমরা বুঝি আর না বুঝি সবই আমাদের আল্লাহর কাছ থেকে আমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে। এই ব্যাপারটা সম্পর্কে সচেতন থাকতে পারে না মনে রাখতে পারে না তারা ছাড়া যারা সচেতন অত্যন্ত সতর্ক যারা। আচ্ছা এইখানে কি দেখাতে আনলাম আপনাদেরকে? দেখাতে এনেছি সূরা আল ইমরানের ৭ নম্বর আয়াতে যে যারা বিশ্বাস করে যারা জ্ঞানের একটা পর্যায়ে যারা পৌঁছানো তারা বলে কুল্লুল মিনা আইনদে রাব্বিনা আমান্না বিহি। তো ঠিক সেই জায়গায় এখানে দেখুন যে বলেছেন যে সেই লোকেরা যারা রাসূলের কথা শোনার জন্য একেবারে চাতক পাখির মত তাকিয়ে থাকতেন এবং যারা শুনতেন তারা বলেছেন যে আল্লাহ বলেছেন যে যদি তোমরা জানতে তাহলেই অনেক বড় শপথ আমি করেছি। আচ্ছা এখান থেকে কিন্তু একটা বোধও বের করে আনা যায় তাহলে আল্লাহ এমন একটা কিছুর শপথ করেছেন যা আমরা এখন বুঝতে পারছি না বটে কিন্তু অনেক বড় একটা শপথ। এটা তো প্রকাশিত।
[9:56]ইন্নাহুলা কোরআনুল কারিম এত বড় শপথ করে কি বলা হলো? এই যে পড়ছো তোমরা এ কিন্তু মহাসম্মানিত এক পাঠ্য। আল কোরআনুল কারিম। মহাসম্মানিত এক পাঠ্য। ফি কিতাবিন মাকনুন কিতাবও আছে মাকনুনও আছে। রয়েছে লিখিত কিতাব মানে এনি মানে রিটেন আইটেম যেকোন লেখা জিনিস। যেমন কিতাব চিঠিকে বলা হয় কিতাব। এই যে যেকোন কিতাব যেকোন বই আমরা কিতাব আরবিতে বলে সে কিতাব কি মানে লিখেছেন একজনে এবং সেটা পরে মানে লেখা জিনিস। আবার কোন নথি তাকেও কিতাব বলা হয়। তো ফি কিতাবিন মাকনুন একদম গোপন যেখানে সেখানে লেখা রয়েছে একেবারে গোপন কুঠুরিতে বা যুকুম গোপন মানে একেবারে সিন্দুক সিকিউরড জায়গায় লেখা রয়েছে লা ইয়ামাসসুহু ইল্লাল মুতাহারুন। প্রথমে তো শুনতাম তর্জমা শুনতাম যে পবিত্রতম ছাড়া আর কেউ স্পর্শ করতে পারে না অর্থাৎ সেই আল্লাহর একদম যাকে বলে যে একেবারে মানে মুকাররাবুন ফেরেশতা যারা একেবারে তারা এটাকে দেখাশোনা করেনি কিতাবকে। তার মানে কিতাব লিখিত আকারে সেখানে আছে। সেখান থেকে আমরা যেটা পড়ছি জিব্রাইল ওহী নিয়ে এসেছেন বাণী নিয়ে এসেছেন রাসূলের অন্তরে রাসূল তার জাবানীতে বলেছেন। আরবি ভাষায় তা প্রকাশিত এবং তা পরে লিখিত হয়েছে। তাহলে ইহা মূলত কিতাব সেখান থেকেই জিব্রাইল আমি নিয়ে এসেছেন এবং তারপর তিনি পড়ে শুনিয়েছেন এবং রাসূলকে বলেছেন তুমিও পড়ো। ইকরা। এখন সেখানে আমরা কল্পনা করে নিয়েছি আমার এক ওস্তাদ বলেছেন যে সোনার পাতে লেখা ছিল সেইটা রাসূলের হাতে ধরিয়ে দিয়ে। তো এই সমস্ত অলিক কল্পনার কোন প্রয়োজন ছিল না। পড়ো অর্থাৎ আমি যা বলছি পড়ো। আমার সাথে পড়ো।
[12:00]তার মানে যেকোন অবস্থাতে এই কথাগুলো আল্লাহর লিখিত আকারে আছে এবং সেগুলো পড়া মানে জিব্রাইলের পড়া মানেও পড়া মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহর বলা মানেও সেটা পড়া। আমরা যদি আমরা যদি পড়ি সেটাও পড়া। তাহলে বাস্তবতা দেখুন যে রয়েছে কিতাবিন মাকনুন। তাহলে আমরা কি দেখাতে এনেছি? দেখাতে এনেছি এই যে কিতাব সর্বাবস্থায় লিখিত যার শপথ সূরাতুল আমরা যেটা পড়ছি সূরাতুন নুনে সেই ব্যাপারটা বোঝার জন্য এতগুলো কথা আমাদেরকে আমরা চেষ্টা করলাম। তো নুন ওয়াল কলামে ওয়ামা ইয়াসতুরুম। তো সেখানে যেটা লেখা আছে সেটাও আল্লাহ লিখেছেন আল্লাহ বলেছেন সানামা ইয়ামাম আল্লামা বিল কলাম আল্লাহ মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন কলমের মাধ্যমে তো সেগুলো আমরা যখন সেখানে যাব আমরা সেখানে বলবো। তো এরপরে যেটা বলা হচ্ছে যে ফা ইন্নাকালা আলা খুলুকিন আ'জিম। খুলুক কাকে বলা হয়? তুমি নৈতিকতার অতি উচ্চ মর্যাদায় অভিষিত। মানে রাসূলকে আগে থেকেই একটা জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে যেমন তাকে না বানালে কিছুই বানাতে হতো না এই ব্যাপারটা। কিন্তু আমরা সূরা সাফে দেখেছি ৬২ নম্বর সূরায় দেখুন তাকিয়ে সেখানে দেখুন ঈসা যখন সুসংবাদ দিচ্ছেন রাসূল সম্পর্কে। তিনিই বলছেন ইয়াতি মিন বা'দি ইসমুহু আহমদ। ৬১ ওয়াজ কালা ঈসা ইবনে মারিয়াম আয়াত ৬ এ যখন মারিয়াম পুত্র ঈসা বললো ইয়া বনি ইসরাইল হে ইসরাইলের বংশধর ইন্নি রাসূলুল্লাহ ইলাইকুম। আমি আল্লাহর বার্তাবাহক তোমাদের প্রতি মুসাদ্দিকাল্লিমা বাইনা ইয়াদাইয়া সত্যায়ন প্রত্যয়ন করতে এসছি যা কিছু তোমাদের সামনে আছে অর্থাৎ তোমাদের কাছে তোমরা দাবি করো কিতাবের তাওরাতের তাকে প্রত্যয়ন করতে এসছি তোমরা তো বিকৃত করে ফেলেছো। মিনাত্তাওরাত। বলেও দিলেন ওয়ামা মুবাশিরান বিরাসূলিন এবং সুসংবাদ দিতে এসছি এমন একজন বার্তাবাহকের ইয়াতি মিন বা'দি। আসবেন তিনি আমার পরে। ইসমুহু আহমদ। ইসমুহু আহমদ। তার নাম আহমদ। মানে রেসালতের যে রেসালত সম্পর্কে সাক্ষী সেখানে রাসূলের নাম আহমদ। ফা লাম্মা জা আহুম বিল বাইয়্যেনাত কালু হাজা সিহরুম মুবিন অর্থাৎ ঈসা যখন আসলো সমস্ত আরবিও সমস্ত প্রমাণ নিয়ে তখন বললো এ এক দৃশ্যমান বা প্রকাশ্য জাদু। তো এই যে আহমদের ব্যাপারটা সেই আহমদের ব্যাপারটা আমরা আরেকটু যেহেতু আমরা এখন অধ্যায়নের মধ্যে আছি। চলুন সূরা বনী ইসরাইলে একটা দৃশ্য দেখে আসি আমরা।
[15:07]আকিমিস সালাতা লি দুলুকিশ শামস ৭৮, ৭৮ নম্বর আয়াত। যে অনুশীলন করো আয়াতের আমার বাণী ও বার্তার লি দুলুকিশ শামস সূর্যাস্ত থেকে ইলা গাসাকিল্লাইল রাত্রি আচ্ছন্ন হওয়া পর্যন্ত। আমরা এটাকে সময়টাকে ধরি সূর্য অস্ত থেকে নিয়ে এশা পর্যন্ত অর্থাৎ দেড় ঘন্টা সময়। এই সময় কি করবে? আকিমুস সালাত। অর্থাৎ তুমি অনুশীলন করবে আল্লাহর বাণী ও বার্তা। আমরা এই সালাত কায়েম মানে নামাজ কায়েম করো এই ব্যাপারটাতে আমরা আর এখনো দাঁড়াইওনি। আমরা কোরআনে এই নামাজের কোন অস্তিত্বই এখানে খুঁজে পাই না। তো আমরা এখানে এখন কোরআন যদি বলতে যাই তাহলে যা কোরআন বলেছে তাই বলতে হবে এখানে আমাদের আর কোন উপায়ও নেই। তো আকিমুস সালাতা আমাদের মুরব্বীরা তর্জমা করেছেন যে নামাজ কায়েম করো ঠিক আছে এখন তারা সেই সময়ের শরীয়াত আগে নামাজ কায়েম করেছে। শরীয়াত দিয়ে তারা কোরআন তর্জমা করেছে। এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি যে শরীয়াত কিছুই করতে পারেনি আমাদেরকে। আমাদের ইসলামী শরীয়াত আমাদেরকে এই পৃথিবীর সব থেকে নিকৃষ্ট জাতিতে পরিণত করেছে। সবচেয়ে লাঞ্ছিত ঘৃণিত জাতিতে পরিণত করেছে। জ্ঞানে অজ্ঞানে সবদিক থেকে চরিত্র কোনকিছুই এই শরীয়াত আমাদেরকে দিতে পারেনি। আর যখন কোরআন খুলে দেখি এই প্রেক্ষিতে কোরআন খুলে দেখি যে এই এই কোরআন যদি কেউ অনুশীলন করে। তাহলে সেই জাতি সেই এমন কি সেই ব্যক্তিটাও এই জগতের শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে হয়ে দাঁড়াবে এটা কোন সন্দেহ নেই। তাহলে সেই ব্যর্থ শরীয়াতের দোহাই দিয়ে কোরআনকে আমরা তো এ পর্যন্ত দেড় হাজার বছর পর্যন্ত আল্লাহর এই কিতাবকে কেমন করে গোপন করতে হবে সেই চেষ্টাই আমরা করি। এবং আমাদের মুরব্বীরা পাক ভারত উপমহাদেশে আমি বলেছি যে ইতিহাস আমি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে চেষ্টা করেছি যতটুকু আমার পক্ষে মানে আয়ত্তে আনা সম্ভব দেখার চেষ্টা করেছি। তো আমাদের মুরব্বী যারা আমাদের গুরুজন যারা তারা পেয়েছেন প্রথমে একটা ধর্ম কমপ্লিট ধর্ম ফেকা পেয়েছেন রুসুলে ফেকা পেয়েছেন তারপরে যাকে বলে শরীয়াত পেয়েছেন মাসলা মাসায়েল পেয়েছেন হানাফি মাজহাব পেয়েছেন শাফি মাজহাব পেয়েছেন এইগুলোই ছিল ইসলাম। এবং সেখানে এই কমপ্লিট মাজহাবের মধ্যে কমপ্লিট শরীয়াতের মধ্যে কোরআন নফল ইবাদত। অক্ষরে অক্ষরে ১০ নেকী এর মধ্যে বোঝার কিছু নেই। মসজিদে মসজিদে ইমাম সাহেব বলছে কোরআন বোঝা যায় না বোঝা যায় না বোঝা যায় না। কিন্তু আমরা শিখেছি ছোটবেলা থেকে। যাইহোক, তাহলে রসূলকে বলছেন আকিমুস সালাতা লি দুলুকিশ শামস দেড় হাজার বছর আগে। আজ বলছেন রাব্বুল আলামিন আমাকে। তুমি অনুশীলন করো আমার নাযিল করা আয়াত এবং সেটা কখন থেকে কখন সূর্যাস্ত থেকে নিয়ে এশা পর্যন্ত রাত্রি আচ্ছন্ন হওয়া পর্যন্ত। ওয়া কোরআনাল ফাজরে এবং পড়া তোমার পড়বে তুমি ফজরে। তাহলে সালাতের মানে এখানে কি দাঁড়ালো? আর এখন যদি বলি যে তুমি নামাজ কায়েম করো মানে সূর্যাদয় থেকে নিয়ে এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ঢুকিয়ে দেবো আমি। রাত্রে আচ্ছন্ন হওয়া পর্যন্ত সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়া পর্যন্ত মানে যোহরের পর যে যোহরের নামাজ বলে কোন নামাজ বলে তো কোরআনে নেই আছে সালাতুল ফজর সালাতুল এশা। যাইহোক তো আমরা এইভাবে আমরা আয়াতকে ডক্ট্রিন করেছি আমরা আয়াতের আপনার যাকে বলে যে আমাদের আমাদের ভাজ মতো আয়াতকে ব্যবহার করেছি। আর যদি আয়াতের ভাজে নিজেকে আনতে চাই। যেমন একটা কথা না বললেই পারা গেল না যেমন আপনি এখন যেকোনো অ্যাপ্লিকেশনে আপনি যে কোন ফর্মে সরকারি ফর্মে আপনি লিখবেন। তখন দেখা যাবে যে কতগুলো যে পূরণ করার জন্য যে আর্টিকেলগুলো আছে সেখানে লেখা আছে নাম পিতার নাম এখন নতুন এডিশন হয়েছে মাতার নাম ধর্ম। তো কি লেখেন আপনি? ইসলাম। তাহলে এখন আমি কি জানলাম আমার ধর্ম ইসলাম। আমার কোরআন বলছে ইসলাম যদি ধর্ম হয়ে থাকে সেটা আল্লাহর। আল্লাহর ধর্ম ইসলাম না আমার ধর্ম ইসলাম আগে এই তর্ক নিজের সঙ্গে নিজে করেনি। ইন্নাদ্দিনা ইন্দাল্লাহিল ইসলাম। ইসলাম মানে সেই যে নূরুল ইসলাম সাইফুর ইসলাম সাইফুল ইসলাম শামসুল ইসলাম এইগুলো? বা এখন যত সমস্ত ইসলামী দোকানদারী আছে এইগুলো? না। ইসলাম মানে সম্পূর্ণ সমর্পিত সম্পূর্ণ সমর্পণ। যেটা সূরা আর রহমানের ক্ষেত্রে বলে এসছি আমরা আর রহমান আল্লামাল কোরআন। প্রতিটি সৃষ্টি আল্লাতে সমর্পিত। মানুষ ছাড়া আর জিন ছাড়া। দৃশ্যমান চ্যালেঞ্জ করছেন প্রভু একেবারে তাকিয়ে দেখো প্রত্যেকটা সৃষ্টি যাকে যা জীবন দিয়েছি ওটাই তার কোরআন এবং সে সে অনুযায়ী চলছে কত শান্তিতে আছে তাকিয়ে দেখো। আর তোমাদের যে পাঠ্য তা তোমরা সরিয়ে ফেলেছো। পেছনে ফেলে রেখে দিয়েছো আর তোমরা হাবুডুবু খাচ্ছো জীবন সাগরে। নিজেরা ধর্ম বানিয়ে নিয়েছো। তো আসুন আকিমুস সালাতা লি দুলুকিশ শামসে ইলা গাসাকিল্লাইন এ রাসূলকে যদি বলা হয়ে থাকে তাও আমাকে যদি বলা হয়ে থাকে তা। একইভাবে কেয়ামত পর্যন্ত এ সত্য কায়েম থাকবে। তাহলে পড়বেন কখন আর পড়া দেবেন কখন? সন্ধ্যাবেলা পড়া দেওয়া অনুশীলন করা আর সকালবেলা পড়া দেওয়া। ইন্নাল কোরআনাল ফজরে কানামাশহুদুন বলে দিলেন কেন সকালের তোমার পড়তে হবে কারণ সকালের পড়াটা দেখা হয়। ওমিনাল লাইলে ফাতাহাজ্জাদ বিহি। বিহি এবং রাতের কোন কোন অংশে এটা নিয়ে তুমি চেষ্টা করবে রাত জাগবে। কি করে কোরআন পড়তে হবে সব কিন্তু বলে দিচ্ছেন। নাফেলাতানা লাকা। এইটা তোমার জন্য নফল। আসা আইয়াবাসাকা রাব্বুকা মাকামা মাহমুদুন আমরা ছোটবেলা থেকে এই যে এইগুলো ছিল রাসূলের জন্য আর আমাদের জন্য এই কোরআন নফল এই যে নফল লিখেছেন। হ্যাঁ। তাহলে এইটা তোমার অতিরিক্ত যেহেতু তুমি আল্লাহর বার্তা পৌঁছাবে মানুষের কাছে অতএব তোমার অতিরিক্ত অনুশীলনের দরকার। আপনি ক্রিকেট প্লেয়ারদের দিয়ে তাকিয়ে দেখুন না তিন মাস ঘরে বসেছিল বাধ্য হয়ে মাঠে নেমেছে খেলা বন্ধ না হয়ে যায় গা হাত পা বসে না যায়। ফুটবলাররা ফুটবলার যারা ক্রিকেটার যারা তারা সবাই রাস্তায় নেমে গেছে তারা মাঠে নেমে গেছে। এবং এক একটা ম্যাচের আগে কত রকমের অনুশীলন তাদেরকে করানো হয় গা হাত পা সবকিছু তার ফিটনেস পরীক্ষা করা হয় দেখুন। আর আপনি স্বয়ং সৃষ্টিকর্তার কথা মানুষের কাছে বলবেন আপনার অনুশীলনী কোথায়? তো সেই অনুশীলনীর যে পর্যায়গুলো সেগুলো বলা হচ্ছে এরপরে যে কথাটি বলা হচ্ছে আইয়াবাসাকা রাব্বুকা মাকামা মাহমুদুন। অর্থাৎ অনুশীলনী যদি ঠিক এইরকম আমার নির্দেশনা অনুযায়ী চলে হতে পারে যে তিনি তুলে আনবেন তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রশংসিত স্থানে। মাকামে মাহমুদ। তাহলে নাম ছিল আহমদ এখন প্রশংসিত স্থানে যদি তিনি পৌঁছান তাহলে তার নাম হয় মাহমুদ অর্থাৎ মুহাম্মদ যে প্রশংসিত। তাহলে আহমদ মুহাম্মদ হলেন কেন যখন ওহী পেলেন এবং এই ওহী যখন মানুষের কাছে প্রচার করতে লাগলেন এবং তার জীবনকে রাব্বুল আলামিন নিলেন একান্ত করে নিলেন যে এই গোটা কোরআনকে তার মাধ্যমে মানুষের সামনে প্রকার লি ইউঝহেরাহু আলাদ্দিনি কুল্লিহি এটাই আল্লাহর মনোনীত জীবনযাপন পদ্ধতি এর সম্পূর্ণটার উপরে তাকে প্রকাশ করে দেখাতে। হুয়াল্লাজি আরসালা রাসূল্লাহু বিল হুদা ওয়াদ্দিনিল হাক। যেটা সূরা জুমায় আমরা পড়ে এসছি। আচ্ছা তাহলে এখানে আমরা বা যেটা দেখতে পাচ্ছি
[39:46]আনামলাকুম কিতাবুন ফিহে তাদরুসুন নাকি তোমাদের কোন কিতাব আছে যার মধ্যে তোমরা পড়ো। ইন্নাললাকুম ফিহিলা মাতা তাইয়্যারুন যে তার মধ্যে লেখা আছে যে তোমরা যা যা চাও তাই তোমাদের জন্য হবে। আ আম লাকুম আইমানুন আলাইনা নাকি তোমাদের উপরে আমাদের কোন ওয়াদা আছে করা বালেগাতিন ইলায় ইয়াওমিল কিয়ামা আমরা সেইভাবে আমরা পূরণ করতে থাকবো কেয়ামতের দিন পর্যন্ত। ইন্না লাকুম লামা তাহকুমুন। তাইনা তোমরা যা বলছো সেগুলো তোমাদেরকে সবই দেওয়া হবে এরকম কোন ওয়াদা কি আমরা করেছি? সালহুম আইয়ুহুম বি যালিকাজ জাইম। জিজ্ঞেস করো তাদেরকে তাদের মধ্যে কে এই ব্যাপারে দাবি করতে পারে? যে হ্যাঁ এরকম কোন কথা আমাদের কাছে কিতাব আছে সেই কিতাবে লেখা আছে আমাদের সঙ্গে যে অঙ্গীকার আল্লাহ করেছেন আমাদেরকে এইভাবে দিয়েই যাবে। আমলাহুম শুরাকা। নাকি আল্লাহর অংশীদার হিসেবে তারা যারা যাদেরকে মানে তারা ফাল্লিয়াতু বিশুরাকা এইম তাহলে তারা যাদেরকে আল্লাহর অংশীদার মনে করে তাদেরকে নিয়ে আসুক ইন কানু সাদেকিন যদি তারা সত্যবাদী হয়ে থাকে এই অবস্থানে। ইয়াওমা ইউকসাফু আন সাকিন ওয়া ইউদাউনা ইলাস সুজুদ। তো সাক মানে একেবারে হাঁটার নিচ থেকে নিয়ে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত যে দিন জড়িয়ে যাবে। একটা মৃত্যুপথযাত্রীর বা আতঙ্কিত কোন মানুষের একটা সিম্বল সাধারণ দৈহিক প্রতিক্রিয়া। ইওয়ামা ইউকসাফু আন সাকিন ওয়াই ইউদাউনা ইলাস সুজুদ ডাকা হবে যেদিন সেজদার দিকে। এখন এখানে উন্মুক্ত হবে হাঁটু পর্যন্ত ইত্যাদি এরকমও আছে এবং ফালায় আস্তাতুুন। সেজদার জন্য ডাকা হবে যে তোমরা এখন মাথা নত করো পারবে না। সুমা। আল্লাহ রক্ষা করুক। খাসিয়ান আবসারুহুম। অবনমিত থাকবে তাদের দৃষ্টি। তাদের চোখ। তারাহাকু জিল্লাতুন। এবং একেবারে অপমান লাঞ্ছনা চেপে বসবে তাদের উপরে। কানুনু ইউদাউনা ইলাস সুজুদ। কারণ ইতিপূর্বে তাদেরকে ডাকা হতো সেজদার দিকে ওয়াহুম সালেমুন যখন তারা সেজদা করতে পারতো।
[42:04]আসুন আমরা আমাদের দিকে তাকাই। পারে কি আল্লাহর প্রত্যেকটি কথা মাথা পেতে নিতে? এর নাম সেজদা। খালি মসজিদে নামাজে গিয়ে সেজদা করা ওটাই শুধু সেজদা নয়। কোরআন পড়ে দেখুন। সেজদা মানে সামেনা ওয়াতানা। কোরআনের সংজ্ঞা দিয়ে দেওয়া হয়েছে একেবারে শুনে নিয়েছি মেনে নিয়েছি। মাথা পেতে নিয়েছি আজ্ঞাবহ সৃষ্টিকর্তার যারা। আজ্ঞা শুনেছি মাথা পেতে নিয়েছি।



