[0:00]একজন দরজি তার দোকানে সুস্বাদু মধু রেখেছিলেন। একদিন তিনি জরুরি কাজে বাইরে যাওয়ার সময় তার কর্মচারীকে বলে গেলেন, এই পাত্রটিতে কিন্তু বিষ আছে। ওতে হাত দিও না। কর্মচারী বুঝতে পারলো মালিক তাকে মিথ্যা বলছেন। সে তখন কিছু বলল না। দরজি চলে যাওয়ার পর সে দোকান থেকে এক সেট পোশাক নিয়ে বাইরে গেল রুটি কিনে আনতে। রুটির দোকানে গিয়ে পোশাকটি দিয়ে দুটি বড় রুটি কিনে এনে রুটি দিয়ে পুরো মধুর পাত্র খালি করে খেয়ে ফেলল। খাওয়া শেষ হলে দোকানের মাঝখানে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লো। এরমধ্যে দরজি ফিরে এলেন। তিনি অবাক বিস্ময় তাকে জিজ্ঞাসা করলেন অসময় শুয়ে আছো কেন? তখন কর্মচারী বলল, আপনি যাওয়ার পর আমি মন দিয়ে কাজ করছিলাম। এদিকে চোর এসে এক সেট কোটপ্যান্ট চুরি করে নিয়ে গেল যা আমি পরে টের পেয়েছি। তখন আমি আপনার ভয়ে ওই পাত্রের সবটুকু বিষ খেয়ে শুয়ে পড়েছি যাতে আমি মরে যাই এবং আপনার শাস্তি পেতে না হয়। আমাদের এই গল্পের দরজির মতো অনেক মানুষ নিজেদেরকে সেরা বুদ্ধিমান মনে করেন। তারা ভাবেন প্রতিপক্ষকে মিথ্যা বলে বা ভুল বুঝিয়ে নিজের কার্যসিদ্ধি করতে পারবেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এ ধরনের পরিস্থিতিতে চুপ থাকা কোন মিথ্যা বলে ভুল বোঝানোর চেয়ে উত্তম। দরজি যদি মধু সম্পর্কে মিথ্যা কথাটি না বলতেন তাহলে তার কর্মচারী এমন কাজ করতে পারতো না। কনফুসিয়াস এ সম্পর্কে বলেন, যদি দেখো যে, নীরবতার চেয়ে তুমি যা বলতে চাও তা উত্তম নয় তাহলে চুপ থাকো। এমন অনেক বিষয় আছে যা ঘনিষ্ঠতম বন্ধুর কাছেও ব্যাখ্যা করা উচিত নয় কারণ সেজন্যে আপনাকে চড়া মূল্য দিতে হতে পারে। কনফুসিয়াস ছিলেন চীনের সবচেয়ে বিখ্যাত শিক্ষক, দার্শনিক এবং রাজনৈতিক তাত্ত্বিক যার ধারণাগুলি পূর্ব এশিয়ার সভ্যতাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। আজকের ভিডিওতে আমরা কনফুসিয়াসের উদ্ধৃতি দিয়ে এমন ছয়টি বিষয় নিয়ে কথা বলব যেসব বিষয়ে বন্ধুর সঙ্গে কথা বললে আপনাকে পস্তাতে হবে। আপনাকে মহা বিপদে পড়তে হবে এমন কি বন্ধুর পক্ষ থেকে আপনি বিশ্বাসঘাতকতারও শিকার হতে পারেন। ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখার পর আপনি বুঝবেন যে আপনি অনেক সময় আপনার ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে এমন কিছু গোপন কথা বলে দিয়েছেন যার জন্যে আপনাকে পরবর্তীতে বিপদে পড়তে হয়েছে। হাহ! সাকসেস চ্যানেলে আপনাদের প্রত্যেককে স্বাগত জানাচ্ছি আমি আবু মারজান।
[2:28]প্রথম বিষয় আপনার অ্যাফেয়ার সম্পর্কে বন্ধুকে কিছু বলবেন না। বলা হয় প্রকৃত বন্ধুরা পেছনে নয় বরং সামনে দিয়ে ছুরি মারে। কিন্তু যখন আপনি নিজের ব্যক্তিগত গোপন তথ্যগুলো অর্থাৎ সেই ছুরি নিজের হাতে আপনার বন্ধুর হাতে সমর্পণ করেন তখন কি আপনি এটা আশা করতে পারেন যে সে আপনাকে ছুরি মারবে না? এ ধরনের একটি ছুরি হচ্ছে কারো সঙ্গে আপনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক বিশেষ করে প্রেমের সম্পর্ক। আপনার প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিন্দুমাত্র কোনো তথ্য আপনার বন্ধুকে জানাবেন না। কারণ সেক্ষেত্রে আপনার বন্ধু আপনার ব্যাপারে খারাপ ধারণা পোষণ করতে বা কোনো পরামর্শ দিতে পারে। এ ধরনের মানুষ যে আপনার অমঙ্গল চায় এটা বলা যাবে না। কিন্তু যেহেতু এ বিষয়ে তার কোনো ধারণা নেই কিংবা ঠিক আপনার সম্পর্কটি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছে সে কারণে উল্টোপাল্টা পরামর্শ দিয়ে বসবে। কনফুসিয়াস মানুষের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক ও বোঝাপড়া সম্পর্কে বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মান রক্ষা করুন। নিজের দৃষ্টিভঙ্গি জোর করে অপরের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। সে দৃষ্টিভঙ্গি হতে পারে বিশ্বাসগত বিষয় বা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। দ্বিতীয় বিষয় আপনার ভুল বা ত্রুটি আপনার বন্ধুকে জানাবেন না। এই পৃথিবীতে কেউ ভুলের ঊর্ধ্বে নয় কথায় আছে দোষে গুণে মানুষ। একজন আদর্শ মানুষের অর্থ এই নয় যে তার কোনো দোষ নেই বা তিনি ভুল করেন না। আমরা কি কেউ এ দাবি করতে পারবো যে আজ থেকে আমি জীবনে আর কোন ভুল করবো না? আপনি যদি অতীতে কারো সঙ্গে আপনার অন্যায় আচরণের কথা আপনার ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে জানান তাহলে আপনি মস্ত বড় ভুল করে ফেললেন। কারণ এই বন্ধুর সঙ্গে যে কোন কারণেই হোক আপনার সম্পর্কের অবনতি হলে তিনি যে সেই গোপন কথাটি আপনার বিরুদ্ধে ব্যবহার করবেন তার কোন গ্যারান্টি আছে কি? আপনি কি একথা ভেবে দেখেছেন যে যাদের সঙ্গে আপনার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান তাদের মতের বিরুদ্ধে কোন কথা বলার পরও কি তাদের সঙ্গে আপনার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় থাকবে? কনফুসিয়াস বলতেন, অন্যদের কাছ থেকে আপনি যে ব্যবহার আশা করেন না সেই ব্যবহার আপনি অপরের সঙ্গে করবেন না। তার এই কথাটি কি আজকের সমাজে প্রযোজ্য? এমন কত ঘটনা ঘটেছে যে আপনি কারো উপকার করেছেন কিন্তু প্রতিদানে সে আপনার ক্ষতি করেছে। কেন এমনটি হয় বলতে পারেন? চলুন তাহলে তৃতীয় বিষয়ে সেটি জেনে নেই।
[4:48]তৃতীয় বিষয়ে খারাপ বন্ধুর কাছ থেকে ভালো ব্যবহার আশা করবেন না। যে ব্যক্তি সবগুলো উত্তর জানেন তিনি সবগুলো প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি। আমরা প্রায় প্রত্যেকে একথা ভাবি যে অন্য সবাই শুধু আমার সঙ্গেই অন্যায় আচরণ করেছে। এটি কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গিগত ব্যাপার। আপনি যদি আশা করেন যে যেহেতু আপনি বিচ্ছুকে কোনোদিন কামড় দেননি তাই বিচ্ছু আপনাকে কামড়াবে না তাহলে আপনি মারাত্মক ভুলের মধ্যে রয়েছেন। আপনি যদি কোন খারাপ লোকের কাছ থেকে ভালো ব্যবহার আশা করেন তাহলে তাও একই রকম হয়ে যায়। আপনি কাউকে দেখলেন যে সে সব সময় মিথ্যা বলে কিংবা সবার সঙ্গে প্রতারণা করে। অথচ সেই ব্যক্তির ব্যাপারে আমরা ভাবি এই কাজগুলো সে আমার সঙ্গে করবে না। আমরা নিজেদেরকে ভুলভাবে একথা বিশ্বাস করায় যে এই ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে বা আমাদের উপকার করবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে বিচ্ছু হুল ফোটায় কারণ তার প্রকৃতিটাই হলো হুল ফোটানো। বিচ্ছু আপনাকে কামড় দিলে আপনি তার প্রতি ক্ষুব্ধ হতে পারেন না। এ ধরনের ক্ষেত্রে আমাদের নিজেদের প্রতি ক্ষুব্ধ হওয়া উচিত কারণ আমরা খারাপ লোকের কাছ থেকে ভালো ব্যবহার আশা করেছি। আমরা নিজেদেরকে সবচেয়ে বুদ্ধিমান ভেবেছি বলেই আমাদের সর্বনাশ হয়েছে। কনফুসিয়াস এ সম্পর্কে বলেন আপনি যদি মনে করেন যে কক্ষে আপনি বসেছেন সেখানে আপনি সবচেয়ে বুদ্ধিমান তাহলে আপনি ভুল কক্ষে বসেছেন। চতুর্থ বিষয়ে চাটুকার বন্ধুর কাছ থেকে যোজন যোজন দূরত্ব বজায় রাখুন। কনফুসিয়াস বলেন যে ব্যক্তি আপনার চাটুকারিতা করে সে প্রকৃতপক্ষে আপনার শত্রু। আর যে আপনাকে ভুল ধরিয়ে দেয় সে আপনার প্রকৃত বন্ধু। এ বক্তব্যের উদ্দেশ্য হচ্ছে আপনি ভালো বা খারাপ যে কাজই করেন না কেন, যে ব্যক্তি আপনার প্রতিটি কাজকেই সমর্থন করে সে আপনার বন্ধু নয়। কারণ আপনি হয়তো কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যার কারণে ভবিষ্যতে বিপদে পড়তে পারেন। তখন ওই ব্যক্তির উচিত ছিল আপনাকে সতর্ক করা। কিন্তু তা না করে সে আপনাকে সমর্থন জানাচ্ছে। এর মাধ্যমে সে আপনাকে উঁচু পাহাড় থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়ার অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রকৃত বন্ধু হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে আমাদের দোষ ত্রুটিগুলো গোপনে আমাদেরকে জানিয়ে দেয় এবং সঠিক কর্মপন্থা বাতলে দেয়। এ ধরনের বন্ধু চেনার জন্যে আপনি একটি ভুল পরিকল্পনা তার সামনে তুলে ধরে দেখতে পারেন। বন্ধুটি জানে যে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে আপনার ক্ষতি হবে। এ অবস্থায় যদি সে আপনাকে সমর্থন জানায় তবে নিশ্চিত হয়ে যাবেন যে সে আপনার ভালো চায় না। আপনাকে তার কাছ থেকে পারতপক্ষে দূরে থাকতে হবে। পঞ্চম বিষয়ে কারো সঙ্গে আপনার শত্রুতা কিংবা খারাপ ধারণা আপনার বন্ধুর সঙ্গে শেয়ার করবেন না। আমরা অনেক সময় নিজেদের মস্তিষ্ককে ঠান্ডা করার জন্যে আরেকজনের সঙ্গে নিজের শত্রুতা এবং এর পুরো বিবরণ ঘনিষ্ঠ কোন বন্ধুকে জানিয়ে দেই। কিন্তু এই কাজটি মারাত্মক ভুল ও বিপদজনক। কারণ আপনি নিজের দুর্বল দিকগুলো প্রতিপক্ষের সামনে খুলে মেলে ধরেছেন এবং তাকে প্রকারান্তরে জানিয়ে দিচ্ছেন যে এই দিকগুলো দিয়ে সে আপনার ক্ষতি করতে পারে। কনফুসিয়াস বলেন, এ ধরনের সম্পর্কে পারস্পরিক সম্মান ও আস্থা দীর্ঘমেয়াদে নষ্ট হতে থাকে এবং শত্রুতা বৃদ্ধি পায়। ধরুন যাকে আপনি আরেকজনের সঙ্গে নিজের শত্রুতার কথা বলে দিচ্ছেন সে আপনার সেই শত্রু সম্পর্কে আপনাকে দু চারটা মিথ্যা কথা শুনিয়ে দিল। তখন আপনি আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না বরং প্রচন্ড প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে উঠবেন। কনফুসিয়াস এ সম্পর্কে বলেন, আপনি কারো কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করতে গেলে আগে দুটি কবর খুঁড়ে রাখুন। এর মাধ্যমে তিনি বলতে চেয়েছেন প্রতিশোধ প্রকারান্তরে আমার নিজেরও ধ্বংসের কারণ হয়। কনফুসিয়াস বিশ্বাস করতেন যখন আমরা ক্ষুব্ধ থাকি তখন আমাদের কোন কাজ করা বা কোন কথা বলা উচিত নয়। ষষ্ঠ বিষয় নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কোনো মুখরা ব্যক্তিকে জানাবেন না। মুখরা মানুষেরা সারাক্ষণ অভিযোগ জানাতে থাকে এবং চিৎকার ও কান্নাকাটি করা তাদের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। তাদের সঙ্গে থাকলে ওই অনুভূতি আপনার মধ্যেও সঞ্চালিত হয়। কনফুসিয়াস বলেন, কোনো একটি অপ্রিয় বিষয়ে অভিযোগ জানানোর অর্থ কষ্টকে দ্বিগুণ করা। আর বিষয়টিকে হাসি দিয়ে উড়িয়ে দেয়ার অর্থ ওই অপ্রিয় বিষয়টিকে ধ্বংস করা। অবশ্য কনফুসিয়াসের উদ্দেশ্য এটা নয় যে আপনি বসে বসে হাসতে থাকুন তাহলে আপনার সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তিনি বরং এখানে হাসি বলতে সমস্যাটিকে জটিল আকারে গ্রহণ না করে বরং সহজভাবে নেয়ার কথা বলেছেন। আপনি এই ভিডিওটি এখন মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ কিংবা কম্পিউটারে দেখছেন। আর আপনার দেখার জন্যে আপনি আপনার ডিভাইসটিকে চোখ থেকে 30 থেকে 40 সেন্টিমিটার দূরে সরিয়ে রেখেছেন। কিন্তু আপনি যদি মোবাইল ফোনটিকে আপনার চোখের সঙ্গে লাগিয়ে রাখেন তাহলে কি কিছু দেখতে পাবেন? অনেক সময় যে কোন সমস্যার ব্যাপারে আমাদের আচরণ এমনই হয়। সমস্যাটিকে এতটা গভীরে ঢুকে দেখার চেষ্টা করি এবং এতটা কাছে নিয়ে আসি যে আমরা কিছুই দেখতে পাই না। একটু দূরে থেকে সমস্যাকে দেখার চেষ্টা করুন তাহলে বুঝতে পারবেন সমস্যাটি আসলে কি। অনেক সময় সমস্যার মধ্যে মাত্রাতিরিক্তভাবে ঢুকে গেলে শুধু যে সমস্যার সমাধান হয় না তাই নয়, বরং আপনি এমন এক সংকটের মধ্যে পড়ে যাবেন যা থেকে সহজে বের হওয়া আপনার পক্ষে সম্ভব হবে না। তো বন্ধুরা আমরা ভিডিও শেষ প্রান্তে চলে এসেছি এবার বিদায় নেয়ার পালা। ভিডিওটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে একটি লাইক দিন এবং ছোট করে হলেও একটি কমেন্ট করে নিজের অনুভূতির কথা জানান। আপনার এই ছোট কাজটি আমাদেরকে এরকম আরো ভিডিও তৈরীতে অনুপ্রাণিত করবে। আপনারা প্রত্যেকে ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন থাকুন শান্তিতে।



