[0:09]আরাফ মীরাকে প্রথম দেখেছিল কলেজ লাইব্রেরীর জানালার পাশে। সেদিন অক্টোবরের শেষ বিকেল। বৃষ্টি পড়ছিল থেমে থেমে। যেন আকাশ নিজেও ঠিক করতে পারছে না যে সে কি করবে। লাইব্রেরীর ভেতরটা সেদিন প্রায় ফাঁকা ছিল। মেজেতে বইয়ের গন্ধ, আলো একটু কম। জানালার কাছে বৃষ্টির ফোঁটার শব্দ। হন্যে হয়ে একটা বই খুঁজছিল আরাফ। এমন সময় দেখল, জানালার পাশে বসে থাকা একটা মেয়েকে। সামনে একটা খোলা বই। কিন্তু সেদিকে চোখ নেই মেয়েটার। বৃষ্টির ফোঁটা জানালার কাছে আছড়ে পড়ছে। আর মেয়েটা সেদিকে এমন তীব্র একটা দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল যেন বৃষ্টির সাথে তার কোন পুরনো হিসেব বাকি আছে। যেন বৃষ্টি কোন একদিন তার সাথে অন্যায় করেছিল, আর সেটা সেই মেয়েটা একদম ভোলেনি। মানুষ সাধারণত বৃষ্টিকে রোম্যান্টিক ভাবে, তাই না? আরাফ নিজেও জানে না কেন বলেছিল কথাটা। হয়তো নীরবতাটা ভাঙ্গার প্রয়োজন মনে হয়েছিল। হয়তো মেয়েটার চোখের ঐ অদ্ভুত ভার তাকে টেনে এনেছিল। মানুষ সাধারণত মিথ্যে বলে। চারটে শব্দ। কোন ব্যাখ্যা নেই, কোন হাসি নেই, কোন ভদ্রতার আবরণ নেই। যেন এই চারটে শব্দ দিয়ে মেয়েটা পুরো পৃথিবীতে একটা রায় ঘোষণা করে দিল। এবং সেই রায় চূড়ান্ত। ওটাই যথেষ্ট সতর্ক বার্তা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আরাফ এসে ফেলেছিল। আহ আচ্ছা, তুমি কোথায় বড় হয়েছিলে? অন্য জায়গায়। তুমি চিনবে না। সেদিনের চারটে শব্দ আর একটা ছোট্ট হাসির দৌড় ছিল বেশ লম্বা। ওদের বন্ধুত্বের বয়স এখন সপ্তাহ কাটিয়ে মাসে পড়েছে। আরাফ আর মীরার বন্ধুত্ব একটু অদ্ভুত। মীরা যেরকম মিপে চলে, ততটাই আগ্রহী আরাফ। আরাফ ভৌমিক সিটি ইউনিভার্সিটিতে কেমিস্ট্রি নিয়ে রিসার্চ করছে। আর মীরা পড়ছে সাহিত্য নিয়ে। মীরা সম্পর্কে শুরু থেকেই ছোট ছোট কিছু জিনিস আরাফ লক্ষ্য করেছে। যেমন মীরা জোরে হাসা পছন্দ করে না। হাসলেও সেটা নিয়ন্ত্রিত পরিমাপ করা। যেন হাসির একটা নির্দিষ্ট বরাদ্দ আছে এবং বেশি খরচ করলে পরে আর থাকবে না। শুধু তাই নয়। মীরা আয়না এড়িয়ে চলে। রেস্তোরাঁর বাথরুমে যখন অন্যরা চুল ঠিক করছে, মীরা কিন্তু তাকায় না। ও সব সময় দরজার দিকে মুখ করে বসে। রেস্তোরায়, ক্লাসরুমে, লাইব্রেরীতে সব জায়গায় সব সময়। যেন সব সময় বাইরে বেরোনোর রাস্তাটা চোখের সামনে রাখতে চায় মীরা। আর ও কখনো, কখনোই তার অতীত নিয়ে কথা বলে না। কোন ছোটবেলার স্মৃতি নেই, কোন পুরনো বন্ধুর গল্প নেই। যেন মীরার জীবন শুরু হয়েছে এই ইউনিভার্সিটিতে আসার পর থেকে। কে কি একটা ছিল যেন মনে হচ্ছে ওদিকে। হ্যাঁ। না। বোধহয় মনের ভুল। যাই। কলেজে ফেস্ট সেদিন। ক্যাম্পাস জুড়ে আলো, হইচই, মানুষের ভিড়। আরাফ একটু আগেই বেরিয়েছিল ভিড় থেকে। মাথাটা ধরে গিয়েছিল তার। ক্যাম্পাসের পেছনের দিকের ছোট রাস্তাটা ধরে হাঁটছিল। যেখানে গাইতে থাকা কলেজ ব্যান্ডের গান শোনা গেলেও, কোন মানুষ আসে না। বিকেলের আলো তখন মিলিয়ে যাচ্ছে। গাছের ছায়া লম্বা হয়ে পথে ছড়িয়ে পড়েছে। তখনই অনুভব করল আরাফ। ঘাড়ের পেছনে একটা অদ্ভুত অনুভূতি। যেন কারোর দৃষ্টি এসে লাগছে। তীক্ষ্ণ স্থির একটা দৃষ্টি। সেই অনুভূতি যেটা যেটা ব্যাখ্যা করা যায় না, কিন্তু শরীর ঠিকই যেন চিনে নেয়। যেন বাতাসের মধ্যে হঠাৎ একটা ওজন এসে পড়েছে। আরাফ ঘুরে তাকাল। কেউ নেই। গাছের আড়ালে দেওয়ালের পাশে কিচ্ছু নেই। শুধু একটুখানি একটা পরিচিত রঙের শাল। গাছের গুঁড়িটার আড়ালে। সূরে যাওয়ার মুহূর্তে। পরের দিন মীরার সাথে দেখা হলে আরাফ বলেছিল। গতকাল ফেস্টে ছিলে তুমি? না। আরাফ কিছু বলল না। কিন্তু সেই পরিচিত শালটার কথা মাথায় থেকে গেল। ধূসর রঙের মীরার শাল। ভাবল হয়তো ভুল দেখেছে। কিন্তু আরাফ ভুল দেখেনি। কিছুদিন পর বিকেলবেলা লাইব্রেরীর সেই কোণের টেবিলে বসে আরাফ জিজ্ঞাসা করেছিল। আচ্ছা তোমার কখনো মনে হয় না কাউকে সবকিছু বলে দিতে একদম শুরু থেকে যা কখনো কাউকে বলোনি যা মনের মধ্যে চাপা দিয়ে রেখেছ বছরের পর বছর সব বলে দিয়ে একেবারে হালকা হয়ে যেতে ইচ্ছা করে না? মীরা একটু ঘুরে তাকিয়েছিল আরাফের দিকে। সেই দৃষ্টিতে কিছু একটা ছিল।
[6:07]একটা একটা হিসেব কষার মত ভাব। যেন মীরা ঠিক করছিল সে কতটুকু বলবে, কতটুকু নিরাপদ। তারপর মীরা বলেছিল একবার বলেছিলাম। তারপর? সে বাঁচিনি। তুমি মজা করছো, রাইট? হাহ্ হ্যাঁ মজা করছি। সেই দিনই রাত তখন সাড়ে তিনটে। মীরা ফোন করল। আরাফের ঘুমের ঘোর তখনো কাটেনি পুরোপুরি। কিন্তু মীরার নামটা দেখে কলটা রিসিভ করল, আর করেই ওর মনটা জুড়িয়ে গেল। মীরার গলায় ঝড়ের পরে আসা নীরবতার মতো একটা শান্তি আছে। সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলা মানুষের কথায় থাকা শান্তি এটা। তুমি কি আসতে পারবে? হুম হ্যাঁ আসছি। মীরার ফ্ল্যাটে ঢুকি একটা অদ্ভুত গন্ধ নাকে লাগল আরাফের। ধাতব ভারী। সেই গন্ধ যেটা নাকে লেগে থাকে। যেটা ব্রেন বুঝতে পারে কিন্তু স্বীকার করতে চায় না।
[7:25]যেটা শরীর আগে চেনে মাথা পরে চিনতে পারে। আরাফ দরজার কাছে এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে রইল। তুমি দেরি করেছ। আরে মাত্র দশ মিনিট। তুমি তোমার আরো তাড়াতাড়ি আসা উচিত ছিল। মীরার গলায় কিছু একটা ছিল। যেটা আরাফের বুক ঠান্ডা করে দিল।
[7:47]ওর গলা স্বাভাবিক নয়। আরাফ মীরাকে ডিঙিয়ে ঘরের ভেতরে উঁকি দিতেই দেখতে পেল। ভাঙ্গা কাঁচ মেঝেতে ছড়িয়ে আছে। একটা চেয়ার উল্টে পড়ে আছে। দেওয়ালের পাশে হালকা কালচে দাগ, কোণার দিকে একটা ছেঁড়া অপরিচিত জ্যাকেট। মীরা কি হয়েছে? আমার মনে হয় আমি খারাপ কিছু করে ফেলেছি। কি করেছ? আমার মনে হয় আমি সীমা পেরিয়ে গেছি। আরাফ কিছু বলল না। এই ঘরটা ওর দম বন্ধ করে দিচ্ছে। এই গন্ধ, এই দাগ, এই উল্টে যাওয়া চেয়ার ওর গা গুলিয়ে উঠছে। কিন্তু কিন্তু মীরার মুখের দিকে তাকিয়ে আরাফ কিছুই বুঝতে পারছিল না।
[8:37]কারণ মীরার চেহারায় কোন ভয় নেই, কোন অনুশোচনা নেই। পরের দিনের পুলিশ রিপোর্ট বলল চুরি করতে এসে একজন ঢুকেছিল, ধস্তাধস্তি হয়েছে আত্মরক্ষার খাতিরে। কেস ক্লোজড। আরাফ রিপোর্টটা পড়েছিল। প্রতিটা লাইন, প্রতিটা শব্দ। কিছু একটা মেলাতে পারছিল না। সেই গন্ধ, সেই দাগ, মীরার সেই শান্ত গলা, সেই অপরিচিত জ্যাকেট। রিপোর্ট বলছে আত্মরক্ষা। পুলিশ বলছে ঘটনা শেষ। কিন্তু আরাফের ভেতরে একটা কন্ঠস্বর বলেছিল এটা শেষ নয়। এটা শুরু। আরাফ জানত কোথাও কিছু একটা ভুল হচ্ছে। কিন্তু ও কিছু বলেনি। বলতে পারেনি। কারণ সেই রাতেই মীরা ওর হাত ধরে বলেছিল তুমি আমাকে বিশ্বাস করো তাই না? আরাফ করেছিল। এরপর সব বদলে গেল। মীরা নরম হয়ে গেল। সেই কঠিন খোলোসটা যেটা সে সব সময় পড়ে রাখত, ধীরে ধীরে সরে যেতে লাগল তার থেকে। ও আরাফের সঙ্গে আগের থেকে অনেক বেশি দেখা করতে লাগল। শুধু লাইব্রেরীতে নয়। ক্লাসের পরে বিকেলে হাঁটতে হাঁটতে সন্ধ্যায় ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এমনকি হাসতেও শুরু করল মীরা। আস্তে আস্তে।
[10:20]কিন্তু নিয়মিত সেটা ঘটতে থাকল। এমন একটা হাসি যেটা আগে দেখেনি আরাফ। এবার থেকে আরাফ সকালে ঘুম থেকে উঠলেই মীরার মেসেজ দেখতে পেত। উঠেছ ঘুম থেকে? রাতে ঘুমানোর আগেও মীরা লিখে দিত রাত হয়েছে অনেক এবার ঘুমো।
[11:00]তুমি আমাকে ছেড়ে যাবে না তো? হুম কক্ষণো না। ভালো। কারণ আমি তোমাকে যেতে দেব না। এখন ঘুমিয়ে পড়ো হ্যাঁ? এরই মধ্যে একদিন আরাফ মীরার ফোন ধরতে পারেনি। একটা কল। শুধু একটা কল। সে মিটিংয়ে ছিল, প্রফেসর এর সাথে রিসার্চের বিষয়ে কথা বলছিল। ফোনটা ব্যাগে রাখা ছিল সাইলেন্ট অবস্থায়। মিটিং শেষ করে আরাফ দেখল সাতাশটা মিসড কল আর একটা মেসেজ। তুমি কোথায়? ফোন ধরছ না কেন? তুমি কি কারোর সাথে আছো? মিথ্যে বলো না। আরাফ ঘুরিয়ে ফোন করতেই ওপার থেকে মীরা বলল, তুমি কার সাথে ছিলে? কাজে ব্যস্ত ছিলাম। তুমি মিথ্যে বলছো। কোন প্রশ্ন নেই, কোন অভিমান নেই শুধুই অভিযোগ। আরাফ বোঝানোর চেষ্টা করল মীরাকে। প্রফেসরের নাম বলল, কোন ডিপার্টমেন্ট, কি বিষয়ে কথা সবকিছু বলল। কিন্তু মীরা শুনল না। আরাফও হেসে উড়িয়ে দিল। ভালোবাসায় একটু অবসেশন থাকা ভালো তাই না? কয়েকদিন পর আরাফ রিয়ার সাথে দেখা করল। রিয়া ওর পুরনো বন্ধু। ক্লাস শেষে ক্যাম্পাসের পথে হঠাৎ দেখা। ১০ মিনিট কথা। পরীক্ষার প্রিপারেশন, একটা পুরনো প্রফেসরের গল্প, হাসি, বিদায় ব্যাস। পুরো পৃথিবীর সবথেকে সাধারণ ঘটনা এটা। কিন্তু মীরা দেখেছিল। সবটা দেখেছিল। সেই রাতে কোন ফোন না করে মীরা আরাফের ফ্ল্যাটের সামনে এসে দাঁড়াল। দরজায় ঢোকা আরাফ দরজা খুলল। তার সামনে দাঁড়িয়ে মীরা। মুখে হাসি? নেই। ঠান্ডা গলায় সে বলল। তোমার বন্ধুর সাথে দেখা হলো। রিয়া। সুন্দর। হ্যাঁ অনেকদিন পরেই দেখা হলো। জানি। আমি শুধু দেখতে চেয়েছিলাম। তুমি আমাকে কত সহজে বদলে ফেলতে পারো। আরাফ কিচ্ছু বলল না। ভয় এবং বিভ্রান্তি একসাথে এসে ওকে জমিয়ে দিয়েছে। এই মুহূর্তে কোন যুক্তি কাজ করবে না সেটা ও জানে। প্রথমবার আরাফ ভয় পেল। এবার থেকে ও লক্ষ্য করতে লাগল। আর সেটা করতে গিয়ে আরাফ দেখল যে মীরার সাথে মেসেজে কথা বলার আগেই মীরা যেন জানে যে আরাফ তাকে কি লিখতে পারে। এদিকে আরাফের ল্যাপটপ, ফোন সবকিছু অদ্ভুত আচরণ করছে। কখনো নিজেই খুলে যাচ্ছে, কখনো অ্যাপ্লিকেশন আপনাআপনি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বন্ধুরা দূরে সরে যাচ্ছে। একে একে। আরে মীরাই তো বলেছে তুই এখন ব্যস্ত। কিরে বলিনি? বল হ্যাঁ ওই তো বলল যে তুই এখন কারো সাথে দেখা করতে চাইছিস না। আচ্ছা কিন্তু আমি এগুলো কিছুই বলিনি বিশ্বাস কর। ঠিক আছে বাদ দে। এই কথাগুলো আরাফের নয়। ইনফ্যাক্ট ওর হয়ে এই কথাগুলো জানানোর আগে মীরা ওর অনুমতিটুকুও নেয়নি। মীরা কি তাহলে আরাফের জীবনটাকে ধীরে ধীরে নিজের মত করে গড়ে নিচ্ছে? একটা একটা করে সম্পর্ক কেটে দিচ্ছে ও। যেন একটা গাছের শিকড় কাটছে। গাছ টের পাচ্ছে না। কিন্তু মাটির নিচে প্রতিদিন একটু একটু করে নড়বড়ে হচ্ছে। এরই মধ্যে একদিন মীরা বাথরুমে থাকাকালীন তার ফোনে একটা মেসেজ এল। ও সন্দেহ করছে না তো? আরাফ দেখল মেসেজটা। হাত কাঁপছিল তার। চোখ সরাতে পারছিল না। চ্যাট ছবি ভিডিও আরাফের জীবনের প্রতিটা মুহূর্তের হিসেব। এদিক ওদিক চোখ বোলাতেই আরাফ দেখল একটা ফোল্ডার। ওর নামে। আর তার ভেতরে ওর ঘুমানোর ছবি। বিভিন্ন দিন বিভিন্ন কোণ থেকে। ওর ঘরের আলো নেভানোর পরে নানান ছবি। কোথাও কাথ হয়ে শুয়ে আছে, কোথাও চাদর গায়ে। একদম নিশ্চিন্তে। মাথা ঘুরে গেল আরাফের। তার মানে মীরা এই ফ্ল্যাটে এসেছিল আমার অজান্তে? আমার আমার ছবি তুলেছিল? হয়তো হয়তো বারবার হয়তো মাসের পর মাস প্রতিদিন রাতে যখন আমি নিরাপদে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছিলাম, তখন হয়তো মীরা আমার উপরে নজর রাখছিল।
[16:53]মীরার ফোন থেমে গেল। তার চোখ ভেঙ্গে পড়ল। সেই ভাঙ্গনটা অদ্ভুত ছিল। সত্যি কিনা বোঝার উপায় নেই। যেন মঞ্চে অভিনয়, যেখানে অভিনেত্রী এতটাই দক্ষ যে দর্শক ভুলে যায় এটা নাটক। চোখে জল, ঠোঁট কাঁপা, কণ্ঠস্বর ভেঙে পড়া। সব মাপে মাপ আমি এসব করেছি তোমার জন্য। আর তুমি এটা কে পাগলামি বলছো? আমি আর আমি আর সইতে পারছি না। আমি আসছি। থাকবে না। যাও। আরাফ হন্তদন্ত হয়ে দরজা খুলল। দেখল দুজন পুলিশ কনস্টেবল সামনে দাঁড়িয়ে। আপনি আরাফ ভৌমিক? আপনাকে আমাদের সাথে যেতে হবে। হ্যাঁ মানে মানে কেন? আপনার বিরুদ্ধে খুনের প্রমাণ আছে। আরাফ জমে গেল। মাথার ভেতর সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে তার। সেই রাত, সেই গন্ধ, মীরার কথা, সীমা পেরিয়ে গেছি।
[18:09]তখন বুঝতে পারেনি আরাফ। এখন বুঝছে। সবকিছু যেন একসাথে এসে আঘাত করল তাকে। মীরা তার মানে শুধু আমার ছবিই তোলেনি। আমার বিরুদ্ধে একটা করে মামলা করে তুলছিল। ধীরে ধীরে মনোযোগ দিয়ে প্রতিটা বিবরণ ঠিকঠাক রেখে। বেশি ভেবো না। আমি সব বলে দিয়েছি। কখন যে কাঁধে হাত রেখেছিল মীরা, লক্ষ্যই করেনি আরাফ। বলল। তুমি এগুলো কি করেছ? আমি নিশ্চিত করেছি। তুমি যেন কখনো আমাকে ছেড়ে না যেতে পারো। মানে এটা ভালোবাসা নয় মীরা।
[20:34]না। এটাই ভালোবাসা। তুমি বুঝতে পারছ না। টুগেদার ফরেভার টিল ডেথ ডু আস পার্ট। না এটা ভালোবাসা নয়। তুমি তুমি আমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আমি লয়ার ডেকেছি। তিনি তিনি ঠিক কোন একটা উপায় বার করতে পারবেন। তুমি দেখবে, তুমি দেখবে ঠিক কিছু একটা হবে। ঠিক আছে। দেখব তোমাকেই দেখব। বারবার এসে তোমাকেই দেখব।
[21:13]আরে কোট উকিল সব কিন্তু তোমাকেও প্রশ্ন করবে মীরা। বুঝলে তো? এসবের তুমি কিন্তু উত্তরটা রেডি রেখো। হ্যাঁ? কিন্তু তার আগে আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দাও তো মীরা। হ্যাঁ? তুমি এটা করলে কি করে? মানে আমার আমার ছবি, ভিডিও কেন করলে?
[21:43]কাজের প্রথম দিন থেকেই তোমাকে ভালো লেগেছিল। বলতে পারছিলাম না। কিন্তু তোমাকে খেয়াল করতাম ভীষণ ভাবে। এক মুহূর্তও তোমাকে না পেলে আমার কষ্ট হতো। আমার বাবা-মা হীন আমার ছোটবেলার অতীতটা আমাকে খুব ইনফিরিয়র করে দেয় জানো? মানে বোঝাতে পারছি না হয়তো। মানে মনে হয় যে আমাকে যখনই কেউ জিজ্ঞেস করবে যেমন সেবার তুমি করেছিলে যে আমি কোথায় বড় হয়েছি আমার বাবা-মা কে? আমি কি উত্তর দেব? আমি তো তোমার মতো সমান নই। কিন্তু আমায় তো তোমার যোগ্য হতে হবে। যদি তুমি আমায় ছেড়ে যাও তাহলে তো হবে না বলো। কি মানে আমি যা বলছি মানে দেখো, প্রথম তোমার ফ্ল্যাটে যেদিন রাতে ছিলাম সকালে তুমি ক্লাসের জন্য বেরিয়ে যাওয়ার পরে আমি আমার এক পরিচিতর কাছে যাই। সেই আমাকে তোমার ফ্ল্যাটের চাবিটা ডুপ্লিকেট করে দেয়। আর তোমার বেডরুমের জানালার পাশে ল্যাম্পশেডে একটা ছোট্ট হিডেন ক্যামেরাও আছে।
[23:41]আজ আসি। ও হ্যাঁ। মনে রেখো টিল ডেথ ডু আস পার্ট।



