[0:13]শহানা বেগমের ছোট্ট সংসার, দুই ছেলে আলাম আর দুলাল কে নিয়ে ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন, পড়াশোনা করিয়ে আলাম আর দুলাল কে অনেক বড় মানুষ করবেন। তার স্বামী বহু বছর আগে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। আয় উপার্জনের একমাত্র উপায় তার সেলাই মেশিন। সেই সেলাই মেশিন চালিয়ে সে তার দুই ছেলেকে এখন স্কুলে পড়াচ্ছে।
[0:41]আলাম আর দুলাল, ওহো আলাম আর দুলাল। আলাম আর দুলাল, ওহো আলাম আর দুলাল, তাদের মা আন্টি সাহেব ছাপ্পড় ফুলেই প্রাণ পেয়ে পঁউছে বাড়ি। আলাম আর দুলাল, ওহো আলাম আর দুলাল। আলাম আর দুলাল, ওহো আলাম আর দুলাল। তাদের মা আন্টি সাহেব। ছাপ্পড় ফুলেই প্রাণ পেয়ে পঁউছে বাড়ি। আলাম আর দুলাল, ওহো আলাম আর দুলাল। আলাম আর দুলাল, ওহো আলাম আর দুলাল। তাদের মা আন্টি সাহেব। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, শাহানা বেগমের সুখের ঘরে লাগে দুঃখের আগুন। হঠাৎ আলাম হারিয়ে যায়।
[1:37]আলাল খপ্পড়ে পড়ে চোরা কারবারী কালাচাঁদের। সে আলাম কে নিয়ে ঢাকা শহরে চলে যায়। তার একমাত্র গ্রাহক আলাম কে সে কালাচাঁদের সবচেয়ে বড় চোরা কারবারী।
[1:56]এরপরে শাহানা বেগম আঁকড়িয়ে ধরে তার একমাত্র ছেলে দুলাল কে। চোখে তার একটিই স্বপ্ন, তাকে পড়াশোনা করিয়ে অনেক বড় বানাবেন। ঢাকায় পাঠাবেন, দরকার হলে বিদেশেও পাঠাবেন। তার সেলাই মেশিন চলে থাকে দ্বিগুন গতিতে এখন।
[2:22]মা, মা, আমি ঢাকা ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়েছি। আমি এখন ঢাকায় যাব, উবার চালাবো আর আমাদের সব দুঃখ দূর হয়ে গেছে।
[2:39]ঢাকা ভার্সিটির প্রথম দিনে গড়গড়ি করে ক্লাসে যাওয়ার জন্য দুলাল যখন দৌড়াতে থাকে, তখনই তার ধাক্কা লাগে জরিনা দুলাল এর। তখন তাকে টেইলার্স দুলু তার মন দিয়ে দেয়।
[2:58]কিন্তু দুলাল, তার মনে একটাই স্বপ্ন। পড়াশোনা করিয়ে অনেক বড় মানুষ হতে হবে। স্কলারশিপ নিয়ে যেতে হবে আমেরিকা।
[3:13]তোমাকে চাই আমি আরও কাছে। তোমাকে বলার আর কথা বাকি। আমি বলতে পারিনা মুখে তবু কথা। দিলে জীবন ও মন তোমাকে। তোমাকে চাই আমি আরও কাছে। তোমাকে বলার আর কথা বাকি। আমি বলতে পারিনা মুখে তবু কথা। দিলে জীবন ও মন তোমাকে।
[3:52]এর মাঝে দুলাল চেষ্টা করতে থাকে আমেরিকান ভার্সিটির অ্যাডমিশন এর জন্য। আর তার একটা অফার লেটারও আসে। মা, মা, আমার একটা অফার লেটার এসেছে আমেরিকান ভার্সিটি থেকে। আমি এখন আমেরিকা যাব আর পড়াশোনার সাথে সাথে ট্যাক্সি চালাবো। আমাদের কোন দুঃখ থাকবে না। কিন্তু এই কথা শুনে জরিনার হৃদয় হয়ে যায় খান খান। সে দুলালের কাছে যায় আর বলে, আমেরিকা যেও না দুলাল। আমি তোমাকে ভালোবাসি। জরিনা, আমার প্রেম করার সময় নাই তুমি আমার পিছে নিও না। আমি আমেরিকা গিয়ে পড়াশোনা করব। না দুলাল না, তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচব না। তুমি যদি আমার না হও তাহলে তোমার নিজ হাতে তুমি আমাকে শেষ করে দাও। এই আমার শেষ কথা। না হলে আমি নিজেই নিজেই শেষ করে দেবো। এরপরে দুলাল বাধ্য হয় জরিনার ভালোবাসাকে গ্রহণ করতে।
[4:59]আর যাব না আমেরিকা।
[5:07]আর যাব না আমেরিকা। পেলাম যখন তোমার দেখা তোমার বাড়ির পাশে বাড়ি ভাড়া করে কেটে যাবো ঢাকা।
[5:24]অপর দিকে আলাম এখন ঢাকায় এক নম্বর মাফিয়া। তার পকেটে এখন লাখ লাখ টাকা। ঢাকা শহরের আনাচে কানাচে, অলিতে গলিতে, সব জায়গায় সব ধরনের মাদক এবং ইয়াবা সাপ্লাই করে আলাম এবং আলামের গ্রুপের মানুষজন। সে খুবই স্মার্টলি সব হ্যান্ডেল করে। সে এখন একজন স্মার্ট ঢাকায়া পোলা।
[6:03]আলাক আলাক আলাক আলাক, সবাই সবাই ইয়া মন। আমি এসেছি তোরে বাঁচাতে। বুক থেকে তুই আয়, শয়তান ছড়া। বুকেতে আমার ছোয়াতে।
[6:19]বুকে পিঠে আমার পিঠে চাপটি তুল। থাকে দিন আর থাকে না আর। আমি তোরে শুধু চিনি তোরে ওরে সওদাগার।
[6:55]আর আলাল এর সাথে শোহীজা মেম সব সময় তাকে মমতায় আগলে রাখে। আলাল এমন কোন কাজে তার আগে পিছে ঘুরতে থাকে সে। পুলিশের হাত থেকে সব সময় আলামকে বাঁচাতে সে তৎপর।
[8:26]আর এই দিকে কেউ ছিল না দুলাল আর জরিনার জীবনে। তারা ভেসে বেড়াতো ভালোবাসায় উত্থান পথালে জ্বলে।
[8:39]আমি তোরে আমি তোরে তুই ছাড়া ভালোবাসিব না কিছু তুই ছাড়া। কিরে কি হলো কি হলো আমার কি হবে? ভালোবাসিব না কিছু তুই ছাড়া। আমি তোরে আমি তোরে তুই ছাড়া ভালোবাসিব না কিছু তুই ছাড়া।
[9:05]কিরে কি হলো কিরে কি হলো কিরে কি হলো কি হলো? ভালোবাসিব না কিছু তুই ছাড়া।
[9:32]এদিকে প্রেম মানে না কোন বাঁধা। দুলাল আর জরিনা ঠিক করে এখন তারা বিয়ে করবে। এইজন্য দুলাল যায় জরিনার বাবার কাছে বিয়ের কথা বলতে। বাবা বাবা এ হচ্ছে দুলাল। আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি আর বিয়ে করতে চাই। কে এই ছেলে? জরিনা তুই জানিস না তোর মেয়ে আমি আমার বন্ধুর ছেলে জব্বার এর সাথে ঠিক করে রেখেছি। এই ছেলে তুমি কি জানো আমার মেয়ে মেকআপ কিনতে কত টাকা লাগে? আবার বিয়ে করতে চাও? চৌধুরী সাহেব আমি গরিব হতে পারি কিন্তু আমার মন আছে ভালোবাসা আছে।
[10:20]জরিনার বাবা না করার পরও দুলাল জরিনা কে বলে যে চলো আমার মা এর কাছে যাই, আমার মা অল্প শিক্ষিত। ওহ আম্মা জান, ওহ আম্মা জান, বুকের ধন ও আম্মা জান। ওহ আম্মা জান, বুকের ধন ও আম্মা জান। আমি তোমারই প্রাণ, আম্মা জান।
[11:27]আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি, বিয়ে করতে চাই। মাশাআল্লাহ কি মিষ্টি মেয়ে। দুলাল ওকে আমি অবশ্যই তোর বউ করে ঘরে নিব। যা আয়োজন কর। এর মাঝে বিয়ের আয়োজনের জন্য যখন শপিং সেন্টারে দৌড়াদৌড়ি চলতে থাকে, আলাম এর নজর পরে জরিনার উপর। মুহূর্তেই সে মমতাকে যে কথা একদম ভুলে যায়। তখন তার মনে খালি জরিনা জরিনা দুলাল এর তাতে তার মনে হয় জরিনা কে সে পেতেই হবে। হ্যাঁ এই সুন্দরী কে? আমার মনের এত উঠাও পাক্কা ঢেউ তুলে গেল। তাকে আমার চাইই চাই।
[12:18]তোরে না আমি চোখের পলক, কি তোমার রূপের ঝালক। ওরে না আমি চোখের পলক, কি তোমার রূপের ঝালক। তোহাই লাগে মুক্তি তোমাই, একটুই আছে নিরব।
[13:12]ছেড়ে দে শয়তান, ছেড়ে দে। ছেড়ে দে আমাকে। তুই আমার দেহ পাবি কিন্তু মন পাবি না।
[13:30]শা শয়তান আজ তোরে আমি মেইর দিবো।
[14:09]ওরে তুই তোরা দুজনে করিস না। তোরা যে একই মায়ের সন্তান। তোরা যে আমার আলাল আর আমার দুলাল। ওদের গলায় সেইম লকেট।
[14:27]আমার আলাল আর আমার দুলাল। আমাদের সব দুঃখ শেষ হয়ে যাবে এখন। আমরা সবাই আজ সুখে শান্তিতে থাকবে।
[14:48]কেউ সুখের দামে, কেউ সুখের দামে, কেউ না বুঝে তাতেই থাকে।
[15:00]না বুইঝা তাতেই থাকে, না বুইঝা তাতেই থাকে।
[15:18]ছাপ্পড় ফুলেই প্রাণ পেয়ে যায়।



