[0:03]পৃথিবীরও শেষ প্রান্ত আছে, যেখান থেকে আপনি আর চাইলেও সামনে যেতে পারবেন না। এমন এক জায়গা যে জায়গায় গেলে আপনার গা গুলাতে শুরু করবে, বমি বমি ভাব হবে আর একবার নিচের দিকে তাকালে মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা সবথেকে বেশি।
[0:21]পৃথিবীর শেষ প্রান্ত খুঁজতে হলে আপনাকে যেতে হবে নরওয়েতে। যদিও সেখানে পৌঁছানো খুবই কষ্টের ব্যাপার। সেখানে পৌঁছানোর জন্য নরওয়ের রোগাল্যান্ড প্রদেশের স্ট্যান্ড পৌরসভা থেকে 8 কিলোমিটার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আরো 4 কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে হবে। আর এই পথ পাড়ি দেওয়া অনেক কষ্টকর। রাস্তাটা পাহাড়ি, পাথুরে এবং কখনো কখনো জলাশয়ের মাছ দিয়ে চলতে হয়। আর এই কারণে কেউ এই রাস্তা দিয়ে যেতে চায় না। কিন্তু যারা এই রাস্তা শেষ করেন তারাই কেবল পৃথিবীর শেষ দেখতে পারেন। যদি আপনি কখনো এই জায়গাতে যান তাহলে যেতে হবে সম্পূর্ণ আপনার ঝুঁকিতে। সেদেশের সরকার আপনার কোন দায়ভার নেবে না। এর প্রধান কারণ হলো এই জায়গাটা মাটি থেকে 1982 ফুট উপরে।
[1:08]বলা হয়ে থাকে আপনি যদি পৃথিবীর শেষ রাস্তায় যেতে থাকেন তাহলে আপনি ঠিক এই জায়গাতে এসে পৌঁছাবেন। যেখানে সামনে যাওয়ার আর কোন রাস্তা নেই। চাইলেও যেতে পারবেন না। শুধু সামনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।
[1:25]এই জায়গার নাম প্রায়কেস্টোলেন। এটি পাল্পিট রক হিসেবেও পরিচিত। প্রতিবছর কয়েক লাখ মানুষ পৃথিবীর শেষ দেখার জন্য এই জায়গাতে আসেন। আর এই কারণেই এটা নরওয়ের বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র যা মাটি থেকে প্রায় 2000 ফুট উঁচুতে অবস্থিত। সবথেকে অদ্ভুত ব্যাপার হলো সামনের এই ঝুলন্ত অংশে আপনি ফাটল দেখতে পাবেন। চারপাশে কোন বেরিগেডও দেখতে পাবেন না। যেকোন মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। আর ঠিক এই কারণেই পৃথিবীর শেষ দেখতে গেলে সে দেশের সরকার আপনার কোন দায়ভার নেবে না। আপনি জানলে অবাক হবেন এই জায়গা নিয়ে মানুষের এত কৌতূহল যে এখানে বাতাস বোতলে ভরে বিক্রি করা হয়। বলা হয় পৃথিবীর শেষ প্রান্তের বাতাস সবথেকে বিশুদ্ধ। আর এ কারণে সেখানকার এক লিটার শুদ্ধ বাতাসের দাম প্রায় 1500 টাকা। 2017 সালে মিশন ইম্পসিবল 6 চলচ্চিত্রে শুটিং এর কারণে এই জায়গাতে এক সপ্তাহ পর্যটকদের জন্য বন্ধ ছিল। হলিউড অভিনেতা টম ক্রুজকে এখানে দুর্দান্ত অ্যাকশন দৃশ্য অভিনয় করতে দেখা যায়। ধারণা করা হয় প্রায় 10,000 বছর আগে বরফ যুগে সুবিশাল এই জায়গাটি তৈরি হয়েছে। অতীতে পেগান ধর্মের লোকেরা আত্মশুদ্ধি লাভের জন্য এখানে উপসনা করত। 1900 সালে সর্বপ্রথম এই জায়গায় পর্যটন ব্যবস্থা চালু হয়। দুঃসাহসী পর্যটকেরা নানান রকম কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এখানকার রোমাঞ্চ আরো বাড়িয়ে নিতে আসে। তারা বেস জাম্পিং, উইং সুট, রোপ ওয়াকিং, ক্লিফ হ্যাংগিং বা ফ্রি হ্যাংগিং এর মত নানান ধরনের অ্যাকশন স্পোর্টস করে থাকেন। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক পপ কালচারের মাধ্যমে বিশেষ এই প্রাকৃতিক জায়গাটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আর এটাই পৃথিবীর সবচেয়ে শ্বাসরুদ্ধকর ভিউপয়েন্ট। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন পৃথিবী যেহেতু গোলাকার সেহেতু পৃথিবীর শেষ পয়েন্ট বলে কিছু নেই। আমরা যাকে শেষ পয়েন্ট হিসেবে মনে করি তা কেবল ওই জায়গার শেষ পয়েন্ট। এমন আরো শেষ পয়েন্ট পৃথিবীতে থাকতে পারে। কিন্তু তারপরেও প্রতি বছর কয়েক লাখ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও পৃথিবীর শেষ প্রান্ত হিসেবে নরওয়ের পাল্পিট রকে দেখতে যায়।



