[0:00]তুমি কি জানো, সঠিক নোট নেবার পদ্ধতি না জানার কারণে আমরা ৫০ শতাংশ তথ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভুলে যাই। কিন্তু কিছু সাইন্টিফিক হ্যাক ব্যবহার করে তুমি সহজেই এই ভুলে যাওয়া আটকে দিতে পারো। আজকের ভিডিওতে আমি শেয়ার করব এমন কিছু প্রমাণিত কৌশল যা তোমার শেখার ক্ষমতা দ্বিগুণ করবে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরো সহজ করবে। এটি শুধু নোট নেওয়া নয়, এটি তোমার স্মার্ট পড়ালেখাও গাইড করবে। তাহলে চলো শুরু করা যাক। প্রথমে আমাদের বুঝতে হবে যে কেন সঠিকভাবে নোট নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ? স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষণা অনুযায়ী নোট নেওয়া অ্যাক্টিভ লার্নিং প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে। হাওয়ার্ড সেন্টার অফ লার্নিং এন্ড মেমোরির একটি গবেষণা বলছে হাতে লেখা নোট স্মৃতিতে দীর্ঘস্থায়ী তথ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে, যা টাইপিং নোটের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি কার্যকর। প্রসেসিংয়ের সময় আমরা যা শিখি তার মাত্র ৩০% মনে রাখতে পারি। কিন্তু নোট নিয়ে তা পর্যালোচনা করলে মনে রাখার ক্ষমতা ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। সুতরাং নোট নেওয়া শুধু গুরুত্বপূর্ণ নয় এটি হল একটি লার্নিং স্ট্র্যাটেজি। জার্মান সাইকোলজিস্ট হারম্যান এভিংহাওস তার ফরগেটিং কার্ভের তত্ত্বে বলেছেন কিছু শেখার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই আমরা প্রায় ৫০ শতাংশ ভুলে যাই। কিন্তু স্পেসড রিপিটেশন এবং নোটের রিভিউ করলে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। পরবর্তীতে আমরা এই পদ্ধতি নিয়ে আরো আলোচনা করব। চলো এখন জেনে নিই কার্যকরী নোট নেয়ার প্রমাণিত কিছু কৌশল। এক নাম্বার ওয়ান দ্য কর্নেল মেথড। কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে উদ্ভাবিত এই পদ্ধতি দ্রুত রিভিশন করতে সহায়তা করে। প্রথমে আমরা একটি পেজকে তিন ভাগে ভাগ করব। পেজের বাম দিকে একটি ছোট অংশ রাখব, ডান দিকে একটি বড় অংশ আর নিচে সামারি লেখার জন্য একটা জায়গা রাখব। তো বাম দিকে আমরা মেইনলি কিওয়ার্ড লিখব। ডান দিকে আমরা মেইন নোটের জন্য রাখব। আর নিচে সামারি। ধরো তুমি স্নায়ুতন্ত্র নিয়ে একটি নোট তৈরি করতেছো। এপাশে তুমি স্নায়ুতন্ত্র লিখবে যেটা মেইন কিওয়ার্ড আর এই পাশে তুমি লিখবে স্নায়ুতন্ত্রের কাজ এবং স্নায়ুতন্ত্রের সাথে সম্পর্কিত যেসব অর্গান এবং গ্রন্থি আছে সেগুলোর নাম আর দিন শেষে ছোট করে সামারি এখানে লিখে ফেলবে। তাহলে এই নোটটি তোমার পরবর্তীতে রিভিশন দেওয়ার সময় অনেক কাজে দেবে।
[2:18]ধরো তুমি দূষণ নিয়ে পড়ালেখা করছো। তো দূষণের মাইন্ড ম্যাপিং তুমি কিভাবে করবে? মাঝখানে লিখো দূষণ। এখান থেকে এখন শাখা-প্রশাখা বের কর। বিভিন্ন ধরনের দূষণ সম্বন্ধ আমরা জানি। একটা হতে পারে পানি দূষণ। একটা হতে পারে বায়ু দূষণ। একটা হতে পারে শব্দ দূষণ। এখন এইখান থেকে শাখা-প্রশাখা বের করো। পানি দূষণের কারণ। পানি দূষণের ফলাফল। পানি দূষণের প্রতিরোধ। এভাবে ফলাফল গুলো লিখো, কারণ গুলো লিখো। বায়ু দূষণের ক্ষেত্রেও ঠিক সেম ভাবে জিনিসপত্র গুলো লিখো। হ্যাক নাম্বার থ্রি কালার কোডিং এবং হাইলাইটিং। ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয়েসের গবেষণা বলছে, রঙিন নোট মস্তিষ্কে তথ্য প্রক্রিয়াকরণের গতি ২০ শতাংশ বাড়িয়ে দিতে পারে। যেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হাইলাইট করতে লাল রং ব্যবহার করতে পারো। এভাবে সবুজ ব্যবহার করে উদাহরণ এবং ডায়াগ্রামের জন্য আবার নীল ব্যবহার করতে পারো সূত্র বা ডেটের জন্য। কালার কোডিং শুধু পড়া আকর্ষণীয় করে তোলে না বরং তথ্য মনে রাখতে সাহায্য করে। শুধু নোট করে রেখে দিলেই তো চলবে না, নোট পড়ার সঠিক পদ্ধতি সম্বন্ধেও তোমাকে জানতে হবে। হাওয়ার্ড মেমোরি স্টাডি বলছে স্পেসড রিপিটেশন তোমার শেখার ক্ষমতা ৩০% বাড়িয়ে দিতে পারে। নোট রিভাইজ দেয়ার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। আগের কিছু ভিডিওতে এই পদ্ধতি সম্বন্ধে আমি তোমাদের অবগত করেছি, তোমরা চাইলে সেই ভিডিও গুলো আবার দেখে আসতে পারো। এই পদ্ধতিতে তথ্য তোমার লং টার্ম মেমরিতে জায়গা করে নিতে সক্ষম। তাই ছোট্ট বন্ধুরা আজ আমরা শিখলাম এমন কিছু প্রমাণিত কৌশল যা তোমার নোট নেওয়ার পদ্ধতি বদলে দিবে। স্ট্যানফোর্ড, হাওয়ার্ড এবং টনি বুজানের মত গবেষকদের তথ্য ও গবেষণার ভিত্তিতে এগুলো তৈরি। যদি ভিডিওটি ভালো লেগে থাকে তাহলে লাইক করো, কমেন্ট করো এবং তোমার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করো। চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবে না। মনে রাখবে, স্মার্ট নোট ইজ ইকুয়ালস টু স্মার্ট নোট। পরবর্তী ভিডিওতে দেখা হবে এবং সেই পর্যন্ত চর্চা করো নিজের গতিতে।



